Yunus
ইউনুস: 47
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس
মূল আরবি
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولٌ ۖ فَإِذَا جَآءَ رَسُولُهُمْ قُضِىَ بَيْنَهُم بِٱلْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
English Translations
And for every nation is a messenger. So when their messenger comes, it will be judged between them in justice, and they will not be wronged.
And for every Ummah (a community or a nation), there is a Messenger; when their Messenger comes, the matter will be judged between them with justice, and they will not be wronged.
For every people there is a messenger. So, when their messenger comes, the matter is decided between them with justice, and they are not wronged.
A Messenger is sent to every people; and when their Messenger comes, the fate of that people is decided with full justice; they are subjected to no wrong.
And for every nation there is a messenger. And when their messenger cometh (on the Day of Judgment) it will be judged between them fairly, and they will not be wronged.
To every people (was sent) a messenger: when their messenger comes (before them), the matter will be judged between them with justice, and they will not be wronged.
বাংলা অনুবাদ
প্রত্যেক জাতির জন্য (পাঠানো হয়েছে) একজন রসূল। তাদের রসূল যখন এসেছে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে তাদের মাঝে ফায়সালা করা হয়েছে। তাদের প্রতি কোন যুলম করা হয়নি।
আর প্রত্যেক উম্মতের জন্য রয়েছে রাসূল। তারপর যখন তাদের রাসূল আসে, তাদের মধ্যে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করা হয় এবং তাদের যুলম করা হয় না।
প্রত্যেক উম্মাতের জন্য রাসূল রয়েছে, যখন তাদের সেই রাসূল (বিচার দিবসে) এসে পড়বে, (তখন) তাদের মীমাংসা করা হবে ন্যায়ভাবে, আর তাদের প্রতি কোন অবিচার করা হবেনা।
আর প্রত্যেক উম্মতের জন্য আছে একজন রাসূল অতঃপর যখন তাদের রাসূল আসে তখন তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করা হয় এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হয় না।
প্রত্যেক জাতির জন্য( পাঠানো হয়েছে) একজন রাসূল এবং যখন তাদের রাসূল এসেছে তখন ন্যায়বিচারের সাথে তাদের মীমাংসা হয়েছে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হয়নি।
৪৭. পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রত্যেকের নিকটই একজন রাসূল পাঠানো হয়েছে। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে যা পৌঁছানোর আদেশ করা হয়েছে তা তাঁর উম্মতকে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন এবং তারা তাঁকে এ ব্যাপারে মিথ্যুক বলেছে তখন তিনি তাঁর ও তাঁর উম্মতের মাঝে ইনসাফের ফায়সালা করেন। আল্লাহ তাঁকে নিজ দয়ায় মুক্তি দিয়েছেন এবং ওদেরকে নিজ ইনসাফে ধ্বংস করেছেন। তাদের আমলসমূহের প্রতিদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সামান্যটুকুও যুলুম করা হবে না।
তাফসীর
10:46
আর প্রত্যেক উম্মতের জন্য আছে একজন রাসূল [১] অতঃপর যখন তাদের রাসূল আসে তখন তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করা হয় এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হয় না [২]।
[১] বলা হয়েছে, “প্রত্যেক উম্মতের জন্য একজন রাসূল রয়েছে।” এ ধরনের আয়াত আরো দেখুন, সূরা আন-নাহলঃ ৩৬, সূরা ফাতেরঃ ২৪। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বের দাবী রাখে তা হলো, আল্লাহ তা'আলা যদিও রাসূলকে সার্বজনিন করেছেন তারপরও তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের কাছে হেদায়াতকারীদের প্রেরণ করে থাকেন। তারা নবী বা রাসূল না হলেও নবী-রাসূলদের বাণী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে বহন করে থাকেন। এ ব্যাপারে সূরা রা'দ এর ৭ নং আয়াতে এসেছে যে, "প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়াতকারী বা পথপ্রদর্শক আছেন"।
[২] এর অর্থ হচ্ছে, রাসূলের দাওয়াত কোন মানব গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর ধরে নিতে হবে যে, সেই গোষ্ঠীর হেদায়াতের জন্য আল্লাহর যা কিছু করণীয় ছিল, তা করা হয়ে গেছে। এরপর কেবল ফায়সালা করাই বাকি থেকে যায়। অতিরিক্ত যুক্তি বা সাক্ষ্য-প্রমাণের অবকাশ থাকে না। আর চূড়ান্ত ইনসাফ সহকারে এ ফায়সালা করা হয়ে থাকে। যারা রসূলের কথা মেনে নেয় এবং নিজেদের নীতি ও মনোভাব পরিবর্তন করে তারা আল্লাহর রহমত লাভের অধিকারী হয়। আর যারা তাঁর কথা মেনে নেয় না তারা শাস্তি লাভের যোগ্য হয়। তাদেরকে এ শাস্তি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গায় দেয়া যেতে পারে বা এক জায়গায়। তাদের কাছে রাসূল এ জন্যই পাঠাতে হয়, কারণ আল্লাহ্ তা'আলা রাসূল না পাঠিয়ে, মানুষদেরকে সাবধান না করে কাউকে শাস্তি দেন না। আল্লাহ বলেন, “আর আমরা রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদানকারী নই।" [সূরা আল-ইসরা ১৫][দেখুন, ফাতহুল কাদীর]
