Yunus
ইউনুস: 91
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس
মূল আরবি
ءَآلْـَٔـٰنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ ٱلْمُفْسِدِينَ
English Translations
Now? And you had disobeyed [Him] before and were of the corrupters?
Now (you believe) while you refused to believe before and you were one of the Mufsidun (evil-doers, corrupts, etc.).
(Allah said,) “Is it now (that you have come to believe) while you were rebellious all along, and you were among the mischief-makers?
(Thereupon came the response): 'Now you believe, although you disobeyed earlier and were one of the mischief-makers.
What! Now! When hitherto thou hast rebelled and been of the wrong-doers?
(It was said to him): "Ah now!- But a little while before, wast thou in rebellion!- and thou didst mischief (and violence)!
বাংলা অনুবাদ
‘‘এখন (ঈমান আনছ), আগে তো অমান্য করেছ আর ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত থেকেছ।
‘এখন অথচ ইতঃপূর্বে তুমি নাফরমানী করেছ, আর তুমি ছিলে ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত’।
এখন ঈমান আনছ? অথচ পূর্ব (মুহুর্ত) পর্যন্ত তুমি নাফরমানী করছিলে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
‘এখন! ইতোপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
এখন! ইতোপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
৯১. তুমি জীবন থেকে নিরাশ হয়ে এখন ঈমান আনছো?! অথচ হে ফির‘আউন! তুমি আযাব নাযিল হওয়ার পূর্বে আল্লাহর সাথে কুফরি এবং তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করার মাধ্যমে তাঁর অবাধ্য হয়েছিলে। আর তুমি নিজেই পথভ্রষ্ট হয়ে এবং অন্যকে পথভ্রষ্ট করে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিলে।
তাফসীর
10:90
‘এখন! ইতোপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে [১]।
[১] এ আয়াতে মূসা আলাইহিস সালাম-এর বিখ্যাত মু'জিযা সাগর পাড়ি দেয়া এবং ফিরআনের ডুবে মরার বর্ণনা করার পর বলা হয়েছে-
(حَتّٰۤی اِذَاۤ اَدۡرَکَهُ الۡغَرَقُ ۙ قَالَ اٰمَنۡتُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا الَّذِیۡۤ اٰمَنَتۡ بِهٖ بَنُوۡۤا اِسۡرَآءِیۡلَ وَ اَنَا مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ)
অর্থাৎ যখন তাকে জলডুবিতে পেয়ে বসল তখন বলে উঠল, আমি ঈমান এনেছি যে, আল্লাহর উপর বনী-ইসরাঈলরা ঈমান এনেছে তাঁকে ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আর আমি তাঁরই আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত। স্বয়ং আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর পক্ষ থেকে তার উত্তর দেয়া হয়েছে
(آٰلۡـٰٔنَ وَ قَدۡ عَصَیۡتَ قَبۡلُ وَ کُنۡتَ مِنَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ)
অর্থাৎ কি এতক্ষণে ঈমান এনেছ? অথচ ঈমান আনার এবং ইসলাম গ্রহণের সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, ঠিক মৃত্যুকালে ঈমান আনা শরীআত অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টির আরো বিস্তারিত বিশ্লেষণ সে হাদীসের দ্বারাও হয়, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা বান্দার তাওবা ততক্ষণ পর্যন্তই কবুল করে থাকেন, যতক্ষণ না মৃত্যুর উর্ধ্বশ্বাস আরম্ভ হয়ে যায়। [তিরমিযীঃ ৩৫৩৭]
মৃত্যুকালীন উর্ধ্বশ্বাস বলতে সে সময়কে বুঝানো হয়েছে, যখন জান কবজ করার সময় ফিরিশতা সামনে এসে উপস্থিত হন। তখন কর্মজগত পৃথিবীর জীবন সমাপ্ত হয়ে আখেরাতের হুকুম-আহকাম আরম্ভ হয়ে যায়। কাজেই সে সময়কার কোন আমল গ্রহণযোগ্য নয়। এমন সময়ে যে লোক ঈমান গ্রহণ করে, তাকেও মুমিন বলা যাবে না এবং কাফন-দাফনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না। যেমন, ফিরআউনের এ ঘটনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সমগ্র বিশ্ব মুসলিমের নির্দেশেও এটাই সুস্পষ্ট। এ ব্যাপারে অন্য কিছু বলা বা বিশ্বাস করা কুরআন হাদীসের পরিপন্থী।
