Yunus
ইউনুস: 50
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس
মূল আরবি
قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَتَىٰكُمْ عَذَابُهُۥ بَيَـٰتًا أَوْ نَهَارًا مَّاذَا يَسْتَعْجِلُ مِنْهُ ٱلْمُجْرِمُونَ
English Translations
Say, "Have you considered: if His punishment should come to you by night or by day - for which [aspect] of it would the criminals be impatient?"
Say: "Tell me, - if His torment should come to you by night or by day, - which portion thereof would the Mujrimun (disbelievers, polytheists, sinners, criminals) hasten on?"
Say, “Just tell me, if His punishment befalls you at night or by day, what (desirable thing) will it have that the sinners are asking it so hurriedly?
Tell them: 'Did you consider (what you would do) were His chastisement to fall upon you suddenly by night or by day? So why are the culprits seeking to hasten its coming?
Say: Have ye thought: When His doom cometh unto you as a raid by night, or in the (busy) day; what is there of it that the guilty ones desire to hasten?
Say: "Do ye see,- if His punishment should come to you by night or by day,- what portion of it would the sinners wish to hasten?
বাংলা অনুবাদ
বল, ‘তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ যদি তাঁর ‘আযাব হঠাৎ করে রাতে বা দিনে তোমাদের উপর এসে পড়ে (তাহলে তো তোমাদের করার কিছুই নেই) অপরাধীরা তার কোনটা তাড়াহুড়ো করে আনতে চায়?
বল, ‘তোমাদের কি মনে হয় যে, যদি তোমাদের নিকট তাঁর আযাব রাতে কিংবা দিনে এসে পড়ে, তবে অপরাধীরা তার কোন্ অংশটি তাড়াতাড়ি চায়’?
তুমি বলে দাওঃ বল তো, যদি তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব রাতে অথবা দিনে আসে তাহলে আযাবের মধ্যে এমন কোন্ জিনিস রয়েছে যা অপরাধীরা তাড়াতাড়ি চাচ্ছে?
বলুন, ‘তোমরা আমাকে জানাও যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের উপর রাতে অথবা দিনে এসে পড়ে, তবে অপরাধীরা তার কোনটিকে তাড়াতাড়ি পেতে চায়?
বল: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি হঠাৎ তাঁর শাস্তি তোমাদের ওপর রজনীতে অথবা দিবসে এসে পড়ে তবে অপরাধীরা সেটার কী ত্বরান্বিত করতে চায়?’
৫০. হে রাসূল! আপনি এ দ্রুত আযাব কামনাকারী লোকদেরকে বলে দিন: যখন দিন বা রাতের কোন সময় আল্লাহর আযাব চলে আসবে তখন তোমরা বলো, তোমরা এ আযাবের কোনটি দ্রুত কামনা করছিলে?!
তাফসীর
10:48
বলুন, ‘তোমরা আমাকে জানাও যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের উপর রাতে অথবা দিনে এসে পড়ে, তবে অপরাধীরা তার কোনটিকে তাড়াতাড়ি পেতে চায় [১]?
[১] সারা জীবন তারা যে জিনিসটিকে মিথ্যা বলতে থাকে, যাকে মিথ্যা মনে করে সারাটা জীবন ভুল কাজে ব্যয় করে এবং যারা সংবাদদানকারী নবী-রাসূলদেরকে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করতে থাকে, সেই জিনিসটি যখন তাদের সমস্ত প্রত্যাশাকে গুড়িয়ে দিয়ে অকস্মাৎ সামনে এসে দাঁড়াবে তখন তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে। নিজের কৃতকর্মের হাত থেকে বাচার কোন পথ থাকবে না। মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। লজ্জায় ও আক্ষেপে অন্তর ভিতরে ভিতরেই দমে যাবে। সুতরাং কত বড় বিপদকে তারা তাড়াতাড়ি ডেকে আনছে? [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর; সা’দী]
আয়াতের অন্য অর্থ এও হতে পারে যে, বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের উপর রাতে অথবা দিনে এসে পড়ে তাহলে অপরাধীরা কোন জিনিস পেতে তাড়াতাড়ি করছে? আযাব তো তাদের খুব কাছের জিনিস। সকাল বা সন্ধ্যা যে কোন সময় এসে যেতে পারে। [দেখুন, বাগভী]
