Ar-Rahman

আর-রহমান: 46

55:46
টেক্সট কপি
55 আর-রহমান Ar-Rahman · 78 আয়াত الرحمن

মূল আরবি

وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ جَنَّتَانِ

English Translations

Sahih International

But for he who has feared the position of his Lord are two gardens -

Muhsin Khan

But for him who [the true believer of Islamic Monotheism who performs all the duties ordained by Allah and His Messenger Muhammad SAW, and keeps away (abstain) from all kinds of sin and evil deeds prohibited in Islam and] fears the standing before his Lord, there will be two Gardens (i.e. in Paradise).

Taqi Usmani

And for the one who is fearful of having to stand before his Lord, there are two gardens, -

Abul Ala Maududi

For any who fears to stand before his Lord are two Gardens.

Pickthall

But for him who feareth the standing before his Lord there are two gardens.

Yusuf Ali

But for such as fear the time when they will stand before (the Judgment Seat of) their Lord, there will be two Gardens-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আর যে তার প্রতিপালকের সামনে হাজির হওয়ার ভয় রাখে তার জন্য আছে দু’টো বাগান।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যে তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে, তার জন্য থাকবে দু’টি জান্নাত।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু’টি উদ্যান।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর যে তার রবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান।

ফাতহুল মাজীদ

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু‘টি জান্নাত;

মুখতাসার

৪৬. যে ব্যক্তি পরকালে স্বীয় রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে ঈমান এনে নেক আমল করে তার জন্য রয়েছে দ’ুটি জান্নাত।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৪৬-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর: ইবনে শাওযিব (রঃ) ও আতা খুরাসানী (রঃ) বলেন যে, (আরবী)-এ আয়াতটি হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। হযরত আতিয়্যা ইবনে কায়েস (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি ঐ লোকটির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যে বলেছিলঃ “তোমরা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে, তাহলে সম্ভবতঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে খুঁজে পাবেন না।” একথাটি বলার পর লোকটি একদিন ও এক রাত ধরে তাওবা করে এবং আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবূল করেন ও তাকে জান্নাতে নিয়ে যান। কিন্তু সঠিক কথা এই যে, আয়াতটি সাধারণ। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তি এটাই। ভাবার্থ এই যে, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন স্বীয় প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় করে এবং নিজেকে কুপ্রবৃত্তি হতে বাঁচিয়ে রাখে, হঠকারিতা করে না, পার্থিব জীবনের পিছনে পড়ে আখিরাত হতে উদাসীন থাকে না, বরং আখিরাতের চিন্তাই বেশী করে এবং ওটাকে উত্তম ও চিরস্থায়ী মনে করে, ফরয কাজগুলো সম্পাদন করে এবং হারাম কাজগুলো হতে দূরে থাকে, কিয়ামতের দিন তাকে একটি নয়, বরং দু’টি জান্নাত দান করা হবে।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দু'টি জান্নাত চাদির হবে এবং ওর সমস্ত আসবাবপত্রও চাদিরই হবে।

আর দুটো জানাত হবে স্বর্ণ নির্মিত। ওর বরতন এবং ওতে যা কিছু রয়েছে সবই হবে সোনার। ঐ জান্নাতবাসীদের মধ্যে ও আল্লাহর দীদারের (দর্শনের) মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না, থাকবে শুধু তাঁর কিবরিয়ার চাদর যা তার চেহারার উপর থাকবে। এটা থাকবে জান্নাতে আদনে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। সহীহ হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে সুনানে আবি দাউদ ছাড়া অন্যান্য সব গ্রন্থেই এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে)এ হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত হাম্মাদ (রঃ) বলেনঃ আমার ধারণায় তো এ হাদীসটি মার। এটা (আরবী) এবং (আরবী)-এর তাফসীর। স্বর্ণ নির্মিত জান্নাত দুটি আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যলাভকারী লোকেদের জন্যে এবং চাদি বা রৌপ্য নির্মিত জান্নাত দুটি আসহাবে ইয়ামীন বা ডান দিকের লোকদের জন্যে।হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেনঃ “একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ)।