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৯১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ একত্ববাদী এবং আনুগত্য ও বাধ্যতার মাধ্যমে আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৯১]এখন কি (ঈমান আনছ)? অথচ এর আগে তুমি অবাধ্যতা করেছ এবং তুমি ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (৯১)বলা হয়েছে: এটি মহান আল্লাহর বাণী। আবার বলা হয়েছে: এটি জিবরাঈল আলাইহিস সালামের উক্তি। অথবা মিকাঈল আলাইহিস সালামের—তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—কিংবা অন্য কোনো ফেরেশতার পক্ষ থেকে তাঁর (ফিরআউনের) প্রতি সম্বোধন। আরও বলা হয়েছে: এটি ফিরআউনের মনে মনে বলা উক্তি, সেখানে জিহ্বা দিয়ে কোনো কথা উচ্চারিত হয়নি, বরং বিষয়টি তার অন্তরে উদিত হয়েছিল এবং সে মনে মনে যা বলার তা বলেছিল; যখন তার অনুশোচনা কোনো উপকারে আসছিল না।
এর দৃষ্টান্ত হলো: "আমরা তো তোমাদের কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আহার্য দান করি" [সূরা আল-ইনসান: ৯]। এখানে মহান প্রতিপালক তাদের অন্তরের সংকল্পের কারণে তাদের প্রশংসা করেছেন, এমন নয় যে তারা মুখে তা উচ্চারণ করেছিলেন; কেননা প্রকৃত কথা তো অন্তরের কথাই। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৯২]সুতরাং আজ আমি তোমার দেহকে (স্থলভাগে) উদ্ধার করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। আর নিশ্চয়ই মানুষের মাঝে অনেকে আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে অসচেতন। (৯২)মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং আজ আমি তোমার দেহকে উদ্ধার করব) অর্থাৎ আমি তোমাকে জমিনের একটি উঁচু স্থানে নিক্ষেপ করব।
আর তা এজন্য যে, বনী ইসরাঈলরা ফিরআউনের ডুবে মরার বিষয়টি বিশ্বাস করছিল না এবং তারা বলছিল: সে এর চেয়েও বড় মর্যাদার অধিকারী। ফলে আল্লাহ তাকে জমিনের একটি উঁচু স্থানে অর্থাৎ সমুদ্রের একটি উঁচু জায়গায় নিক্ষেপ করলেন যাতে তারা তাকে স্বচক্ষে দেখতে পায়। আউস ইবনে হাজার বৃষ্টির বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন:যে ব্যক্তি তার উঠানে আছে সে যেন উঁচু স্থানে অবস্থিত ব্যক্তির ন্যায় … আর নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তি যেন রোদে উন্মুক্ত প্রান্তরে বিচরণকারীর ন্যায়।আল-ইয়াযিদী এবং ইবনুস সামাইকা ‘হা’ বর্ণ যোগে ‘নুনাহহিকা’ পাঠ করেছেন যা ‘তানহিয়া’ (সরিয়ে রাখা) শব্দ থেকে উদ্ভূত।
আলকামা এটি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ হলো—তুমি সমুদ্রের এক পাশে থাকবে। ইবনে জুরাইজ বলেন: তাকে সমুদ্রের তীরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল যাতে বনী ইসরাঈলরা তাকে দেখতে পায়; সে ছিল খাটো এবং লালচে বর্ণের, যেন একটি ষাঁড়। আলকামা আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘বি-নিদাইকা’ (তোমার আহ্বানের দ্বারা) পাঠ করেছেন যা ‘নিদা’ (আহ্বান) শব্দ থেকে আগত। আবু বকর আল-আনবারি বলেন: এটি আমাদের মুসহাফের বানানের বিরোধী নয়। কারণ দাল-এর পর ইয়া এবং কাফ লেখার নিয়ম রয়েছে, যেহেতু মুসহাফের হস্তলিপি অনুযায়ী ‘নিদাইকা’ শব্দ থেকে আলিফ বিলুপ্ত থাকে, যেমনটা ‘জুলুমাত’ এবং ‘সামাওয়াত’ শব্দে বিলুপ্ত থাকে।
সুতরাং যখন সেখানে বিলোপ ঘটে, তখন ‘বাদানিকা’ এবং ‘নিদাইকা’ শব্দের বানান একই রূপ ধারণ করে। তবে এই কিরাআতটি বর্জনীয়, কারণ এটি শায (বিরল) এবং সাধারণ মুসলিমদের অনুসৃত কিরাআতের পরিপন্থী। আর কিরাআত হলো এমন এক সুন্নাত যা পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের থেকে গ্রহণ করে। আর এর অর্থের মাঝেও কিছুটা অসম্পূর্ণতা রয়েছে...(১). ‘আইন’ এবং ‘হা’ পাণ্ডুলিপি হতে।(২). দ্রষ্টব্য: ১৯তম খণ্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ।(৩). ‘আকওয়াহ’ ও ‘আকাহ’: আঙিনা এবং গৃহ সংলগ্ন এলাকা, এর বহুবচন হলো ‘আকা’। ‘কারওয়াহ’: সূর্যের আলো পড়ে এমন উন্মুক্ত ভূমি।
