Al-Kahf
আল-কাহফ: 89
18 আল-কাহফ Al-Kahf · 110 আয়াত الكهف
মূল আরবি
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا
English Translations
Then he followed a way
Then he followed another way,
Thereafter, he followed a course,
Then he set out on another expedition
Then he followed a road
Then followed he (another) way,
বাংলা অনুবাদ
তারপর সে আরেক পথ ধরল।
তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।
আবার সে এক পথ ধরল।
তারপর সে এক উপায় অবলম্বন করল,
আবার সে এক পথ ধরল,
৮৯. অতঃপর সে সূর্য উঠার দিকে আরেকটি পথ ধরলো।
তাফসীর
৮৯-৯১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেন যে, যুলকারনাইন পশ্চিম দিক থেকে ফিরে এসে পূর্ব দিকে চলতে শুরু করেন। পথে যে সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাৎ হতো, তাদেরকে তিনি আল্লাহর ইবাদত ও তার একত্ববাদের দাওয়াত দিতেন। তারা স্বীকার করলে তো ভালই, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতেন। আল্লাহর ফজলে তাদের উপর বিজয় লাভ করে তিনি তাদেরকে নিজের। অধীনস্থ করতঃ তথাকার ধন-সম্পদ, গৃহ পালিত পশু, খাদেম প্রভৃতি নিয়ে সামনে অগ্রসর হতেন। বাণী ইসরাঈলের খবরে রয়েছে যে, তিনি একহাজার ছয় শ' বছর জীবিত ছিলেন এবং বরাবরই ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহর দ্বীনের তবলীগের কাজ চালিয়ে যান।
সাথে সাথে তাঁর সাম্রাজ্যের আয়তনও বিস্তৃত হয়। সূর্য উদিত হওয়ার স্থানে যখন তিনি পৌঁছেন তখন সেখানে দেখতে পান যে, একটি জনবসতি রয়েছে। কিন্তু তথাকার লোকেরা প্রায় চতুষ্পদ জন্তুর মত ছিল। না তারা ঘরবাড়ী তৈরী করে, না তথায় কোন গাছপালা রয়েছে, না রৌদ্র থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন কিছু সেখানে বিদ্যমান রয়েছে। তাদের দেহের রঙ ছিল লাল এবং তারা বেঁটে আকৃতির লোক ছিল। তাদের সাধারণ খাদ্য ছিল মাছ। সূর্য উদিত হওয়ার সময় তারা পানিতে নেমে যেতো এবং সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর তারা চতুষ্পদ জুলুর মত এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়তো। এটা হযরত হাসানের (রাঃ) উক্তি।
হযরত কাতাদার (রঃ) উক্তি এই যে, সেখানে কিছুই উৎপন্ন হতো না। সূর্য উদিত হওয়ার সময় তারা পানিতে চলে যেতো এবং সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার পর তারা তাদের দূরবর্তী ক্ষেত খামারের দিকে ছড়িয়ে পড়তো। সালমার (রঃ) উক্তি এই যে, তাদের কান ছিল বড় বড়। একটা কান দ্বারা নিজেদের লজ্জাস্থান আবৃত করতো আর একটি বিছিয়ে দিতো। কাতাদা (রঃ) বলেন, তারা ছিল অসভ্য ও বর্বর। ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) বলেন যে, সেখানে কখনো কোন ঘরবাড়ী এবং প্রাচীর নির্মিত হয় নাই। সূর্যোদয়ের সময় ঐ লোকগুলি পানিতে নেমে যেতো। সেখানে কোন পাহাড় পর্বতও নেই। অতীতে কোন এক সময় তাদের কাছে এক সেনাবাহিনী আগমন করে।
তারা তথাকার লোকদেরকে বলেঃ “দেখো, তোমরা সূর্যোদয়ের সময় বাইরে চলে যেয়ো না।" তারা বললোঃ “না, এটা হতে পারে না, আমরা বরং রাতে রাতেই এখান থেকে চলে যাবো।” তখন ঐ সেনাবাহিনী তাদেরকে বললোঃ “আচ্ছা বলতো, এই চকচকে হাড়গুলির ঢেরীটা কিরূপ?” উত্তরে তারা বললোঃ “পূর্বে এখানে এক সেনাবাহিনী এসেছিল। সূর্যোদয়ের সময় তারা এখানেই অবস্থান করেছিল। ফলে তারা সবাই মৃত্যুবরণ করেছিল। এগুলি তাদেরই অস্থি।” একথা শোনা মাত্রই এই সেনাবাহিনী সেখান থেকে বিদায় গ্রহণ করে।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ‘প্রকৃত ঘটনা এটাই, তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।' তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের কোন কাজ, কোন কথা এবং কোন চালচলন আল্লাহ তাআলার অজানা ছিল না।
