Al-Qasas
আল-কাসাস: 14
মূল আরবি
وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُۥ وَٱسْتَوَىٰٓ ءَاتَيْنَـٰهُ حُكْمًا وَعِلْمًا ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
English Translations
And when he attained his full strength and was [mentally] mature, We bestowed upon him judgement and knowledge. And thus do We reward the doers of good.
And when he attained his full strength, and was perfect (in manhood), We bestowed on him Hukman (Prophethood, right judgement of the affairs) and religious knowledge [of the religion of his forefathers i.e. Islamic Monotheism]. And thus do We reward the Muhsinun (i.e. good doers - see the footnote of V. 9:120).
And when he reached his maturity and became perfect, We gave him wisdom and knowledge. This is how We reward those who are good in their deeds.
When Moses reached the age of full youth and grew to maturity, We bestowed upon him wisdom and knowledge. Thus do We reward those who do good.
And when he reached his full strength and was ripe, We gave him wisdom and knowledge. Thus do We reward the good.
When he reached full age, and was firmly established (in life), We bestowed on him wisdom and knowledge: for thus do We reward those who do good.
বাংলা অনুবাদ
মূসা যখন যৌবনে পদার্পণ করল আর পূর্ণ পরিণত হল, তখন আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম; আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
আর মূসা যখন যৌবনে পদার্পণ করল এবং পরিণত বয়স্ক হলো, তখন আমি তাকে বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান দান করলাম। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
যখন মূসা পূর্ণ যৌবনে উপনীত ও পরিণত বয়স্ক হল তখন আমি তাকে হিকমাত ও জ্ঞান দান করলাম। এভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কার প্রদান করে থাকি।
আর যখন মূসা পূর্ণ যৌবনে উপনীত ও পরিণত বয়স্ক হল তখন আমরা তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম; আর এভাবেই আমরা মুহসিনদেরকে পুরস্কার প্রদান করে থাকি।
যখন মূসা পূর্ণ যৌবনে ও পরিণত বয়সে উপনীত হল তখন আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম; এভাবেই আমি সৎ কর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কার প্রদান করে থাকি।
১৪. যখন সে শরীর শক্ত হওয়ার বয়সে পৌঁছালো এবং তার শক্তিও পাকা হলো তখন আমি তাকে তার নবুওয়াতের আগেই বনী ইসরাঈল ধর্মের জ্ঞান ও বুঝ দিয়েছি। যেভাবে আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে তাঁর আনুগত্যের প্রতিদান দিলাম তেমনিভাবে আমি প্রত্যেক যুগ ও জায়গার নিষ্ঠাবানদেরকেও তাদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।
তাফসীর
১৪-১৭ নং আয়াতের তাফসীরহযরত মূসা (আঃ)-এর বাল্যকালের বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তা'আলা তার যৌবনের ঘটনা বর্ণনা করছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলেন অর্থাৎ তাকে নবুওয়াত দিলেন। সৎ লোকেরা এরূপই প্রতিদান পেয়ে থাকেন।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ ঐ ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন যা তার মিসর ত্যাগের কারণ হয়েছিল। তিনি মিসর ছেড়ে মাদইয়ানের পথে যাত্রা শুরু করেন।ঘটনা এই যে, একদা হযরত মূসা (আঃ) নগরে বের হন মাগরিবের পরে অথবা যোহরের সময়, যখন জনগণ পানাহারে অথবা শয়নে লিপ্ত ছিল। তিনি বেশীদূর পথ অতিক্রম করেননি এমন সময় তিনি দেখতে পান যে, দু'টি লোক ঝগড়ায় লিপ্ত রয়েছে।
একজন ছিল বানী ইসরাঈলের লোক এবং অপরজন ছিল কিবৃর্তীদের লোক। ইসরাঈলী তাঁর নিকট কিতীর অত্যাচারের অভিযোগ করে, যার ফলে তাঁর ক্রোধ এসে যায় এবং তিনি তাকে একটি ঘুষি মারেন। এতেই সে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। হযরত মূসা (আঃ) এতে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েন এবং বলেনঃ “এটা শয়তানী কাজ এবং শয়তান তো প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী।” অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন এবং আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। তিনি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।এরপর হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হবো না।
এটা আমি ওয়াদা করলাম।”
আর যখন মূসা পূর্ণ যৌবনে উপনীত ও পরিণত বয়স্ক হল [১] তখন আমরা তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম [২]; আর এভাবেই আমরা মুহসিনদেরকে পুরস্কার প্রদান করে থাকি।
[১] أشدّ শব্দের আভিধানিক অর্থ, শক্তি ও জোরের চরম সীমায় পৌঁছা। মানুষ শৈশবের দুর্বলতা থেকে আস্তে আস্তে শক্তি-সামর্থ্যের দিকে অগ্রসর হয়। তারপর এমন এক সময় আসে, যখন অস্তিত্বে যতটুকু শক্তি আসা সম্ভবপর, সবটুকুই পূর্ণ হয়ে যায়। এই সময়কেই أشدّ বলা হয়। এটা বিভিন্ন ভূখণ্ড ও বিভিন্ন জাতির মেজায অনুসারে বিভিন্ন রূপ হয়ে থাকে। কারও এই সময় তাড়াতাড়ি আসে এবং কারও দেরীতে। কোন কোন মুফাসসির এটাকে ৩৪ বছর বলে মত প্ৰকাশ করেছেন। যাকে আমরা পরিণত বয়স বলে থাকি এখানে সেটাই বোঝানো হয়েছে। এতে দেহের বৃদ্ধি একটি বিশেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছে থেমে যায়।
