Al-Kahf
আল-কাহফ: 25
18 আল-কাহফ Al-Kahf · 110 আয়াত الكهف
মূল আরবি
وَلَبِثُوا۟ فِى كَهْفِهِمْ ثَلَـٰثَ مِا۟ئَةٍ سِنِينَ وَٱزْدَادُوا۟ تِسْعًا
English Translations
And they remained in their cave for three hundred years and exceeded by nine.
And they stayed in their Cave three hundred (solar) years, and add nine (for lunar years).
They stayed in their Cave for three hundred years and added nine.
They remained in the Cave for three hundred years; and others added nine more years.
And (it is said) they tarried in their Cave three hundred years and add nine.
So they stayed in their Cave three hundred years, and (some) add nine (more)
বাংলা অনুবাদ
আর (কারো মতে) তারা তাদের গুহায় ছিল তিনশ’ বছর আর কিছু লোক নয় বছর বাড়িয়ে নিয়েছে।
আর তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছে তিনশ’ বছর এবং এর সাথে অতিরিক্ত হয়েছিল ‘নয়’।
তারা তাদের গুহায় ছিল তিন শ’ বছর, আরও নয় বছর।
আর তারা তাদের গুহায় ছিল তিন’শ বছর, আরো নয় বছর বেশি।
তারা তাদের গুহায় ছিল তিন শত বৎসর, আরও নয় বৎসর বেশী ছিল।
২৫. মূলতঃ গুহাবাসীরা তাদের গুহায় তিনশত নয় বছর কাটিয়েছে।
তাফসীর
২৫-২৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) ঐ সময়কালের খবর দিচ্ছেন, যে সময়কাল পর্যন্ত গুহাবাসীরা তাদের গুহার মধ্যে নিদ্রিত অবস্থায় অবস্থান করে ছিলেন। ঐ সময়কাল ছিল সূর্যের হিসেবে তিন শ' বছর এবং চন্দ্রের হিসেবে তিনি শ’ নয় বছর। প্রকৃতপক্ষে শামসী ও কামরী বছরের মধ্যে প্রতি একশ বছরের তিন বছরের পৃথকভাবে বর্ণনা করার পর নয় বছর আলাদাভাবে বর্ণনা করেছেন।এরপর মহান আল্লাহ স্বীয় নবীকে (সঃ) সম্বোধন করে বলছেনঃ “হে বী (সঃ)! যদি তোমাকে গুহাবাসীদের শয়নকাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় এবং তোমার এর সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকে এবং আল্লাহ তাআলাও তোমাকে তা জানিয়ে না থাকেন, তবে তুমি সামনে বেড়ে যেয়ো না এবং এরূপ স্থলে উত্তর দাওঃ এর সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর রয়েছে।
আসমান ও যমীনের গায়েবের খবর তিনিই রাখেন। তবে তিনি যাকে জানিয়ে দেন সে জানতে পারে।”কাতাদা (রঃ) বলেন যে, তারা গুহায় তিন শ’ বছর ছিলেন এটা আহলে কিতাবের উক্তি। আল্লাহ তাআলা এই উক্তিটি খণ্ডন করেছেন এবং বলেছেনঃ এরপূর্ণ ও সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর রয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ)। হতেও এই অর্থের কিরআত বর্ণিত আছে। কিন্তু কাতাদার (রঃ) উক্তিটি বিবেচনাধীন। কেননা, আহলে কিতাবের মধ্যে শামসী বছরের প্রচলন রয়েছে। এবং তারা গুহাবাসীদের অবস্থানের সময়কাল তিন শ’বছর মেনে থাকে। তিন শ’ নয় বছর তাদের উক্তি নয়। যদি এটা তাদেরই উক্তি হতো, তবে আল্লাহ তাআলা একথা বলতেন না যে, তারা তিনশ’ বছর ঘুমিয়েছিল এবং আরো নয় বছর বেশী করেছিল।
বাহ্যতঃ তো এটাই ঠিক মনে হচ্ছে যে, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এটার খবর দিচ্ছেন, কারো উক্তি তিনি বর্ণনা করছেন না। এটাই ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) গ্রহণ করেছেন। কাতাদার (রাঃ) রিওয়াইয়াত এবং হযরত ইবনু মাসউদের (রঃ) কিরআত দু'টোই ছেদ কাটা এবং অতি বিরলও বটে জমহূরের কিরআত ওটাই যা কুরআনে রয়েছে। তিনি বিরল দলীলের পক্ষপাতি নন।আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদেরকে খুবই দেখতে রয়েছেন এবং তাদের কথাও তিনি বেশ শুনতে রয়েছেন। এই দু'টি শব্দে প্রশংসার আধিক্য রয়েছে। অর্থাৎ “খুব বেশী শ্রোতা ও খুব বেশী দ্রষ্টা। প্রত্যেক বিদ্যমান জিনিস তিনি দেখতে রয়েছেন এবং সমস্ত কথা তিনি শুনতে রয়েছেন।