আয়াতটি পাঠ করেন। তখন আমি বললামঃ যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে? আবার তিনি এ আয়াতটি পাঠ করলেন এবং আমিও আবার ঐ প্রশ্নটি করলাম। পুনরায় তিনি আয়াতটি পাঠ করলেন এবং আমিও পুনরায় ঐ প্রশ্নই করলাম। তখন তিনি বললেনঃ “যদি আবু দারদা (রাঃ)-এর নাক ধুলায় ধূসরিত হয়। (এ হাদীসটি ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)কোন কোন সনদে এ রিওয়াইয়াতটি মাওকুফ রূপেও বর্ণিত আছে এবং আবু দারদা (রাঃ) হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, যার অন্তরে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয় রয়েছে তার দ্বারা ব্যভিচার ও চুরি অসম্ভব। এ আয়াতটি সাধারণ, দানব ও মানব উভয়ই এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটা একথার স্পষ্ট প্রমাণ যে, জ্বিনদের মধ্যে যারা ঈমান আনয়ন করবে এবং আল্লাহর ভীতি অন্তরে রাখবে তারাও জান্নাতে যাবে।

এ জন্যেই এরপরে দানব ও মানবকে সম্বোধন করে বলা হয়েছেঃ “সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?” এরপর আল্লাহ তা'আলা জান্নাত দুটির গুণাবলী বর্ণনা করছেন যে, উভয় জান্নাতই বহু শাখা-পল্লব বিশিষ্ট বৃক্ষে পূর্ণ। নানা প্রকারের সুস্বাদু ফল তথায় বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং দানব ও মানবের উচিত নয় যে, তারা তাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। (আরবী) বলা হয় শাখা বা ডালকে। এগুলো বহু সংখ্যক রয়েছে এবং একটি অপরটির সাথে মিলিতভাবে আছে। এগুলো ছায়াদার হবে, যেগুলোর ছায়া দেয়ালগুলোর উপরও উঠে থাকবে। এই শাখাগুলো সোজা হবে ও ছড়িয়ে থাকবে।

ওগুলো রঙ বেরঙ এর হবে। ভাবার্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, ওগুলো বিভিন্ন প্রকারের ফল থাকবে।হযরত আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সিদরাতুল মুনতাহার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ “ওর শাখাগুলোর ছায়া এতো দীর্ঘ হবে যে, একজন অশ্বারোহীর এক শত বছর পর্যন্ত ঐ ছায়ায় চলে যাবে।” অথবা বলেছেনঃ “একশ জন অশ্বারোহী ওর নীচে ছায়া গ্রহণ করতে পারবে।” সোনার ফড়িংগুলো তাতে ছেয়েছিল। ওর ফলগুলো ছিল বড় বড় মটকার মত অত্যন্ত বড় ও গোল।” (হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)ঐ জান্নাতদ্বয়ের মধ্য দিয়ে দুটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হচ্ছে যাতে ঐ উদ্যানগুলোর গাছ ও শাখা সজীব ও সতেজ থাকে এবং অধিক ও উন্নত মানের ফল দান করে।

তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ অতএব হে দানব ও মানব! তে প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?প্রস্রবণ দুটির একটির নাম তাসনীম এবং অপরটির নাম সালসাবীল। এ দুটি প্রস্রবণ পূর্ণভাবে প্রবাহিত রয়েছে। একটি হলো স্বচ্ছ ও নির্মল পানির এবং অপরটি হলো সুস্বাদু সুরার যাতে নেশা ধরবে না।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই প্রকার। আরো বহু ফল রয়েছে যেগুলোর আকৃতি তোমাদের নিকট পরিচিত কিন্তু স্বাদ মোটেই পরিচিত নয়। কেননা, তথাকার নিয়ামত না কোন চক্ষু দেখেছে, না কোন কর্ণ শুনেছে, না মানুষের অন্তরে ওর কল্পনা জেগেছে। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন নিয়ামত অস্বীকার করবে?হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, দুনিয়ায় যত প্রকারের তিক্ত ও মিষ্ট ফল আছে এগুলোর সবই জান্নাতে থাকবে, এমনকি হানযাল ফলও থাকবে।

