Al-Qasas

আল-কাসাস: 26

28:26
টেক্সট কপি
28 আল-কাসাস Al-Qasas · 88 আয়াত القصص

মূল আরবি

قَالَتْ إِحْدَىٰهُمَا يَـٰٓأَبَتِ ٱسْتَـْٔجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ ٱسْتَـْٔجَرْتَ ٱلْقَوِىُّ ٱلْأَمِينُ

English Translations

Sahih International

One of the women said, "O my father, hire him. Indeed, the best one you can hire is the strong and the trustworthy."

Muhsin Khan

And said one of them (the two women): "O my father! Hire him! Verily, the best of men for you to hire is the strong, the trustworthy."

Taqi Usmani

One of the two women said, “Dear father, hire him; the best man you can hire is someone who is strong, trustworthy.”

Abul Ala Maududi

One of the two women said: "Father, employ this man in your service. The best whom you might employ is he who is strong and trustworthy."

Pickthall

One of the two women said: O my father! Hire him! For the best (man) that thou canst hire in the strong, the trustworthy.

Yusuf Ali

Said one of the (damsels): "O my (dear) father! engage him on wages: truly the best of men for thee to employ is the (man) who is strong and trusty"....

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

স্ত্রীলোক দু’টির একজন বলল- ‘হে পিতা! পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাকে নিযুক্ত করুন, আপনি যাদেরকে মজুর নিযুক্ত করবেন তাদের মধ্যে উত্তম যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’

রাওয়াই আল-বায়ান

নারীদ্বয়ের একজন বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনি তাকে মজুর নিযুক্ত করুন। নিশ্চয় আপনি যাদেরকে মজুর নিযুক্ত করবেন তাদের মধ্যে সে উত্তম, যে শক্তিশালী বিশ্বস্ত’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তাদের একজন বললঃ হে পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন; কারণ আপনার মজুর হিসাবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নারীদ্বয়ের একজন বলল, ‘হে আমার পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’

ফাতহুল মাজীদ

তাদের একজন বলল:‎ ‘হে পিতা! আপনি তাকে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’

মুখতাসার

২৬. বৃদ্ধের এক মেয়ে বললো: হে আমার পিতা! আপনি তাঁকে আমাদের ছাগলগুলো চরানোর জন্য মজুর নিযুক্ত করুন। কারণ, তিনি মজুর হওয়ার উপযুক্ত। যেহেতু তিনি শক্তি ও বিশ্বস্ততা উভয়টিই রাখেন। শক্তি দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। আর বিশ্বস্ততা দিয়ে তাঁকে দেয়া আমানতটুকু রক্ষা করবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

28:25

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

নারীদ্বয়ের একজন বলল, ‘হে আমার পিতা ! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত [১]।’

[১] এ পরামর্শের অর্থ ছিল, আপনার বার্ধক্যের কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের মেয়েদের বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হতে হয়। বাইরের কাজ করার জন্য আমাদের কোন ভাই নেই। আপনি এ ব্যাক্তিকে কর্মচারী নিযুক্ত করুন। সুঠাম দেহের অধিকারী বলশালী লোক। সবরকমের পরিশ্রমের কাজ করতে পারবে। আবার নির্ভরযোগ্যও। সে আমাদের মতো মেয়েদেরকে অসহায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের সাহায্য করেছে এবং আমাদের দিকে কখনো চোখ তুলে তাকায়ওনি। [দেখুন, কুরতুবী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[سورة القصص (28): الآيات 23 الى 28] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সুরা আল-কাসাস (২৮): আয়াত ২৩ থেকে ২৮]এবং যখন তিনি মাদইয়ানের জলাশয়ে পৌঁছালেন, সেখানে তিনি একদল মানুষকে (তাদের পশুদের) পানি পান করাতে দেখলেন এবং তাদের পেছনে দুজন নারীকে দেখলেন যারা (তাদের পশুদের) আগলে রাখছিল। তিনি বললেন, ‘তোমাদের ব্যাপার কী?’ তারা বলল, ‘রাখালেরা (তাদের পশুদের নিয়ে) চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা পানি পান করাতে পারি না; আর আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ।’ (২৩) তখন তিনি তাদের জন্য (পশুদের) পানি পান করিয়ে দিলেন, তারপর ছায়ার দিকে ফিরে গিয়ে বললেন, ‘হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (২৪) অতঃপর সেই নারীদ্বয়ের একজন লজ্জাবনত চরণে তাঁর কাছে এসে বলল, ‘আমার পিতা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, যেন তিনি আমাদের জন্য আপনার পানি পান করানোর পারিশ্রমিক দিতে পারেন।’ অতঃপর যখন তিনি তাঁর কাছে আসলেন এবং সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন, তখন তিনি বললেন, ‘ভয় করো না, তুমি জালেম সম্প্রদায়ের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছ।’ (২৫) তাদের একজন বলল, ‘হে আমার প্রিয় পিতা!

আপনি একে মজুর হিসেবে নিযুক্ত করুন। নিশ্চয়ই আপনার মজুর হিসেবে সেই ব্যক্তিই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’ (২৬) তিনি বললেন, ‘আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে। তবে তুমি যদি দশ বছর পূর্ণ করো, তবে তা তোমার পক্ষ থেকে (অতিরিক্ত এহসান)। আমি তোমাকে কষ্টে ফেলতে চাই না। ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাইলে) তুমি আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত পাবে।’ (২৭)তিনি (মুসা) বললেন, ‘আপনার ও আমার মধ্যে এটাই (চুক্তি) নির্ধারিত হলো। এই দুই মেয়াদের যে কোনোটিই আমি পূরণ করি না কেন, আমার ওপর কোনো জবরদস্তি থাকবে না।

আমরা যা বলছি সে বিষয়ে আল্লাহই কর্মবিধায়ক।’ (২৮)এর মধ্যে চব্বিশটি মাসআলা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে: প্রথম- আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং যখন তিনি মাদইয়ানের জলাশয়ে পৌঁছালেন) মুসা (আলাইহিস সালাম) পথ চললেন যতক্ষণ না তিনি মাদইয়ানের জলাশয়ে পৌঁছালেন, অর্থাৎ সেখানে উপনীত হলেন। তাঁর জলাশয়ে পৌঁছানোর অর্থ হলো সেখানে উপনীত হওয়া, পানির ভেতরে প্রবেশ করা নয়। আর 'উরুুদ' (পৌঁছানো) শব্দটি কখনো কোনো কিছুর ভেতরে প্রবেশের অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো প্রবেশের উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল তার কাছে যাওয়া বা তার সমীপবর্তী হওয়ার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। সুতরাং মুসার এই জলাশয়ে পৌঁছানো ছিল কেবল সেখানে উপনীত হওয়া।

যোহাইরের পঙ্ক্তিটিও এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে:যখন তারা সেই জলাশয়ে উপনীত হলো যার পানি ছিল স্বচ্ছ ও টলটলে … তারা সেখানে অবস্থানকারীদের ন্যায় তাবু স্থাপনের সরঞ্জামাদি নামিয়ে রাখল। «১»(১). এই পঙ্ক্তির ব্যাখ্যা ১১তম খণ্ডের ১৩৭ পৃষ্ঠায় প্রথম বা দ্বিতীয় সংস্করণের টীকায় গত হয়েছে।