Yunus

ইউনুস: 27

10:27
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس

আরবি

وَٱلَّذِينَ كَسَبُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ جَزَآءُ سَيِّئَةٍۭ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۖ مَّا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ ۖ كَأَنَّمَآ أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ ٱلَّيْلِ مُظْلِمًا ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ

English Translations

Sahih International

But they who have earned [blame for] evil doings - the recompense of an evil deed is its equivalent, and humiliation will cover them. They will have from Allāh no protector. It will be as if their faces are covered with pieces of the night - so dark [are they]. Those are the companions of the Fire; they will abide therein eternally.

Muhsin Khan

And those who have earned evil deeds, the recompense of an evil deed is the like thereof, and humiliating disgrace will cover them (their faces). No defender will they have from Allah. Their faces will be covered, as it were, with pieces from the darkness of night. They are dwellers of the Fire, they will abide therein forever.

Taqi Usmani

As for those who commit evils, the recompense of each evil shall be similar to that evil, and disgrace shall cover them. For them, there is none to save from Allah. Their faces will seem to be covered with layers of a dark night. Those are the people of the Fire. Therein they shall live forever.

Abul Ala Maududi

Those who do evil deeds, the recompense of an evil deed is its like, and humiliation shall spread over them and there will be none to protect them from Allah. Darkness will cover their faces as though they were veiled with the dark blackness of night. These are the people of the Fire and in it they shall abide.

Pickthall

And those who earn ill-deeds, (for them) requital of each ill-deed by the like thereof; and ignominy overtaketh them - They have no protector from Allah - as if their faces had been covered with a cloak of darkest night. Such are rightful owners of the Fire; they will abide therein.

Yusuf Ali

But those who have earned evil will have a reward of like evil: ignominy will cover their (faces): No defender will they have from (the wrath of) Allah: Their faces will be covered, as it were, with pieces from the depth of the darkness of night: they are companions of the Fire: they will abide therein (for aye)!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

পক্ষান্তরে যারা মন্দ কাজ করে, তারা তাদের মন্দ কাজের শাস্তি পাবে কাজের অনুপাতে এবং অপমান তাদেরকে আচ্ছাদিত করবে, আল্লাহর (শাস্তি) হতে কেউই তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না- যেন তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছাদিত করে দেয়া হয়েছে গাঢ় অন্ধকার রাত্রির টুকরো দিয়ে; তারা জাহান্নামের অধিবাসী, তারা তার মধ্যে চিরকাল থাকবে।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যারা মন্দ উপার্জন করবে, প্রতিটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই অনুরূপ; আর লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই। যেন অন্ধকার রাতের এক অংশ দিয়ে তাদের চেহারাগুলো ঢেকে দেয়া হয়েছে। তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা তাতে স্থায়ী হবে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

পক্ষান্তরে যারা মন্দ কাজ করেছে তারা তাদের মন্দ কাজের শাস্তি পাবে ওর অনুরূপ, এবং অপমান তাদেরকে আচ্ছাদিত করে নিবে; তাদেরকে আল্লাহ (এর শাস্তি) হতে কেহই রক্ষা করতে পারবেনা, যেন তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছাদিত করে দেয়া হয়েছে রাতের অন্ধকার স্তরসমূহ দ্বারা। এরা হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী, তারা ওর মধ্যে অনন্ত কাল থাকবে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যারা মন্দ কাজ করে, প্রতিটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই অনুরূপ মন্দ এবং হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে; আল্লাহ্‌ থেকে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই; তাদের মুখমন্ডল যেন রাতের অন্ধকারের আস্তরণে আচ্ছাদিত। তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।

ফাতহুল মাজীদ

পক্ষান্তরে যারা মন্দ কাজ করে তাদের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ এবং তাদেরকে হীনতা আচ্ছন্ন করবে; আল্লাহর (শাস্তি) হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ নেই; তাদের মুখমণ্ডল যেন আচ্ছাদিত করে দেয়া হয়েছে অন্ধকার রাতে। তারা অগ্নির অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

