Al-Ma'idah
আল-মায়িদা: 109
5 আল-মায়িদা Al-Ma'idah · 120 আয়াত المائدة
মূল আরবি
۞ يَوْمَ يَجْمَعُ ٱللَّهُ ٱلرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَآ أُجِبْتُمْ ۖ قَالُوا۟ لَا عِلْمَ لَنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّـٰمُ ٱلْغُيُوبِ
English Translations
[Be warned of] the Day when Allāh will assemble the messengers and say, "What was the response you received?" They will say, "We have no knowledge. Indeed, it is You who is Knower of the unseen" -
On the Day when Allah will gather the Messengers together and say to them: "What was the response you received (from men to your teaching)? They will say: "We have no knowledge, verily, only You are the All-Knower of all that is hidden (or unseen, etc.)."
(Be mindful of) the day when Allah will assemble the messengers and will say to them, “How were you responded to?” They will say, “We have no knowledge. Surely You alone have the full knowledge of all that is unseen.”
The Day when Allah will gather together the Messengers and say: 'What answer were you given?' They will reply: 'We have no real knowledge of it. You alone fully know all that lies beyond the reach of human perception.
In the day when Allah gathereth together the messengers, and saith: What was your response (from mankind)? they say: We have no knowledge. Lo! Thou, only Thou art the Knower of Things Hidden,
One day will Allah gather the messengers together, and ask: "What was the response ye received (from men to your teaching)?" They will say: "We have no knowledge: it is Thou Who knowest in full all that is hidden."
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ যে দিন রসূলগণকে একত্রিত করবেন; অতঃপর বলবেন, তোমাদেরকে কী জবাব দেয়া হয়েছিল। তারা বলবে, আমরা কিছুই জানি না, তুমিই সকল গোপন তত্ত্ব জান।
(স্মরণ কর) যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন, অতঃপর বলবেন, ‘তোমাদেরকে কী জবাব দেয়া হয়েছিল’? তারা বলবে, ‘আমাদের কোন ইলম নেই, নিশ্চয় আপনি গায়েবী বিষয়সমূহের সর্বজ্ঞানী’।
যে দিন আল্লাহ সমস্ত রাসূলদেরকে সমবেত করবেন, অতঃপর বলবেনঃ তোমরা (উম্মাতদের নিকট থেকে) কি উত্তর পেয়েছিলে? তারা বলবেঃ (তাদের অন্তরের কথা) আমাদের কিছুই জানা নেই; নিশ্চয়ই আপনি সমস্ত গোপনীয় বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞাত।
স্মরণ করুন, যেদিন আল্লাহ্ রাসুলগণকে একত্র করবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন, ‘আপনারা কী উত্তর পেয়েছিলেন?’ তারা বলবেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো জ্ঞানই নেই; আপনিইতো গায়েব সম্বন্ধে সবচেয়ে ভাল জানেন।’
স্মরণ কর, যে দিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন এবং জিজ্ঞাসা করবেন, ‘তোমরা কী উত্তর পেয়েছিলেঃ’ তারা বলবে, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোন জ্ঞানই নেই; তুমিই তো অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’
১০৯. হে মানুষ! তোমরা কিয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করো। যখন আল্লাহ তা‘আলা সকল রাসূলকে একত্রিত করে বলবেন: যে উম্মতের নিকট আমি তোমাদেরকে পাঠিয়েছি তারা তোমাদের ডাকে কী ধরনের সাড়া দিয়েছে? তখন তাঁরা এর উত্তর আল্লাহর দিকে সোপর্দ করে বলবেন: হে আমাদের রব! এ ব্যাপারে আমাদের কোন সঠিক জ্ঞান নেই। তা তো কেবল আপনার নিকটেই। গায়েবের খবর আপনিই নিশ্চিত জানেন।
তাফসীর
নবী রাসূলদেরকে যেসব কওমের নিকট পাঠানো হয়েছিল তারা তাঁদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছিল কি দেয়নি সে সম্পর্কে আল্লাহ তাদেরকে কিয়ামতের দিন কিভাবে সম্বোধন করবেন তাই এ আয়াতে বলা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেছেন (আরবী) অর্থাৎ “যাদের কাছে রাসূলদের পাঠানো হয়েছিলো তাদেরকেও আমি জিজ্ঞেস করবো এবং রাসূলদেরকেও জিজ্ঞেস করবো।” অন্যত্র বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমার প্রভুর শপথ! আমি তাদের সকলকেই তাদের আমল সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবো।”(১৫:৯২) রাসূলগণ উত্তরে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের কিছুই জানা নেই।” সেদিনের ভয়াবহ অবস্থা দেখেই তাঁদের এ উত্তর হবে।
