Yusuf
ইউসুফ: 41
12 ইউসুফ Yusuf · 111 আয়াত يوسف
আরবি
يَـٰصَـٰحِبَىِ ٱلسِّجْنِ أَمَّآ أَحَدُكُمَا فَيَسْقِى رَبَّهُۥ خَمْرًا ۖ وَأَمَّا ٱلْـَٔاخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ ٱلطَّيْرُ مِن رَّأْسِهِۦ ۚ قُضِىَ ٱلْأَمْرُ ٱلَّذِى فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ
English Translations
O two companions of prison, as for one of you, he will give drink to his master of wine; but as for the other, he will be crucified, and the birds will eat from his head. The matter has been decreed about which you both inquire."
"O two companions of the prison! As for one of you, he (as a servant) will pour out wine for his lord (king or master) to drink; and as for the other, he will be crucified and birds will eat from his head. Thus is the case judged concerning which you both did inquire."
“O my fellow prisoners, one of you will serve wine to his master, while the other will be crucified and birds will eat from his head. Destined is the matter you are asking about.”
Fellow-prisoners! (This is the interpretation of your dreams): one of you will serve wine to his lord (the king of Egypt).As for the other, he will be crucified and birds will eat of his head. The question concerning what you asked has thus been decided."
O my two fellow-prisoners! As for one of you, he will pour out wine for his lord to drink; and as for the other, he will be crucified so that the birds will eat from his head. Thus is the case judged concerning which ye did inquire.
"O my two companions of the prison! As to one of you, he will pour out the wine for his lord to drink: as for the other, he will hang from the cross, and the birds will eat from off his head. (so) hath been decreed that matter whereof ye twain do enquire"...
বাংলা অনুবাদ
হে আমার জেলের সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দু’জনের একজন তার প্রভুকে মদ পান করাবে আর অন্যজনকে শূলে দেয়া হবে, আর পাখী তার মস্তক ঠুকরে খাবে। তোমরা দু’জন যে সম্পর্কে জানতে চেয়েছ তার ফায়সালা হয়ে গেছে।’
‘হে আমার কারা সঙ্গীদ্বয়, তোমাদের একজন স্বীয় মনিবকে মদপান করাবে। আর অন্যজনকে শূলে চড়ানো হবে, অতঃপর পাখি তার মাথা থেকে আহার করবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চাচ্ছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে।
হে আমার কারা সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের একজনের ব্যাপার এই যে, সে তার প্রভুকে মদ পান করাবে এবং অপর সম্বন্ধে কথা এই যে, সে শুলবিদ্ধ হবে; অতঃপর তার মস্তক হতে পাখী আহার করবে, যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
‘হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দুজনের একজন তার মনিবকে মদ পান করাবে এবং অন্যজন শূলবিদ্ধ হবে; অতঃপর তার মস্তক হতে পাখি খাবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।’
হে কারা-সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দু’জনের একজন তার প্রভুকে (বাদশাকে) মদ্য পান করাবে এবং অপরজন শূলবিদ্ধ হবে; অতঃপর তার মস্তক হতে পাখী আহার করবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে।’
৪১. ওহে আমার কারাগারের সঙ্গীদ্বয়! যে স্বপ্নে দেখেছে যে, সে আঙুর নিংড়িয়ে মদ তৈরি করছে নিশ্চয়ই সে কারাগার থেকে বের হবে এবং তার পূর্বের কাজে সে ফিরে যাবে, তারপর বাদশাকে সে মদপান করাবে। আর যে স্বপ্নে দেখেছে যে, সে নিজ মাথায় রুটি বহন করছে আর সেখান থেকে পাখিরা ঠুকরিয়ে খাচ্ছে নিশ্চয়ই তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হবে। তারপর পাখিরা তার মাথার মগজ থেকে আহার করবে। তোমরা দু’জনে যে বিষয়ে জানতে চেয়েছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আর তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
তাফসীর