মুখতাসার

২৭. আর বদকারদের কুফরি ও পাপের জন্য পরকালে সেই সমপরিমাণ আল্লাহর শাস্তি রয়েছে। উপরন্তু লাঞ্ছনা ও অবমাননা তাদের চেহারাগুলো ঢেকে ফেলবে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর কোন আযাব নাযিল করলে তা প্রতিরোধকারী কেউ থাকবে না। অন্ধকার রাতের কালো ছায়ার মতো আগুনের ধোঁয়া ও কালো রং তাদের চেহারাগুলোকে ঢেকে ফেলবে। মূলতঃ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা জাহান্নামী। যাতে তারা চিরকাল থাকবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আল্লাহ তা'আলা যখন সৌভাগ্যবানদের সম্পর্কে খবর দিলেন যে, তাদের পুণ্যের বিনিময় বহুগুণ দেয়া হয়ে থাকে তখন এখানে তিনি হতভাগ্য, পাপী ও মুশরিকদের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে। আর তা হলো এই যে, তাদের পাপ ও অপরাধের শাস্তি দ্বিগুণ, চারগুণ দেয়া হবে না, বরং সমান সমান দেয়া হবে। আল্লাহ পাক বলেন- যখন ঐ পাপীদেরকে পেশ করা হবে তখন তোমরা তাদেরকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত অবস্থায় দেখতে পাবে। তোমরা এটা ধারণা করো না যে, আল্লাহ তা'আলা ঐ সব যালিমের আমল থেকে উদাসীন ও অমনোযোগী রয়েছেন। কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের শাস্তি বিলম্বিত করা হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে কেউ বাচাতেও পারবে না এবং তাদের জন্যে কোন সুপারিশকারীও হবে না। সেই দিন মানুষ বলবে- পালাবার স্থান কোথায়? কখনও সম্ভব নয়, কোথাও আশ্রয়ের স্থান নেই। সেই দিন শুধুমাত্র তোমার প্রতিপালকের সমীপেই ঠিকানা আছে। তাদেরকে আল্লাহর সামনে হাযির হতেই হবে। ঐ দিন তাদের মুখমণ্ডল এতো কালো হবে যে, যেন তাদের চেহারার উপর রাত্রির অন্ধকারের চাদর চড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই দিন কতকগুলো মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল, আর কতকগুলো চেহারা হবে কালো ও মলিন । যাদের চেহারা মলিন হবে তাদেরকে বলা হবে- তোমরাই কি ঈমান আনয়নের পর কুফরী করেছিলে? তাহলে এখন কুফরীর স্বাদ গ্রহণ কর। আর যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে তারা আল্লাহর করুণার মধ্যে থাকবে এবং ঐ করুণার মধ্যে তারা চিরকালই থাকবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে- “কতকগুলো চেহারা হবে উজ্জ্বল ও হাস্যময় এবং তারা থাকবে সদা প্রফুল্ল। আর কতকগুলো চেহারার উপর মলিনতা হেঁয়ে যাবে (অর্থাৎ কতকগুলো লোকের মুখমণ্ডল রাত্রির অন্ধকারের মত কালো দেখাবে)।”

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যারা মন্দ কাজ করে, প্রতিটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই অনুরূপ মন্দ এবং হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে [১]; আল্লাহ্‌ থেকে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই [২]; তাদের মুখমন্ডল যেন রাতের অন্ধকারের আস্তরণে আচ্ছাদিত [৩]। তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।[১] আল্লাহ তা'আলা হাশরের মাঠে কাফেরদের চেহারা কেমন হবে তা এ আয়াতসহ আরো বিভিন্ন আয়াতে বর্ণনা করেছেন। [যেমন সূরা আশ-শূরাঃ ৪৫, সূরা ইবরাহীমঃ ৪২-৪৪] |[২] যেমনটি সূরা আল-কিয়ামাহ এর ১০-১২ নং আয়াতেও বর্ণিত হয়েছে।[৩] যেমনটি সূরা আলে ইমরান এর ১০৬-১০৭ এবং সূরা আবাসা এর ৩৮-৪২ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।