Ar-Rahman

আর-রহমান: 26

55:26
টেক্সট কপি
55 আর-রহমান Ar-Rahman · 78 আয়াত الرحمن

মূল আরবি

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ

English Translations

Sahih International

Everyone upon it [i.e., the earth] will perish,

Muhsin Khan

Whatsoever is on it (the earth) will perish.

Taqi Usmani

Every one who is on it (the earth) has to perish.

Abul Ala Maududi

All that is on earth will perish,

Pickthall

Everyone that is thereon will pass away;

Yusuf Ali

All that is on earth will perish:

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

পৃথিবী পৃষ্ঠে যা আছে সবই ধ্বংসশীল,

রাওয়াই আল-বায়ান

যমীনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংসশীল।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সব কিছু নশ্বর,

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবকিছুই নশ্বর,

ফাতহুল মাজীদ

ভূপৃষ্টে যা কিছু আছে সমস্তই ধ্বংসশীল।

মুখতাসার

২৬. ভূপৃষ্ঠে যতো সৃষ্টিকুল রয়েছে তা অবশ্যই ধ্বংসশীল।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২৬-৩০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, যমীনের সমস্ত মাখলূকই ধ্বংসশীল। এমন একদিন আসবে যে, এই ভূ-পৃষ্ঠে কিছুই থাকবে না। প্রত্যেক সৃষ্টজীবের মৃত্যু হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে সমস্ত আকাশবাসীও মরণের স্বাদ গ্রহণ করবে, তবে আল্লাহ যাকে চাইবেন সেটা অন্য কথা। শুধু আল্লাহর সত্তা বাকী থাকবে। তিনি সর্বদা আছেন এবং সর্বদা থাকবেন। তিনি মৃত্যু ও ধ্বংস হতে পবিত্র। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, প্রথমে তো আল্লাহ তা'আলা জগত সৃষ্টির বর্ণনা দিলেন, অতঃপর সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা বর্ণনা করলেন।রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে বর্ণিত দুআগুলোর মধ্যে একটি দু'আ নিম্নরূপও রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে চিরঞ্জীব, হে স্বাধিষ্ট-বিশ্ববিধাতা!

হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা! হে মহিমময় ও মহানুভব! আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আমরা আপনার করুণার মাধ্যমেই ফরিয়াদ করছি। আমাদের সমস্ত কাজ আপনি ঠিক করে দিন! চোখের পলক বরাবর সময়ও আমাদেরকে আমাদের নিজেদের কাছে সমর্পণ করবেন না এবং আপনার সৃষ্টির কারো কাছেও নয়।” হযরত শা’বী (রঃ) বলেনঃ “যখন তুমি পাঠ করবে তখন সাথে সাথে (আরবী) এটাও পড়ে নিয়ো।” এ আয়াতটি আল্লাহ তাআলার নিম্নের উক্তির মতইঃঅর্থাৎ “তাঁর (আল্লাহর) চেহারা বা সত্তা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।” (২৮:৮৮)।এরপর আল্লাহু তা'আলা স্বীয় সত্তার প্রশংসায় বলেনঃ “তিনি মহিমময় ও মহানুভব।' অর্থাৎ তিনি সম্মান ও মর্যাদা লাভের যোগ্য।

তিনি এই অধিকার রাখেন যে, তাঁর উচ্চপদ সুলভ মাহাত্ম্যকে স্বীকার করে নেয়া হবে, তার আনুগত্য মেনে নেয়া হবে এবং তার ফরমানের বিরুদ্ধাচরণ করা যাবে না। অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী)অর্থাৎ “যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডেকে থাকে এবং তাঁরই সন্তুষ্টি চায় তাদের সাথে তুমি নিজের নফসকে আটক রেখো৷” (১৮:২৮) আর যেমন তিনি দান-খয়রাতকারীদের সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে তাদের উক্তি উদ্ধৃত করেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করে থাকি।” (৭৬:৯) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) -এর অর্থ হলো অর্থাৎ তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও আড়ম্বরপূর্ণ।সমস্ত জগতবাসী ধ্বংস হয়ে যাবে এই খবর দেয়ার পর আল্লাহ তা'আলা এই সংবাদ দিচ্ছেন যে, এরপরে তাদেরকে পরকালে মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট পেশ করা হবে।

অতঃপর তিনি আদল ও ইনসাফের সাথে তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। এরপরে আল্লাহ পাক পুনরায় বলেনঃ হে দানব ও মানব! সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে।অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা সমস্ত মাখলূক হতে বেপরোয়া ও অভাবমুক্ত, বরং সমস্ত মাখলূক তারই মুখাপেক্ষী। সবাই তার কাছে ভিক্ষুক। তিনি ধনী, আর সবাই দরিদ্র। তিনি সবারই অভাব পূরণকারী। প্রত্যেক সৃষ্টজীব তাঁর দরবারে স্বীয় অভাব ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে এবং ওগুলো পূরণের জন্যে তার কাছে আবেদন জানায়। তিনি প্রত্যহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যে রত। তিনি প্রত্যেক আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে থাকেন, প্রত্যেক প্রার্থীকেই তিনি দান করেন।

