Ad-Dukhan

আদ-দুখান: 10

44:10
টেক্সট কপি
44 আদ-দুখান Ad-Dukhan · 59 আয়াত الدخان

মূল আরবি

فَٱرْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِى ٱلسَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِينٍ

English Translations

Sahih International

Then watch for the Day when the sky will bring a visible smoke

Muhsin Khan

Then wait you for the Day when the sky will bring forth a visible smoke.

Taqi Usmani

So, wait for a day when the sky will come up with a visible smoke

Abul Ala Maududi

So watch for the Day when the sky will come down with a pall of smoke,

Pickthall

But watch thou (O Muhammad) for the day when the sky will produce visible smoke

Yusuf Ali

Then watch thou for the Day that the sky will bring forth a kind of smoke (or mist) plainly visible,

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

অতএব তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের যেদিন আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে যা সুস্পষ্ট (ভাবে দেখা যাবে)।

রাওয়াই আল-বায়ান

অতএব অপেক্ষা কর সেদিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ।

শাইখ মুজিবুর রহমান

অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের যেদিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ,

ফাতহুল মাজীদ

অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে,

মুখতাসার

১০. অতএব, হে রাসূল! আপনি নিজ জাতির নিকটবর্তী শাস্তির অপেক্ষা করুন। যে দিন আসমান সুস্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে। যা তারা কঠিন বেদনা ভরে স্বচক্ষে অবলোকন করবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

44:9

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ [১],

[১] আলোচ্য আয়াতসমূহে উল্লেখিত ধোঁয়া সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ীগণের তিন প্রকার উক্তি বর্ণিত আছে। প্রথম উক্তি এই যে, এটা কেয়ামতের অন্যতম আলামত বা কেয়ামতের সন্নিকটবতী সময়ে সংঘটিত হবে। এই উক্তি আলী, ইবন আব্বাস, ইবন ওমর, আবু হুরায়রা, রাদিয়াল্লাহু আনহুম ও হাসান বসরী রাহেমাহুল্লাহ প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে। দ্বিতীয় উক্তি এই যে, এ ভবিষ্যদ্বানী অতীতে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং এতে মক্কার সে দুর্ভিক্ষ বোঝানো হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দো'আর ফলে মক্কাবাসীদের উপর অর্পিত হয়েছিল। তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল এবং মৃত জন্তু পর্যন্ত খেতে বাধ্য হয়েছিল।

আকাশে বৃষ্টি ও মেঘের পরিবর্তে ধুম্র দৃষ্টিগোচর হত। এ উক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রমুখের। তৃতীয় উক্তি এই যে, এখানে মক্কা বিজয়ের দিন মক্কার আকাশে উত্থিত ধূলিকণাকে ধুম্র বলা হয়েছে। এ উক্তি আবদুর রহমান আ'রাজ প্রমুখের। প্রথমোক্ত উক্তিদ্বয়ই সমধিক প্রসিদ্ধ। তৃতীয় উক্তি ইবনে-কাসীরের মতে অগ্রাহ্য। সহীহ হাদীসসমূহে দ্বিতীয় উক্তিই অবলম্বিত হয়েছ। প্রথমোক্ত উক্তিদ্বয়ের বর্ণনাসমূহ নিম্নরূপঃ

হুযায়ফা ইবনে আসীদ বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন। আমারা তখন পরস্পর কেয়ামতের সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, যত দিন তোমারা তোমরা দশটি আলামত না দেখ, ততদিন কেয়ামত হবে না [১] পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, [২] দোখান তথা ধুম্র, [৩] দাব্বা (বা বিচিত্র ধরণের প্রাণী), [৪] ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব, [৫] ঈসা আলাইহিস্‌সালাম-এর অবতরণ, [৬] দাজ্জালের আবির্ভাব, (৭) পূর্বে ভূমিধাস(৮) পশ্চিমে ভূমিধস, (৯) আরব উপদ্বীপে ভূমিধস, (১০) আদন থেকে এক অগ্নি বের হবে এবং মানুষকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে।

মানুষ যেখানে রাত্রিযাপন করতে আসবে, অগ্নিও থেমে যাবে, যেখানে দুপুরে বিশ্রামের জন্যে আসবে, সেখানে অগ্নিও থেমে যাবে। [মুসলিম: ২৯০১] এছাড়া কিছু সহীহ ও হাসান হাদীসও একথা প্রমাণ করে যে, ‘দোখান’ ধুম্র কেয়ামতের ভবিষ্যৎ আলামতসমূহের অন্যতম। কুরআনের বাহ্যিক ভাষাও এর সাক্ষ্য দেয়।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, কাফেররা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দাওয়াত কবুল করতে অস্বীকার করল এবং কুফৱীকেই আঁকড়ে রইল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উপর দো’আ করলেন যে, হে আল্লাহ এদের উপর ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর আমলের দুর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন। ফলে কাফেররা ভয়ংকর দুর্ভিক্ষে পতিত হল। এমনকি, তারা অস্থি এবং মৃত জন্তুও ভক্ষণ করতে লাগল। তারা আকাশের দিকে তাকালে ধুম্র ব্যতীত কিছুই দৃষ্টিগোচর হত না। এক বর্ণনায় আছে, তাদের কেউ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার তীব্রতায় সে কেবল ধুম্রের মত দেখত।

অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ তার বক্তব্যের প্রমাণ স্বরূপ এ আয়াতখানি তেলাওয়াত করলেন। দুর্ভিক্ষ প্রপীড়িত জনগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আবেদন করল, আপনি আপনার মুদার গোত্রের জন্য আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দো'আ করুন। নতুবা আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম দো'আ করলে, বৃষ্টি হল। তখন

