Al-Kahf

আল-কাহফ: 71

18:71
টেক্সট কপি
18 আল-কাহফ Al-Kahf · 110 আয়াত الكهف

মূল আরবি

فَٱنطَلَقَا حَتَّىٰٓ إِذَا رَكِبَا فِى ٱلسَّفِينَةِ خَرَقَهَا ۖ قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْـًٔا إِمْرًا

English Translations

Sahih International

So they set out, until when they had embarked on the ship, he [i.e., al-Khiḍr] tore it open. [Moses] said, "Have you torn it open to drown its people? You have certainly done a grave thing."

Muhsin Khan

So they both proceeded, till, when they embarked the ship, he (Khidr) scuttled it. Musa (Moses) said: "Have you scuttled it in order to drown its people? Verily, you have committed a thing "Imra" (a Munkar - evil, bad, dreadful thing)."

Taqi Usmani

So, they both moved ahead, until when they boarded a boat, he sliced it (by removing one of its planks). He (Mūsā) said, “Did you slice it to drown its people? In fact, you have done a terrible act.”

Abul Ala Maududi

Then the two went forth until, when they embarked on the boat, he made a hole in it, whereupon Moses exclaimed: "Have you made a hole in it so as to drown the people in the boat? You have certainly done an awful thing."

Pickthall

So they twain set out till, when they were in the ship, he made a hole therein. (Moses) said: Hast thou made a hole therein to drown the folk thereof? Thou verily hast done a dreadful thing.

Yusuf Ali

So they both proceeded: until, when they were in the boat, he scuttled it. Said Moses: "Hast thou scuttled it in order to drown those in it? Truly a strange thing hast thou done!"

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

অতঃপর তারা দু’জনে চলতে লাগল যতক্ষণ না তারা নৌকায় উঠল, অতঃপর লোকটি নৌকায় ছিদ্র করে দিল। মূসা বলল, ‘আপনি কি তার আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য তাতে ছিদ্র করলেন? আপনি তো এক অদ্ভুত কাজ করলেন।’

রাওয়াই আল-বায়ান

অতঃপর তারা চলতে থাক। অবশেষে যখন তারা জাহাজে চড়ল, সে তা ফুটো করে দিল। সে বলল, ‘আপনি কি তার আরোহীদের ডুবানোর জন্য তা ফুটো করে দিলেন? আপনি অবশ্যই মন্দ কাজ করলেন’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

অতঃপর তারা যাত্রা শুরু করল। পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে তাতে ছিদ্র করে দিল; মূসা বললঃ আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করে দেয়ার জন্য তাতে ছিদ্র করলেন? আপনিতো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অতঃপর উভয়ে চলতে লাগল, অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে তা বিদীর্ণ করে দিলো। মূসা বললেন, ‘আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করার জন্য তা বিদীর্ণ করলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন!’

ফাতহুল মাজীদ

অতঃপর উভয়ে চলতে লাগল, পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে (খাজির) নৌকাটা বিদীর্ণ করে দিল। মূসা বলল: ‘আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করে দেবার জন্য বিদীর্ণ করলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন!’

মুখতাসার

৭১. যখন তাঁরা এ ব্যাপারে একমত হলেন তখন তাঁরা সাগর পাড়ের দিকে রওয়ানা করলেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা একটি নৌকা পেয়ে বিনা ভাড়ায় তাতে চড়লেন। যা ছিলো মূলতঃ খাজির (আলাইহিস-সালাম) এর প্রতি সম্মান স্বরূপ। অতঃপর খাজির (আলাইহিস-সালাম) নৌকাটির একটি কাষ্ঠখণ্ড উঠিয়ে তাতে ছিদ্র করে দিলেন। তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁকে বললেন: যে নৌকার মালিক আমাদেরকে তাতে বিনা ভাড়ায় উঠিয়েছে আপনি কি তাদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটিকে ছিদ্র করে দিলেন?! আপনি তো মূলতঃ একটি মারাত্মক কাজ করলেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বলেনঃ দু'জনের মধ্যে যখন শর্ত মীমাংসিত হয়ে গেল যে, হযরত মূসা (আঃ) নিজ থেকে কোন প্রশ্ন করবেন না যে পর্যন্ত না ওর হিকমত ও যৌক্তিকতা তার উপর প্রকাশিত হয়ে পড়বে, তখন উভয়ে যাত্রা শুরু করে দেন। পূর্বে বিস্তারিত রিওয়াইয়াতগুলি গত হয়েছে যে, নৌকার মালিকরা হযরত খিয়রকে (আঃ) চিনে নিয়ে বিনা ভাড়াতেই তাদেরকে নৌকায় উঠিয়ে নিয়েছিল। নৌকাটি চলতে চলতে যখন সমুদ্রের মধ্যভাগে পৌঁছে তখন হযরত খির (আঃ) নৌকাটির একটি তক্তা উপড়িয়ে ফেলেন এবং উপর থেকেই জোড় লাগিয়ে দেন। এ দেখে হযরত মূসা (আঃ) ধৈর্য ধারণ করতে পারলেন না।

শর্তের কথা তিনি ভুলে গেলেন এবং হঠাৎ করে বলে ফেললেনঃ “আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।”(আরবী) এর (আরবী) টি (আরবী) বা পরিণামের (আরবী) এটা (আরবী) বা কারণ সম্বন্ধীয় (আরবী) নয়। যেমন কোন কবির নিম্নের কবিতাংশে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সৃষ্ট প্রত্যেক প্রাণীর পরিণাম হচ্ছে মৃত্যু এবং নির্মিত প্রত্যেক প্রাসাদের পরিণাম হচ্ছে ধ্বংস।" (আরবী) শব্দের অর্থ হলো অন্যায়, অপছন্দনীয় ও বিস্ময়কর।হযরত খিষ্যর (আঃ) তখন হযরত মূসাকে (আঃ) তার ওয়াদা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেনঃ “আপনি শর্তের উল্টো করেছেন। আমি তো আপনাকে পূর্বেই বলেছিলাম যে, আপনি এসব বিষয় অবগত নন এবং এগুলোর জ্ঞান আপনার নেই।

