Yusuf
ইউসুফ: 77
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف
আরবি
۞ قَالُوٓا۟ إِن يَسْرِقْ فَقَدْ سَرَقَ أَخٌ لَّهُۥ مِن قَبْلُ ۚ فَأَسَرَّهَا يُوسُفُ فِى نَفْسِهِۦ وَلَمْ يُبْدِهَا لَهُمْ ۚ قَالَ أَنتُمْ شَرٌّ مَّكَانًا ۖ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَصِفُونَ
English Translations
They said, "If he steals - a brother of his has stolen before." But Joseph kept it within himself and did not reveal it to them. He said, "You are worse in position, and Allāh is most knowing of what you describe."
They [(Yusuf's (Joseph) brothers] said: "If he steals, there was a brother of his [Yusuf (Joseph)] who did steal before (him)." But these things did Yusuf (Joseph) keep in himself, revealing not the secrets to them. He said (within himself): "You are in worst case, and Allah knows best the truth of what you assert!"
They said, “If he commits theft, (there is nothing surprising, because) his other brother had committed theft earlier.” Yūsuf kept it (his reaction) to himself and did not reveal it to them. He said (in his heart), “You are even worse in position. Allah knows best of what you allege.”
They said: "No wonder that he steals for a brother of his stole before." But Joseph kept his reaction to himself without disclosing the truth to them. He merely said to himself: "You are an evil lot. Allah knows well the truth of the accusation that you are making against me (to my face)."
They said: If he stealeth, a brother of his stole before. But Joseph kept it secret in his soul and revealed it not unto them. He said (within himself): Ye are in worse case, and Allah knoweth best (the truth of) that which ye allege.
They said: "If he steals, there was a brother of his who did steal before (him)." But these things did Joseph keep locked in his heart, revealing not the secrets to them. He (simply) said (to himself): "Ye are the worse situated; and Allah knoweth best the truth of what ye assert!"
বাংলা অনুবাদ
ইউসুফের ভাইয়েরা বলল, ‘সে যদি চুরি করে থাকে (তবে তা অসম্ভব নয়, কেননা) এর পূর্বে তার সহোদর ভাইও চুরি করেছিল। তখন ইউসুফ এ ব্যাপারটি তার মনেই গোপন রাখল, তা তাদের কাছে প্রকাশ করল না। সে (মনে মনে) বলল- তোমাদের অবস্থান তো আরো নিকৃষ্টতম, তোমরা যা বলছ সে সম্পর্কে আল্লাহ খুব ভালভাবেই অবগত।
তারা বলল, ‘যদি সে চুরি করে থাকে, তবে ইতঃপূর্বে তার এক ভাই চুরি করেছিল’। ইউসুফ বিষয়টি নিজের কাছে গোপন রাখল, তাদের কাছে প্রকাশ করল না, সে (মনে মনে) বলল, ‘তোমাদের অবস্থান তো নিকৃষ্টতর, তোমরা যা বলছ, সে সম্পর্কে আল্লাহ ভালভাবেই অবগত’।
তারা বললঃ সে যদি চুরি করে থাকে তার (সহোদর) ভাইওতো ইতোপূর্বে চুরি করেছিল, এতে ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন রাখল এবং তাদের কাছে প্রকাশ করলনা। সে মনে মনে বললঃ তোমাদের অবস্থাতো হীনতর এবং তোমরা যা বলছ সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবগত।
তারা বলল, ‘সে যদি চুরি করে থাকে তবে তার সহোদরও তো আগে চুরি করেছিল।’ কিন্তু ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন রাখলেন এবং তাদের কাছে প্রকাশ করলেন না; তিনি (মনে মনে) বললেন, ‘তোমাদের অবস্থা তো হীনতর এবং তোমরা যা বলছ সে সম্বন্ধে আল্লাহ্ই অধিক অবগত।’
তারা বলল: ‘সে যদি চুরি করে থাকে তবে তার সহোদর ভাইও তো পূর্বে চুরি করেছিল।’ কিন্তু ইউসুফ (প্রকৃত ব্যাপার) নিজের মনে গোপন রাখল এবং তাদের নিকট প্রকাশ করল না; সে (মনে মনে) বলল: ‘তোমাদের অবস্থান আরো নিকৃষ্টতম এবং তোমরা যা বলছ, সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।’
