Yusuf
ইউসুফ: 92
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف
মূল আরবি
قَالَ لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ ٱلْيَوْمَ ۖ يَغْفِرُ ٱللَّهُ لَكُمْ ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ
English Translations
He said, "No blame will there be upon you today. May Allāh forgive you; and He is the most merciful of the merciful.
He said: "No reproach on you this day, may Allah forgive you, and He is the Most Merciful of those who show mercy!
He said, “No reproach upon you today! May Allah forgive you, and He is the Most- Merciful of all the merciful.
He replied: "No blame lies with you today. May Allah forgive you. He is the Most Merciful of all those that are merciful.
He said: Have no fear this day! May Allah forgive you, and He is the Most Merciful of those who show mercy.
He said: "This day let no reproach be (cast) on you: Allah will forgive you, and He is the Most Merciful of those who show mercy!
বাংলা অনুবাদ
সে বলল, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনই অভিযোগ নেই, আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করুন! তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
সে বলল, ‘আজ তোমাদের উপর কোন ভৎর্সনা নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। আর তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু’।
সে বললঃ আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন, এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
তিনি বললেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো ভর্ৎসনা নেই। আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনিই শ্ৰেষ্ঠ দয়ালু।
সে বলল: ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
৯২. ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) তাদের ওজর গ্রহণ করে বললেন: আজ আমি তোমাদেরকে এমন কোন তিরস্কার করবো না যাতে শাস্তি কিংবা ধমকের অবকাশ রয়েছে। বরং আল্লাহর কাছে আশা করছি তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
তাফসীর
12:89
তিনি বললেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন ভর্ৎসনা নেই। আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনিই শ্ৰেষ্ঠ দয়ালু [১]।
’[১] এখন নিজেদের অপরাধ স্বীকার ও ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম-এর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেয়া ছাড়া ইউসুফ-ভ্রাতাদের উপায় ছিল না। সবাই একযোগে বলল, আল্লাহ্র কসম, তিনি তোমাকে আমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তুমি এরই যোগ্য ছিলে। আমরা নিজেদের কৃতকর্মে দোষী ছিলাম। আল্লাহ্ মাফ করুন। উত্তরে ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম নবীসুলভ গাম্ভীর্যের সাথে বললেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগও নেই। তোমাদের অত্যাচারের প্রতিশোধ নেয়া তো দূরের কথা। এ হচ্ছে তার পক্ষ থেকে ক্ষমার সুসংবাদ। এটা চরিত্রের উচ্চতম স্তর যে, অত্যাচারীকে শুধু ক্ষমাই করেননি, বরং এ কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এখন তোমাদেরকে তিরস্কার করা হবে না।
অতঃপর আল্লাহ্র কাছে দো’আ করলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের অন্যায় ক্ষমা করুন। তিনি সব মেহেরবানের চাইতে অধিক মেহেরবান। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যেদিন আল্লাহ্ রহমতকে সৃষ্টি করেছেন, সেদিন তাকে একশত ভাগে বিভক্ত করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগই তাঁর নিকট রেখে দিয়েছেন। আর বাকী একভাগ তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজীবকে দিয়েছেন। যদি কোন কাফের আল্লাহ্র নিকট যে রহমত আছে, তার পরিমাণ সম্পর্কে জানতো তাহলে সে জান্নাতের ব্যাপারে নিরাশ হতো না। অপরপক্ষে কোন মুমিন যদি আল্লাহ্র কাছে যে শাস্তি রয়েছে তার পরিমান সম্পর্কে জানতো, তবে জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপদ মনে করতো না।
