Yunus
ইউনুস: 53
10 ইউনুস Yunus · 109 আয়াত يونس
মূল আরবি
۞ وَيَسْتَنۢبِـُٔونَكَ أَحَقٌّ هُوَ ۖ قُلْ إِى وَرَبِّىٓ إِنَّهُۥ لَحَقٌّ ۖ وَمَآ أَنتُم بِمُعْجِزِينَ
English Translations
And they ask information of you, [O Muḥammad], "Is it true?" Say, "Yes, by my Lord. Indeed, it is truth; and you will not cause failure [to Allāh]."
And they ask you (O Muhammad SAW) to inform them (saying): "Is it true (i.e. the torment and the establishment of the Hour; - the Day of Resurrection)?" Say: "Yes! By my Lord! It is the very truth! and you cannot escape from it!"
They ask you to tell them whether it is true. Say, “Yes, by my Lord, it is true. And you cannot frustrate (Allah’s plan).”
They ask you if what you say is true? Tell them: 'Yes, by my Lord, this is altogether true, and you have no power to prevent the chastisement from befalling.'
And they ask thee to inform them (saying): Is it true? Say: Yea, by my Lord, verily it is true, and ye cannot escape.
They seek to be informed by thee: "Is that true?" Say: "Aye! by my Lord! it is the very truth! and ye cannot frustrate it!"
বাংলা অনুবাদ
তারা তোমার কাছে জানতে চায় (তুমি যা বলছ) সেগুলো কি প্রকৃতই সঠিক? বল-‘হাঁ, আমার রবের কসম! তা একবারেই সত্য। তোমরা তা বানচাল করতে পারবে না।
আর তারা তোমার কাছে জানতে চায়, ‘তা কি সত্য’? বল, ‘হ্যাঁ, আমার রবের কসম! নিশ্চয় তা সত্য এবং তোমরা পরাস্তকারী নও’।
তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, ওটা (শাস্তি) কি যথার্থ বিষয়? তুমি বলে দাওঃ হ্যাঁ, আমার রবের কসম! ওটা নিশ্চিত সত্য; আর তোমরা কিছুতেই আল্লাহকে অপারগ করতে পারবেনা।
আর তারা আপনার কাছে জানতে চায়, ‘এটা কি সত্য?’ বলুন, ‘হ্যাঁ, আমার রবের শপথ! এটা অবশ্যই সত্য আর তোমরা মোটেই অপারগকারী নও।’
তারা তোমার নিকট (কিয়ামতের আযাব সম্পর্কে) জানতে চায়, ‘তা কি সত্য?’ বল: ‘হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ! তা অবশ্যই সত্য। এবং তোমরা এটা ব্যর্থ করতে পারবে না।’
৫৩. হে রাসূল! মুশরিকরা আপনার কাছ থেকে জানতে চাইবে যে, আমাদের সাথে যে আযাবের ওয়াদা করা হচ্ছে তা কি সত্য? আপনি তাদেরকে বলুন: হ্যাঁ। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তা সত্য। তোমরা কখনোই তা থেকে পার পাবে না।
তাফসীর
৫৩-৫৪ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ “লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে যে, দেহ মাটিতে পরিণত হওয়ার পর কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান কি সত্য? তুমি তাদেরকে বলে দাও- হ্যা! আল্লাহর কসম! এটা সত্য। তোমাদের মাটি হয়ে যাওয়া এবং এরপর তোমাদেরকে পুনরায় পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা আমার প্রতিপালকের কাছে খুবই সহজ কাজ। তিনি যখন কোন কাজের ইচ্ছা। করেন, তখন শুধু ‘হও' বললেই তা হয়ে যায়।" এইরূপ কসমযুক্ত আয়াত কুরআন কারীমের মধ্যে আর মাত্র দুই জায়গায় রয়েছে। এতে আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে হুকুম করেছেন যে, পুনরুত্থান ও পুনর্জীবনকে যারা অস্বীকার করে, তাদের কাছে তিনি যেন কসম দিয়ে বর্ণনা করেন।
সূরায়ে সাবায় রয়েছেঃ “কাফির লোকেরা বলে, আমাদের উপর কিয়ামত আসবে না; তুমি বলে দাও(কেন আসবে না?) হ্যা, আমার প্রতিপালকের কসম! অবশ্যই ওটা তোমাদের উপর আসবে।” সূরায়ে তাগাবুনে রয়েছেঃ “কাফিররা এই দাবী করে যে, তাদেরকে কখনো পুনরুজ্জীবিত করা হবে না; তুমি বলে দাও- (কেন করা হবে না?) হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে, অনন্তর, তোমরা যা কিছু করেছে, সমস্তই তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে; আর এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।” এরপর আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন কাফিররা কামনা করবে যে, যদি যমীন ভর্তি সোনার বিনিময়ে হলেও তারা আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পেতো!