যা, এ তবে দুনিয়ার এই জিনিসগুলো এবং জান্নাতের ঐ জিনিসগুলোর নামে তো মিল থাকবে বটে, কিন্তু স্বাদ হবে সম্পূর্ণ পৃথক। এখানে তো শুধু নাম রয়েছে, মূলতত্ব তো রয়েছে জান্নাতে। এই মর্যাদার পার্থক্য ওখানে যাবার পরেই জানা যেতে পারে, পূর্বে জানা সম্ভব নয়।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর যে তার রবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান [১]।

[১] অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে পৃথিবীতে জীবন যাপন করেছে, সবসময় যার এ উপলব্ধি ছিল যে, আমাকে একদিন আমার রবের সামনে দাঁড়াতে হবে এবং নিজের সব কাজ-কর্মের হিসেব দিতে হবে। তাদের জন্যই রয়েছে স্পেশাল দু'টি বাগান বা উদ্যান। তারাই এই দুই উদ্যানের অধিকারী হবে। [ইবন কাসীর; মুয়াসসার]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আর-রহমান (৫৫): আয়াত ৪৬ হতে ৪৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

জাহান্নামের ফুটন্ত পানিতে তাদের শিকলসহ ডুবিয়ে দেওয়া হবে, ফলে তাদের শরীরের প্রতিটি জোড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এরপর তাদের সেখান থেকে বের করা হবে এবং আল্লাহ তাআলা পুনরায় তাদের নতুন অবয়বে সৃষ্টি করবেন এবং আবার আগুনে নিক্ষেপ করবেন। আর এটাই হলো মহান আল্লাহর বাণী: (তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে দৌড়াদৌড়ি করবে)। কাব (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে: এটি উপস্থিত পানি। মুজাহিদ বলেন: এটি এমন পানি যার উত্তাপ চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে এবং তা পান করার সময় হয়েছে। কিয়ামতের ভয়াবহতা ও অপরাধীদের শাস্তির বর্ণনায় যে নিয়ামতের কথা বলা হয়েছে, তা হলো এতে অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার সতর্কতা এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহ তৈরির উপাদান রয়েছে।

নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রাতে এক যুবকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে তিলাওয়াত করছিল— (অতঃপর যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং তা লাল চামড়ার মতো রক্তবর্ণ ধারণ করবে)। তখন যুবকটি থেমে গেল এবং কান্নায় তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এল। সে বলতে লাগল: হায় আমার দুর্ভোগ! সেই দিনের জন্য যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে, হায় আমার দুর্ভোগ! তখন নবী করীম (সা.) বললেন: (হে যুবক! তোমার জন্যও অনুরূপ; সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমার কান্নার কারণে আকাশের ফেরেশতারাও কেঁদেছে) «১». ‌‌[সূরা আর-রহমান (৫৫): আয়াত ৪৬ হতে ৪৭]আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত (৪৬) সুতরাং তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?

(৪৭)মহান আল্লাহর বাণী: (আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত) এতে দুটি বিষয় রয়েছে: প্রথমত—যখন তিনি জাহান্নামবাসীদের অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন পুণ্যবানদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন তাও বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ হলো, সে হিসাবের জন্য তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছে, ফলে সে পাপাচার বর্জন করেছে। এখানে ‘মাকাম’ শব্দটি ‘কিয়াম’ (দাঁড়ানো) অর্থে মাসদার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: সে তার ওপর তার রবের আধিপত্য ও নজরদারিকে ভয় করেছে; এর ব্যাখ্যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (তবে কি তিনি—যিনি প্রত্যেকটি প্রাণের ওপর তার কৃতকর্মের ব্যাপারে নজর রাখেন?) «২»।

