Yunus

ইউনুস: 74

10:74
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس

আরবি

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ رُسُلًا إِلَىٰ قَوْمِهِمْ فَجَآءُوهُم بِٱلْبَيِّنَـٰتِ فَمَا كَانُوا۟ لِيُؤْمِنُوا۟ بِمَا كَذَّبُوا۟ بِهِۦ مِن قَبْلُ ۚ كَذَٰلِكَ نَطْبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلْمُعْتَدِينَ

English Translations

Sahih International

Then We sent after him messengers to their peoples, and they came to them with clear proofs. But they were not to believe in that which they had denied before. Thus We seal over the hearts of the transgressors.

Muhsin Khan

Then after him We sent Messengers to their people, they brought them clear proofs, but they would not believe what they had already rejected beforehand. Thus We seal the hearts of the transgressors (those who disbelieve in the Oneness of Allah and disobey Him).

Taqi Usmani

Then, after him, We sent messengers to their peoples, and they came to them with clear signs, but they were not to believe in what they had rejected earlier. This is how We seal the hearts of the transgressors.

Abul Ala Maududi

Then We sent forth after him other Messengers, each one to his people. They brought to them clear signs, but they were not such as to believe in what they had rejected earlier as false. Thus do We seal the hearts of those who transgress.

Pickthall

Then, after him, We sent messengers unto their folk, and they brought them clear proofs. But they were not ready to believe in that which they before denied. Thus print We on the hearts of the transgressors.

Yusuf Ali

Then after him We sent (many) messengers to their peoples: they brought them Clear Signs, but they would not believe what they had already rejected beforehand. Thus do We seal the hearts of the transgressors.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

নূহের পর আমি রসূলদেরকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম, তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল। কিন্তু পূর্বে তারা মিথ্যে জেনে প্রত্যাখ্যান করায় পরে আর ঈমান আনতে প্রস্তুত হয়নি। সীমালঙ্ঘনকারীদের হৃদয়ে এভাবেই আমি মোহর লাগিয়ে দেই।

রাওয়াই আল-বায়ান

অতঃপর আমি তাঁর পরে অনেক রাসূলকে তাদের কওমের নিকট পাঠিয়েছি এবং তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল; কিন্তু তারা ইতঃপূর্বে অস্বীকার করার কারণে ঈমান আনার ছিল না। এমনিভাবে আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তরে মোহর এঁটে দেই।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আবার আমি তার পরে অপর রাসূলদেরকে তাদের সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করলাম। তারা তাদের নিকট মু’জিযা’সমূহ নিয়ে এলো। এতদসত্ত্বেও তারা পূর্বে যা মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল পরে তা মেনে নেয়ার ছিলনা; এভাবেই আল্লাহ কাফিরদের অন্তরসমূহে মোহর লাগিয়ে দেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারপর আমরা নূহের পরে অনেক রাসূলকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাই; অতঃপর তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল। কিন্তু তারা আগে যাতে মিথ্যারোপ করেছিল তাতে ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবে আমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের হৃদয় মোহর করে দেই।

ফাতহুল মাজীদ

নূহের পর আমি তাদের সম্প্রদায়ের কাছে রাসূলদের পাঠিয়েছিলাম; তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল। কিন্তু তারা পূর্বে যা প্রত্যাখ্যান করেছিল তার প্রতি ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবে আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেই।

মুখতাসার

৭৪. নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর চলে যাওয়ার কিছু কাল পর আমি আবারো রাসূলদেরকে তাঁদের সম্প্রদায়ের নিকট পাঠালাম। রাসূলরা মূলতঃ দলীল ও নিদর্শনসমূহ নিয়েই তাঁদের উম্মতদের নিকট এসেছিলেন। কিন্তু রাসূলদেরকে অস্বীকার করার তাদের পূর্বের গোঁয়ার্তুমির দরুন তারা আর ঈমান আনার ইচ্ছা পোষণ করে নি। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর মেরে দিয়েছেন। পূর্ববর্তী রাসূলগণের অনুসারীদের উপর আমি যেমন মোহর মেরেছি তেমনিভাবে আমি সকল যুগ ও অঞ্চলের কুফরির মাধ্যমে আল্লাহর সীমারেখা অতিক্রমকারী কাফিরদের অন্তরেও মোহর মেরে দেবো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি নূহ (আঃ)-এর পরে অন্যান্য রাসুলদেরকেও তাদের কওমের নিকট দলীল প্রমাণাদি ও মু'জিযাসহ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা পূর্বে যেভাবে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল, ওর উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকলো। তারা পূর্ববর্তী রাসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে গুনাহগার তো হয়েছিলই, তদুপরি এই রাসূলদের উপরও ঈমান আনলো না। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “আমি তাদের অন্তর ও চক্ষুসমূহ হতে বুঝবার ও শুনবার যোগ্যতাই বের করে নিলাম।”আল্লাহ্ পাকের উক্তিঃ “এভাবেই আল্লাহ কাফিরদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দেন।” অর্থাৎ যেমন পূর্ববর্তী উম্মতেরা তাদের নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে আমি তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অনুরূপভাবে ঐ পথভ্রষ্টদের অনুসরণকারীদের অন্তরসমূহের উপরও আমি মোহর লাগিয়ে দিয়েছি। যে পর্যন্ত না তারা বেদনাদায়ক শাস্তির শিকারে পরিণত হবে, বিশ্বাস স্থাপন করবে না। ভাবার্থ এই যে, রাসূলদেরকে অস্বীকারকারী উম্মতদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং যারা তাদের উপর ঈমান এনেছে তাদেরকে তিনি মুক্তি দিয়েছেন। এটা নূহ (আঃ)-এর পরবর্তী লোকদের বর্ণনা। আসলে আদম (আঃ)-এর পরের যুগের লোকেরা তো ইসলামের উপরই কায়েম ছিল । কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের মধ্যে প্রতিমা-পূজার প্রচলন হয়ে যায়। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট নূহ (আঃ)-কে প্রেরণ করেন। এ কারণেই তো কিয়ামতের দিন মুমিনরা নূহ (আঃ)-কে বলবেঃ ‘আপনি হচ্ছেন দুনিয়ায় প্রেরিত প্রথম নবী। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আদম (আঃ) ও নূহ (আঃ)-এর মাঝে দশ শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছিল। তারা সবাই ইসলাম ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “নূহ (আঃ)-এর পরে আমি কতইনা যুগ খতম করেছি!” উপরোল্লিখিত আয়াত দ্বারা আরবের সেই মুশরিকদের ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে, যারা সর্বশেষ নবী (সঃ)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করছিল। পূর্ববর্তী নবীদেরকে অবিশ্বাসকারীদের শাস্তির কথা যখন আল্লাহ তাআলা এইভাবে উল্লেখ করলেন, তখন কুরায়েশরা যে নবী (সঃ)-কে অবিশ্বাস করছে, এ ব্যাপারে বাস্তবিকই চিন্তা করা উচিত যে, তারা তো আরো বেশী পাপে জড়িয়ে পড়ছে। কারণ তিনি তো হচ্ছেন সর্বশেষ নবী (সঃ)! তার পরে আর কোন নবী আসবেন না যে, তারা হিদায়াত লাভের আর কোন সুযোগ পাবে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারপর আমরা নূহের পড়ে অনেক রাসূলকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাই; অতঃপর তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল। কিন্তু তারা আগে যাতে মিথ্যারোপ করেছিল তাতে ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না [১]। এভাবে আমরা সীমালঙ্ঘনকারীসদের হৃদয় মোহর করে দেই [২]।