যাদের অবস্থা সংকীর্ণ তাদেরকে প্রশস্ততা প্রদান করেন। বিপদগ্রস্তদেরকে পরিত্রাণ দেন, রোগীদেরকে দান করেন সুস্থতা, দুঃখীদের দুঃখ দূর করেন, অসহায়ের প্রার্থনা কবূল করেন ও তাকে প্রশান্তি দান করেন, পাপীরা যখন তাদের পাপের জন্যে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তিনি তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। জীবন তিনিই দান করেন এবং মৃত্যুও তিনিই ঘটিয়ে থাকেন। সমস্ত আকাশবাসী ও পৃথিবীবাসী তাঁর সামনে তাদের হস্ত প্রসারিত করে রয়েছে এবং অঞ্চল পেতে আছে। ছোটদেরকে তিনিই বড় করেন। তিনিই বন্দীদেরকে মুক্তি দেন। সৎলোকদের প্রয়োজন পৌঁছানোর শেষ সীমা, তাদের প্রার্থনার লক্ষ্যস্থল এবং তাদের অভাব অভিযোগের প্রত্যাবর্তন স্থল তিনিই।

গোলামদের মুক্তিদান তিনিই করেন এবং সক্কাজের প্রতি আগ্রহীদেরকে তিনিই পুরস্কার দান করে থাকেন। এটাই তার মাহাত্ম্য। হযরত মুনীব ইযদী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা (আরবী)-এ আয়াতটি পাঠ করেন। তখন আমরা জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! ঐ শান কি? উত্তরে তিনি বললেনঃ “ওটা হলো পাপরাশি ক্ষমা করে দেয়া, দুঃখ করা এবং লোকেদের উত্থান ও পতন ঘটানো।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “মহামহিমান্বিত আল্লাহ (আরবী) একথা বলেছেন।” অতঃপর তিনি বলেনঃ ঐ শান হলো এই যে, তিনি গুনাহ মাফ করেন, দুঃখ-কষ্ট দূর করেন, কোন সম্প্রদায়ের উত্থান দেন এবং কোন সম্প্রদায়ের পতন ঘটান।

(ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে আসাকির (রঃ)-ও প্রায় এরূপই বর্ণনা করেছেন। সহীহ্ বুখারীতেও এ রিওয়াইয়াতটি মুআল্লাক রূপে হযরত আবু দারদা (রাঃ)-এর উক্তিতে বর্ণিত আছে। মুসনাদে বারেও কিছু কম বেশীর সাথে মার’রূপে এটা বর্ণিত আছে)হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা লাওহে মাহফুকে সাদা মুক্তা দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, যার দানা দুটি লাল পদ্মরাগের তৈরী। ওর কলম জ্যোতি, ওর কিতাব জ্যোতি, ওর প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের সমান। তিনি প্রত্যহ ওটাকে তিনশত বার দেখে থাকেন। প্রত্যেক দর্শনে তিনি জীবনদান করেন, মৃত্যু ঘটান, ইযত দেন, লাঞ্ছিত করেন এবং যা ইচ্ছা করেন তা-ই করে থাকেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবকিছুই নশ্বর [১],

[১] এর অর্থ এই যে, ভূপৃষ্ঠে যত জিন ও মানব আছে তারা সবাই ধ্বংসশীল। এই সূরায় জিন ও মানবকেই সম্বোধন করা হয়েছে। তাই আলোচ্য আয়াতে বিশেষভাবে তাদের প্রসঙ্গই উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে জরুরি হয় না যে, আকাশ ও আকাশস্থিত সৃষ্ট বস্তু ধ্বংসশীল নয়। কেননা অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ব্যাপক অৰ্থবোধক ভাষায় সমগ্র সৃষ্টিজগতের ধ্বংসশীল হওয়ার বিষয়টিও ব্যক্ত করেছেন। বলা হয়েছে,

كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ

তাঁর চেহারা, সত্তা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।’ [সূরা আলকাসাস: ৮৮] [ফাতহুলকাদীর, ইবন কাসীর; কুরতুবী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আর-রহমান (৫৫): আয়াত ২৬ থেকে ২৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আর-রহমান (৫৫): আয়াত ২৪ থেকে ২৫]আর সমুদ্রে পাহাড়ের ন্যায় সুউচ্চ ও পাল তোলা নৌযানসমূহ তাঁরই মালিকানাধীন। (২৪) সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (২৫)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তাঁরই নৌযানসমূহ) অর্থাৎ জাহাজসমূহ। (সুউচ্চ/পাল তোলা) সাধারণ পাঠকদের কিরাত হলো (আল-মুনশাআতু) ‘শীন’ বর্ণে যবর সহকারে। কাতাদাহ বলেন: অর্থাৎ চলাচলের জন্য যা সৃষ্টি করা হয়েছে; এটি ‘ইনশা’ (সৃষ্টি করা) শব্দ থেকে গৃহীত। মুজাহিদ বলেন: এটি সেই সব জাহাজ যেগুলোর পাল তোলা হয়েছে; তিনি বলেন: যখন পাল তোলা হয় না, তখন সেগুলোকে ‘মুনশাআতু’ বলা হয় না।