৭৭. ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) এর ভাইয়েরা বললো: যদি সে চুরি করে তাহলে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। কারণ, তার আপন ভাই তথা ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) ইতিপূর্বে চুরি করেছে। ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) তাদের এ কথার আঘাতের কষ্টটি লুকিয়ে রাখলেন। তা প্রকাশ করলেন না। বরং তিনি মনে মনে তাদেরকে বললেন: তোমরা ইতিপূর্বে যে হিংসা ও খারাপ কাজ করেছিলে এ জায়গায়ও সেই নিকৃষ্ট কাজটিরই পুনরাবৃত্তি ঘটলো। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের এ অপবাদ সম্পর্কে ভালোই জানেন।
তাফসীর
বিনইয়ামীনের বস্তার মধ্য হতে পানপাত্র বের হতে দেখে তাঁরা বললেনঃ “দেখুন! এ চুরি করেছে, যেমন ইতিপূর্বে চুরি করেছিল এর সহোদর ভাই ইউসুফ (আঃ)।” ঘটনা এই যে, একবার হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁর নানার প্রতিমা গোপনে উঠিয়ে নিয়েছিলেন এবং ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। (এটা সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ) কাতাদা’ (রঃ) হতে বর্ণনা করেছেন)এটাও বর্ণিত আছে যে, হযরত ইয়াকুবের (আঃ) একজন বড় বোন ছিলেন। তাঁর কাছে তাঁর পিতা হযরত ইসহাকের (আঃ) একটি কোমর বন্ধনী ছিল। ওটা বংশের বড় মানুষের কাছে থাকতো। হযরত ইউসুফ (আঃ) জন্মগ্রহণের পরেই তাঁর ঐ ফুফুর কাছে লালিত পালিত হন। তাঁর ফুফু তাঁকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তিনি কিছুটা বড় হলে তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁর ফুফুর নিকট থেকে তাঁকে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু তাঁর ফুফু তাঁর বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারবেন না বলে তাঁর পিতার প্রস্তাবে অসম্মতি প্রকাশ করেন। এদিকে তাঁর পিতার তাঁর প্রতি মহব্বতেরও কোন সীমা ছিল না। শেষে বোন তাঁকে বললেনঃ “আচ্ছা ইউসুফ (আঃ) আমার কাছে আরো কিছু দিন থাকুক।” এই সময়ের মধ্যে তাঁর ফুফু তাঁর কোমর বন্ধনীটি গোপনে তার কাপড়ের মধ্যে রেখে দেন। তারপর তল্লাশী হতে শুরু হয়। ঘরের সমস্ত জায়গা খোঁজ করে পাওয়া গেল না। অবশেষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো যে, ঘরে যারা রয়েছে তাদের সবারই উপর তল্লাশী চালানো হোক। সবারই কাছে খোঁজ করার পরেও তা পাওয়া গেল না। সর্বশেষে হযরত ইউসুফের (আঃ) উপর তল্লাশী চালানো হলো। তার কাছে সেটা পাওয়া গেল। হযরত ইয়াকুবকে (আঃ) এ সংবাদ দেয়া হলে তিনি শরীয়তে ইবরাহীমীর আইন অনুসারে হযরত ইউসুফ (আঃ) কে তাঁর ফুফুর কাছেই সমর্পণ করলেন। এ ভাবে তাঁর ফুফু তাঁর মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি হযরত ইউসুফকে (আঃ) ছাড়েন নাই। (এটা মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আবি নাজীহ (রঃ) হতে এবং তিনি মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণনা করেন)হযরত ইউসুফের (আঃ) বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা ওটারই আজ অপবাদ দিলেন, যার উত্তরে হযরত ইউসুফ (আঃ) মনে মনে বললেনঃ “তোমাদের অবস্থা তো হীনতর। বিনইয়ামীনের সহোদর ভাই ইউসুফের (আঃ) চুরির অবস্থা আল্লাহ তাআ’লাই খুব ভালরূপে অবগত আছে।”
তারা বলল, ‘সে যদি চুরি করে থাকে তবে তার সহোদরও তো আগে চুরি করেছিল [১]।’ কিন্তু ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন রাখলেন এবং তাদের কাছে প্রকাশ করলেন না; তিনি (মনে মনে) বললেন, ‘তোমাদের অবস্থা তো হীনতর এবং তোমরা যা বলছ সে সম্বন্ধে আল্লাহ্ই অধিক অবগত [২]।’
[১] অর্থাৎ সে যদি চুরি করে থাকে তাতে আশ্চর্যের কি আছে! তার এক ভাই ছিল, সেও এমনিভাবে ইতিপূর্বে চুরি করেছিল। উদ্দেশ্য এই যে, সে আমাদের সহোদর ভাই নয়- বৈমাত্রেয় ভাই, তার এক সহোদর ভাই ছিল, সে-ও চুরি করেছিল। ইউসুফ-ভ্রাতারা এখন স্বয়ং ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম-এর প্রতি চুরির অপবাদ আরোপ করল। [তাবারী; ইবন কাসীর; সা’দী]
[২] অর্থাৎ ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম মনে মনে বললেনঃ তোমাদের স্তর ও অবস্থাই মন্দ যে, জেনেশুনে ভাইদের প্রতি চুরির দোষারোপ করছ। আরও বললেনঃ তোমাদের কথা সত্য কি মিথ্যা সে সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলাই অধিক জানেন। [তাবারী; ইবন কাসীর] কুরতুবী বলেন, প্রথম বাক্যটি মনে মনে বলেছেন এবং দ্বিতীয় বাক্যটি সম্ভবতঃ জোরেই বলেছেন। [কুরতুবী]
