Yunus
ইউনুস: 88
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس
মূল আরবি
وَقَالَ مُوسَىٰ رَبَّنَآ إِنَّكَ ءَاتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُۥ زِينَةً وَأَمْوَٰلًا فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا۟ عَن سَبِيلِكَ ۖ رَبَّنَا ٱطْمِسْ عَلَىٰٓ أَمْوَٰلِهِمْ وَٱشْدُدْ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا۟ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ
English Translations
And Moses said, "Our Lord, indeed You have given Pharaoh and his establishment splendor and wealth in the worldly life, our Lord, that they may lead [men] astray from Your way. Our Lord, obliterate their wealth and harden their hearts so that they will not believe until they see the painful punishment."
And Musa (Moses) said: "Our Lord! You have indeed bestowed on Fir'aun (Pharaoh) and his chiefs splendour and wealth in the life of this world, our Lord! That they may lead men astray from Your Path. Our Lord! Destroy their wealth, and harden their hearts, so that they will not believe until they see the painful torment."
Mūsā said, “Our Lord, You have given Pharaoh and his group glamour and riches in the worldly life, so that, our Lord, they mislead (people) from Your path. Our Lord, obliterate their riches and harden their hearts, so that they may not come to believe until they witness the painful punishment.”
Moses prayed: 'Our Lord! You bestowed upon Pharaoh and his nobles splendour and riches in the world. Our Lord! Have You done this that they may lead people astray from Your path? Our Lord! Obliterate their riches and harden their hearts that they may not believe until they observe the painful chastisement.
And Moses said: Our Lord! Lo! Thou hast given Pharaoh and his chiefs splendour and riches in the life of the world, Our Lord! that they may lead men astray from Thy way. Our Lord! Destroy their riches and harden their hearts so that they believe not till they see the painful doom.
Moses prayed: "Our Lord! Thou hast indeed bestowed on Pharaoh and his chiefs splendour and wealth in the life of the present, and so, Our Lord, they mislead (men) from Thy Path. Deface, our Lord, the features of their wealth, and send hardness to their hearts, so they will not believe until they see the grievous penalty."
বাংলা অনুবাদ
মূসা বলল, ‘‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি ফির‘আওন আর তার প্রধানদেরকে এ পার্থিব জগতে চাকচিক্য আর ধন সম্পদ দান করেছ আর এর দ্বারা হে আমাদের রবব! তারা মানুষকে তোমার পথ থেকে বিচ্যুত করছে, হে আমার প্রতিপালক! তাদের সম্পদ ধ্বংস করে দাও, আর তাদের হৃদয়কে কঠিন করে দাও, যাতে তারা ভয়াবহ ‘আযাব দেখার পূর্ব পর্যন্ত ঈমান আনতে সক্ষম না হয় (যেহেতু তারা বার বার আল্লাহর নিদর্শন দেখেও সত্য দ্বীনের শত্রুতায় অটল হয়ে আছে)।
আর মূসা বলল, ‘হে আমাদের রব, আপনি ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গকে দুনিয়াবী জীবনে সৌন্দর্য ও ধন-সম্পদ দান করেছেন। হে আমাদের রব, যাতে তারা আপনার পথ থেকে গোমরাহ করতে পারে। হে আমাদের রব, তাদের ধন-সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন, তাদের অন্তরসমূহকে কঠোর করে দিন। ফলে তারা ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেখে’।
