Yusuf
ইউসুফ: 70
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف
আরবি
فَلَمَّا جَهَّزَهُم بِجَهَازِهِمْ جَعَلَ ٱلسِّقَايَةَ فِى رَحْلِ أَخِيهِ ثُمَّ أَذَّنَ مُؤَذِّنٌ أَيَّتُهَا ٱلْعِيرُ إِنَّكُمْ لَسَـٰرِقُونَ
English Translations
So when he had furnished them with their supplies, he put the [gold measuring] bowl into the bag of his brother. Then an announcer called out, "O caravan, indeed you are thieves."
So when he had furnished them forth with their provisions, he put the (golden) bowl into his brother's bag, then a crier cried: "O you (in) the caravan! Surely, you are thieves!"
Later, when he equipped them with their provisions, he placed the bowl in the camel-pack of his brother. Then, an announcer shouted out, “O people of the caravan, you are thieves.”
Then, while Joseph was having their provisions loaded, he put his drinking-cup in his brother's saddlebag. And then a herald cried: "Travellers, you are thieves."
And when he provided them with their provision, he put the drinking-cup in his brother's saddlebag, and then a crier cried: O camel-riders! Lo! ye are surely thieves!
At length when he had furnished them forth with provisions (suitable) for them, he put the drinking cup into his brother's saddle-bag. Then shouted out a crier: "O ye (in) the caravan! behold! ye are thieves, without doubt!"
বাংলা অনুবাদ
অতঃপর ইউসুফ যখন তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন সে তার সহোদর ভাইয়ের রসদপত্রের ভিতর পান পাত্রটি রেখে দিল। তখন এক ঘোষক ঘোষণা দিল, ‘হে কাফেলার লোক! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’
অতঃপর সে যখন তাদেরকে তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন তার ভাইয়ের মালপত্রে পানপাত্রটি রেখে দিল। তারপর একজন ঘোষক ঘোষণা করল, ‘ওহে কাফেলার লোকজন, নিশ্চয় তোমরা চোর’।
অতঃপর সে যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন সে তার (সহোদর) ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রেখে দিল, অতঃপর এক ঘোষক উচ্চৈঃস্বরে বললঃ হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।
অতঃপর তিনি যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন তিনি তার সহোদরের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রেখে দিলেন। তারপর এক আহ্বায়ক চিৎকার করে বলল, ‘হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয় চোর।’
অতঃপর সে যখন তাদের দ্রব্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন সে তার সহোদর ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে পান-পাত্র রেখে দিল। অতঃপর এক আহ্বায়ক চীৎকার করে বলল: ‘হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’
৭০. যখন ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) নিজ কর্মচারীদেরকে তাঁর ভাইদের উটে খাদ্য উঠিয়ে দেয়ার আদেশ করলেন তখন তিনি তাঁর ভাইকে নিজের কাছে রাখার মাধ্যম স্বরূপ খাদ্য নিতে আসা লোকদের জন্য খাদ্য মাপার বাদশাহর পেয়ালাটি তাদের অজান্তেই তাঁর আপন ভাইয়ের ভাণ্ডে রেখে দিলেন। যখন তারা নিজেদের পরিবারের কাছে যেতে রওয়ানা হলো তখন এক আহ্বানকারী তাদের পেছন থেকে তাদেরকে ডেকে বললো: হে খাদ্য বোঝাই করা উটওয়ালারা! নিশ্চয়ই তোমরা চোর।
তাফসীর
৭০-৭২ নং আয়াতের তাফসীর হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন অভ্যাস মত তাঁর ভাইদেরকে এক একটি উট বোঝাই মাল দিতে লাগলেন এবং তাদের মালপত্র বোঝাই হতে লাগলো তখন তিনি তাঁর চতুর ভৃত্যদেরকে গোপনে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন রৌপ্য নির্মিত শাহী পানপাত্রটি তাঁর সহোদর ভাই বিনইয়ামীনের বস্তার মধ্যে গোপনে রেখে দেয়। কারো কারো মতে পানপাত্রটি ছিল স্বর্ণ নির্মিত। ওতে পানি পান করা হতো এবং ওর দ্বারাই খাদ্যদ্রব্য মেপে দেয়া হতো। ঐরূপই পেয়ালা হযরত ইবনু আব্বাসের (রাঃ) কাছেও ছিল। হযরত ইউসুফের (আঃ) নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর বুদ্ধিমান ভৃত্যেরা ঐ পেয়ালাটি তাঁর ভাই বিনইয়ামীনের বস্তায় রেখে দিলো। তাঁর ভাইয়েরা চলতে শুরু করলে তারা শুনতে পেলেন যে, একজন আহ্বানকারী আহবান করতে করতে আসছে। সে বলছেঃ “হে যাত্রীদল! তোমরা চোর!” একথা শুনে তো তাঁদের আক্কেল গুড়ুম। তাঁরা তার দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ “আপনাদের কি জিনিষ হারিয়েছে?” সে উত্তরে বললো: “আমাদের শাহী পানপাত্র হারিয়ে গিয়েছে যার দ্বারা খাদ্য মাপা হতো। বাদশাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, যে ওটা খুঁজে বের করে আনবে তাকে এক উট বোঝাই খাদ্য প্রদান করা হবে। আমিই এর যামিন।”
অতঃপর তিনি যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন তিনি তার সহোদরের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র [১] রেখে দিলেন [২]। তারপর এক আহ্বায়ক চিৎকার করে বলল, ‘হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয় চোর [৩]।’
[১] কুরআনুল কারীম এ পাত্রটিকে এক জায়গায় (السِّقَايَةَ) শব্দের দ্বারা এবং অন্যত্র (صُوَاعَ الْمَلِكِ) [সূরা ইউসুফঃ ৭০ ও ৭২] শব্দের দ্বারা ব্যক্ত করেছে। (السِّقَايَةَ) শব্দের অর্থ পানি পান করার পাত্র এবং (صُوَاعَ) শব্দটিও এমনি ধরনের পাত্রের অর্থে ব্যবহৃত হয়। [ইবন কাসীর] একে (الْمَلِكِ) তথা বাদশাহর দিকে নির্দেশিত করার ফলে আরো জানা গেল যে, এ পাত্রটি বিশেষ মূল্যবান ও মর্যাদাবান ছিল। এ পাত্রটি যথেষ্ট মূল্যবান ও মর্যাদাবান হওয়া ছাড়াও বাদশাহর সাথে এর বিশেষ সম্পর্কও ছিল। বাদশাহ্ নিজে তা দ্বারা পান করতেন। [বাগভী]
[২] আলোচ্য আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, সহোদর ভাই বিনইয়ামীনকে রেখে দেয়ার জন্য ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম একটি কৌশল ও তদবীর অবলম্বন করলেন। যখন সব ভাইকে নিয়ম মাফিক খাদ্যশস্য দেয়া হল, তখন প্রত্যেক ভাইয়ের খাদ্যশস্য পৃথক পৃথক উটের পিঠে পৃথক পৃথক নামে চাপানো হল। বিনইয়ামীনের খাদ্যশস্য যে উটের পিঠে চাপানো হল, তাতে একটি পাত্র গোপনে রেখে দেয়া হল।
কোন কোন মুফাসসির মনে করেন, সম্ভবত পেয়ালা রেখে দেবার কাজটা ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম নিজের ভাইয়ের সম্মতি নিয়ে তার জ্ঞাতসারেই করেছিলেন। [বাগভী] আগের আয়াতে এদিকে প্রচ্ছন্ন ইংগিত রয়েছে। ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম দীর্ঘকালীন বিচ্ছেদের পর যালেম বৈমাত্রেয় ভাইদের হাত থেকে নিজের সহোদর ভাইকে রক্ষা করতে চাচ্ছিলেন। ভাই নিজেও এ যালেমদের সাথে ফিরে না যেতে চেয়ে থাকবেন। কিন্তু ইউসুফের নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে তাকে আটকে রাখা এবং তার মিসরে থেকে যাওয়া সম্ভব ছিল না। আর এ অবস্থায় এ পরিচয় প্রকাশ করাটা কল্যাণকর ছিল না। তাই বিনইয়ামীনকে আটকে রাখার জন্য দু’ভাইয়ের মধ্যে এ পরামর্শ হয়ে থাকবে। যদিও এর মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য ভাইয়ের অপমান অনিবার্য ছিল, কারণ তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হচ্ছিল, কিন্তু পরে উভয় ভাই মিলে আসল ব্যাপারটি জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিলেই এ কলংকের দাগ অতি সহজেই মুছে ফেলা যেতে পারবে। [দেখুন, বাগভী]
[৩] অর্থাৎ কিছুক্ষণ পর জনৈক ঘোষক ডেকে বললঃ হে কাফেলার লোকজন! তোমরা চোর। এখানে (ثم) দ্বারা জানা যায় যে, এ ঘোষণা তৎক্ষণাৎ করা হয়নি; বরং কাফেলা রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর করা হয়েছে- যাতে কেউ জালিয়াতির সন্দেহ না করতে পারে। [বাগভী] মোটকথা, ঘোষক ইউসুফ-ভ্রাতাদের কাফেলাকে চোর আখ্যা দিল। তাদের এ ঘোষণার যৌক্তিক কারণ ছিল। কেননা, ঘটনার যে সরল আকৃতিটি সহজেই চোখে ধরা পড়ে তা হচ্ছে এই যে, পেয়ালাটি হয়তো নীরবে রেখে দেয়া হয়েছিল, পরে সরকারী কর্মচারীরা সেটি খুঁজে না পেলে অনুমান করা হয়েছিল, এটা নিশ্চয়ই সেই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত কোন লোকের কাজ যারা এখানে অবস্থান করেছিল। সুতরাং কৰ্মচারীরা সেটা না জেনেই তাদেরকে চোর বলেছিল। [ফাতহুল কাদীর]