[১] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় কয়েকটি মত রয়েছে,

আল্লাহ্ তা'আলা নূহের পরে রাসূলদেরকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠান; কিন্তু নবীগণ তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ আসার পরও সে সমস্ত সম্প্রদায় নবীরা যা নিয়ে এসেছিল তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল যেমনিভাবে তারা নবী আসার পূর্বে অস্বীকার করত। [কুরতুবী]

আল্লাহ তা'আলা নূহের পরে রাসূলদেরকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠান; কিন্তু তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ আসার পরেও সে সমস্ত সম্প্রদায় নবীরা যা নিয়ে এসেছিল তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল যেমনিভাবে নূহের জাতি নূহ আলাইহিস্‌সালামের দাওয়াতকে এর আগে অস্বীকার করেছিল। [তাবারী; ফাতহুল কাদীর]

আল্লাহ্ তা'আলা নূহের পরে রাসূলদেরকে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে পাঠান; কিন্তু তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ আসার পরেও সে সমস্ত সম্প্রদায় নবীরা যা নিয়ে এসেছিল তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল; তারা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে নিদর্শনাবলী আসার পূর্বেই তড়িঘড়ি করে রাসূলদের দাওয়াত মানতে অস্বীকার করেছিল, ফলে যখন তাদের কাছে রাসূলগণ নিদর্শনাবলী নিয়ে আসলেন তখন পূর্বে অস্বীকার করণের শাস্তি স্বরূপ তাদের ঈমান আনার সৌভাগ্য হলো না। এটা ছিল তাদের জন্য এক প্রকার শাস্তি। কারণ তারা পূর্বে সামর্থ থাকা সত্বেও ঈমান আনেনি। সুতরাং নিদর্শনাবলী দেখার পরেও পূর্বোক্ত হটকারিতার কারণে তাদেরকে ঈমানের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হতে হলো। [তাবারী; ফাতহুল কাদীর] এ অর্থের সমর্থনে অন্যত্র এসেছে, “তারা যেমন প্রথমবারে তাতে ঈমান আনেনি তেমনি আমিও তাদের মনোভাবের ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে দেব এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াতে দেব”। [সূরা আল-আন’আম: ১১০] [সা'দী]

[২] সীমা অতিক্রমকারী লোক তাদেরকে বলে যারা ভুল করার পর আবার নিজের কথার বক্রতা, একগুঁয়েমী ও হঠকারীতার কারণে নিজের ভুলের ওপর অবিচল থাকে এবং যে কথা মেনে নিতে একবার অস্বীকার করেছে তাকে আর কোন প্রকার উপদেশ, অনুরোধ-উপরোধ ও কোন উন্নত থেকে উন্নত পর্যায়ের যুক্তি প্রদানের মাধ্যমে মেনে নিতে চায় না। এ ধরনের লোক যারা কুফরী ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সীমা অতিক্রম করে যায় তাদের ওপর শেষ পর্যন্ত আল্লাহর এমন লানত পড়ে যে, তাদের আর ঈমান নসীব হয় না। [কুরতুবী] তাদের আর কোনদিন সঠিক পথে চলার সুযোগ হয় না। তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, ফলে সেখানে কোন কল্যাণ প্রবেশ করে না। এতে স্পষ্ট হলো যে, আল্লাহ তাদের উপর যুলুম করেন নি। বরং তারাই তাদের কাছে হক আসার পরে হককে প্রতিহত করে এবং প্রথমবার হকের সাথে মিথ্যারোপ করে তাদের নিজেদের উপর যুলুম করেছিল। [সা'দী]