Al-Kahf
আল-কাহফ: 99
18 আল-কাহফ Al-Kahf · 110 আয়াত الكهف
মূল আরবি
۞ وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِى بَعْضٍ ۖ وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَجَمَعْنَـٰهُمْ جَمْعًا
English Translations
And We will leave them that day surging over each other, and [then] the Horn will be blown, and We will assemble them in [one] assembly.
And on that Day [i.e. the Day Ya'juj and Ma'juj (Gog and Magog) will come out], We shall leave them to surge like waves on one another, and the Trumpet will be blown, and We shall collect them all together.
And on that day, (i.e. the Doomsday) We will leave them (all the people including Ya’jūj and Ma’jūj) surging over one another. And the Horn shall be blown, then We shall gather them together.
And on that Day We shall let some of them surge like waves against others, and the Trumpet shall be blown. Then We shall gather them all together.
And on that day we shall let some of them surge against others, and the Trumpet will be blown. Then We shall gather them together in one gathering.
On that day We shall leave them to surge like waves on one another: the trumpet will be blown, and We shall collect them all together.
বাংলা অনুবাদ
আমি তাদেরকে সেদিন এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমরা সব মানুষকে একসঙ্গে একত্রিত করব।
আর সেদিন আমি তাদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত আছড়ে পড়বে এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্র করব।
সেদিন আমি তাদেরকে ছেড়ে দিব একের পর এক তরঙ্গের আকারে এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে; অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব।
আর সেদিন আমারা তাদেরকে ছেড়ে দেব এ অবস্থায় যে, একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গের ন্যায় আছড়ে পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে , অতঃপর আমরা তাদের সবাইকে পুরোপুরি একত্রিত করব।
সেদিন আমি তাদেরকে ছেড়ে দেব এ অবস্থায় যে, একদল অন্য একদলের ওপর তরঙ্গের ন্যায় পতিত হবে এবং শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকেই একত্র করব।
৯৯. আমি শেষ যুগে কিছু সৃষ্টিকে অন্যের সাথে মিশ্রিত ও আলোড়িত হওয়ার সুযোগ দিবো। আর যখন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে তখন আমি সকল সৃষ্টিকে হিসাব ও প্রতিদানের জন্য একত্রিত করবো।
তাফসীর
18:97
আর সেদিন আমারা তাদেরকে ছেড়ে দেব এ অবস্থায় যে, একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গের ন্যায় আছড়ে পড়বে [১]। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে , অতঃপর আমরা তাদের সবাইকে [২] পুরোপুরি একত্রিত করব।
[১] بعضهم এর সর্বনাম দ্বারা বাহ্যতঃ ইয়াজুজ-মাজুজকেই বোঝানো হয়েছে। তাদের একদল অপরদলের মধ্যে ঢুকে পড়বে- বাহ্যতঃ এই অবস্থা তখন হবে, যখন তাদের পথ খুলে যাবে এবং তারা পাহাড়ের উচ্চতা থেকে দ্রুতবেগে নীচে অবতরণ করবে। [ফাতহুল কাদীর] [উসাইমীন, তাফসীরুল কুরআনিল কারাম]। তাফসীরবিদগণ অন্যান্য সম্ভাবনাও লিখেছেন। যেমন তারা মানুষের সাথে মিশে যমীনের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে। [ইবন কাসীর] কারও কারও মতে, এখানে কিয়ামতের সময়ের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। ইবন কাসীর কারও কারও মতে, যেদিন বাঁধ নির্মান শেষ হয়েছে সেদিন ইয়াজুজ মাজুজ বাঁধের ভিতরে পরস্পর পরস্পরের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল। [ফাতহুল কাদীর]
[২] فَجَمَعْنَاهُم এর সর্বনাম দ্বারা সাধারণ জিন ও মানবজাতিকে বোঝানো হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে, শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার মাধ্যমে হাশরের মাঠে সমগ্র জিন ও মানুষকে একত্রিত করা হবে। [ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৯৯ থেকে ১১০] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আল-আজহারী বলেন: বলা হয় 'আমি এটিকে চূর্ণ করেছি', অর্থাৎ আমি এটিকে গুঁড়ো করেছি। আর যারা 'দাক্কা' (দীর্ঘ স্বরযোগে) পাঠ করেছেন, তারা বুঝিয়েছেন যে তিনি পাহাড়টিকে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছেন। আর এটি এমন এক উঁচু ভূমি যা পাহাড়ে রূপ নেয়নি, এর বহুবচন হলো 'দাক্কাওয়াত'। হামজা, আসিম এবং আল-কিসায়ী 'দাক্কা' শব্দটিকে দীর্ঘ মদ্দ করে পাঠ করেছেন, যা সেই উষ্ট্রীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যার পিঠ সমতল বা কুঁজহীন। এখানে বাক্যের একটি অংশ ঊহ্য রয়েছে যার সম্ভাব্য অর্থ হলো: তিনি একে সমতল ভূমির মতো করে দিয়েছেন। আর এই ঊহ্য অংশটি ধরে নেওয়া অপরিহার্য, কারণ 'সাদ্দ' (প্রাচীর) শব্দটি পুংলিঙ্গ, তাই একে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ 'দাক্কা' দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না।
পক্ষান্তরে যারা 'দাক্কান' (সংক্ষিপ্ত বা তানউইন সহ) পাঠ করেছেন, তা 'দাক্কা-ইয়াদুক্কু' থেকে উৎপন্ন ক্রিয়ামূল, যা ধ্বংস করা বা চূর্ণ-বিচূর্ণ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে 'জা'আলা' (করেছেন) শব্দটি 'সৃষ্টি করেছেন' অর্থে হওয়াও সম্ভব। এক্ষেত্রে 'দাক্কা' শব্দটি অবস্থা বা 'হাল' হিসেবে জবরযুক্ত হবে। একইভাবে যারা দীর্ঘ মদ্দ করে পড়েছেন, তাদের কিরাআতেও জবর হওয়ার বিষয়টি উভয় অর্থেরই সম্ভাবনা রাখে। [সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৯৯ থেকে ১১০]সেদিন আমি তাদের একদলকে অপর দলের ওপর ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়তে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রে সমবেত করব।
(৯৯) এবং সেদিন আমি কাফিরদের সামনে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত করব। (১০০) যাদের চক্ষুসমূহ ছিল আমার স্মরণে অন্ধ এবং তারা শুনতেও সক্ষম ছিল না। (১০১) তবে কি কাফিররা মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে? নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি। (১০২) বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ দেব? (১০৩)তারা তারাই, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে। (১০৪) তারাই তারা, যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের কার্যাবলি নিস্ফল হয়ে গেছে; সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজনের পাল্লা স্থাপন করব না।
(১০৫) এটিই তাদের প্রতিফল—জাহান্নাম, যেহেতু তারা কুফরি করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। (১০৬) নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। (১০৭) সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না। (১০৮)বলুন, যদি সমুদ্র আমার রবের বাণীর জন্য কালি হয়, তবে আমার রবের বাণী শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি এর সাহায্যের জন্য অনুরূপ আরও সমুদ্র নিয়ে আসি। (১০৯) বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ।
সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে। (১১০)