তারা সেদিন ভীত-সন্ত্রস্ত হবেন বলেই তাদের মুখ দিয়ে কোন উত্তর বের হবে না। বরং বলে ফেলবেন- “আমাদের কিছুই জানা নেই।” অতঃপর যখন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন, তখন নিজের কওম সম্পর্কে সঠিক সাক্ষ্য প্রদান করবেন। কিন্তু তাদের প্রথম উক্তি এরূপই হবে- “হে আল্লাহ! আমরা তো এ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবো না। আপনি তো আলেমুল গায়েব। আপনার মোকাবিলায় আমাদের জ্ঞান থাকতে পারে? এতে কোনই সন্দেহ নেই যে, ভদ্রতা হিসেবে এটা অতি উত্তম জবাবই বটে- “আপনার ব্যাপক জ্ঞানের কাছে আমাদের জ্ঞান অতি তুচ্ছ ও নগণ্য। আমাদের জ্ঞানের ভিত্তি হচ্ছে শুধুমাত্র বাহিকের উপর।
পক্ষান্তরে আপনার জ্ঞান আভ্যন্তরীণ সংবাদও রাখে। কেননা, আপনি হচ্ছেন ‘আল্লামুল গুয়ূব বা অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। সুতরাং আমাদের উম্মতবর্গ কি জবাব দিয়েছিল তা আপনি ভাল জানেন। কে যে কপটতামূলক আমল করেছে এবং কে বিশ্বাসমূলক কাজ করেছে এই জ্ঞান তো আমাদের নেই, বরং আপনারই আছে।”
স্মরণ করুন,যেদিন আল্লাহ্ রাসুলগণকে একত্র করবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন, ‘আপনারা কি উত্তর পেয়েছিলেন?’ তারা বলবেন, ‘ এ বিষয়ে আমাদের কোন জ্ঞানই নেই; আপনিইতো গায়েব সম্বন্ধে সবচেয়ে ভাল জানেন [১]। ’
পনরতম রুকূ’
[১] অর্থাৎ কেয়ামতে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জন্মগ্রহণকারী সব মানুষ একটি উন্মুক্ত মাঠে উপস্থিত হবে। সবাই সে সুবিশাল ময়দানে উপস্থিত হবে এবং সবার কাছ থেকে তাদের সারা জীবনের কাজকর্মের হিসাব নেয়া হবে। কিন্তু আয়াতে বিশেষভাবে নবী-রাসূলগণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছেঃ “ঐ দিনটি বাস্তবিকই স্মরণীয়, যেদিন আল্লাহ্ তা'আলা সব নবী-রাসূলকে হিসাবের জন্য একত্রিত করবেন"। উদ্দেশ্য এই যে, একত্রিত সবাইকে করা হবে, কিন্তু সর্বপ্রথম প্রশ্ন নবী-রাসূলগণকেই করা হবে যাতে সমগ্র সৃষ্টজগত দেখতে পায় যে, আজ হিসাব ও প্রশ্ন থেকে কেউ বাদ পড়বে না।
নবী-রাসূলগণকে যে প্রশ্ন করা হবে, তা এই, আপনারা যখন নিজ নিজ উম্মতকে আল্লাহ তা'আলা ও তার সত্য দ্বীনের দিকে আহবান করেছিলেন, তখন তারা আপনাদেরকে কি উত্তর দিয়েছিল? তারা আপনাদের বর্ণিত নির্দেশাবলী পালন করেছিল, না অস্বীকার ও বিরোধিতা করেছিল। এ প্রশ্নের উত্তরে তারা বলবেনঃ “তাদের ঈমান ও কাজকর্ম সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। আপনিই স্বয়ং যাবতীয় অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী”। ইমাম তাবারী বলেন, তারা আদব রক্ষার্থে বলবেন যে, আপনি ভাল জানেন। অথবা, তারা সেদিনের কঠিন অবস্থা বিবেচনায় জওয়াব দেয়ার চেয়ে আল্লাহর উপরই তার জওয়াবের ভার ছেড়ে দিবেন।
অথবা তারা এটা এজন্যে বলবেন যে, বাস্তবিকই আল্লাহ তা'আলা সবচেয়ে ভাল জানেন। নবীদের দাওয়াতে কে কেমন সাড়া দিয়েছিল তা আল্লাহ তা'আলার চেয়ে কেউ ভাল জানে না। [ইবন কাসীর]
সারকথা এই যে, আলোচ্য আয়াতে কেয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্যের একটি ঝলক সম্মুখে উপস্থাপিত করা হয়েছে। হিসাব-নিকাষের কাঠগড়ায় আল্লাহ তা'আলার সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় রাসূলগণ কম্পিত বদনে উপস্থিত হবেন। সুতরাং অন্যদের যে কি অবস্থা হবে, তা সহজেই অনুমেয়। তাই এখন থেকেই সে ভয়াবহ দিনের চিন্তা করা উচিত এবং জীবনকে এ হিসাব-নিকাষের প্রস্তুতিতে নিয়োজিত করা কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাশরের ময়দানে কোন ব্যক্তির পদযুগল ততক্ষণ পর্যন্ত সামনে অগ্রসর হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছ থেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর নেয়া হয়।
প্রথম এই যে, সে জীবনের সুদীর্ঘ ও প্রচুর সংখ্যক দিবারাত্রকে কি কাজে ব্যয় করেছে? দ্বিতীয় এই যে, বিশেষভাবে কর্মক্ষম যৌবনকালকে সে কিভাবে অতিবাহিত করেছে ? তৃতীয় এই যে, সে অর্থকড়ি কোন (হালাল কিংবা হারাম) পথে উপার্জন করেছে? চতুর্থ এই যে, অর্থকড়িতে সে কোন (জায়েয কিংবা নাজায়েয) কাজে ব্যয় করেছে? পঞ্চম এই যে, নিজ ইলম অনুযায়ী সে কি আমল করেছে? [তিরমিয়ীঃ ২৪১৭]
[সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ১০৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, সাক্ষ্য (শাহাদাহ) কখনো কখনো শপথ (ইয়ামিন) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য হবে চারবার আল্লাহর নামে শপথ" [আন-নূর: ৬]। মা'মার, আইয়ুব হতে, তিনি ইবনে সিরিন হতে এবং তিনি উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তি দাঁড়ালেন এবং শপথ নিলেন। "আমাদের সাক্ষ্য অধিকতর হকদার" বাক্যটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা) ও বিধেয় (খবর) হিসেবে গঠিত। আর তাঁর বাণী: "এবং আমরা সীমালঙ্ঘন করিনি" অর্থাৎ আমরা আমাদের শপথে সত্যকে অতিক্রম করিনি।
"নিশ্চয়ই তবে আমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব" অর্থাৎ যদি আমরা মিথ্যার ওপর শপথ করে থাকি এবং এমন কিছু গ্রহণ করি যা আমাদের প্রাপ্য নয়। ছাব্বিশতম মাসআলা- মহান আল্লাহর বাণী: "এটিই অধিকতর নিকটবর্তী" বাক্যটি উদ্দেশ্য ও বিধেয়। "যে (আন)" শব্দটি এখানে নাসব-এর স্থানে রয়েছে। "তারা পেশ করবে (ইয়াতু)" শব্দটি "আন" দ্বারা মানসুব (নাসবযুক্ত) হয়েছে। "অথবা তারা ভয় পাবে" এটি পূর্ববর্তী শব্দের ওপর সংযোজন (আতফ)। "প্রত্যাখ্যাত হওয়ার (আন তুরাদ্দা)" অংশটি "তারা ভয় পাবে" ক্রিয়ার কারণে নাসব-এর স্থানে রয়েছে। "তাদের শপথের পর অন্য শপথসমূহ" এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: "তারা পেশ করবে" এবং "তারা ভয় পাবে" ক্রিয়া দুটির সর্বনাম অসিয়তপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির দিকে ফিরেছে, যা আয়াতের প্রেক্ষাপটের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আবার বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষ; অর্থাৎ মানুষের উচিত খিয়ানত করা থেকে সতর্ক থাকা এবং সত্য সাক্ষ্য প্রদান করা, পাছে বাদীর ওপর পুনরায় শপথ ন্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে জনসমক্ষে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয় থাকে। আল্লাহই ভালো জানেন। সাতাশতম মাসআলা- মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো ও শ্রবণ করো" এটি একটি নির্দেশবাচক বাক্য, এ কারণেই এর শেষ থেকে 'নুন' বিলুপ্ত হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের যা বলা হচ্ছে তা কবুল করার মানসিকতা নিয়ে শোনো এবং সে বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশের অনুসরণ করো। "আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না" 'ফাসাক্বা' (সে পাপাচার করেছে) শব্দটি দ্বারা আনুগত্য থেকে বের হয়ে নাফরমানির দিকে ধাবিত হওয়া বোঝায়।
এ বিষয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন। [সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ১০৯]যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন, "তোমাদের কী উত্তর দেওয়া হয়েছিল?" তারা বলবে, "আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।" (১০৯)মহান আল্লাহর বাণী: "যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্রিত করবেন" এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন হতে পারে: এই আয়াতের সাথে পূর্ববর্তী আয়াতের যোগসূত্র কী? উত্তর হলো- এটি অসিয়ত বা অন্য কোনো বিষয়ে অন্তরের বিপরীত কিছু প্রকাশ করা থেকে সতর্ক করার একটি যোগসূত্র, যা বুঝিয়ে দেয় যে, এর প্রতিদান দাতা (আল্লাহ) সবকিছু সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।
"যেদিন (ইয়াওমা)" হলো সময়ের আধার (জরফ) এবং এখানে আমলকারী (আমিল) হলো "এবং তোমরা শ্রবণ করো" ক্রিয়াটি, অর্থাৎ তোমরা সেই দিনের সংবাদ শ্রবণ করো। আবার বলা হয়েছে: আয-যাজ্জাজের মতে এর বিশ্লেষণ হলো "এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্রিত করবেন"। আরও বলা হয়েছে: এর মূল ভাব হলো "তোমরা কিয়ামত দিবসকে স্মরণ করো অথবা সেই দিন সম্পর্কে সতর্ক থাকো যখন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্রিত করবেন"। এই অর্থগুলো কাছাকাছি এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভীতি প্রদর্শন ও সতর্ক করা। "অতঃপর বলবেন, তোমাদের কী উত্তর দেওয়া হয়েছিল?" অর্থাৎ তোমাদের উম্মতগণ তোমাদের আহবানে কী সাড়া দিয়েছিল?
