Ar-Rahman
আর-রহমান: 22
মূল আরবি
يَخْرُجُ مِنْهُمَا ٱللُّؤْلُؤُ وَٱلْمَرْجَانُ
English Translations
From both of them emerge pearl and coral.
Out of them both come out pearl and coral.
From both of them come forth the pearl and the coral.
From these seas come forth pearls and coral.
There cometh forth from both of them the pearl and coral-stone.
Out of them come Pearls and Coral:
বাংলা অনুবাদ
এ সব দরিয়া হতে বের হয় মুক্তা ও প্রবাল,
উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মণিমুক্তা ও প্রবাল।
উভয় দরিয়া হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।
উভয় সমুদ্র হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।
উভয় সমুদ্র হতে বের করেন মুক্তা ও প্রবাল।
২২. সমুদ্রের মধ্য থেকে ছোট ও বড় মুক্তা উৎপন্ন হয়।
তাফসীর
55:14
উভয় সমুদ্র হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল [১]।
[১] لؤلؤ শব্দের অর্থ মোতি এবং مرجان এর অর্থ প্রবাল। এটাও মূল্যবান মণিমুক্তা। যা বৃক্ষের ন্যায় শাখাময়। এই মোতি ও প্রবাল সমুদ্র থেকে বের হয়- মিঠা পানি থেকে নয়। আয়াতে উভয় প্রকার পানি থেকে বের হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর জওয়াব এই যে, মোতি উভয় প্রকার সমুদ্রেই উৎপন্ন হয়। কিন্তু মিঠা পানির স্রোতধারা প্রবাহমান হওয়ার কারণে তা থেকে মোতি বের করা সহজসাধ্য নয়। মিঠা পানির স্রোত প্রবাহিত হয়ে লোনা সমুদ্রে পতিত হয় এবং সেখান থেকেই মোতি বের করা হয়। এ কারণেই লোনা সমুদ্রকে মোতির উৎস বলা হয়ে থাকে। [দেখুন, ফাতহুল কাদীর; ইবন কাসীর]
[সূরা আর-রহমান (৫৫): আয়াত ১৯ থেকে ২৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
(নিশ্চয় আমি তাদের সৃষ্টি করেছি আঠালো কাদা থেকে ১। এবং তিনি বলেছেন: (আদমের ন্যায়, যাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন ২ মাটি থেকে) আর এর অর্থ অভিন্ন; তা হলো এই যে, তিনি জমিনের মাটি গ্রহণ করে তা মর্দন করলেন ফলে তা কাদায় পরিণত হলো, অতঃপর অবস্থার পরিবর্তন হয়ে তা দুর্গন্ধযুক্ত কালো কাদার রূপ ধারণ করল, এরপর আবার পরিবর্তিত হয়ে পোড়ামাটির মতো শুষ্ক মৃত্তিকার রূপ নিল। (এবং তিনি জিনকে সৃষ্টি করেছেন আগুনের শিখা থেকে) হাসান (র.) বলেছেন: 'আল-জান্ন' অর্থ ইবলিস এবং সে জিনদের আদিপিতা। আবার বলা হয়েছে: 'আল-জান্ন' হলো জিনের একবচন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, 'মারিজ' অর্থ আগুনের শিখা; তিনি বলেন: আল্লাহ জিনকে খাঁটি আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, এটি আগুনের সেই লেলিহান অংশ যা প্রজ্জ্বলিত হওয়ার সময় তার শিখার অগ্রভাগে থাকে। লাইস বলেছেন: 'মারিজ' হলো উজ্জ্বল শিখা যা তীব্র উত্তাপযুক্ত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এটি আগুনের উপরিভাগের সেই শিখা যা একে অপরের সাথে মিশে যায় এবং যার মধ্যে লাল, হলুদ ও সবুজ আভা থাকে। মুজাহিদ (র.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলোর অর্থ কাছাকাছি। আবার বলা হয়েছে: 'মারিজ' হলো এমন মুক্ত বিষয় যা অবরুদ্ধ নয়। মুবাররাদ-এর বক্তব্যও তদ্রূপ; তিনি বলেন: 'মারিজ' হলো মুক্ত আগুন যা বাধাগ্রস্ত হয় না। আবু উবাইদাহ এবং হাসান বলেছেন: 'মারিজ' হলো আগুনের মিশ্রণ।
এর মূল ধাতু 'মারিজা' থেকে আগত, যার অর্থ অস্থির হওয়া ও মিশে যাওয়া। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা দুটি আগুন সৃষ্টি করেন এবং একটির সাথে অন্যটির মিলন ঘটান, ফলে একটি অন্যটিকে গ্রাস করে ফেলে; এটিই হলো 'সামুম' (লু হাওয়া) এর আগুন যা থেকে তিনি ইবলিসকে সৃষ্টি করেছেন। কুশায়রী বলেছেন: শাব্দিক অর্থে 'মারিজ' হলো মুক্ত বা মিশ্রিত। এটি 'ফায়িল' (কর্তৃবাচক) শব্দ হলেও 'মাফউল' (কর্মবাচক) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি তাঁর বাণী: (প্রবহমান পানি) ৩ এবং (সন্তোষজনক জীবন) ৪ এর ক্ষেত্রে হয়েছে। এর অর্থ হলো মিশ্রণবিশিষ্ট। জওহারী তাঁর 'সিহাহ' গ্রন্থে বলেছেন: (আগুনের শিখা) হলো এমন আগুন যাতে ধোঁয়া নেই, যা থেকে জিন সৃষ্টি করা হয়েছে।
অতএব তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে?। আল্লাহ তাআলার বাণী: (দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের রব) অর্থাৎ তিনিই দুই উদয়াচলের রব। আর সূরা আস-সাফফাত-এ রয়েছে (উদয়াচলসমূহের রব) এবং সে বিষয়ে সেখানে ইতিপূর্বে আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে ৫ [সূরা আর-রহমান (৫৫): আয়াত ১৯ থেকে ২৩]তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন যারা একে অপরের সাথে মিলিত হয় (১৯) তাদের উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরায় যা তারা অতিক্রম করতে পারে না (২০) অতএব তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? (২১) উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল (২২) অতএব তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে?
(২৩)(১). ১৫তম খণ্ড, ৬৩ ও ৬৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(২). ৪র্থ খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। [ ..... ](৩). ২০তম খণ্ড, ৪ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৪). ১৮তম খণ্ড, ২৭০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৫). ১৫তম খণ্ড, ৬৩ ও ৬৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
