Al-Kahf
আল-কাহফ: 55
18 আল-কাহফ Al-Kahf · 110 আয়াত الكهف
আরবি
وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤْمِنُوٓا۟ إِذْ جَآءَهُمُ ٱلْهُدَىٰ وَيَسْتَغْفِرُوا۟ رَبَّهُمْ إِلَّآ أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ ٱلْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ ٱلْعَذَابُ قُبُلًا
English Translations
And nothing has prevented the people from believing when guidance came to them and from asking forgiveness of their Lord except that there [must] befall them the [accustomed] precedent of the former peoples or that the punishment should come [directly] before them.
And nothing prevents men from believing, now when the guidance (the Quran) has come to them, and from asking Forgiveness of their Lord, except that the ways of the ancients be repeated with them (i.e. their destruction decreed by Allah), or the torment be brought to them face to face?
The only thing that prevented people from believing, even after the guidance had come to them, and from seeking forgiveness from their Lord, is (their demand) that what used to come to the earlier people should come to them as well, or that the punishment should visit them face to face.
What is it that prevented mankind from believing when the guidance came to them, and from asking forgiveness of their Lord, except that they would like to be treated as the nations of yore, or that they would like to see the scourge come upon them face to face?
And naught hindereth mankind from believing when the guidance cometh unto them, and from asking forgiveness of their Lord unless (it be that they wish) that the judgment of the men of old should come upon them or (that) they should be confronted with the Doom.
And what is there to keep back men from believing, now that Guidance has come to them, nor from praying for forgiveness from their Lord, but that (they ask that) the ways of the ancients be repeated with them, or the Wrath be brought to them face to face?
বাংলা অনুবাদ
তাদের কাছে যখন পথের নির্দেশ আসে তখন ঈমান আনতে আর তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইতে মানুষকে এ ছাড়া আর অন্য কিছুই বাধা দেয় না যে, (তারা অপেক্ষায় থাকে যে) অতীতের জাতিগুলোর সঙ্গে যা করা হয়েছে, কখন তাদের সঙ্গেও তাই করা হবে অথবা কখন ‘আযাবকে তারা সরাসরি সামনে দেখতে পাবে।
আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ঈমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আযাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।
হিদায়াত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন এবং তাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের পূর্ব-পুরুষদের অনুরূপ আযাব অথবা কখনই বা তারা তা প্রত্যক্ষ করবে।
আর যখন তাদের কাছে পথনির্দেশ আসে তখন মানুষকে ঈমান আনা ও তাদের রবের কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত রাখে শুধু এ যে, তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের বেলায় অনুসৃত রীতি আসুক অথবা আসুক তাদের কাছে সরাসরি জবাব।
যখন মানুষের নিকট পথনির্দেশ আসে তখন তাদেরকে ঈমান আনা এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা হতে বিরত রাখে কেবল এটা যে, তাদের নিকট পূর্ববর্তীদের অনুসৃত রীতি আসুক অথবা আসুক তাদের নিকট সরাসরি ‘আযাব।
৫৫. বস্তুতঃ বর্ণনা বা ব্যাখ্যার কোন ঘাটতি নিয়ামত অস্বীকারকারী কাফির ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আনীত বিধানের উপর ঈমান আনার মাঝে এবং কাফির ও আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের গুনাহসমূহের মাগফিরাত কামনার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। কারণ, তাদের জন্য কুর‘আনে বহু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাদের সামনে অনেক সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এসেছে। বরং হঠকারিতা দেখিয়ে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের উপর অবতীর্ণ শাস্তি নিজেদের উপর অবতরণ করার কামনা এবং তাদের সাথে ওয়াদাকৃত শাস্তি দেখার জোর আবেদনই তাদের ঈমান আনার পথে বিশেষ বাধা সৃষ্টি করেছে।
তাফসীর
আল্লাহ তাআলা পূর্ব যুগের ও বর্তমান সময়ের কাফিরদের ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, সত্য প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পরেও তারা তা হতে দূরে সরে থাকছে। তারা আল্লাহর শাস্তি স্বচক্ষে দেখে নেয়া কামনা করছে। কেউ কেউ আকাংখা করছে যে, তাদের উপর যেন আকাশ ফেটে পড়ে যায়। তাদের কেউ কেউ বলেঃ যদি শাস্তি আনতে পার নিয়ে এসো। কুরায়েশরাও প্রার্থনা করে বলেছিলঃ “হে আল্লাহ! এটা যদি সত্য হয় তবে আমাদের উপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ করুন কিংবা অন্য কোন যন্ত্রণাদায়ক শান্তি আমাদের উপর নাযিল করুন!” তারা এও বলেছিলঃ “হে নবী (সঃ)! আমরা তো তোমাকে পাগল মনে করছি। যদি তুমি প্রকৃতই সত্য নবী হও তবে আমাদের সামনে ফেরেশতাদেরকে কেন আনছো না?” ইত্যাদি ইত্যাদি। সূতরাং তারা আল্লাহ তাআলার শাস্তির অপেক্ষায় থাকছে এবং তা দেখতে চাচ্ছে। রাসূলদের কাজ তো শুধু মু'মিনদেরকে সুসংবাদ দেয়া এবং কাফিরদেরকে ভয় প্রদর্শন করা। সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা মিথ্যা অবলম্বনে বিতণ্ডা করে তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দিতে চায় এবং দূর করে দেয়ার ইচ্ছা করে। কিন্তু তাদের এই মনোবাঞ্ছা তো কখনও পূর্ণ হবার নয়। হক তাদের মিথ্যা কথায় দমে যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ এই লোকগুলি আমার নিদর্শনাবলীকে এবং যদ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে সেগুলিকে বিদ্রুপের বিষয়রূপে গ্রহণ করছে এবং নিজেদের বেঈমানীতে আরো বেড়ে চলছে।
আর যখন তাদের কাছে পথনির্দেশ আসে তখন মানুষকে ঈমান আনা ও তাদের রব-এর কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত রাখে শুধু এ যে, তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের বেলায় অনুসৃত রীতি আসুক অথবা আসুক তাদের কাছে সরাসরি জবাব [১]।
[১] আয়াতে ব্যবহৃত قبلاً শব্দের অর্থ, সামনা সামনি বা চাক্ষুষ। [ইবন কাসীর] কাফেররা সবসময় নিজের চোখে আযাব দেখতে চাইত। কুরআনের অন্যত্র এসেছে, “তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলে দাও।" [সূরা আশ-শু'আরা: ১৮৭]
অনুরূপ বলা হয়েছে, “উত্তরে তাঁর সম্প্রদায় শুধু এটাই বলল, “আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আনয়ন কর। --তুমি যদি সত্যবাদী হও।” [সূরা আল আনকাবূত: ২৯]
“স্মরণ করুন, তারা বলেছিল, 'হে আল্লাহ! এগুলো যদি আপনার কাছ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন কিংবা আমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিন৷” [সূরা আল-আনফাল:৩২]
“তারা বলে, ওহে যার প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ। ‘তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের কাছে ফিরিশতাদেরকে উপস্থিত করছ না কেন?” [সূরা আল-হিজর: ৬, ৭]