কোন কাজ ও কোন কথা তার কাছে গোপন নেই। তাঁর চেয়ে বেশী কেউ শ্রবণকারীও নেই এবং দর্শনকারীও নেই। প্রত্যেকের আমল তিনি দেখতে রয়েছেন এবং প্রত্যেকের কথা তিনি শুনতে রয়েছেন। সৃষ্টির স্রষ্টা এবং হুকুমের মালিক তিনিই। কেউ তার আদেশকে প্রতিরোধ করতে পারে না। তার কোন উযীর ও সাহায্যকারী নেই। তাঁর কোন অংশীদারও নেই এবং কোন পরামর্শদাতাও নেই। তিনি এই সমূদয় অভাব হতে মুক্ত ও পবিত্র। এই সব ত্রুটি হতে তিনি সম্পূর্ণরূপে মুক্ত।
আর তারা তাদের গুহায় ছিল তিন’শ বছর, আরো নয় বছর বেশি [১]।
[১] এ আয়াতে একটি বিরোধপূর্ণ আলোচনার ফয়সালা করা হয়েছে। অর্থাৎ গুহায় নিদ্রামগ্ন থাকার সময়কাল। এ আয়াতের তাফসীরে কোন কোন মুফাসসিরের মতে, এ বাক্যে তিনশ ও নয় বছরের যে সংখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে তা লোকদের উক্তি, এটা আল্লাহর উক্তি নয়। অর্থাৎ এখানে মতভেদকারীদের মত উল্লেখ করা হয়েছে। [দেখুন, ফাতহুল কাদীর] তবে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে যে, এখানে আল্লাহ তা'আলা পক্ষ থেকে তাদের গুহায় অবস্থানের কাল বর্ণনা করা হয়েছে। সে হিসাবে এ আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে যে, এই সময়কাল তিনশ’ নয় বছর। এখন কাহিনীর শুরুতে
فَضَرَ بْنَا عَلٰىٓ اٰذَانِهِمْ فِى الْكَهْفِ سِنِىْنَ عَدَدًا
বলে যে বিষয়টি সংক্ষেপে বলা হয়েছিল, এখানে যেন তাই বৰ্ণনা করে দেয়া হল। [ইবন কাসীর]
[সূরা আল-কাহফ (১৮): আয়াত ২৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
যে ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ বলেনি, এটি সেই ইনশাআল্লাহ্ বলার বিষয়টি ভুলে যাওয়ার কাফফারা। জমহুর (অধিকাংশ আলেম) বলেছেন: এটি একটি আদিষ্ট দোয়া, যা এই নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়াও পালনীয়। বলা হয়েছে: এটি তাঁর (ইব্রাহিম আ.-এর) কথা: "যদি আল্লাহ চান" [আস-সাফফাত: ১০২] যা তিনি শপথের সময় বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কেউ ইনশাআল্লাহ বলতে ভুলে যায় এবং পরে মনে পড়ে, এমনকি এক বছর পরেও হয়, তবে শপথকারী হলে তার শপথ ভঙ্গ হবে না। এটি মুজাহিদ (রহ.)-এরও অভিমত। ইসমাঈল ইবনে ইসহাক এটি আবুল আলিয়া (রহ.) থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং যখন ভুলে যাবেন তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করবেন"-এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: যখনই মনে পড়বে তখনই ইনশাআল্লাহ বলবে।
হাসান (রহ.) বলেছেন: যতক্ষণ পর্যন্ত সেই মজলিসে অবস্থান করবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: দুই বছর পর্যন্ত (ইনশাআল্লাহ বলা যাবে); এটি গজনভী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: এর অর্থ হবে ইনশাআল্লাহ বলার বরকত হাসিলের মাধ্যমে গোনাহ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া। তবে যে ইনশাআল্লাহ কোনো বিধান বা হুকুমের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়, তা নিরবচ্ছিন্ন বা সাথে সাথে হওয়া ব্যতীত শুদ্ধ হবে না। সুদ্দী (রহ.) বলেছেন: অর্থাৎ যে সালাত কেউ ভুলে গেছে, যখনই তা স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করবে। বলা হয়েছে: আল্লাহর নামে ইনশাআল্লাহ বলুন যাতে আপনি ভুলে না যান। আরও বলা হয়েছে: যখনই আপনি তাঁকে ভুলে যাবেন তখনই তাঁকে স্মরণ করুন।