যদিও তাঁর সৈন্য সংখ্যা অনেক ছিল এবং যমীনের প্রতিটি অংশে তারা ছড়িয়ে পড়েছিলেন, তবুও কোন কিছুই মহান আল্লাহর অগোচরে ছিল না। তার জ্ঞান যমীন ও আসমানের সব কিছুকেই পরিবেষ্টনকারী। তাঁর কাছে কিছুই গোপন নেই।
তারপর সে এক উপায় অবলম্বন করল,
[সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৮৩ থেকে ৯১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আমি বলছি: আমরা ইতিপূর্বে এই হাদিস এবং এর ওপর আলোচনা উল্লেখ করেছি এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত খিজিরের জীবিত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। পঞ্চম— বর্ণিত আছে যে, খিজির যখন মূসার নিকট থেকে বিদায় নিতে চাইলেন, তখন মূসা তাকে বললেন: আমাকে কিছু অসিয়ত বা উপদেশ প্রদান করুন। তিনি বললেন: সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থেকো, অট্টহাস্যকারী হয়ো না; একগুঁয়েমি ত্যাগ করো; প্রয়োজন ছাড়া পথ চলো না; পাপীদের তাদের পাপের কারণে লজ্জা দিয়ো না এবং নিজের পাপের জন্য ক্রন্দন করো হে ইমরানের পুত্র। [সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৮৩ থেকে ৯১]আর তারা আপনাকে যুল-কারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।
আপনি বলুন: আমি তোমাদের কাছে তার কিছু বিবরণ পাঠ করে শোনাব (৮৩)। আমি তাকে পৃথিবীতে আধিপত্য দান করেছিলাম এবং তাকে প্রতিটি বিষয়ের উপায়-উপকরণ প্রদান করেছিলাম (৮৪)। অতঃপর সে এক পথ অবলম্বন করল (৮৫)। শেষ পর্যন্ত যখন সে সূর্য অস্ত যাওয়ার স্থানে পৌঁছাল, তখন সে সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখল এবং সেখানে সে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল। আমি বললাম: হে যুল-কারনাইন! তুমি কি তাদের শাস্তি দেবে, না কি তাদের প্রতি সদয় আচরণ করবে? (৮৬) সে বলল: যে ব্যক্তি অন্যায় করবে আমি তাকে শাস্তি দেব, তারপর সে তার রবের কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দেবেন (৮৭)।পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তার জন্য প্রতিদান হিসেবে রয়েছে কল্যাণ; আর আমি আমার পক্ষ থেকে তাকে সহজ নির্দেশ দেব (৮৮)।
তারপর সে আর এক পথ ধরল (৮৯)। পরিশেষে যখন সে সূর্যোদয়স্থলে পৌঁছাল, তখন সে দেখল তা এমন এক সম্প্রদায়ের ওপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্য থেকে কোনো অন্তরাল রাখিনি (৯০)। প্রকৃত ঘটনা এমনই; আর তার কাছে যা কিছু ছিল সে সম্পর্কে আমি পূর্ণ জ্ঞান রাখতাম (৯১)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তারা আপনাকে যুল-কারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন: আমি তোমাদের কাছে তার কিছু বিবরণ পাঠ করে শোনাব)। ইবনে ইসহাক বলেন: যুল-কারনাইনের বৃত্তান্ত হলো এই যে, তাকে এমন কিছু দান করা হয়েছিল যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি; তার জন্য সকল উপায়-উপকরণ অবারিত করা হয়েছিল, এমনকি তিনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সকল দেশে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
তিনি যে জনপদেই পা রাখতেন, তার অধিবাসীদের ওপর তাকে কর্তৃত্ব দান করা হতো, এভাবে তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এমন এক সীমানায় পৌঁছালেন যার পরে আর কোনো সৃষ্টি ছিল না। ইবনে ইসহাক বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি হাদিস বর্ণনা করেছেন যিনি অনারবদের থেকে তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত যুল-কারনাইনের জ্ঞান সম্পর্কে উদ্ধৃতি দেন যে, যুল-কারনাইন ছিলেন মিসরের অধিবাসী এক [ব্যক্তি], যার নাম ছিল মারজুবান ইবনে মারদুবাহ আল-ইউনানি, যিনি নূহ (আ.)-এর পুত্র ইয়াফিসের বংশধর ইউনানের বংশজাত। ইবনে হিশাম বলেন: তার নাম ছিল ইসকান্দার।(১) পাণ্ডুলিপি 'জিম', 'কাফ' এবং 'ওয়াও' থেকে।