اِنَّاكَاشِفُواالُعَذَابِ قَلِيْلًا

আয়াত নাযিল হল। অর্থাৎ, আমরা কিছু দিনের জন্যে তোমাদের থেকে আযাব প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। কিন্তু তোমরা বিপদমুক্ত হয়ে গেলে আবার কুফরের দিকে ফিরে যাবে। বাস্তবে তাই হল, তারা তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে গেল। তখন আল্লাহ তা'আলা

يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرٰى اِنَّامُنْتَقِمُونَ

আয়াত নাযিল করলেন। অর্থাৎ যেদিন আমরা প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিনের ভয় কর। অতঃপর ইবনে-মাসউদ বললেন, এই প্রবল পাকড়াও বদর যুদ্ধে হয়ে গেছে। এই ঘটনা বর্ণনা করার পর তিনি আরও বললেন, পাঁচটি বিষয় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ, দোখান তথা ধুম্র, রোম (এর পারসিকদের উপর জয়লাভ), চাঁদ (দ্বিখণ্ডিত হওয়া), পাকড়াও (যা বদরের প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল) ও লেযাম (বা স্থায়ী আযাব)। [বুখারী: ৪৮০৯, মুসলিম: ২৭৯৮]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আদ-দুখান (৪৪): আয়াত ১০ থেকে ১১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

তারা তাদের পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণের «১» বশবর্তী হয়ে জ্ঞান ব্যতিরেকেই তা বলে, ফলে তারা সন্দেহের মধ্যে নিমজ্জিত। যদিও তারা ধারণা করে যে তারা মুমিন, তথাপি তারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের ধর্মে যা মনে আসে তাই নিয়ে খেলাচ্ছলে লিপ্ত রয়েছে। আর বলা হয়েছে যে, "তারা খেলছে" এর অর্থ হলো তারা বিদ্রূপবশত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মিথ্যা আরোপ করছে। আর যে ব্যক্তি উপদেশ থেকে বিমুখ হয় তাকে 'উপেক্ষাকারী' বলা হয়; সে সেই বালকের মতো যে খেলছে অথচ জানে না এর পরিণতি কী। ‌‌[সূরা আদ-দুখান (৪৪): আয়াত ১০ থেকে ১১]অতএব আপনি সেই দিনের প্রতীক্ষা করুন, যেদিন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়াসহ উপস্থিত হবে (১০) যা মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে; এটি এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (১১)আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতএব আপনি সেই দিনের প্রতীক্ষা করুন যেদিন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়াসহ উপস্থিত হবে"—কাতাদাহ বলেন, 'আরতাকিিব' (অপেক্ষা করুন) অর্থ হলো— হে মুহাম্মাদ!

আপনি এই কাফিরদের ব্যাপারে সেই দিনের অপেক্ষা করুন যেদিন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে। আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো আপনি তাদের এই কথাগুলো সংরক্ষণ করুন যাতে যেদিন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে সেদিন আপনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারেন; আর এই কারণেই সংরক্ষণকারীকে 'রকীব' (তত্ত্বাবধায়ক) বলা হয়। ধোঁয়া (দুখান) সম্পর্কে তিনটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা এখনো আসেনি। এটি পৃথিবীতে চল্লিশ দিন অবস্থান করবে এবং আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে ফেলবে। মুমিন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি সর্দি-কাশির মতো হবে, আর কাফির ও পাপাচারীদের নাসারন্ধ্রে এটি প্রবেশ করবে এবং তাদের শ্রবণছিদ্র বিদীর্ণ করবে ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করবে; এটি কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের প্রভাবস্বরূপ হবে।

যারা ধোঁয়া এখনো আসেনি বলে মত ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে আমর, আবু হুরায়রা, যায়িদ ইবনে আলী, হাসান, ইবনে আবি মুলাইকাহ এবং অন্যান্যগণ। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি এমন এক ধোঁয়া যা কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করবে; মুমিনদের জন্য তা সর্দির মতো হবে এবং কাফিরদের শরীরে তা এমনভাবে প্রবেশ করবে যে তা তাদের প্রতিটি শ্রবণছিদ্র দিয়ে নির্গত হবে; মাওয়ার্দি এটি উল্লেখ করেছেন। সহীহ মুসলিম-এ আবু তুফাইল সূত্রে হুযায়ফা ইবনে উসাইদ আল-গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা আলোচনা করছিলাম।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমরা কী আলোচনা করছো?" তারা বললেন: "আমরা কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা তার পূর্বে দশটি নিদর্শন দেখতে পাও।" এরপর তিনি উল্লেখ করলেন— ধোঁয়া, দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরদ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ, ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং তিনটি ভূমিধস— একটি পূর্বে, একটি পশ্চিমে এবং একটি আরব উপদ্বীপে; আর সবশেষে ইয়ামেন থেকে একটি আগুন বের হবে যা মানুষকে তাদের হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে— "দশটি নিদর্শন না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত হবে না: পূর্বে ভূমিধস, পশ্চিমে ভূমিধস, আরব উপদ্বীপে ভূমিধস, ধোঁয়া ও দাজ্জাল..."(১) 'আয', 'কাফ', 'লাম', 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'পিতৃপুরুষদের অনুকরণের জন্য'।

আর 'নূন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তাদের পিতৃপুরুষদের অনুকরণস্বরূপ'।