আরও বলা হয়েছে: যখন আপনি কোনো কিছু ভুলে যাবেন তখন তাঁকে স্মরণ করুন, তিনি আপনাকে তা মনে করিয়ে দেবেন। আরও বলা হয়েছে: যখন আপনি অন্য কিছু ভুলে যাবেন অথবা নিজের নফসের কথা ভুলে যাবেন, তখন তাঁকে স্মরণ করুন; আর সেটিই হচ্ছে প্রকৃত জিকির। এই আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে অবতীর্ণ হয়েছে এবং বিশুদ্ধতম মতানুসারে এটি বক্তব্যের প্রারম্ভিকা মাত্র, শপথের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলার বিষয়ের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এটি তাঁর সমগ্র উম্মতের জন্য প্রযোজ্য, কারণ এটি এমন একটি বিধান যা মানুষের জীবনে অধিক সংঘটিত হওয়ার কারণে প্রাসঙ্গিক।
আর আল্লাহই তাওফিকদাতা। [সূরা আল-কাহফ (১৮): আয়াত ২৫]এবং তারা তাদের গুহায় তিনশ বছর অবস্থান করেছিল এবং আরও নয় বছর বৃদ্ধি করেছিল (২৫)এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের অবস্থানের সময়কাল সম্পর্কে সংবাদ। ইবনে মাসউদের কিরাআতে রয়েছে— "আর তারা বলেছিল যে তারা অবস্থান করেছে"। তাবারী বলেছেন: বনী ইসরাঈলরা তাদের গুহায় আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় পর্যন্ত অতিবাহিত হওয়া সময়ের ব্যাপারে মতভেদ করেছিল। তাদের কেউ কেউ বলেছিল: তারা তিনশ নয় বছর অবস্থান করেছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে অবহিত করলেন যে, এই সময়কাল ছিল তাদের নিদ্রিত অবস্থায় থাকাকালীন সময়, আর এর পরবর্তী সময় মানুষের জন্য অজ্ঞাত।
তাই আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ের জ্ঞান তাঁর দিকেই সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন: এই মতানুসারে প্রথম 'অবস্থান করেছে' শব্দ দ্বারা গুহার নিদ্রার সময়কে বোঝানো হয়েছে, এবং দ্বিতীয় 'অবস্থান করেছে' শব্দ দ্বারা গুহায় আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় পর্যন্ত অথবা তাদের মৃত্যু পর্যন্ত সময়কে বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন: কুরআন অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত। দাহহাক (রহ.) বলেছেন: তাদের মৃত্যু পর্যন্ত। কেউ কেউ বলেছেন: যখন আল্লাহ বললেন— "এবং আরও নয় বছর বৃদ্ধি করেছিল", তখন মানুষ বুঝতে পারছিল না যে এগুলি কি ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস নাকি বছর।
বনী ইসরাঈলরা এই বিষয়ে মতভেদ করেছিল, তাই আল্লাহ তাআলা এই নয়-এর জ্ঞান তাঁর দিকেই সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন; সুতরাং এই মতানুসারে এটি অস্পষ্ট। তবে আরবদের পরিভাষায় যা স্পষ্ট বোঝা যায় তা হলো এগুলি বছর। আর তাদের ঘটনার বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, তারা ঈসা (আ.)-এর পরে গুহায় প্রবেশ করেছিল।(১). পাণ্ডুলিপি 'ইয়া' এবং 'হা'-তে রয়েছে: পরিবর্তনকারী।(২). পাণ্ডুলিপি 'ইয়া'-তে রয়েছে: অর্থাৎ আপনি কোনো সালাত ভুলে গেলে তা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই আদায় করুন।(৩). পাণ্ডুলিপি 'জীম'-এ রয়েছে: প্রচার বা বিকাশের পরে।