আখফাশ বলেন: এগুলো হলো চলমান জাহাজ। হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আলী (রা.) পাল তোলা জাহাজ দেখে বলেছিলেন: এই চলমান ও পাল তোলা নৌযানসমূহের রবের কসম, আমি উসমানকে হত্যা করিনি এবং তার হত্যাকাণ্ডে সাহায্যও করিনি। হামযাহ এবং আসিম থেকে আবু বকর ভিন্ন এক বর্ণনায় (আল-মুনশিআতু) ‘শীন’ বর্ণে যের সহকারে পড়েছেন, অর্থাৎ সেই সব নৌযান যা গতি সৃষ্টি করে; রূপক অর্থে এবং প্রসারের খাতিরে ক্রিয়াটি নৌযানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: পাল উত্তোলনকারী। আর যারা ‘শীন’ বর্ণে যবর পড়েছেন তারা বলেন: উত্তোলিত পালের অধিকারী। (পাহাড়ের ন্যায়) অর্থাৎ পর্বতের ন্যায়।

‘আলাম’ হলো সুউচ্চ পর্বত। জনৈক কবি বলেছেন:যখন তারা একটি পর্বত অতিক্রম করে, তখন আরেকটি পর্বত দৃশ্যমান হয় সুতরাং সমুদ্রে জাহাজগুলো স্থলের পাহাড়ের মতো। সূরা আশ-শুরা-তে এর ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। ইয়াকুব বিরতির সময় ‘আল-জাওয়ারি’ শব্দটি ‘ইয়া’ সহকারে পড়েছেন এবং অবশিষ্ট কিরাতবিদগণ তা বিলুপ্ত করে পড়েছেন। [সূরা আর-রহমান (৫৫): আয়াত ২৬ থেকে ২৮]ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সব নশ্বর। (২৬) এবং আপনার রবের সত্তা অবশিষ্ট থাকবে, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব। (২৭) সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (২৮)আল্লাহ তাআলার বাণী: (ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সব নশ্বর) এখানে ‘তার উপর’ সর্বনামটি পৃথিবীর দিকে ফিরেছে, যা সূরার শুরুতে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উল্লিখিত হয়েছে: (আর তিনি পৃথিবীকে সৃষ্টিকুলের জন্য স্থাপন করেছেন)।

এবং বলা হয়ে থাকে: তিনি পৃথিবীর ওপর বিদ্যমানদের মধ্যে অধিক সম্মানিত,(১). এর কবি হলেন জারীর, এবং পূর্ণ পঙ্ক্তিটি হলো:এমনকি তারা আমাদের নিয়ে হাকাম পর্যন্ত পৌঁছে দিল এবং এর পরের অংশ:হাজ্জাজের সুযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য উত্তরসূরি... গৌরবের মূল ধারায় এবং শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে (২). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ২৩

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহর বাণী: “আর আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডেকো না; তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর। বিধান তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।”ইবনুল মুনযির ইবনে জুরাইজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন “ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর” (সূরা আর-রহমান, আয়াত ২৬) অবতীর্ণ হলো, তখন ফেরেশতারা বললেন: পৃথিবীর অধিবাসীরা ধ্বংস হয়ে গেল। অতঃপর যখন “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৮৫) অবতীর্ণ হলো, তখন ফেরেশতারা বললেন: প্রতিটি প্রাণীই ধ্বংস হয়ে গেল।

এরপর যখন “তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর” অবতীর্ণ হলো, তখন ফেরেশতারা বললেন: আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকল অধিবাসীই ধ্বংস হয়ে গেল।ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে” আয়াতটি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন এটি অবতীর্ণ হলো, তখন জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে ফেরেশতাদের অবস্থা কী হবে? তখন অবতীর্ণ হলো: “তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর”। ফলে এই আয়াতে ফেরেশতাকুল, জিন ও মানব—এই দুই ভারী জাতি, আল্লাহর অন্যান্য জগত ও সৃষ্টিসমূহ যথা: পাখি, বন্যপ্রাণী, হিংস্র পশু, গবাদি পশু এবং প্রাণসম্পন্ন প্রতিটি সত্তার ধ্বংস হওয়া ও মারা যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।ইবনে আবি হাতিম মুকাতিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে “তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর” সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, এর দ্বারা বিশেষভাবে আকাশমণ্ডলীর অধিবাসী প্রাণীসমূহ, ফেরেশতাকুল, জমিনে অবস্থানকারী এবং সকল প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে।

এরপর আসমান ও জমিন ধ্বংস হবে। তবে জান্নাত, জাহান্নাম ও তদুভয়ের অভ্যন্তরে যা আছে তা, এবং আরশ ও কুরসি ধ্বংস হবে না।আবদ বিন হুমাইদ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে “তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর” সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ: যা দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়েছে তা ব্যতীত।ইবনে আবি হাতিম মুজাহিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে “তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর” সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যা দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য করা হয়েছে তা ব্যতীত।বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি “তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর” সম্পর্কে বলেন: সৎকর্মসমূহের মধ্যে যা দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য করা হয়েছে তা ব্যতীত।