Yunus
ইউনুস: 48
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس
মূল আরবি
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَـٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ
English Translations
And they say, "When is [the fulfillment of] this promise, if you should be truthful?"
And they say: "When will be this promise (the torment or the Day of Resurrection), - if you speak the truth?"
They say, “When will this promise (of punishment to the disbelievers) be fulfilled if you are true?”
They say:'If what you promise is true, when will this threat be fulfilled?'
And they say: When will this promise be fulfilled, if ye are truthful?
They say: "When will this promise come to pass,- if ye speak the truth?"
বাংলা অনুবাদ
তারা বলে, ‘‘তোমরা সত্যবাদী হলে (বল তো) এই প্রতিশ্রুতি কখন সত্য হয়ে দেখা দিবে?’’
আর তারা বলে, ‘কখন এই প্রতিশ্রুতি (পূর্ণ হবে), যদি তোমরা সত্যবাদী হও’?
আর তারা বলেঃ (আমাদের) এই অঙ্গীকার কখন (সংঘটিত) হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
আর তারা বলে, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, (তবে বল) এ প্রতিশ্রুতি কবে ফলবে?’
তারা বলে: ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, (তবে ‘বল) এ প্রতিশ্রুতি কখন আসবে?’
৪৮. এ কাফিররা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ও গাদ্দারী করে বলেছে: তোমরা আমাদের সাথে যে আযাবের ওয়াদা করেছিলে তার সময় কখন হবে বলো যদি তোমরা নিজ দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো?!
তাফসীর
৪৮-৫২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন- এই মুশরিকরা শাস্তির জন্যে তাড়াতাড়ি করছে এবং সময় আসার পূর্বেই যাজ্ঞা করছে। এতে তাদের জন্যে কোনই মঙ্গল নেই। কাফিররা তো শাস্তির জন্যে তাড়াতাড়ি করছে, কিন্তু মুমিনরা এর থেকে ভয় করছে। তারা বিশ্বাস রাখছে যে, শাস্তি অবশ্য অবশ্যই আসবে, যদিও এর নির্দিষ্ট সময় জানা নেই। এ জন্যেই মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে শিখিয়ে দিচ্ছেন- হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাও, আমি নিজের জীবনেরও লাভ ও ক্ষতির মালিক নই। আমি শুধু ঐটুকু বলি যেটুকু আমাকে বলে দেয়া হয়েছে। যদি আমি কিছু পাওয়ার ইচ্ছে করি, তবে আমি ওর উপর সক্ষম নই, যে পর্যন্ত না আল্লাহ আমাকে তা প্রদান করেন।
আমি তো শুধু তার একজন বান্দা এবং তোমাদের কাছে প্রেরিত একজন দূত। আমি তোমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছি যে, কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে। কিন্তু এর সময় আমার জানা নেই। কারণ এটা আমাকে বলে দেয়া হয়নি। প্রত্যেক কওমের জন্য (শাস্তির) একটা নির্ধারিত সময় রয়েছে। যখন ঐ সময় এসে যাবে তখন আর মুহূর্তকালও তারা পিছনে সরতে পারবে না এবং সামনেও অগ্রসর হতে পারবে না। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ কাউকেও কোন অবকাশ দেন না, যখন তার নির্দিষ্ট সময় এসে পড়ে।” (৬৩:১১) কাফিরদের উপর আল্লাহর শাস্তি অকস্মাৎ এসে যাবে। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কেই তাদেরকে বলেছেন- যদি রাত্রিকালে বা দিবাভাগে কোন এক সময় আকস্মিকভাবে তোমাদের উপর শাস্তি এসে পড়ে, তখন কি করবে?
কাজেই তাড়াতাড়ি করছো কেন? যদি শাস্তি এসেই পড়ে, তবে কি তখন ঈমান আনবে? তখন আর ঈমান আনয়নের সময় কোথায়? ঐ সময় তাদেরকে বলা হবে- যে শাস্তির জন্যে তোমরা তাড়াতাড়ি করছিলে, এখন এই শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর। ঐ সময় তারা বলবেঃ “হে আল্লাহ! আমরা দেখলাম ও শুনলাম ।শাস্তি এসে পড়লেই তারা বলে উঠবেঃ “এখন আমরা এক আল্লাহকে মানছি এবং অন্যান্য সমস্ত মা'বুদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি।” কিন্তু ঐ সময়ের ঈমান কোনই কাজে আসবে না। বান্দাদের ব্যাপারে আল্লাহর নীতি তো এরূপই চলে আসছে।এ যালিমদেরকে বলা হবে- “এখন তোমরা চিরস্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।” এইভাবে তাদেরকে খুব ধমক দিয়ে এ কথা বলা হবে।
জাহান্নামের যে শাস্তির কথা তারা অস্বীকার করতো ঐ শাস্তির মধ্যে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে ফেলে দেয়া হবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “ঐ দিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হবে। (বলা হবেঃ) এটা হচ্ছে ঐ আগুন যা তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে। এটাই কি যাদু? না, বরং তোমরা দেখছো না (অনুধাবন করছো না)। তোমরা (এখন) জাহান্নামে প্রবেশ কর। তোমরা ধৈর্যধারণ কর আর নাই কর, এটা সমান কথা, তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান অবশ্যই প্রাপ্ত হবে।”
আর তারা বলে, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, (তবে বল) এ প্রতিশ্রুতি কবে ফলবে [১]?’
