Yusuf
ইউসুফ: 16
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف
মূল আরবি
وَجَآءُوٓ أَبَاهُمْ عِشَآءً يَبْكُونَ
English Translations
And they came to their father at night, weeping.
And they came to their father in the early part of the night weeping.
And at nightfall, they came to their father weeping.
At nightfall they came to their father weeping
And they came weeping to their father in the evening.
Then they came to their father in the early part of the night, weeping.
বাংলা অনুবাদ
রাতের প্রথম প্রহরে তারা তাদের পিতার কাছে কাঁদতে কাঁদতে আসল।
আর তারা রাতের প্রথম ভাগে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট আসল।
তারা রাতে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট এলো।
আর তারা রাতের প্রথম প্রহরে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার কাছে আসল।
তারা রাত্রির প্রথম প্রহরে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট আসল।
১৬. ইউসুফের ভাইয়েরা তাদের ষড়যন্ত্রকে গোপন রাখার জন্য ভান করে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার কাছে এশার সময় এসে উপস্থিত হল।
তাফসীর
১৬-১৮ নং আয়াতের তাফসীর হযরত ইউসুফকে (আঃ) অন্ধকার কূপে ফেলে দেয়ার পর তাঁর ভ্রাতাগণ কি করেছিল আল্লাহ তাআ’লা এখানে সেই খবরই দিচ্ছেন। গুপ্তভাবে তারা ছোট ভাই, আল্লাহর নিস্পাপ নবী এবং পিতার চোখের মণি হযরত ইউসুফের (আঃ) উপর অবিচার ও অত্যাচারের পাহাড় ভেঙ্গে দিয়ে রাত্রে তারা বাহ্যিকভাবে দুঃখের ভান করে কাঁদতে কাঁদতে পিতার নিকট আগমন করে। আর ইউসুফকে (আঃ) হাত ছাড়া করে দেয়ার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেঃ “হে পিতঃ! আমরা তীরন্দাযী ও দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু করি এবং ছোট ভাই ইউসুফকে (আঃ) আমাদের আসবাবপত্রের নিকট রেখে যাই। ঘটনাক্রমে ঐ সময়েই নেকড়ে বাঘ এসে পড়ে এবং তাঁকে খেয়ে ফেলে।
এরপর তারা তাদের পিতার কাছে নিজেদের কথা সত্য প্রমাণিত করার জন্যে বললো: “আব্বাজান! এটা এমন একটা ঘটনা যে, তা সত্য বলে মেনে নিতে আপনার বিবেকে বাধছে, পূর্বেই তো আপনার মনে খটকা লেগেছিল এবং ঘটনাক্রমে তা ঘটেই গেল। তবুও কিন্তু আপনি আমাদেরকে সত্যবাদী রূপে মেনে নিতে পারছেন না। অথচ আমরা যে সত্যবাদী তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে না। কিন্তু আমাদেরকে সত্যবাদীরূপে মেনে না নেয়ার ব্যাপারে আপনি একদিক দিয়ে সত্যের উপর রয়েছেন। কেননা, এটা এমনই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা যে, এটা দেখে আমরা নিজেরাই বিস্মিত না হয়ে পারি না। এটা ছিল তাদের মৌখিক কথা।
এছাড়া একটা মিথ্যা প্রমাণও তারা পেশ করেছিল। অর্থাৎ তারা বকরীর একটা বাচ্চাকে যবাহ করে ওর রক্ত দ্বারা হযরত ইউসুফের (অঃ) জামাটি রঞ্জিত করেছিল। ঐ জামাটি তারা পিতার সামনে হাযির করে বলেছিলঃ “দেখুন! ইউসুফের (আঃ) দেহের রক্ত তার জামায় ভরে রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআ’লার কি মহিমা যে, তারা সবকিছুই করেছিল, কিন্তু জামাটি ছেদন করতে ভুলে গিয়েছিল। ফলে পিতার কাছে তাদের প্রতারণা ধরা পড়ে যায়। কিন্তু তিনি নিজেকে সামলিয়ে নিলেন এবং স্পষ্টভাবে ছেলেদেরকে তেমন কিছু বললেন না। তথাপি ছেলেরা বুঝে নেয় যে, তাদের পিতার কাছে তাদের ধোকাবাজী ধরা পড়ে গেছে।