এবং যখন তোমরা তাদের দাওয়াত দিয়েছিলে তখন তোমাদের জাতি তোমাদের কী জবাব দিয়েছিল?(১). দেখুন: খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১৮২।(২). দেখুন: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪৫।
অতঃপর তিনি বলবেন, ‘তোমরা কী উত্তর পেয়েছিলে?’ তারা বলবে, ‘আমাদের কোনো জ্ঞান নেই’ (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১০৯)। আর তাঁর বাণী: তবে তাদের মধ্যে কেউ হবে দুর্ভাগা এবং কেউ হবে সৌভাগ্যবান
—তারা হচ্ছে এই কিবলার অনুসারী কবিরা গুনাহগারদের একটি দল, যাদেরকে আল্লাহ তাঁদের পাপের কারণে যতদিন ইচ্ছা জাহান্নামের আগুনে শাস্তি দেবেন। অতঃপর তিনি তাদের জন্য শাফাআতের অনুমতি দেবেন, ফলে মুমিনগণ তাদের জন্য শাফাআত করবে এবং তিনি তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। জাহান্নামে থাকাকালীন তিনি তাদের ‘দুর্ভাগা’ বলে অভিহিত করেছেন: {অতঃপর যারা দুর্ভাগা, তারা থাকবে জাহান্নামে; সেখানে তাদের জন্য থাকবে আর্তনাদ ও চিৎকার।
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন}—অর্থাৎ যখন তিনি তাদের জন্য শাফাআতের অনুমতি দিলেন এবং তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। আর এরাই তারা আর যারা সৌভাগ্যবান হলো
—অর্থাৎ তারা যে দুর্ভাগ্যের মধ্যে ছিল তার পরবর্তী অবস্থা— তারা জান্নাতে থাকবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে যতদিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন
—অর্থাৎ যারা জাহান্নামে ছিল।ইবনে জারির, আবুশ শায়খ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: অতঃপর যারা দুর্ভাগা
, অতঃপর তিনি বললেন: আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: একদল লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে, আর আমরা হারুরার অনুসারীদের (খারিজিদের) মতো কথা বলি না।ইবনে মারদুওয়াইহ জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অতঃপর যারা দুর্ভাগা
থেকে তবে তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন
পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আল্লাহ যদি দুর্ভাগাদের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানোর ইচ্ছা করেন, তবে তিনি তা করবেন।ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম খালিদ ইবনে মা’দান থেকে তবে তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন
আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি কিবলার অনুসারীদের মধ্যে যারা তাওহিদবাদী (একত্ববাদী) তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।আবুশ শায়খ দাহহাক থেকে তবে তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন
প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: কিবলার অনুসারীদের মধ্য থেকে যাদেরকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে।আবদুর রাজ্জাক, ইবনুদ দুরাইস, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, তাবারানি এবং বায়হাকি ‘আল-আসমা ওয়াস সিফাত’ গ্রন্থে আবু নাদরা থেকে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারি অথবা আবু সাঈদ খুদরি অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো একজন সাহাবি থেকে তবে তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন; নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন তা সুসম্পন্নকারী
আয়াতাংশ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এই আয়াতটি পুরো কুরআনের ওপর ফয়সালাকারী।
তিনি বলেন: কুরআনের যেখানেই ‘সেখানে তারা চিরকাল থাকবে’ কথাটি এসেছে, এই আয়াতটি তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে।ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতিম, আবুশ শায়খ এবং বায়হাকি আবু নাদরামূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: পুরো কুরআন এই আয়াতে এসে পর্যবসিত হয়—নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন তা সুসম্পন্নকারী
।ইবনে জারির দাহহাক থেকে আর যারা সৌভাগ্যবান হলো
আয়াতাংশ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে,তিনি বলেন: তিনি হলেন...