মুজাহিদ ও ইবরাহীম নাখায়ী বলেন: সে হলো সেই ব্যক্তি যে পাপের সংকল্প করে, অতঃপর আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর ভয়ে তা ছেড়ে দেয়। দ্বিতীয়ত—এই আয়াতটি ওই ব্যক্তির দাবির সপক্ষে দলিল যে তার স্ত্রীকে বলল: 'যদি আমি জান্নাতবাসী না হই তবে তুমি তালাক', এমতাবস্থায় সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না যদি সে পাপের ইচ্ছা করার পর আল্লাহর ভয় ও তাঁর প্রতি লজ্জাবশত তা বর্জন করে থাকে। সুফিয়ান সাওরী এই মত ব্যক্ত করেছেন এবং ফতোয়া দিয়েছেন। মুহাম্মাদ বিন আলী তিরমিযী বলেন: একটি জান্নাত তার রবের ভয়ের কারণে, আর অন্য জান্নাতটি তার কুপ্রবৃত্তি ত্যাগের কারণে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: যে ব্যক্তি ফরজসমূহ আদায়ের পর তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় পায়।

আবার বলা হয়েছে: ‘মাকাম’ অর্থ স্থান, অর্থাৎ হিসাবের জন্য রবের সামনে তার দাঁড়ানোর স্থানকে সে ভয় পেয়েছে যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এও সম্ভব যে, দাঁড়ানো বা অবস্থানটি বান্দার হবে যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; এটি অনেকটা ‘আজল’ (সময়কাল) শব্দের ব্যবহারের মতো যেমন মহান আল্লাহর এই বাণী: (অতঃপর যখন তাদের নির্ধারিত সময় আসবে) «৩» এবং অন্য স্থানে তাঁর বাণী:(১). ‘বা’, ‘হা’, ‘যা’, ‘সিন’, ‘লাম’ এবং ‘হা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (তোমার ক্রন্দন হতে)।(২). দেখুন: ৯ম খণ্ড, ৩২২ পৃষ্ঠা।(৩). দেখুন: ৭ম খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠা।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলগণ এবং মুমিনগণ তাঁদের কওম কর্তৃক দুর্বল বিবেচিত হতেন। কাফেররা তাঁদের ওপর দমন-পীড়ন চালাত, তাঁদের মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করত এবং তাঁদেরকে পুনরায় নিজেদের ধর্মে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাত। কিন্তু আল্লাহ তাঁর রাসূলগণ ও মুমিনদের জন্য কুফরি ধর্মে ফিরে যাওয়াকে অস্বীকার করলেন এবং তাঁদেরকে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার নির্দেশ দিলেন। এছাড়া তিনি তাঁদেরকে জালিমদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করার আদেশ দিলেন এবং ওয়াদা করলেন যে তাঁদের পরে তিনি তাঁদেরকে এ জমিনে বসবাস করাবেন।

অতঃপর আল্লাহ তাঁদের জন্য তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলেন এবং তাঁরা সেভাবেই বিজয় প্রার্থনা করলেন যেভাবে আল্লাহ তাঁদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী— "এবং তাদের পর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে এ জমিনে বসবাস করাব"—সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহ তাঁদেরকে দুনিয়াতে বিজয় এবং আখিরাতে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কারা এতে বসবাস করবে তা স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান।" (সূরা আর-রহমান, আয়াত: ৪৬)নিশ্চয়ই আল্লাহর একটি বিশেষ স্থান রয়েছে যেখানে তিনি দণ্ডায়মান থাকবেন, আর ঈমানদারগণ সেই দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছেন, তাই তারা ইবাদতে মগ্ন হয়েছেন এবং দিবা-রাত্রি কঠোর পরিশ্রম করেছেন।আল-হাকিম (যিনি একে সহিহ বলেছেন) এবং আল-বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর নাযিল করলেন— "তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে" (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৬)এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সামনে এটি তিলাওয়াত করলেন, তখন এক যুবক সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেল।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হৃদয়ের ওপর হাত রাখলেন এবং দেখলেন সেটি স্পন্দিত হচ্ছে। তখন তিনি বললেন: হে যুবক! বলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)।অতঃপর সে তা পাঠ করল।