কিন্তু এটা কখনই হতে পারবে না। আর যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে তখন নিজেদের মনস্তাপকে গোপন রাখবে। তবে তাদের সাথে যে ব্যবহার করা হবে তা ইনসাফের সাথেই করা হবে। তাদের প্রতি মোটেই কোন অবিচার করা হবে না।
আর তারা আপনার কাছে জানতে চায়, ‘এটা কি সত্য?’ বলুন, ‘হ্যাঁ, আমার রবের শপথ এটা অবশ্যই সত্য [১] আর তোমরা মোটেই অপারগকারী নও।’
[১] এখানে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে আল্লাহর সত্বার শপথ করে কেয়ামত যে আসন্ন তা বলতে নির্দেশ দিচ্ছেন। পবিত্র কুরআনের আরো দুটি স্থানে এ ধরণের নির্দেশ এসেছে, [যেমন সূরা সাবাঃ ৩, এবং আত-তাগাবুনঃ ৭] মূলতঃ কেয়ামতের ব্যাপারটি বিশেষ গুরুত্বের দাবী রাখার কারণেই আল্লাহ্ তাঁর নবীকে শপথ করে বলার নির্দেশ দিয়েছেন।
[সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৫৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যখন তা আপতিত হবে, তখন কি তোমরা তাতে ঈমান আনবে? এখন কি?) বাক্যে কিছু অংশ উহ্য আছে, যার বিশ্লেষণ হলো: তোমরা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হয়ে গেছো যে তোমাদের ওপর আজাব নাযিল হবে, অতঃপর যখন তা কার্যকর হবে তখন তোমাদের বলা হবে: এখন কি তোমরা এতে ঈমান আনলে? বলা হয়েছে: এটি ফেরেশতাদের উক্তি যা তাদের উপহাস করার জন্য বলা হবে। আবার বলা হয়েছে: এটি মহান আল্লাহর বাণী; এখানে প্রশ্নবোধক আলিফ ‘সুম্মা’ (অতঃপর) শব্দের ওপর যুক্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো স্বীকৃতি আদায় ও তিরস্কার করা, এবং এটি নির্দেশ করে যে দ্বিতীয় বাক্যের অর্থ প্রথমটির পরবর্তী।
আরও বলা হয়েছে যে, এখানে ‘সুম্মা’ শব্দটি ‘সা’ বর্ণে যবর সহযোগে ‘সাম্মা’ (সেখানে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এটি একটি স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ হবে। এর অর্থ হবে: ‘সেখানে কি?’, এটি ইমাম তাবারীর অভিমত। এমতাবস্থায় এতে কোনো প্রশ্নবোধক অর্থ থাকবে না। আর ‘আল-আ-না’ (এখন) সম্পর্কে বলা হয়েছে: এর মূল হলো ‘হানা’ এর ন্যায় একটি মাবনী (অপরিবর্তনীয়) ক্রিয়া, আর আলিফ-লাম একে বিশেষ্যে রূপান্তরের জন্য যুক্ত হয়েছে। খলীল বলেন: দুটি সাকিন বর্ণ একত্রিত হওয়ার কারণে এটি মাবনী হয়েছে, আর আলিফ-লাম নির্দিষ্টতা ও সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য, যা হলো দুই সময়ের সীমারেখা।
(অথঝ তোমরা তা) অর্থাৎ আজাব (ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে)। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৫২]অতঃপর জালেমদের বলা হবে, ‘তোমরা চিরস্থায়ী আজাব আস্বাদন করো। তোমরা যা উপার্জন করতে, তা ছাড়া অন্য কিছুর প্রতিফল কি তোমাদের দেওয়া হবে?’ (৫২)মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর জালেমদের বলা হবে) অর্থাৎ জাহান্নামের রক্ষীরা তাদের বলবে। (চিরস্থায়ী আজাব আস্বাদন করো) অর্থাৎ এমন আজাব যা কখনও শেষ হবে না। (তোমরা যা উপার্জন করতে, তা ছাড়া অন্য কিছুর প্রতিফল কি তোমাদের দেওয়া হবে?) অর্থাৎ তোমাদের কুফরির প্রতিফল। [সূরা ইউনুস (১০): আয়াত ৫৩]আর তারা আপনার কাছে সংবাদ জানতে চায়, ‘তা কি সত্য?’ বলুন, ‘হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ!
নিশ্চয়ই তা সত্য এবং তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না।’ (৫৩)মহান আল্লাহর বাণী: (আর তারা আপনার কাছে সংবাদ জানতে চায়) হে মুহাম্মদ! তারা আপনার নিকট আজাব এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে জানতে চায়। (তা কি সত্য?) এখানে ‘আ-হাক্কুন’ শব্দটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য)। ‘হুয়া’ শব্দটি খবরের (বিধেয়) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; এটি সীবাওয়াইহ-এর উক্তি। আবার ‘হুয়া’ মুবতাদা এবং ‘আ-হাক্কুন’ তার খবর হওয়াও সম্ভব। (বলুন, হ্যাঁ) ‘ঈ’ শব্দটি নিশ্চয়তা, স্বীকৃতি ও দৃঢ়তা প্রদানের শব্দ যা ‘হ্যাঁ’ অর্থ প্রকাশ করে। (আমার প্রতিপালকের শপথ) এটি একটি শপথ। (নিশ্চয়ই তা সত্য) এটি শপথের উত্তর, অর্থাৎ এটি অবশ্যই ঘটবে যাতে কোনো সন্দেহ নেই।
(আর তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না) অর্থাৎ তোমরা তাঁর আজাব ও প্রতিফল এড়িয়ে যেতে পারবে না।