তাদের পিতা তাদেরকে শুধু বললেনঃ “তোমাদের মন এই কথা বানিয়ে নিয়েছে। যাই হোক, আমি ধৈর্য ধারণ করবো যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাআ’লা দয়া পরবশ হয়ে আমার এই দুঃখ দুর করে দেন। তোমরা যে একটা মিথ্যা কথা আমার কাছে বর্ণনা করছে এবং একটা অসম্ভব ব্যাপারের উপর আমাকে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলছো তার জন্যে আমি একমাত্র আল্লাহরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। যদি তাঁর সাহায্য লাভে আমি সমর্থ হই তবে অবশ্যই দুধ ও পানি পৃথক হয়ে যাবে।হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) রক্ত-রঞ্জিত জামাটি দেখে তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) বলেছিলেনঃ “এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, নেকড়ে বাঘে ইউসুফকে (আঃ) খেয়ে ফেললো এবং তাঁর জামাটি রক্তে রঞ্জিত হলো, অথচ তা একটুও ছিড়লো না বা ফাটলো না!
যা হোক, আমি ধৈর্যধারণকরবো, যাতে না থাকবে কোন অভিযোগ এবং না থাকবে কোন চিন্তা ও উদ্বেগ।” সাওরী (রঃ) তাঁর কোন এক সহচর হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ “সবর বা ধৈর্য হচ্ছে তিনটি জিনিষের নাম। (১) নিজের বিপদ আপদের কথা কারো কাছে বর্ণনা না করা। (২) নিজের দুঃখের কাহিনী গেয়ে কারো সামনে ক্রন্দন না করা এবং (৩) নিজেকে পাক পবিত্র মনে না করা।” এখানে ইমাম বুখারী (রঃ) হযরত আয়েশার (রাঃ) ঐ ঘটনাটির পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে তাঁর উপর অপবাদ লাগানোর বর্ণনা রয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেনঃ “আল্লাহর শপথ! আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত হযরত ইউসুফের (আঃ) পিতার মতই বটে।
তিনি বলেছিলেনঃ “এখন পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছে সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল।”
আর তারা রাতের প্রথম প্রহরে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার কাছে আসল।
[সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ১৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
একটি স্থানে, এরপর তিনি তাকে শিক্ষা দিয়ে বললেন: তুমি বলো, হে আল্লাহ! হে প্রত্যেক পরদেশীর সান্ত্বনাদাতা, হে প্রত্যেক একাকী ব্যক্তির সঙ্গী, হে প্রত্যেক ভীত ব্যক্তির আশ্রয়স্থল, হে প্রত্যেক বিপদের অপনোদনকারী, হে প্রত্যেক গোপন পরামর্শের পরিজ্ঞাত, হে সকল অভিযোগের শেষ আশ্রয়স্থল, হে প্রত্যেক সমাবেশের প্রত্যক্ষদর্শী, হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি যে, আপনি আমার অন্তরে আপনার প্রত্যাশা ঢেলে দিন, যাতে আপনি ব্যতীত আমার অন্য কোনো চিন্তা বা ব্যস্ততা না থাকে; আর আপনি আমার এই বিষয়ে মুক্তি ও নিষ্কৃতির পথ প্রশস্ত করে দিন।
নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। তখন ফেরেশতারা বললেন: হে আমাদের ইলাহ! আমরা একটি কণ্ঠস্বর ও দোয়া শুনতে পাচ্ছি; কণ্ঠস্বরটি একজন কিশোরের, আর দোয়াটি একজন নবীর। দাহহাক বলেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ইউসুফ আলাইহিস সালামের নিকট অবতীর্ণ হলেন যখন তিনি কূপে ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: আমি কি আপনাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না যা পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা এই কূপ থেকে আপনার নির্গমন ত্বরান্বিত করবেন? তিনি বললেন: অবশ্যই। জিবরাঈল তাকে বললেন: আপনি বলুন, হে প্রত্যেক সৃষ্ট বস্তুর নির্মাতা, হে প্রত্যেক ভগ্ন হৃদয়ের জোড়া প্রদানকারী, হে প্রত্যেক গোপন কথার সাক্ষী, হে প্রত্যেক সমাবেশের উপস্থিত সত্তা, হে প্রত্যেক বিপদমুক্তকারী, হে প্রত্যেক পরদেশীর সাথী, হে প্রত্যেক একাকী সত্তার সান্ত্বনাদাতা; আপনি আমাকে মুক্তি ও প্রত্যাশা দান করুন এবং আপনার আশা আমার অন্তরে এমনভাবে বদ্ধমূল করে দিন যাতে আপনি ব্যতীত আমি আর কারো প্রতি আশাবাদী না হই।
ইউসুফ আলাইহিস সালাম সেই রাতে বারবার এটি পাঠ করলেন, ফলে আল্লাহ তাআলা সেই দিন সকালেই তাকে কূপ থেকে উদ্ধার করলেন। [সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ১৬]আর তারা রাতের বেলা কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট ফিরে এলো (১৬)এতে দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি—মহান আল্লাহর বাণী: (আর তারা তাদের পিতার কাছে এশার সময় এলো) অর্থাৎ রাতের বেলা। এটি একটি সময়বাচক শব্দ যা এখানে অবস্থা বর্ণনার স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে। তারা রাতের বেলা এই উদ্দেশ্যে এসেছিল যাতে অন্ধকারের সুযোগে ওজর পেশ করা তাদের জন্য অধিকতর সহজ হয়। এজন্যই বলা হয়ে থাকে: রাতের বেলা প্রয়োজন তলব করো না, কারণ লজ্জা চোখে থাকে; আর দিনের বেলা অপরাধের ওজরখাহি করো না, অন্যথায় ওজর পেশ করতে গিয়ে তুমি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
বর্ণিত আছে যে, ইয়াকুব আলাইহিস সালাম যখন তাদের কান্নার শব্দ শুনলেন, তিনি বললেন: তোমাদের কী হয়েছে? বকরির পালে কি কিছু ঘটেছে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে ইউসুফ কোথায়? তারা বলল: আমরা দৌড় প্রতিযোগিতায় গিয়েছিলাম, এমতাবস্থায় নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলেছে। তখন তিনি কেঁদে উঠলেন এবং চিৎকার করে বললেন: তার জামাটি কোথায়? যে সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসছে [ইনশাআল্লাহ]। সুদ্দী এবং ইবনে হিব্বান বলেন: যখন তারা বলল যে তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে, তখন তিনি মুর্ছা গিয়ে পড়ে গেলেন। তারা তাঁর ওপর পানি ছিটিয়ে দিল কিন্তু তিনি নড়লেন না এবং তাদের ডাকে কোনো সাড়া দিলেন না।
ওহাব বলেন: ইয়াহুদা ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নাসারন্ধ্রের কাছে হাত রাখলেন কিন্তু কোনো শ্বাস অনুভব করলেন না এবং তাঁর কোনো রগও স্পন্দিত হচ্ছিল না। তখন ইয়াহুদা তাদের বলল: বিচার দিবসের বিচারকের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য দুর্ভোগ! আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি এবং পিতাকে হত্যা করেছি। ইয়াকুব আলাইহিস সালাম কেবল শেষ রাতের শীতল হাওয়ায় জ্ঞান ফিরে পেলেন। তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন এবং তাঁর মাথা...(১). মূল পাণ্ডুলিপি থেকে।