এখন আল্লাহর মনোনীত বান্দা হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁর কারা-সঙ্গীদ্বয়কে তাদের স্বপ্নের তাৎপর্য বলে দিচ্ছেন। কিন্তু কার স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলে দিচ্ছেন না, যাতে তাদের একজন দুঃখিত না হয় এবং মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যুর বোঝা তার উপর চেপে না বসে। বরং তিনি অস্পষ্টভাবেই তাদেরকে বললেনঃ “তোমাদের মধ্যে একজন বাদশাহর সুরা পরিবেশনকারী নিযুক্ত হয়ে যাবে।” এটা আসলে ঐ ব্যক্তির স্বপ্নের তাৎপর্য ছিল, যে নিজেকে আঙ্গুরের রস নিঙড়াতে দেখেছিল। আর যে ব্যক্তি নিজের মাথার উপর রুটি দেখেছিল তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা তিনি এই দিলেন যে, তাকে শূল বিদ্ধ করা হবে এবং পাখি তার মাথার মগজ খাবে। এরপর তিনি বলেনঃ “এটা কিন্তু সংঘটিত হয়েই যাবে। কেননা, যে পর্যন্ত স্বপ্নের তাৎপর্য বর্ণনা করা না হয় সেই পর্যন্ত তা লটকানো অবস্থায় থাকে। আর যখন তার ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়ে যায় তখন তা সংঘটিত হয়েই পড়ে।”কথিত আছে যে, স্বপ্নের তাৎপর্য শুনার পর তারা উভয়ে বলেছিলঃ “আমরা তো আসলে কোন স্বপ্নই দেখি নাই।” তখন তিনি তাদেরকে বলেছিলেনঃ “এখন তো তোমাদের প্রশ্ন অনুযায়ী এর ফল সংঘটিত হয়েই যাবে।” এর দ্বারা জানা গেল যে, কেউ যদি অযথা স্বপ্নের কথা বলে এবং তার তাৎপর্যও বলে দেয়া হয় তখন তার প্রকাশ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।মুআ’বিয়া ইবনু হায়দা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “স্বপ্ন পাখীর পায়ের উপর থাকে (অর্থাৎ উড়ন্ত অবস্থায় থাকে), যে পর্যন্ত না ওর তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়। অতঃপর যখন ওর তাৎপর্য বর্ণনা করা হয় তখন তা সংঘটিত হয়ে যায়।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)হযরত আনাস (রাঃ) হতে মারফূ’ রূপে বর্ণিত আছে যে, স্বপ্ন হচ্ছে প্রথম তাৎপর্য বর্ণনাকারীর জন্যে। (এ হাদীসটি আবু ইয়ালা (রঃ) তারঁ মুসনাদে গ্রন্ত্রে বর্ণনা করেছেন)
‘হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দুজনের একজন তার মনিবকে মদ পান করাবে [১] এবং অন্যজন [২] শূলবিদ্ধ হবে; অতঃপর তার মস্তক হতে পাখি খাবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে [৩]।’
[১] প্রচার ও দাওয়াত সমাপ্ত করার পর ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম কয়েদীদের স্বপ্নের দিকে মনোযোগ দিলেন এবং বললেনঃ তোমাদের একজন তো মুক্তি পাবে এবং চাকুরীতে পুনর্বহাল হবে। অপরজনের অপরাধ প্রমাণিত হবে এবং তাকে শূলে চড়ানো হবে। পাখিরা তার মাথার মগজ ঠুকরে খাবে।
[২] ইবনে কাসীর বলেনঃ উভয় কয়েদীর স্বপ্ন পৃথক পৃথক ছিল। প্রত্যেকটির ব্যাখ্যা নির্দিষ্ট ছিল এবং এটাও নির্দিষ্ট ছিল যে, যে ব্যক্তি বাদশাহকে মদ্যপান করাত, সে মুক্ত হয়ে চাকুরীতে পুনর্বহাল হবে এবং বাবুর্চিকে শূলে চড়ানো হবে। কিন্তু ইউসুফ 'আলাইহিস্ সালাম নবীসুলভ অনুকম্পার কারণে নির্দিষ্ট করে বলেননি যে, তোমাদের অমুককে শূলে চড়ানো হবে -যাতে সে এখন থেকেই চিন্তান্বিত না হয়ে পড়ে। বরং তিনি সংক্ষেপে বলেছেন যে, একজন মুক্তি পাবে এবং অপরজনকে শূলে চড়ানো হবে। সবশেষে বলেছেনঃ আমি তোমাদের স্বপ্নের যে ব্যাখ্যা দিয়েছি, তা নিছক অনুমানভিত্তিক নয়; বরং এটাই আল্লাহ্র অটল ফয়সালা।
[৩] যেসব মুফাসসির তাদের স্বপ্নকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেছেন, তারা একথাও বলেছেন যে, ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম যখন স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিলেন, তখন তারা উভয়েই বলে উঠলঃ আমরা কোন স্বপ্নই দেখিনি, বরং মিছামিছি বানিয়ে বলেছিলাম। তখন ইউসুফ 'আলাইহিস্ সালাম বললেনঃ
(قُضِيَ الْاَمْرُ الَّذِيْ فِيْهِ تَسْتَفْتِيٰنِ)
- তোমরা এ স্বপ্ন দেখে থাক বা না থাক, এখন বাস্তবে তাই হবে, যা বর্ণনা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে, তোমরা মিথ্যা স্বপ্ন তৈরী করার যে গোনাহ্ করেছ, এখন তার শাস্তি তা-ই, যা ব্যাখ্যায় বর্ণনা করা হয়েছে। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]
