Yusuf
ইউসুফ: 54
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف
আরবি
وَقَالَ ٱلْمَلِكُ ٱئْتُونِى بِهِۦٓ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِى ۖ فَلَمَّا كَلَّمَهُۥ قَالَ إِنَّكَ ٱلْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ
English Translations
And the king said, "Bring him to me; I will appoint him exclusively for myself." And when he spoke to him, he said, "Indeed, you are today established [in position] and trusted."
And the king said: "Bring him to me that I may attach him to my person." Then, when he spoke to him, he said: "Verily, this day, you are with us high in rank and fully trusted."
The king said, “Bring him to me, and I shall employ him purely for myself.” So, when he (the king) talked to him, he said (to Yūsuf), “Today you are with us well-placed, fully trusted.”
The king said: "Bring him to me. I will select him exclusively for my own service." So when Joseph spoke to him the king said: "You are now one of established position, fully-trusted by us."
And the king said: Bring him unto me that I may attach him to my person. And when he had talked with him he said: Lo! thou art to-day in our presence established and trusted.
So the king said: "Bring him unto me; I will take him specially to serve about my own person." Therefore when he had spoken to him, he said: "Be assured this day, thou art, before our own presence, with rank firmly established, and fidelity fully proved!
বাংলা অনুবাদ
রাজা বললেন, ‘তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে নেব।’ অতঃপর সে (ইউসুফ) যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, ‘আজ তুমি আমাদের কাছে খুবই মর্যাদাশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিগণিত।’
আর বাদশাহ বলল, ‘তোমরা তাকে আমার নিকট নিয়ে আস, আমি তাকে নিজের জন্য আপন করে নেব’। অতঃপর যখন সে তার সাথে কথা বলল, তখন বলল, ‘নিশ্চয় আজ তুমি আমাদের নিকট মর্যাদাবান ও আস্থাভাজন’।
বাদশাহ বললঃ ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে একান্ত সহচর নিযুক্ত করব। অতঃপর বাদশাহ যখন তার সাথে কথা বলল তখন রাজা বললঃ আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বাস ভাজন হলে।
আর রাজা বলল, ‘ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে আস; আমি তাকে আমার নিজের জন্য আপন করে নেব।’ তারপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, ‘আজ আপনি তো আমাদের কাছে মর্যাদাশীল, আস্থাভাজন।’
রাজা বলল: ‘ইউসুফকে আমার নিকট নিয়ে এসো; আমি তাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত করব।’ অতঃপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল: তখন রাজা বলল: ‘নিশ্চয়ই আজ তুমি আমাদের নিকট মর্যাদাশীল, বিশ্বাসভাজন।’
৫৪. যখন ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) এর দোষমুক্তি সুস্পষ্ট হলো এবং বাদশাহও তা জেনে গেলেন তখন তিনি তাঁর সহচরদেরকে বললেন: তোমরা তাঁকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাঁকে নিজের একনিষ্ঠ সাথী হিসেবে গ্রহণ করবো। তারা তাঁকে নিয়ে আসার পর যখন বাদশাহ তাঁর সাথে কথা বললেন এবং তাঁর জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা তাঁর নিকট সুস্পষ্ট হলো তখন তিনি তাঁকে বললেন: হে ইউসুফ! নিশ্চয়ই আপনি আজ আমার নিকট একজন সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি।
তাফসীর