আর মূসা বললঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনি ফির‘আউন ও তার প্রধানবর্গকে দান করেছেন জাঁকজমকের সামগ্রী এবং বিভিন্ন রকমের জীবনোপকরণ। হে আমাদের রাব্ব! এর ফলে তারা আপনার পথ হতে (মানব মন্ডলীকে) বিভ্রান্ত করছে। হে আমাদের রাব্ব! তাদের সম্পদগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দিন এবং তাদের অন্তরসমূহকে কঠিন করুন যাতে তারা ঈমান আনতে না পারে ঐ পর্যন্ত যতক্ষণ তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাবকে প্রত্যক্ষ করে।
মূসা বললেন, ‘হে আমাদের রব! আপনি তো ফির’আউন ও তার পরিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে শোভা ও সম্পদ দান করেছেন, হে আমাদের রব! যা দ্বারা তারা মানুষকে আপনার পথ থেকে ভ্রষ্ট করে। হে আমাদের রব! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করুন, আর তাদের হৃদয় কঠিন করে দিন, ফলে তারা যন্ত্রনণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না।’
মূসা বলল: ‘হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি তো ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে শোভা ও সম্পদ দান করেছ, হে আমাদের প্রতিপালক! যার করণে তারা মানুষদেরকে তোমার পথ হতে ভ্রষ্ট করছে। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের সম্পদ বিনষ্ট কর, তাদের হৃদয় কঠিন করে দাও, তারা তো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না।’
৮৮. মূসা (আলাইহিস-সালাম) বললেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়ের সম্মানীদেরকে দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রচুর সৌন্দর্য দিয়েছেন এবং তাদেরকে এ দুনিয়ার জীবনে বহু সম্পদও দিয়েছেন। অথচ তারা আপনার দেয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করে নি। বরং তারা মানুষদেরকে আপনার পথ থেকে ভ্রষ্ট করার জন্য এগুলোর সহযোগিতা নিয়েছে। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের সম্পদগুলোকে দুনিয়ার পিঠ থেকে মুছে দিন এবং সেগুলোর বরকত উঠিয়ে নিন। উপরন্তু তাদের অন্তরগুলোকে আরো কঠিন বানিয়ে দিন। যাতে তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেখা পর্যন্ত ঈমান না আনে। যখন তাদের ঈমান কোন উপকারে আসবে না।
তাফসীর
৮৮-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, ফিরআউন ও তার দলবল যখন সত্যকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলো এবং নিজেদের ভ্রান্তি ও কুফরীর উপরই কায়েম থাকলো এবং যুলুম ও ঔদ্ধত্যপনা অবলম্বন করলো, তখন মূসা (আঃ) আল্লাহকে বললেনঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি ফিরআউন ও তার লোকদেরকে দুনিয়ার শান-শওকত এবং প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছেন। এর ফলে তো তারা আরো পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এবং অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেবে।” (আরবী) অর্থাৎ (আরবী) -কে যবর দিয়ে পড়লে অর্থ হবে- হে আল্লাহ! আপনি ফিরআউনকে এই নিয়ামতগুলো দিয়ে রেখেছেন অথচ আপনি জানেন যে, সে ঈমান আনবে না।
সুতরাং সে নিজেই পথভ্রষ্ট হবে। আর (আরবী) অর্থাৎ (আরবী)-কে পেশ দিয়ে পড়লে অর্থ হবে- হে আল্লাহ! আপনার ফিরআউনকে দেয়া নিয়ামতগুলো দেখে লোকেরা ধারণা করবে যে, আপনি থাকে ভালবাসেন। আপনি যখন তাকে সুখে শান্তিতে রেখেছেন, তখন ফল যেন এটাই দাড়াবে যে, লোকেরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। সুতরাং হে আল্লাহ! তাদের ধন-সম্পদকে ধ্বংস করে দিন। যহ্হাক (রঃ), আবুল আলিয়া (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, এরপরে আল্লাহ তা'আলা ফিরআউনের মালধনকে পাথরে পরিণত করেছিলেন। কাতাদা (রঃ) বলেনঃ “আমরা জানতে পেরেছি যে, তার ফসলও পাথরের আকার ধারণ করেছিল এবং চিনি ইত্যাদিও কুচি পাথরে পরিণত হয়েছিল।মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব (রঃ) উমার ইবনে আবদিল আযীয (রঃ)-এর সামনে সূরায়ে ইউনুস পাঠ করেন।
যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছেন (আরবী) তখন উমার (রঃ) বলেনঃ “হে আবু হামযা! (আরবী) কি জিনিস?” আবু হামযা উত্তরে বললেনঃ “তাদের মালধন ও আসবাবপত্র পাথরে পরিণত হয়েছিল।” তখন উমার ইবনে আবদুল আযীয (রঃ) স্বীয় গোলামকে বললেনঃ “থলেটি নিয়ে এসো।” সে থলেটি নিয়ে আসলো যাতে ছোলা ও ডিম রাখা ছিল। দেখা গেল যে, সেগুলো পাথরে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবী) এটা মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর উক্তি নকল করেছেন। তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহ! আপনি তাদের অন্তরসমূহে মোহর লাগিয়ে দেন, যেন তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনয়ন না করে।” মূসা (আঃ) ক্রোধান্বিত হয়ে ফিরআউন ও তার কওমের বিরুদ্ধে এই দুআ করেছিলেন।
এই ব্যাপারে মূসা (আঃ)-এর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, তাদের মধ্যে সংশোধনের কোন যোগ্যতাই নেই। কাজেই তাদের নিকট থেকে কল্যাণের কোন আশাই করা যায় না। যেমন নূহ (আঃ) বলেছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আমার প্রতিপালক! কাফিরদের মধ্য হতে যমীনের উপর একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না। যদি আপনি তাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠে থাকতে দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে বিভ্রান্তই করবে এবং তাদের শুধু দুষ্কার্যকারী ও কাফির সন্তানই ভূমিষ্ট হবে।” (৭১:২৬) এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা মূসা (আঃ)-এর প্রার্থনা কবুল করে নেন এবং তার ভাই হারূন (আঃ) তাতে আমীন বলেন। তাই আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের দুজনের প্রার্থনা কবূল করা হলো এবং ফিরআউনীদের ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।
এ আয়াতটি এটাই প্রমাণ করছে যে, যদি মুকতাদী ইমামের সূরা ফাতিহার কিরআতের উপর আমীন বলে, তবে সেও স্বয়ং সূরায়ে ফাতিহা পাঠকারী বলে গণ্য হবে।মহান আল্লাহর উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ হে মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)! যেমন তোমাদের প্রার্থনা কবুল করা হলো, তেমনই তোমরাও আমার হুকুমের উপর সোজা ও দৃঢ় থাকো এবং তা কার্যকরী কর। (আরবী) বলে এটাকেই। কথিত আছে যে, এই প্রার্থনার চল্লিশ বছর পর ফিরআউনকে ধ্বংস করা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এই প্রার্থনার চল্লিশ দিন পরেই সে ধ্বংস হয়েছিল।
মূসা বললেন, ‘হে আমাদের রব ! আপনি তো ফির’আউন ও তার পরিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে শোভা ও সম্পদ [১] দান করেছেন, হে আমাদের রব! যা দ্বারা তারা মানুষকে আপনার পথ থেকে ভ্রষ্ট করে [২]। হে আমাদের রব! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করুন, আর তাদের হৃদয় কঠিন করে দিন, ফলে তারা যন্ত্রনণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না [৩]।’
[১] অর্থাৎ আড়ম্বর, শান-শওকত ও সাংস্কৃতিক জীবনের এমন চিত্তাকর্ষক চাকচিক্য, যার কারণে দুনিয়ার মানুষ তাদের ও তাদের রীতি-নীতির মোহে মত্ত হয় এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের পর্যায়ে পৌছার আকাঙ্খা করতে থাকে।
[২] অর্থাৎ উপায়-উপকরণ, যেগুলোর প্রাচুর্যের কারণে নিজেদের কলা-কৌশলসমূহ কার্যকর করা তাদের জন্য সহজসাধ্য ছিল। হে আমাদের রব, আপনিই তাদেরকে এগুলো দিয়েছেন, অথচ আপনি জানতেন যে, আপনি যা নিয়ে তাদের কাছে আমাকে পাঠিয়েছেন তারা তার উপর ঈমান আনবে না। এটা তো আপনি করেছেন তাদেরকে পরীক্ষামূলক ছাড় দেয়ার জন্য। [ইবন কাসীর]