সুতরাং চুপ থাকবেন, কোন প্রশ্ন করবেন না। এ সব কাজের যোক্তিকতা ও হিকমত আল্লাহ তাআলা আমাকে জানিয়েছেন, আর আপনার কাছে এগুলি গুপ্ত রয়েছে।” হযরত মূসা (আঃ) তখন হযরত খিরকে (আঃ) বললেনঃ “আমার এই ভুলের জন্যে আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার ব্যাপারে অত্যাধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।” পূর্বে বিস্তারিত ঘটনার যে দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে তাতে রয়েছে যে, এই প্রথম প্রশ্নটি বাস্তবিকই ভুল বশতঃই ছিল।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

অতঃপর উভয়ে চলতে লাগল, অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল তখন সে তা বিদীর্ণ করে দিলো। মূসা বললেন, ‘আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করার জন্য তা বিদীর্ণ করলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন !’

দশম রুকু’

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৭১ হতে ৭৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এবং তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। আমাদের ওলামায়ে কেরাম বলেন: তাঁর পক্ষ থেকে এমনটি হওয়ার কারণ হলো ধৈর্য একটি ভবিষ্যৎ বিষয় এবং এতে তাঁর অবস্থা কেমন হবে তা জানা ছিল না। আর অবাধ্যতা না করার বিষয়টি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিল যা বর্তমানে বিদ্যমান, তাই এতে 'ইনশাআল্লাহ' বলা সংকল্পের পরিপন্থী হতো। অথবা উভয়ের মধ্যে এভাবে পার্থক্য করা সম্ভব যে, ধৈর্য আমাদের দ্বারা অর্জিত হয় না, পক্ষান্তরে নাফরমানি করা বা ছেড়ে দেওয়া আমাদের দ্বারা অর্জিত, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি বললেন, যদি তুমি আমার অনুসরণ কর, তবে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যতক্ষণ না আমি নিজেই তোমার কাছে সে বিষয়ে আলোচনা করি) ৭০; অর্থাৎ যতক্ষণ না আমি নিজেই তা তোমার কাছে ব্যাখ্যা করি।

আর এটি খিদিরের পক্ষ থেকে শিষ্টাচার শিক্ষা দান এবং এমন বিষয়ের নির্দেশনা যা দীর্ঘ সাহচর্য লাভের দাবি রাখে। সুতরাং তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন এবং অবিচল থাকতেন তবে অনেক আশ্চর্যজনক বিষয় দেখতে পেতেন, কিন্তু তিনি অধিক আপত্তি উত্থাপন করেছিলেন বিধায় বিচ্ছেদ ও বিমুখতা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। ‌‌[সূরা আল-কাহাফ (১৮): আয়াত ৭১ হতে ৭৩]অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগল, অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তিনি তা ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেন, আপনি কি এটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেন? নিশ্চয়ই আপনি এক গুরুতর কাজ করেছেন (৭১) তিনি বললেন, আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধরতে পারবে না?

(৭২) মূসা বললেন, আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার এ কাজে আমার ওপর কঠোরতা আরোপ করবেন না (৭৩)মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তারা উভয়ে চলতে লাগল, অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তিনি তা ছিদ্র করে দিলেন) [এতে দুটি মাসআলা রয়েছে] প্রথমটি— সহীহ মুসলিম ও বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে: (তারা সমুদ্র উপকূল দিয়ে হাঁটতে লাগলেন, তখন একটি নৌকা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকে আরোহণ করানোর জন্য অনুরোধ করলেন। তারা খিদিরকে চিনতে পেরে কোনো ভাড়া ছাড়াই তাদেরকে তুলে নিলেন। যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলেন, তখন মূসা হঠাৎ দেখলেন যে খিদির একটি কুড়াল দিয়ে নৌকার একটি তক্তা উপড়ে ফেলছেন।

তখন মূসা তাঁকে বললেন: একদল লোক আমাদের কোনো ভাড়া ছাড়াই আরোহণ করাল, আর আপনি তাদের নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেন? নিশ্চয়ই আপনি এক গুরুতর কাজ করেছেন। তিনি বললেন: আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধরতে পারবে না? মূসা বললেন: আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার এ কাজে আমার ওপর কঠোরতা আরোপ করবেন না)। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (মূসার পক্ষ থেকে প্রথমটি ছিল বিস্মৃতিবশত)। বর্ণনাকারী বলেন: একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার কিনারায় বসল এবং সমুদ্র থেকে এক ফোঁটা পানি পান করল।

তখন খিদির তাঁকে বললেন: আমার এবং তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় ঠিক ততটুকুই, যতটুকু এই চড়ুই পাখিটি এই সমুদ্র থেকে কমিয়ে দিয়েছে। আমাদের ওলামায়ে কেরাম বলেন: নৌকার 'হারফ' অর্থ তার প্রান্ত, আর প্রতিটি জিনিসের 'হারফ' হলো তার প্রান্ত, [এর থেকেই পাহাড়ের 'হারফ' শব্দটি এসেছে] যা এর সর্বোচ্চ সরু অংশ। আর এখানে জ্ঞান (ইলম) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জ্ঞাত বিষয় (মালুম), যেমনটি তিনি বলেছেন:(১). সংযোজনটি বুখারী থেকে।(২). সংযোজনটি ভাষাতত্ত্বের কিতাবসমূহ থেকে।