[১] আল্লাহ তা’আলা এখানে কাফেরদের কুফরির সংবাদ দিয়ে বলছেন যে, কাফেররা যে আল্লাহর আযাবকে তাড়াতাড়ি চাচ্ছে এবং এর জন্য সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের কথা বলছে, এতে তাদের কোন লাভ নেই। অন্যত্রও আল্লাহ এ কথা বলেছেন, “যারা এটাতে ঈমান রাখে না তারাই তা ত্বরান্বিত করতে চায়। আর যারা ঈমান এনেছে তারা তা থেকে ভীত থাকে এবং তারা জানে যে, তা অবশ্যই সত্য " [সূরা আশ-শূরা:১৮] আরও বলেন, “আর তারা আপনাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি কখনো ভংগ করেন না। আপনার রব-এর কাছে একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান” [সূরা আল-হজ: ৪৭] আরও বলেন, “তারা আপনাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, জাহান্নাম তো কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করবেই।" [সূরা আল-আনকাবৃত: ৫৪] তাছাড়া এ সূরার ৫০ নং আয়াতে তাদেরকে রীতিমত সাবধানও করেছেন।
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
"অথবা"। আর এর উদ্দেশ্য হলো, যদি আমি তাদের থেকে অবিলম্বে প্রতিশোধ না নিই, তবে বিলম্বে তাদের থেকে প্রতিশোধ নেব। (অতঃপর আল্লাহ সাক্ষী) অর্থাৎ এমন এক সাক্ষী যার অন্য কোনো সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। (তারা যা করে তার ওপর) অর্থাৎ আপনার বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ এবং আপনাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করার বিষয়ে। আর যদি বলা হয়: "অতঃপর আল্লাহ সেখানে সাক্ষী", তবে তাও বৈধ হবে। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৭]আর প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রাসূল রয়েছে। সুতরাং যখন তাদের রাসূল আগমন করেন, তখন তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করা হয় এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হয় না।
(৪৭)মহান আল্লাহর বাণী: (আর প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রাসূল রয়েছে। সুতরাং যখন তাদের রাসূল আগমন করেন, তখন তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করা হয়) এর অর্থ হলো: প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রাসূল রয়েছেন যিনি তাদের ওপর সাক্ষী হবেন। সুতরাং কিয়ামতের দিন যখন তাদের রাসূল উপস্থিত হবেন, তখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করা হবে। যেমন: "তখন কী অবস্থা হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব" [আন-নিসা: ৪১]। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: কাফিররা কিয়ামতের দিন তাদের কাছে রাসূলদের আসার বিষয়টি অস্বীকার করবে। তখন রাসূলকে উপস্থিত করা হবে এবং তিনি বলবেন: আমি তোমাদের কাছে রিসালাত পৌঁছে দিয়েছি।
তখন তাদের ওপর আজাবের ফয়সালা করা হবে। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: "আর রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হবেন"। আর এটাও সম্ভব যে এর অর্থ হলো, দুনিয়াতে তাদের ততক্ষণ পর্যন্ত আজাব দেওয়া হয় না যতক্ষণ না তাদের কাছে রাসূল পাঠানো হয়। সুতরাং যে ঈমান আনল সে সফল ও নাজাত পেল, আর যে ঈমান আনল না সে ধ্বংস হলো ও আজাবগ্রস্ত হলো। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না" [আল-ইসরা: ১৫]। আর 'আল-কিসত' (القسط) অর্থ হলো ন্যায়বিচার। (আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না) অর্থাৎ তাদের গুনাহ ছাড়া আজাব দেওয়া হবে না এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া পাকড়াও করা হবে না।
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৮]আর তারা বলে: "এই প্রতিশ্রুতি কবে আসবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?" (৪৮)এখানে মক্কার কাফিরদের কথা বোঝানো হয়েছে, তাদের চরম অস্বীকৃতি এবং আজাবের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করার কারণে। অর্থাৎ সেই শাস্তি কখন হবে অথবা কিয়ামত কখন ঘটবে যার প্রতিশ্রুতি মুহাম্মদ আমাদের দিচ্ছেন? আবার বলা হয়েছে: এটি প্রত্যেক জাতির ক্ষেত্রে সাধারণ যারা তাদের রাসূলকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৯]আপনি বলুন: "আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের কোনো অপকার বা উপকারের মালিক আমি নই। প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে।
যখন তাদের সেই সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্ত দেরি করতে পারে না এবং এগিয়েও আনতে পারে না।" (৪৯)(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৯৭।(২). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৩।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৩০ এবং এর পরবর্তী।