[৩] এ দো’আটি মূসা আলাইহিস সালাম এমন সময় করেছিলেন যখন একের পর এক সকল নিদর্শন দেখে নেবার এবং দ্বীনের সাক্ষ্য প্রমাণ পূর্ণ হয়ে যাবার পরও ফিরআউন ও তার রাজসভাসদরা সত্যের বিরোধিতার চরম হঠকারিতার সাথে অবিচল ছিল। এহেন পরিস্থিতিতে পয়গম্বর যে বদদোয়া করেন তা কুফরীর ওপর অবিচল থাকার অনুরূপ হয়ে থাকে। অর্থাৎ তাদেরকে আর ঈমান আনার সুযোগ দেয়া হয় না। মূসা আলাইহিসসালামের এ দোআটি নূহ আলাইহিসসালামের দোআর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেখানে বলা হয়েছেঃ “হে আমার প্রভু! যমীনের বুকে কাফেরদের কোন আস্তানা অবশিষ্ট রাখবেন না; কারণ তাদেরকে যদি আপনি পাকড়াও না করে এমনি ছেড়ে দেন তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং প্রচণ্ড অপরাধী এবং অতিশয় কাফের ছাড়া আর কিছুর জন্মও তারা দেবে না"। [সূরা নূহঃ ২৭]।
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৮৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তাদের জন্য সেটির উদ্দেশ্যে বের হওয়া সমীচীন নয়। ইমাম মালিক এবং যারা তাঁর মত পোষণ করেন, তাদের সপক্ষে দলিল হলো যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: (তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় করো, কারণ ফরয সালাত ব্যতীত ব্যক্তির শ্রেষ্ঠ সালাত হলো তার ঘরে আদায়কৃত সালাত)। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। বিপক্ষ মতাবলম্বীরা এই দলিল পেশ করেন যে, নবী (সা.) মসজিদে জামাতে এই সালাত আদায় করেছিলেন। অতঃপর তিনি সেই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে অবহিত করেন যা তাঁকে নিয়মিত তা করা থেকে বিরত রেখেছিল, আর তা হলো—তাদের ওপর এটি ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
সে কারণেই তিনি তাদের বলেছিলেন: (তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় করো)। এরপর সাহাবিগণ বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন দলে মসজিদে এই সালাত আদায় করতেন, যতক্ষণ না উমর (রা.) তাদের একজন ক্বারীর অধীনে একত্রিত করেন; ফলে বিষয়টি এভাবেই স্থিতিশীল হয় এবং সুন্নাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। চতুর্থত—যদি আমরা এই যুক্তিতে উপনীত হই যে, তারা যদি নিজেদের ব্যাপারে শঙ্কিত থাকে তবে তাদের ঘরে সালাত আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে তা থেকে এই দলিল গ্রহণ করা যায় যে, ভয় বা অন্য কোনো কারণে ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য জামাত এবং জুমুআ ত্যাগ করা বৈধ। আর যে ওজর এটি বৈধ করে তা হলো—এমন রোগ যা চলাচলে অক্ষম করে দেয়, অথবা রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা, অথবা ধন-সম্পদ বা জীবনের ব্যাপারে জালেম শাসকের জুলুমের ভয়, যদি তার ওপর কোনো হক পাওনা না থাকে।
আর কাদার সাথে অতিবৃষ্টিও একটি ওজর, যদি তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। আবার যার কোনো নিকটাত্মীয় মুমূর্ষু অবস্থায় থাকে এবং তার সেবা করার মতো কেউ না থাকে, তবে তার জন্যও ছাড় রয়েছে; ইবনে উমর (রা.) এরূপ করেছিলেন। পঞ্চমত—আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন)। বলা হয়েছে: এই সম্বোধন মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি। আবার বলা হয়েছে: এটি মূসা (আ.)-এর প্রতি, আর এটিই অধিক স্পষ্ট; অর্থাৎ আপনি বনী ইসরাঈলকে সুসংবাদ দিন যে, আল্লাহ অচিরেই তাদের শত্রুদের ওপর তাদের বিজয় দান করবেন। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৮৮]আর মূসা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক!