[বুখারীঃ ৬৪৬৯]
[সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ৮৯ থেকে ৯৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তৃতীয়ত— মুদ্রা পরীক্ষার মজুরিও বিক্রেতার ওপরই বর্তাবে। কারণ, দিরহাম প্রদানকারী ক্রেতা বলে: এগুলো ভালো; আর আপনিই মন্দ হওয়ার দাবি করছেন, তাই নিজেই তা দেখে নিন। এছাড়া এর উপকার তো বিক্রেতাই পাচ্ছেন, ফলে মজুরিও তারই ওপর হবে। একইভাবে, যার ওপর কিসাস (প্রতিশোধ) ওয়াজিব হয়েছে তার ওপর ঘাতকের মজুরি ওয়াজিব নয়, কারণ নিজের হাত নিজে কাটা তার ওপর আবশ্যক নয়, যদি না সে স্বেচ্ছায় তা করতে সক্ষম হয়। আপনি কি দেখছেন না যে, তার ওপর ওয়াজিব হলো তার হাতের মুক্তিপণ দেওয়া এবং কিসাস গ্রহণকারী চাইলে তার সাথে আপস করা? সুতরাং ঘাতকের মজুরি কিসাস গ্রহণকারীর ওপর বর্তাবে।
ইমাম শাফেঈ রহ. তাঁর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ মতানুসারে বলেছেন: তা যার ওপর কিসাস কার্যকর করা হচ্ছে তার ওপর বর্তাবে, যেমন বিক্রেতার ক্ষেত্রে হয়। চতুর্থত— কোনো ব্যক্তির জন্য তার দোয়ায় ‘হে আল্লাহ! আমাকে সদকা দান করুন’ বলা মাকরূহ। কেননা সদকা কেবল সেই ব্যক্তিই করে যে সওয়াব প্রত্যাশা করে; অথচ আল্লাহ তাআলা তো যাবতীয় নেয়ামত প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহকারী, তিনি ব্যতীত আর কোনো রব নেই। হাসান আল-বাসরী রহ. জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাকে সদকা দান করুন।’ তখন হাসান বললেন: হে লোক! আল্লাহ তো সদকা করেন না, সদকা তো সেই করে যে সওয়াব আশা করে।
তুমি কি আল্লাহর বাণী শোনোনি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সদকাকারীদের প্রতিদান দেন"? বরং বলো: হে আল্লাহ! আমাকে দান করুন এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। [সূরা ইউসুফ (১২): আয়াত ৮৯ থেকে ৯৩]তিনি বললেন, ‘তোমাদের কি জানা আছে তোমরা ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সাথে কী করেছিলে যখন তোমরা ছিলে মূর্খ?’ (৮৯) তারা বলল, ‘তবে কি তুমিই ইউসুফ?’ তিনি বললেন, ‘আমিই ইউসুফ এবং এ আমার ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধরে, তবে আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।’ (৯০) তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম! অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং আমরা নিশ্চয়ই অপরাধী ছিলাম।’ (৯১) তিনি বললেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই; আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(৯২) আমার এই জামাটি নিয়ে যাও এবং এটি আমার পিতার চেহারার ওপর রাখো, তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। আর তোমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমার কাছে চলে এসো।’ (৯৩)আল্লাহ তাআলার বাণী: (তিনি বললেন, তোমাদের কি জানা আছে তোমরা ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সাথে কী করেছিলে) এটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং তিরস্কার করার উদ্দেশ্যে করা একটি প্রশ্ন। আর এটিই হলো সেই বিষয় যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছিলেন: "তুমি অবশ্যই তাদের এই কাজের কথা তাদের জানিয়ে দেবে" [ইউসুফ: ১৫] আয়াতটি। (যখন তোমরা ছিলে মূর্খ) এটি প্রমাণ করে যে তারা(১). 'আইন' ও 'ওয়াও' পাণ্ডুলিপি থেকে।(২). অর্থাৎ আল্লাহর বাণীর সত্যায়ন, যেমনটি ফখর উদ্দিন আল-রাজির তাফসিরে রয়েছে এবং 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে আছে: পালনকর্তা বলেছেন।(৩).
'আইন' পাণ্ডুলিপি থেকে।