তাছাড়া এ আয়াতের আরেক প্রকার ব্যাখ্যাও বর্ণিত হয়েছে, মুজাহিদ রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ এখানে রাসূলদের আগমন করার অর্থঃ কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে তাদের আগমণের কথা বুঝানো হয়েছে। যেমনটি সূরা আয-যুমারের ৬৯ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছেঃ “যমীন তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে, 'আমলনামা পেশ করা হবে এবং নবীগণকে ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে ও তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না”। সুতরাং প্রত্যেক উম্মতের আমলনামাই তাদের নবী-রাসূলদের উপস্থিতিতে পেশ করা হবে। তাদের ভাল-মন্দ আমল তাদের সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনুরূপভাবে আমল সংরক্ষণকারী ফিরিশ্তাগণদের মধ্য থেকেও সাক্ষী থাকবে। এভাবেই উম্মতের পর উম্মতের মধ্যে ফয়সালা করা হবে। উম্মতে মুহাম্মাদীয়ারও একই অবস্থা হবে তবে তারা সবশেষে আসা সত্বেও সর্বপ্রথম তাদের হিসাব-নিকাশ করা হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমরা সবশেষে আগমণকারী তবে কিয়ামতের দিন সবার অগ্রে থাকব। [বুখারীঃ ৮৭৬] অপর হাদীসে এসেছে, “সমস্ত সৃষ্টিজগতের পূর্বে তাদের বিচার-ফয়সালা করা হবে"। [মুসলিমঃ ৮৫৫]
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
"অথবা"। আর এর উদ্দেশ্য হলো, যদি আমি তাদের থেকে অবিলম্বে প্রতিশোধ না নিই, তবে বিলম্বে তাদের থেকে প্রতিশোধ নেব। (অতঃপর আল্লাহ সাক্ষী) অর্থাৎ এমন এক সাক্ষী যার অন্য কোনো সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। (তারা যা করে তার ওপর) অর্থাৎ আপনার বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ এবং আপনাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করার বিষয়ে। আর যদি বলা হয়: "অতঃপর আল্লাহ সেখানে সাক্ষী", তবে তাও বৈধ হবে। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৭]আর প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রাসূল রয়েছে। সুতরাং যখন তাদের রাসূল আগমন করেন, তখন তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করা হয় এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হয় না।
(৪৭)মহান আল্লাহর বাণী: (আর প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রাসূল রয়েছে। সুতরাং যখন তাদের রাসূল আগমন করেন, তখন তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করা হয়) এর অর্থ হলো: প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রাসূল রয়েছেন যিনি তাদের ওপর সাক্ষী হবেন। সুতরাং কিয়ামতের দিন যখন তাদের রাসূল উপস্থিত হবেন, তখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করা হবে। যেমন: "তখন কী অবস্থা হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব" [আন-নিসা: ৪১]। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: কাফিররা কিয়ামতের দিন তাদের কাছে রাসূলদের আসার বিষয়টি অস্বীকার করবে। তখন রাসূলকে উপস্থিত করা হবে এবং তিনি বলবেন: আমি তোমাদের কাছে রিসালাত পৌঁছে দিয়েছি।
তখন তাদের ওপর আজাবের ফয়সালা করা হবে। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: "আর রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হবেন"। আর এটাও সম্ভব যে এর অর্থ হলো, দুনিয়াতে তাদের ততক্ষণ পর্যন্ত আজাব দেওয়া হয় না যতক্ষণ না তাদের কাছে রাসূল পাঠানো হয়। সুতরাং যে ঈমান আনল সে সফল ও নাজাত পেল, আর যে ঈমান আনল না সে ধ্বংস হলো ও আজাবগ্রস্ত হলো। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না" [আল-ইসরা: ১৫]। আর 'আল-কিসত' (القسط) অর্থ হলো ন্যায়বিচার। (আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না) অর্থাৎ তাদের গুনাহ ছাড়া আজাব দেওয়া হবে না এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া পাকড়াও করা হবে না।
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৮]আর তারা বলে: "এই প্রতিশ্রুতি কবে আসবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?" (৪৮)এখানে মক্কার কাফিরদের কথা বোঝানো হয়েছে, তাদের চরম অস্বীকৃতি এবং আজাবের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করার কারণে। অর্থাৎ সেই শাস্তি কখন হবে অথবা কিয়ামত কখন ঘটবে যার প্রতিশ্রুতি মুহাম্মদ আমাদের দিচ্ছেন? আবার বলা হয়েছে: এটি প্রত্যেক জাতির ক্ষেত্রে সাধারণ যারা তাদের রাসূলকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৪৯]আপনি বলুন: "আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের কোনো অপকার বা উপকারের মালিক আমি নই। প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে।
যখন তাদের সেই সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্ত দেরি করতে পারে না এবং এগিয়েও আনতে পারে না।" (৪৯)(১). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৯৭।(২). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৩।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৩০ এবং এর পরবর্তী।