আপনি ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে চাকচিক্য ও ধন-সম্পদ দান করেছেন। হে আমাদের প্রতিপালক! যাতে তারা আপনার পথ থেকে বিচ্যুত করে। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের ধন-সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন এবং তাদের অন্তরসমূহ কঠোর করে দিন, ফলে তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না। (৮৮)মহান আল্লাহর বাণী: (আর মূসা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গকে দান করেছেন) "দান করেছেন" অর্থাৎ প্রদান করেছেন। (পার্থিব জীবনে চাকচিক্য ও ধন-সম্পদ) অর্থাৎ পার্থিব সম্পদ। মিসরের ফুসতাত থেকে শুরু করে হাবশা পর্যন্ত তাদের এমন সব পাহাড় ছিল যাতে সোনা, রুপা, যবরজদ, পান্না ও ইয়াকুতের খনি বিদ্যমান ছিল।
কোনো গৃহবাসী [বাকি না রাখেন]।" (সূরা নূহ, আয়াত: ২৬)। আর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তিনি বলেন, "(হে আমার রব!) যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।" (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৩৬)।ইবনে আবি শায়বাহ, আহমাদ, তিরমিযী (তিনি একে হাসান বলেছেন), ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, তাবারানি, হাকিম (তিনি একে সহিহ বলেছেন), ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকি 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হলো, তখন যুদ্ধবন্দীদের আনা হলো।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এরা আপনার স্বগোত্রীয় ও আত্মীয়-স্বজন; আপনি তাদের জীবিত রাখুন (মুক্তি দিন), হতে পারে আল্লাহ তাদের তাওবাহ করার তাওফিক দান করবেন।উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে, আপনাকে বের করে দিয়েছে এবং আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে; আপনি তাদের এগিয়ে দিন এবং আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দেই।আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আপনি এমন একটি উপত্যকা খুঁজুন যেখানে প্রচুর কাষ্ঠখণ্ড রয়েছে, অতঃপর সেখানে আগুন জ্বালিয়ে তাদের পুড়িয়ে ফেলুন।আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কথা শুনে বললেন: তুমি তো আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে।অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং তাদের কোনো উত্তর দিলেন না।
তখন কিছু লোক বলতে লাগল: তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত গ্রহণ করবেন, আবার কিছু লোক বলল: তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত গ্রহণ করবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষের অন্তরকে এমন কোমল করে দেন যে তা দুধের চেয়েও নরম হয়ে যায়, আবার আল্লাহ তাআলা কিছু মানুষের অন্তরকে এমন কঠোর করে দেন যে তা পাথরের চেয়েও শক্ত হয়ে যায়। হে আবু বকর! তোমার দৃষ্টান্ত হলো ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মতো, যিনি বলেছিলেন, "(হে আমার রব!) যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।" (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৩৬)।
আর হে আবু বকর! তোমার আরও একটি দৃষ্টান্ত হলো ঈসা আলাইহিস সালামের মতো, যিনি বলেছিলেন, "আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা আপনারই বান্দা; আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" আর হে উমর! তোমার দৃষ্টান্ত হলো নূহ আলাইহিস সালামের মতো, যখন তিনি বলেছিলেন, "হে আমার পালনকর্তা! আপনি পৃথিবীতে কাফেরদের মধ্য থেকে কোনো গৃহবাসীকে অবশিষ্ট রাখবেন না।" (সূরা নূহ, আয়াত: ২৬)। আর হে উমর! তোমার আরও একটি দৃষ্টান্ত হলো মূসা আলাইহিস সালামের মতো, যখন তিনি বলেছিলেন, "হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিন, যাতে তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান না আনে।" (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৮৮)।
তোমরা এখন অভাবগ্রস্ত, তাই মুক্তিপণ অথবা শিরশ্ছেদ ব্যতীত তাদের কাউকেই যেন ছেড়ে দেওয়া না হয়।তখন আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সুহাইল বিন বায়দা ব্যতীত (সবাইকে শাস্তি দিন), কারণ আমি তাকে ইসলামের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব রইলেন। আমি সেদিনকার চেয়ে বেশি আর কখনও আতঙ্কিত হইনি যে আমার ওপর পাথর বর্ষিত হবে, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সুহাইল বিন বায়দা ব্যতীত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: "দেশের মাটিতে শত্রুদের প্রচুর রক্তপাত ঘটানো ব্যতীত কোনো নবীর জন্য যুদ্ধবন্দী রাখা সঙ্গত নয়..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত।তাবারানি এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু অন্য লোকদের চেয়ে চারটি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন: বদরের যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে তার অভিমত, যখন তিনি তাদের হত্যার আদেশ দিয়েছিলেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ নাযিল করেছিলেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বলিখিত বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার জন্য তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো।"