অতঃপর তিনি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। তাঁর সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তাকেই? তিনি বললেন: তোমরা কি মহান আল্লাহর এই বাণী শোননি: "এটি তার জন্য যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার সতর্কবার্তাকে ভয় করে।"আল-হাকিম আত-তিরমিযী 'নাওয়াদিরুল উসুল' গ্রন্থে, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া আবদুল আজিজ বিন আবি রাওয়াদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী (সা.) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর" (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৬)।আল-হাকিমের বর্ণনায় আছে: যখন আল্লাহ তাঁর নবীর (সা.) ওপর এই আয়াতটি নাযিল করলেন, তখন তিনি তা সাহাবীদের সামনে পাঠ করলেন এবং তাঁদের মাঝে একজন বৃদ্ধ ছিলেন।আবার আল-হাকিমের অন্য পাঠে 'যুবক' শব্দ এসেছে।তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল!

জাহান্নামের পাথর কি দুনিয়ার পাথরের মতো? নবী (সা.) বললেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, জাহান্নামের একটি পাথর দুনিয়ার পাহাড়সমূহের চেয়েও বিশাল।এতে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলেন। নবী (সা.) তাঁর হৃদয়ের ওপর হাত রাখলেন এবং দেখলেন তিনি জীবিত আছেন। তখন তিনি তাঁকে ডেকে বললেন: বল, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।তিনি তা বললেন, তখন তিনি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে কেবল তাকেই? তিনি বললেন: হ্যাঁ, মহান আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত" (সূরা আর-রহমান, আয়াত ৪৬)

"এটি তার জন্য যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার সতর্কবার্তাকে ভয় করে।"আল-হাকিম হাম্মাদ বিন আবু হুমাইদের সূত্রে মাকহুল থেকে, তিনি ইয়াদ বিন সুলাইমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন—যিনি সাহাবী ছিলেন—যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ঊর্ধ্বজগত আমাকে যা অবহিত করেছে সেই অনুযায়ী আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ লোক তারা, যারা তাদের রবের রহমতের প্রশস্ততার কারণে প্রকাশ্যে হাসে এবং রবের শাস্তির ভয়ে গোপনে কাঁদে। তারা পবিত্র ঘর ও মসজিদসমূহে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে স্মরণ করে। তারা অনুরাগের সাথে ও ভীতির সাথে মুখে তাঁকে ডাকে এবং বিনয় ও আকুলতার সাথে হাত তুলে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে।

তারা সর্বান্তকরণে তাঁর দিকে ফিরে আসে। মানুষের জন্য তাদের বোঝা হালকা কিন্তু নিজেদের নফসের ওপর তা ভারী। তারা রাতে খালি পায়ে পিঁপড়ার মতো নিঃশব্দে বিচরণ করে, যাতে কোনো দম্ভ বা জাঁকজমক থাকে না। তারা কুরআন তিলাওয়াত করে, কুরবানী পেশ করে এবং জীর্ণ বস্ত্র পরিধান করে। তাদের ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উপস্থিত সাক্ষী ও হিফাযতকারী চক্ষু রয়েছে। তারা বান্দাদের পর্যবেক্ষণ করে এবং দেশ ও সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে। তাদের আত্মা দুনিয়াতে থাকলেও অন্তর পরকালে নিবিষ্ট। তাদের সামনে যা রয়েছে তা ছাড়া তাদের আর কোনো চিন্তা নেই।তারা তাদের কবরের জন্য পারাপারের পাথেয় এবং তাদের প্রস্থান ও দণ্ডায়মান হওয়ার স্থানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) পাঠ করলেন: "এটি তার জন্য যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার সতর্কবার্তাকে ভয় করে।" ইমাম যাহাবী (রা.) বলেন: এটি একটি বিস্ময়কর ও অস্বীকৃত হাদীস এবং আমার মনে হয় এটি আলী বিন সাম্মাকের মাধ্যমে প্রবিষ্ট হয়েছে।