Al-Kahf

আল-কাহফ: 107

18:107
টেক্সট কপি
18 আল-কাহফ Al-Kahf · 110 আয়াত الكهف

মূল আরবি

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّـٰتُ ٱلْفِرْدَوْسِ نُزُلًا

English Translations

Sahih International

Indeed, those who have believed and done righteous deeds - they will have the Gardens of Paradise as a lodging,

Muhsin Khan

"Verily! Those who believe (in the Oneness of Allah Islamic Monotheism) and do righteous deeds, shall have the Gardens of Al-Firdaus (the Paradise) for their entertainment.

Taqi Usmani

Surely those who believed and did righteous deeds, theirs are the Gardens of Firdaus as entertainment

Abul Ala Maududi

As for those who believe and do good works, the Gardens of Paradise shall be there to welcome them;

Pickthall

Lo! those who believe and do good works, theirs are the Gardens of Paradise for welcome,

Yusuf Ali

As to those who believe and work righteous deeds, they have, for their entertainment, the Gardens of Paradise,

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে ফিরদাউসের বাগান।

রাওয়াই আল-বায়ান

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে জান্নাতুল ফিরদাউস।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথিয়েতার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।

ফাতহুল মাজীদ

নিশ্চয়ই‎ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে ফিরদাউসের উদ্যান,

মুখতাসার

১০৭. নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে সম্মানের জায়গা হিসেবে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ জান্নাত।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১০৭-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা তার সৎকর্মশীল বান্দাদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন। তারা হচ্ছে, ওরাই যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে, তাঁর রাসূলদেরকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করে এবং তাদের কথা ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। তাদের জন্যে রয়েছে ফিরদাউসের উদ্যান। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, ফিরদাউস হচ্ছে রোমীয় বাগান। কা'ব (রাঃ) সুদ্দী (রঃ) এবং যহ্হাক (রঃ) বলেন, যে, ওটা হলো এমন বাগান যাতে আঙ্গুরের গাছ রয়েছে। আবূ উমামা (রঃ) বলেন যে, ফিরদাউস হলো বেহেশতের নাভী স্বরূপ। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, ফিরদাউস হলো সর্বোত্তম জান্নাত। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট জান্নাতের জন্যে প্রার্থনা করবে, তখন তাঁর কাছে ফিরদাউসের জন্যে প্রার্থনা করো।

কেননা, ওটাই সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম জান্নাত। ওখান হতেই জান্নাতের নহরগুলি প্রবাহিত হয়।”এটাই হবে তাদের অতিথিশালা। সেখানে তারা অতিথি হিসেবে চিরকাল অবস্থান করবে। সেখান থেকে তাদেরকে বের করা হবে না এবং বের হবার তারা কামনাও করবে না। কেননা, ওর চেয়ে সুখময় স্থান আর নেই। সেখানে সর্বপ্রকারের উচ্চমানের জীবনোপকরণের সুব্যবস্থা রয়েছে। কোন কিছুরই অভাব নেই। একের পর এক রহমত আসতেই থাকবে। সুতরাং দৈনন্দিন আগ্রহ, প্রেম-প্রীতি এবং আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। মনে কোন বিরক্তি আসবে না বরং ওরই প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাবে। এ জন্যেই মহান আল্লাহ বলেন, তারা এর পরিবর্তে অন্য স্থান কামনা করবে না।

অর্থাৎ তারা এটা ছাড়া অন্যটা পছন্দ করবে না এবং এটা ব্যতীত অন্য কিছু ভালবাসবে না। এখান ছেড়ে অন্য কোন জায়গায় তারা যেতেও চাবে না।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের অতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস [১]।

[১] فردوس এর অর্থ সবুজে ঘেরা উদ্যান। এটি আরবী শব্দ, না অনারব এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “তোমরা যখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর, তখন জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রার্থনা কর। কেননা, এটা জান্নাতের সর্বোৎকৃষ্ট স্তর। এর উপরেই আল্লাহর আরশ এবং এখান থেকেই জান্নাতের সব নাহর প্রবাহিত হয়েছে। ' [বুখারীঃ ২৭৯০, ৭৪২৩, মুসনাদে আহমাদঃ ২/৩৩৫]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৯৯ থেকে ১১০] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আল-আজহারী বলেন: বলা হয় 'আমি এটিকে চূর্ণ করেছি', অর্থাৎ আমি এটিকে গুঁড়ো করেছি। আর যারা 'দাক্কা' (দীর্ঘ স্বরযোগে) পাঠ করেছেন, তারা বুঝিয়েছেন যে তিনি পাহাড়টিকে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছেন। আর এটি এমন এক উঁচু ভূমি যা পাহাড়ে রূপ নেয়নি, এর বহুবচন হলো 'দাক্কাওয়াত'। হামজা, আসিম এবং আল-কিসায়ী 'দাক্কা' শব্দটিকে দীর্ঘ মদ্দ করে পাঠ করেছেন, যা সেই উষ্ট্রীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যার পিঠ সমতল বা কুঁজহীন। এখানে বাক্যের একটি অংশ ঊহ্য রয়েছে যার সম্ভাব্য অর্থ হলো: তিনি একে সমতল ভূমির মতো করে দিয়েছেন। আর এই ঊহ্য অংশটি ধরে নেওয়া অপরিহার্য, কারণ 'সাদ্দ' (প্রাচীর) শব্দটি পুংলিঙ্গ, তাই একে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ 'দাক্কা' দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না।

পক্ষান্তরে যারা 'দাক্কান' (সংক্ষিপ্ত বা তানউইন সহ) পাঠ করেছেন, তা 'দাক্কা-ইয়াদুক্কু' থেকে উৎপন্ন ক্রিয়ামূল, যা ধ্বংস করা বা চূর্ণ-বিচূর্ণ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে 'জা'আলা' (করেছেন) শব্দটি 'সৃষ্টি করেছেন' অর্থে হওয়াও সম্ভব। এক্ষেত্রে 'দাক্কা' শব্দটি অবস্থা বা 'হাল' হিসেবে জবরযুক্ত হবে। একইভাবে যারা দীর্ঘ মদ্দ করে পড়েছেন, তাদের কিরাআতেও জবর হওয়ার বিষয়টি উভয় অর্থেরই সম্ভাবনা রাখে। ‌‌[সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৯৯ থেকে ১১০]সেদিন আমি তাদের একদলকে অপর দলের ওপর ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়তে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রে সমবেত করব।

(৯৯) এবং সেদিন আমি কাফিরদের সামনে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত করব। (১০০) যাদের চক্ষুসমূহ ছিল আমার স্মরণে অন্ধ এবং তারা শুনতেও সক্ষম ছিল না। (১০১) তবে কি কাফিররা মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে? নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি। (১০২) বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ দেব? (১০৩)তারা তারাই, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে। (১০৪) তারাই তারা, যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের কার্যাবলি নিস্ফল হয়ে গেছে; সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজনের পাল্লা স্থাপন করব না।

(১০৫) এটিই তাদের প্রতিফল—জাহান্নাম, যেহেতু তারা কুফরি করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। (১০৬) নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। (১০৭) সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না। (১০৮)বলুন, যদি সমুদ্র আমার রবের বাণীর জন্য কালি হয়, তবে আমার রবের বাণী শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি এর সাহায্যের জন্য অনুরূপ আরও সমুদ্র নিয়ে আসি। (১০৯) বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ।

সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে। (১১০)