Yusuf

ইউসুফ: 29

12:29
টেক্সট কপি
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف

মূল আরবি

يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَـٰذَا ۚ وَٱسْتَغْفِرِى لِذَنۢبِكِ ۖ إِنَّكِ كُنتِ مِنَ ٱلْخَاطِـِٔينَ

English Translations

Sahih International

Joseph, ignore this. And, [my wife], ask forgiveness for your sin. Indeed, you were of the sinful."

Muhsin Khan

"O Yusuf (Joseph)! Turn away from this! (O woman!) Ask forgiveness for your sin. Verily, you were of the sinful."

Taqi Usmani

O Yūsuf, ignore this matter, and you (O woman,) seek forgiveness for your sin, for you were guilty infact.”

Abul Ala Maududi

Joseph, disregard this. And you - woman - ask forgiveness for your sin, for indeed it is you who has been at fault."

Pickthall

O Joseph! Turn away from this, and thou, (O woman), ask forgiveness for thy sin. Lo! thou art of the faulty.

Yusuf Ali

"O Joseph, pass this over! (O wife), ask forgiveness for thy sin, for truly thou hast been at fault!"

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

ওহে ইউসুফ! তুমি ব্যাপারটা উপেক্ষা কর, আর ওহে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও, প্রকৃতপক্ষে তুমিই অপরাধী।’

রাওয়াই আল-বায়ান

‘ইউসুফ, তুমি এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাও, আর (হে নারী) তুমি তোমার পাপের জন্য ইস্তেগফার কর। নিশ্চয় তুমিই পাপীদের অন্তর্ভূক্ত’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে ইউসুফ! তুমি এটা উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তুমিই অপরাধী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘হে ইউসুফ! তুমি এটা উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর; তুমি তুমিই তো অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত।’

ফাতহুল মাজীদ

‘হে ইউসুফ! তুমি এ প্রসঙ্গ বাদ দাও‎ এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর‎; তুমিই তো অপরাধী।’

মুখতাসার

২৯. সে ইউসুফকে বলল: ওহে ইউসুফ! তুমি এ ব্যাপারটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখ; কাউকে বিষয়টি বর্ণনা কর না। আর ওহে নারী! তুমি নিজ অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই তুমি ইউসুফকে আকৃষ্ট করার কারণে অপরাধীদেরই অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

12:25

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘হে ইউসুফ! তুমি এটা উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর; তুমি তুমিই তো অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত [১]।’

[১] আষীয-মিসর তার স্ত্রীর ভুল বর্ণনা করার পর ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম-কে বললঃ

(یُوۡسُفُ اَعۡرِضۡ عَنۡ هٰذَا)

অর্থাৎ ইউসুফ, এ ঘটনাকে উপেক্ষা কর এবং বলাবলি করো না, যাতে বেইযযতি না হয়। অতঃপর তার স্ত্রীকে সম্বোধন করে বললঃ

(وَ اسۡتَغۡفِرِیۡ لِذَنۡۢبِکِ ۚۖ اِنَّکِ کُنۡتِ مِنَ الۡخٰطِئِیۡنَ)

অর্থাৎ ভুল তোমারই। তুমি নিজেই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। [কুরতুবী ইবন কাসীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ২৬ থেকে ২৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌‌[সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ২৬ থেকে ২৯]তিনি (ইউসুফ) বললেন, "সে-ই আমাকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল।" আর তার (নারীর) পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল, "যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছিঁড়ে থাকে, তবে নারী সত্য বলেছে এবং সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। (২৬) আর যদি তার জামা পেছন দিক থেকে ছিঁড়ে থাকে, তবে নারী মিথ্যা বলেছে এবং সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। (২৭) তারপর যখন সে (গৃহস্বামী) দেখল যে, তার জামা পেছন দিক থেকে ছিঁড়েছে, তখন সে বলল, "নিশ্চয়ই এটি তোমাদের (নারীদের) চাতুরি; তোমাদের চাতুরি সত্যিই অত্যন্ত ভয়াবহ। (২৮) হে ইউসুফ! তুমি এই প্রসজ্ঞ এড়িয়ে যাও।

আর (হে নারী!) তুমি তোমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তুমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।" (২৯)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তিনি বললেন, "সে-ই আমাকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল" এবং তার পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল)। এতে তিনটি মাসআলা বা আলোচ্য বিষয় রয়েছে: প্রথমত, উলামায়ে কিরাম বলেছেন: (১) যখন নারী নিজেকে নির্দোষ দাবি করল, অথচ সে তার ভালোবাসায় সত্যবাদী ছিল না—কারণ প্রেমিকের বৈশিষ্ট্য হলো প্রিয়জনকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেওয়া—তখন ইউসুফ (আ.) বললেন: "সে-ই আমাকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল।" ইউসুফ (আ.) তার অপবাদ ও মিথ্যার বিপরীতে সত্য উচ্চারণ করলেন।

নাওফ আশ-শামি এবং অন্যান্যরা বলেছেন: ইউসুফ (আ.) বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি, কিন্তু যখন সে (নারী) তার ওপর সীমালঙ্ঘন করল, তখন তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সত্য প্রকাশ করলেন। দ্বিতীয়ত—(তার পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল) কারণ যখন উভয়ের বক্তব্যে বিরোধ দেখা দিল, তখন বাদশাহর সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীকে চেনার জন্য একজন সাক্ষীর প্রয়োজন হলো। ফলে তার পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল। অর্থাৎ তার পরিবারের একজন বিচারক ফয়সালা করলেন; কেননা এটি ছিল মূলত তার পক্ষ থেকে একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত, সাধারণ সাক্ষ্যদান নয়। এই সাক্ষীর পরিচয় সম্পর্কে চারটি অভিমত রয়েছে: প্রথম—সে ছিল দোলনায় থাকা এক শিশু যে কথা বলেছিল।

ইমাম সুহায়লি বলেছেন: এটিই সঠিক মত, কারণ এ বিষয়ে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে। তিনি বলেছেন: "দোলনায় থাকা অবস্থায় মাত্র তিনজন কথা বলেছে" এবং তিনি তাদের মধ্যে ইউসুফের সাক্ষীর কথা উল্লেখ করেছেন। আবু নাসর আল-কুশাইরি বলেছেন: বলা হয়েছে (২): সে ছিল ঘরে দোলনায় থাকা এক বালক এবং সে ছিল নারীর খালাতো ভাই। সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "চারজন শিশু অবস্থায় কথা বলেছিল," তিনি তাদের মধ্যে ইউসুফের সাক্ষীর কথা উল্লেখ করেছেন। এটি একটি মত। দ্বিতীয়—সেই সাক্ষী হলো জামা ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি।

ইবনে আবি নাজিহ মুজাহিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ভাষার দিক থেকে এটি একটি সঠিক রূপক (মাজায), কারণ অবস্থার প্রেক্ষাপট অনেক সময় মুখের কথার চেয়েও বেশি স্পষ্ট ও প্রভাবশালী হয়।(১). 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আল-হাসান।(২). 'আইন' পাণ্ডুলিপি থেকে।