Yusuf
ইউসুফ: 44
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف
মূল আরবি
قَالُوٓا۟ أَضْغَـٰثُ أَحْلَـٰمٍ ۖ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ ٱلْأَحْلَـٰمِ بِعَـٰلِمِينَ
English Translations
They said, "[It is but] a mixture of false dreams, and we are not learned in the interpretation of dreams."
They said: "Mixed up false dreams and we are not skilled in the interpretation of dreams."
They said, “(It seems to be) a mishmash of dreams, and we do not know the interpretation of dreams.”
They said: "These are confused dreams, and we do not know the interpretation of such dreams."
They answered: Jumbled dreams! And we are not knowing in the interpretation of dreams.
They said: "A confused medley of dreams: and we are not skilled in the interpretation of dreams."
বাংলা অনুবাদ
তারা বলল, ‘এতো অস্পষ্ট (অর্থহীন) স্বপ্নের কথা, আর আমরা এ ধরনের স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’
তারা বলল, ‘এটি এলোমেলো অলীক স্বপ্ন। আর আমরা এরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় জ্ঞানী নই’।
তারা বললঃ এটা অর্থহীন স্বপ্ন এবং আমরা এরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।
তারা বলল, ‘এটা অর্থহীন স্বপ্ন এবং আমরা এরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’
তারা বলল: ‘এটা অর্থহীন স্বপ্ন এবং আমরা এরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’
৪৪. তারা বললো: আপনার স্বপ্ন কল্পনাপ্রসূত। স্বপ্ন যদি এমন হয় তবে এর কোন ব্যাখ্যা হয় না। সুতরাং আমরা এই কিংবদন্তীমূলক স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারবো না।
তাফসীর
12:43
তারা বলল, ‘এটা অর্থহীন স্বপ্ন এবং আমরা এরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই [১]।’
[১] আলোচ্য আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম-এর মুক্তির জন্য একটি উপায় সৃষ্টি করলেন। বাদশাহ্ একটি স্বপ্ন দেখে উদ্বেগাকুল হলেন এবং সভাষদদের একত্রিত করে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলেন। স্বপ্নটি কারো বোধগম্য হল না। তাই সবাই উত্তর দিলঃ
(اَضْغَاثُ اَحْلَامٍ ۚ وَمَا نَحْنُ بِتَاْوِيْلِ الْاَحْلَامِ بِعٰلِمِيْنَ)
এখানে (اَضْغَاثُ) শব্দটি (ضغث) এর বহুবচন। এর অর্থ এমন পুঁটলী, যাতে বিভিন্ন প্রকার আবর্জনা ও ঘাসখড় জমা থাকে। [কুরতুবী] অর্থ এই যে, এ স্বপ্নটি মিশ্র ধরণের। এতে কল্পনা ইত্যাদি শামিল রয়েছে। আমরা এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানি না। সঠিক স্বপ্ন হলে ব্যাখ্যা দিতে পারতাম। [কুরতুবী] কোন কোন মুফাসসির বলেন, তাদের এ উত্তরের মাধ্যমে তারা অজ্ঞতা ও তার উপর নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেয়ার মত দু’টি ভুলই করেছিল। [সা’দী]
[সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ৪৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (হে পারিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্ন সম্পর্কে সমাধান দাও) ‘রুইয়া’ (স্বপ্ন) এর বহুবচন হলো ‘রুই’: অর্থাৎ তোমরা আমাকে এই স্বপ্নের হুকুম বা অর্থ সম্পর্কে অবহিত করো। (যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হও)। ‘ইবারাহ’ (ব্যাখ্যা) শব্দটি ‘উবুর আন-নাহর’ (নদী পার হওয়া) থেকে উদ্ভূত। যখন আমি নদী পার হই, তখন আমি তার তীরে পৌঁছাই। সুতরাং স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারী (আবির) স্বপ্ন যে পরিণতির দিকে ধাবিত হয় তা বর্ণনা করেন। ‘লির-রুইয়া’ শব্দের ‘লাম’ বর্ণটি বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য (তাবয়িন) যুক্ত হয়েছে; অর্থাৎ ‘যদি তোমরা ব্যাখ্যা করো’, এরপর বিষয়টি স্পষ্ট করে বললেন: ‘স্বপ্নের’।
এটি আয-যাজ্জাজের অভিমত। [সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ৪৪]তারা বলল, "এগুলো অলীক ও এলোমেলো স্বপ্ন। আর আমরা এ জাতীয় স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী নই।" (৪৪)এখানে দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমত—মহান আল্লাহর বাণী: (এলোমেলো স্বপ্ন)। আল-ফাররা বলেন: এটি নসব (যবর) যোগেও পাঠ করা বৈধ। আন-নাহহাস বলেন: নসবের পঠনটি সুদূরপরাহত; কারণ এর অর্থ হলো—আপনি এমন কিছু দেখেননি যার কোনো ব্যাখ্যা আছে, বরং এগুলো কেবল এলোমেলো স্বপ্নের সমষ্টি, অর্থাৎ জটপাকানো মিশ্রণ। ‘আদগাস’ এর একবচন হলো ‘দিগস’ (আঁটি)। শাক-সবজি বা ঘাস বা এই জাতীয় অন্য কিছুর মিশ্রিত স্তূপকে ‘দিগস’ বলা হয়।
জনৈক কবি বলেছেন:বিস্মৃত স্বপ্নদ্রষ্টা যেন এক জটপাকানো স্বপ্নের মতো বিভ্রান্ত। (আর আমরা এ জাতীয় স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী নই) আয-যাজ্জাজ বলেন: এর অর্থ হলো মিশ্রিত ও বিভ্রান্তিকর স্বপ্নের ব্যাখ্যা। তারা মূলত নিজেদের থেকে সেই বিষয়ের জ্ঞানের অভাব ব্যক্ত করেছে যার কোনো ব্যাখ্যা নেই; এমন নয় যে তারা সাধারণভাবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদানের জ্ঞানকেই অস্বীকার করেছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: তারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির করার জ্ঞানকেই অস্বীকার করেছে। এই মতানুসারে ‘আদগাস’ হলো স্বপ্নের এমন সব সমষ্টি যার কোনোটি সত্য আর কোনোটি মিথ্যা।
আর এ কারণেই পানপাত্র পরিবেশক বলেছিল: "আমি তোমাদের এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে সংবাদ দেব।" এর দ্বারা বুঝা যায় যে, পারিষদবর্গ ব্যাখ্যা করতে অক্ষম ছিল, এমন নয় যে তারা দাবি করেছিল এর কোনো ব্যাখ্যাই নেই। আবার কেউ বলেছেন: তারা কোনো ব্যাখ্যা করতে চায়নি, বরং বাদশাহর অন্তর থেকে বিষয়টি মুছে ফেলতে চেয়েছিল যাতে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হন; এই মতানুসারেও তাদের কাছে ব্যাখ্যা প্রদানের জ্ঞান ছিল। ‘আহলাম’ শব্দটি ‘হুলম’ এর বহুবচন। ঘুমন্ত ব্যক্তি যা দেখে তাকে ‘হুলম’ বলা হয়। এর ক্রিয়া হিসেবে ‘হালামা’ (যবর যোগে) বা ‘ইহতালামা’ ব্যবহৃত হয়। জনৈক কবি বলেছেন:আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি এমতাবস্থায় যে বনু রুফাইদাহ ছিল তার অন্তরায়...
তার সেই স্বপ্নলব্ধ অবয়ব যেন কখনো হারিয়ে না যায়।এর মূল অর্থ হলো ধীরস্থিরতা। এখান থেকেই চপলতার বিপরীত অর্থবোধক ‘হিলম’ (সহিষ্ণুতা) শব্দটি এসেছে। ঘুমের মধ্যে দেখা বিষয়কে ‘হুলম’ বলা হয় কারণ ঘুম হলো স্থিরতা, প্রশান্তি ও স্বস্তির অবস্থা।(১). ‘আইন’ ও ‘ইয়া’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: সে সংবাদ দেয়।(২). রুফাইদাহ: আরবদের একটি গোত্রের নাম, তাদের রুফাইদাত বলা হয়, যেমন হুবায়রা বংশীয়দের হুবাইরাত বলা হয়। (লিসানুল আরব)।