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৫০] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, আমি আমার নিজের জন্য কোনো অপকার বা উপকারের মালিক নই) যখন তারা নবী (সা.)-এর নিকট আযাব ত্বরান্বিত করার দাবি জানাল, তখন আল্লাহ তাঁকে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি তাদের বলে দিন, আমি আমার নিজের জন্য কোনো অপকার বা উপকারের মালিক নই; অর্থাৎ এর মালিকানা আমারও নেই এবং অন্য কারোও নেই। (আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত) অর্থাৎ যা তিনি আমাকে দান করেন বা করার সামর্থ্য দেন। সুতরাং তোমরা যা ত্বরান্বিত করতে চাইছ, তা প্রদান করার সামর্থ্য আমি কীভাবে রাখব? অতএব তোমরা তাড়াহুড়ো করো না। (প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে) অর্থাৎ তাদের ধ্বংস ও শাস্তির জন্য মহান আল্লাহর ইলমে একটি সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত আছে।
(যখন তাদের সময় উপস্থিত হয়) অর্থাৎ তাদের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মুহূর্ত যখন আসে। (তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং ত্বরান্বিতও করতে পারে না) অর্থাৎ তাদের পক্ষে দুনিয়ায় আর এক মুহূর্তও অতিরিক্ত অবস্থান করা সম্ভব নয় এবং তারা একে এগিয়েও আনতে পারে না যে পরবর্তীতে পিছিয়ে দেওয়া যাবে। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৫০]বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তাঁর আযাব তোমাদের ওপর রাতে কিংবা দিনে চলে আসে, তবে অপরাধীরা কেন তা ত্বরান্বিত করতে চায়? (৫০)মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তাঁর আযাব তোমাদের ওপর রাতে কিংবা দিনে চলে আসে) এখানে শব্দ দুটি সময়বাচক পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং এটি তাদের সেই প্রশ্নের উত্তর যেখানে তারা বলেছিল: "এই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?" এবং এটি আযাব ত্বরান্বিত করার ব্যাপারে তাদের বিচারবুদ্ধির অসারতা প্রমাণ করে।
অর্থাৎ যদি আযাব এসেই পড়ে, তবে তাতে তোমাদের লাভ কী? আর তখন ঈমান আনাও তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। (অপরাধীরা কেন তা ত্বরান্বিত করতে চায়?) এটি এমন একটি প্রশ্ন যা ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ তারা কতই না ভয়ংকর বিষয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করছে! যেমন সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে এমন কোনো বিষয়ের দাবি করে যার পরিণাম অত্যন্ত অশুভ: "তুমি নিজের ওপর কী বিপদ ডেকে আনছ!" আর "মিনহু" (তা থেকে) শব্দের সর্বনামটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি আযাবের দিকে ফিরছে; আবার বলা হয়েছে যে এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে ফিরছে। নাহহাস বলেন: যদি আপনি "মিনহু" শব্দের "হা" সর্বনামটিকে আযাবের দিকে ফেরান, তবে "মা-যা" শব্দটির বিশ্লেষণে দুটি অভিমত পাওয়া যায়: একটি হলো "মা" শব্দটি শুরুতে বসেছে (মুবতাদা হিসেবে রাফা অবস্থায়) এবং "যা" শব্দটি "আল্লাযী"-এর অর্থে 'মা'-এর খবর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে সম্বন্ধীয় সর্বনামটি উহ্য রয়েছে।
অন্য অভিমতটি হলো "মা-যা" একটি অখণ্ড শব্দ হিসেবে মুবতাদা এবং পরবর্তী বাক্যটি তার খবর, যা যাজ্জাজ উল্লেখ করেছেন। আর যদি আপনি "মিনহু" শব্দের সর্বনামটিকে মহান আল্লাহর পবিত্র নামের দিকে ফেরান, তবে "মা" এবং "যা" শব্দ দুটিকে একটি অখণ্ড শব্দ হিসেবে গণ্য করবেন এবং এটি "য়্যাস্তাজিলু" ক্রিয়ার কর্ম (নসব অবস্থায়) হিসেবে গণ্য হবে। তখন এর অর্থ হবে: অপরাধীরা মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট থেকে কোন বস্তুটির জন্য তাড়াহুড়ো করছে? [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৫১]তবে কি যখন তা আপতিত হবে তখন তোমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে? এখন কি (বিশ্বাস করছ)?
অথচ তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে। (৫১)