৫৪-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন বাদশাহর কাছে নিরপরাধ প্রমাণিত হয়ে যান তখন তিনি অত্যন্ত খুশী হন এবং দূতকে বলেনঃ “ইউসুফকে (আঃ) আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাঁকে আমার বিশিষ্ট পরামর্শদাতাদের মধ্যে গণ্য করবো। সুতরাং তিনি বাদশাহ্র নিকট আগমন করেন। বাদশাহ যখন তাঁর অতুলনীয় রূপলাবণ্য লক্ষ্য করলেন, তার মুখের মধুমাখা কথা শুনলেন এবং তাঁকে মহৎ চরিত্রের অধিকারী পেলেন তখন তিনি আবেগে অভিভুত হয়ে পড়লেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর মুখ হতে বেরিয়ে এলো :“আপনি আমাদের কাছে একজন সম্মানিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তি।” হযরত ইউসুফ (আঃ) তখন নিজের জন্যে একটি জনসেবা মূলক কাজ পছন্দ করলেন এবং নিজেকে ঐ কাজের যোগ্য ব্যক্তি বলে মত প্রকাশ করলেন। মানুষের জন্যে এটা বৈধও বটে যে, যখন সে অপরিচিত লোকদের মধ্যে অবস্থান করবে তখন প্রয়োজনের সময় তাদের সামনে নিজের যোগ্যতার কথা বর্ণনা করবে। বাদশাহর স্বপ্নের তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তার উপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর কাছে এই আকাংখা প্রকাশ করেছিলেন যে, যমীন হতে উৎপাদিত শস্যের যা কিছু জমা করা হবে তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাঁরই উপর যেন অর্পণ করা হয়। তাহলে সেগুলি তিনি বিশ্বস্ততার সাথে হিফাযত করবেন এবং নিজের জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করবেন। এর ফলে দুর্ভিক্ষের বিপদের সময় মানুষ পুরোপুরিভাবে উপকার লাভ করবে। বাদশাহর অন্তরে তো তাঁর সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার ছাপ পড়েই গিয়েছিল। সুতরাং তৎক্ষণাৎ তিনি বিনা বাক্য ব্যয়ে তার আবেদন মঞ্জুর করে নেন।
আর রাজা বলল, ‘ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে আস; আমি তাকে আমার নিজের জন্য আপন করে নেব।’ তারপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, ‘আজ আপনি তো আমাদের কাছে মর্যাদাশীল, আস্থাভাজন [১]।’
[১] অর্থাৎ বাদশাহ্ যখন ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম-এর দাবী অনুযায়ী মহিলাদের কাছে ঘটনার তদন্ত করলেন এবং আযীয-পত্নী ও অন্যান্য সব মহিলা বাস্তব ঘটনা স্বীকার করল, তখন বাদশাহ্ নির্দেশ দিলেনঃ ইউসুফ (‘আলাইহিস্ সালাম)-কে আমার কাছে নিয়ে আসো- যাতে তাকে একান্ত উপদেষ্টা করে নেই। নির্দেশ অনুযায়ী তাকে সসম্মানে কারাগার থেকে দরবারে আনা হল। অতঃপর পারস্পরিক আলাপ ও আলোচনার ফলে তার যোগ্যতা ও প্রতিভা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বাদশাহ্ বললেনঃ আপনি আজ থেকে আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানার্হ এবং বিশ্বস্ত। অর্থাৎ আপনার কথা গ্রহণযোগ্য এবং আপনি এমনই বিশ্বস্ত যে আপনার পক্ষ থেকে কোন গাদ্দারীর ভয় নেই। [কুরতুবী, সংক্ষেপিত] এটা যেন বাদশাহর পক্ষ থেকে এ মর্মে একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে, আপনার হাতে যে কোন দায়িত্বপূর্ণ কাজ সোপর্দ করা যেতে পারে। স্বপ্ন এবং অনাগত পরিস্থিতির ব্যাপারে বাদশাহ্ বললেনঃ এখন কি করা দরকার? ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম বললেনঃ প্রথম সাত বছর খুব বৃষ্টিপাত হবে। এ সময় অধিকতর পরিমাণে চাষাবাদ করে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণকে অধিক ফসল ফলানোর জন্য নির্দেশ দিতে হবে। উৎপন্ন ফসলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নিজের কাছে সঞ্চিতও রাখতে হবে। এভাবে দুর্ভিক্ষের সাত বছরের জন্য মিসরবাসীর কাছে প্রচুর শস্যভাণ্ডার মজুদ থাকবে এবং আপনি তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিন্ত থাকবেন। রাজস্ব আয় ও খাস জমি থেকে যে পরিমাণ ফসল সরকারের হাতে আসবে, তা ভিনদেশী লোকদের জন্য রাখতে হবে। কারণ এ দুর্ভিক্ষ হবে সুদূরদেশ অবধি বিস্তৃত। ভিনদেশীরা তখন আপনার মুখাপেক্ষী হবে। আপনি খাদ্যশস্য দিয়ে সেসব আর্তমানুষকে সাহায্য করবেন। বিনিময়ে যৎকিঞ্চিৎ মূল্য গ্রহণ করলেও সরকারী ধনভাণ্ডারে অভূতপূর্ব অর্থ সমাগত হবে। এ পরামর্শ শুনে বাদশাহ্ মুগ্ধ ও আনন্দিত হয়ে বললেনঃ এ বিরাট পরিকল্পনার ব্যবস্থাপনা কিভাবে হবে এবং কে করবে? ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম বললেন, জমির উৎপন্ন ফসলসহ দেশীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনি আমাকে সোপর্দ করুন। আমি এগুলোর পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করতে সক্ষম এবং ব্যয়ের খাত ও পরিমাণ সম্পর্কেও আমার পুরোপুরি জ্ঞান আছে। [কুরতুবী থেকে সংক্ষেপিত] যেখানে যে পরিমাণ ব্যয় করা জরুরী, সেখানে সেই পরিমাণ ব্যয় করব এবং এক্ষেত্রে কোন কম-বেশী করব না। (حفيظ) শব্দটি প্রথম প্রয়োজনের এবং (عليم) শব্দটি দ্বিতীয় প্রয়োজনের নিশ্চয়তা।