এরপর চল্লিশ বছর পর্যন্ত বিরতিকাল। একে استوى শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। এ থেকে জানা গেল যে, استوى তথা পরিণত বয়স ত্ৰিশ বছর থেকে শুরু করে চল্লিশ বছর পর্যন্ত বর্তমান থাকে। [দেখুন, ফাতহুল কাদীর; তাছাড়া সূরা আল-আন‘আমের ১৫২ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় কিছু আলোচনা এসেছে]
[২] হুকুম অর্থ হিকমত, বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা-ধী-শক্তি ও বিচারবুদ্ধি। আর জ্ঞান বলতে বুঝানো হয়েছে দ্বীনী জ্ঞান বা ফিকহ। অথবা নিজের দ্বীন সম্পর্কিত জ্ঞান ও তার পিতৃপুরুষদের দ্বীন। [ফাতহুল কাদীর] কারণ নিজের পিতামাতার সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে তিনি নিজের বাপ-দাদা তথা ইউসুফ, ইয়াকুব ও ইসহাক আলাইহিমুস সালামের শিক্ষার সাথে পরিচিত হতে পেরেছিলেন।
[সূরা আল-কাসাস (২৮): আয়াত ১০ থেকে ১৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
যখন তিনি তাকে অবহিত করলেন, তখন ফেরাউনের মনে তৎক্ষণাৎ এই ধারণা উদয় হলো যে, শিশুটি বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত এবং তাকে হত্যার হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে। তখন সে বলল: "জল্লাদদের আমার কাছে নিয়ে আসো।" তখন তার স্ত্রী সেই কথা বললেন যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে (অর্থাৎ: সে আমার ও তোমার চোখের শীতলতা)। ফেরাউন তখন বলল: "আমার জন্য নয় (সে চোখের শীতলতা হবে না)।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ফেরাউন যদি 'হ্যাঁ' বলত, তবে সে মূসার ওপর ঈমান আনত এবং সে (মূসা) তার জন্যও চোখের শীতলতা হতো।" আস-সুদ্দী বলেন: বরং তিনি তাকে লালন-পালন করলেন যতক্ষণ না সে চলাফেরা করতে শিখল।
ফেরাউন তার মধ্যে তেজস্বিতা দেখতে পেল এবং তাকে বনী ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত বলে সন্দেহ করল। সে তাকে নিজের হাতে তুলে নিল, তখন মূসা হাত বাড়িয়ে ফেরাউনের দাড়ি টেনে ধরলেন। ফেরাউন তখন তাকে হত্যা করার সংকল্প করল। সেই মুহূর্তে তার স্ত্রী তাকে এই কথা বলে সম্বোধন করলেন এবং তার জন্য ইয়াকুত পাথর ও জ্বলন্ত কয়লার মাধ্যমে পরীক্ষা নিলেন। এতে তাঁর জিহ্বা পুড়ে গেল এবং সেই জড়তা রয়ে গেল যা পূর্বে "ত্বহা" সূরার আলোচনায় বর্ণিত হয়েছে। আল-ফাররা বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ানকে—যাকে আস-সুদ্দী বলা হয়—বলতে শুনেছি, তিনি আল-কালবী হতে, তিনি আবু সালিহ হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আসিয়া) বলেছিলেন: "সে আমার ও তোমার চোখের শীতলতা, তাকে হত্যা করো না।" আল-ফাররা বলেন: এটি একটি ব্যাকরণগত ত্রুটি (লাহন)।
ইবনে আল-আম্বারী বলেন: একে ব্যাকরণগত ভুল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এই কারণে যে, বাক্যটি যদি এমন হতো তবে তা 'নুন' সহকারে 'তাকতুলুনাহু' হতো; কারণ ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (মুদারি) ততক্ষণ পর্যন্ত মারফু বা পেশযুক্ত থাকে যতক্ষণ না তার ওপর নসব বা জজম প্রদানকারী কোনো অব্যয় প্রবেশ করে। সুতরাং এখানে 'নুন' হচ্ছে রাফ'-এর চিহ্ন। আল-ফাররা বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের কিরাত এই মতটি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে তোমাকে সমর্থন জোগাবে, সেখানে রয়েছে: "এবং ফেরাউনের স্ত্রী বলল, তাকে হত্যা করো না, সে আমার ও তোমার জন্য চোখের শীতলতা," যেখানে "তাকে হত্যা করো না" অংশটিকে আগে আনা হয়েছে।
[সূরা আল-কাসাস (২৮): আয়াত ১০ থেকে ১৪]মূসা-জননীর হৃদয় শূন্য হয়ে পড়ল। যদি আমি তাঁর হৃদয়কে সুদৃঢ় না করতাম যাতে তিনি বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত থাকেন, তবে তিনি তাঁর পরিচয় প্রায় প্রকাশ করেই দিতেন। (১০) তিনি মূসার বোনকে বললেন, "তার পিছু নাও।" সে দূর থেকে তাকে প্রত্যক্ষ করল, অথচ তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি। (১১) আমি পূর্ব থেকেই ধাত্রীদের (দুগ্ধপান) তার জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম। তখন সে (মূসার বোন) বলল, "আমি কি তোমাদেরকে এমন এক পরিবারের সন্ধান দেব যারা তোমাদের হয়ে তার লালন-পালন করবে এবং তারা হবে তার হিতাকাঙ্ক্ষী?" (১২) অতঃপর আমি তাকে তার জননীর নিকট ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং তিনি দুঃখিত না হন এবং যাতে তিনি জানতে পারেন যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানে না।
(১৩) যখন সে পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করল এবং সুসংহত হলো, তখন আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি। (১৪)(১). দ্রষ্টব্য: ১১শ খণ্ড, ১৯২ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ, প্রথম বা দ্বিতীয় সংস্করণ।
