Al-Ma'idah
আল-মায়িদা: 18
5 আল-মায়িদা Al-Ma'idah · 120 আয়াত المائدة
মূল আরবি
وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ وَٱلنَّصَـٰرَىٰ نَحْنُ أَبْنَـٰٓؤُا۟ ٱللَّهِ وَأَحِبَّـٰٓؤُهُۥ ۚ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُم بِذُنُوبِكُم ۖ بَلْ أَنتُم بَشَرٌ مِّمَّنْ خَلَقَ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ ۚ وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ وَإِلَيْهِ ٱلْمَصِيرُ
English Translations
But the Jews and the Christians say, "We are the children of Allāh and His beloved." Say, "Then why does He punish you for your sins?" Rather, you are human beings from among those He has created. He forgives whom He wills, and He punishes whom He wills. And to Allāh belongs the dominion of the heavens and the earth and whatever is between them, and to Him is the [final] destination.
And (both) the Jews and the Christians say: "We are the children of Allah and His loved ones." Say: "Why then does He punish you for your sins?" Nay, you are but human beings, of those He has created, He forgives whom He wills and He punishes whom He wills. And to Allah belongs the dominion of the heavens and the earth and all that is between them, and to Him is the return (of all).
The Jews and the Christians say, “We are the sons of Allah and His favourites.” Say, “Why then would He punish you for your sins? In fact, you are just human, among those He has created. He forgives whom He wills and punishes whom He wills.” Unto Allah belongs the kingdom of the heavens and the earth and what lies between them, and unto Him is the return.
The Jews and the Christians say: 'We are Allah's children and His beloved ones.' Ask them: 'Why, then, does He chastise you for your sins?' You are the same as other men He has created. He forgives whom He wills and chastises whom He wills. And to Allah belongs the dominion of the heavens and the earth, and all that is between them. To Him is the eventual return.
The Jews and Christians say: We are sons of Allah and His loved ones. Say: Why then doth He chastise you for your sins? Nay, ye are but mortals of His creating. He forgiveth whom He will, and chastiseth whom He will. Allah's is the Sovereignty of the heavens and the earth and all that is between them, and unto Him is the journeying.
(Both) the Jews and the Christians say: "We are sons of Allah, and his beloved." Say: "Why then doth He punish you for your sins? Nay, ye are but men,- of the men he hath created: He forgiveth whom He pleaseth, and He punisheth whom He pleaseth: and to Allah belongeth the dominion of the heavens and the earth, and all that is between: and unto Him is the final goal (of all)"
বাংলা অনুবাদ
ইয়াহূদী ও নাসারারা বলে, আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়পাত্র। বল, তাহলে তোমাদের পাপের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দেন কেন? বরং তিনি যাদের সৃষ্টি করেছেন তোমরা তাদের অন্তর্গত মানুষ, তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেন, আকাশসমূহ ও পৃথিবী আর এদের মধ্যে যা আছে সবকিছুর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই জন্য, আর প্রত্যাবর্তন তাঁরই পানে।
ইয়াহূদী ও নাসারারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র ও তার প্রিয়জন’। বল, ‘তবে কেন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পাপের কারণে আযাব দেন? বরং তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত মানুষ, যাদেরকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা আযাব দেন। আর আসমানসমূহ ও যমীন এবং তাদের মধ্যবর্তী যা আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহর এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন’।
ইয়াহুদী ও নাসারাহ্ বলেঃ আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়পাত্র। তুমি তাদের বলে দাও, আচ্ছা তাহলে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পাপের দরুণ কেন শাস্তি প্রদান করবেন? বরং তোমরাও অন্যান্য সৃষ্টির ন্যায় সাধারণ মানুষ মাত্র, তিনি যাকে ইচ্ছা মার্জনা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন, আর আল্লাহর কর্তৃত্ব রয়েছে আকাশসমূহে ও যমীনে এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত সবকিছুতেও; আর সবাইকে আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
আর ইয়াহুদী ও নাসারারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়জন।’ বলুন, ‘তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন ? বরং তোমরা তাদেরই অন্তর্গত মানুষ যাদেরকে তিনি সৃষ্টি করেছেন।’ যাকে ইচ্ছে তিনি ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছে তিনি শাস্তি দেন। আর আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দুয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই, এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে।
ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানগণ বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র ও তার প্রিয়পাত্র।’ বল: ‘তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদেরকে শাস্তি দেন? তিনি যাদের সৃষ্টি করেছেন তোমরা তাদের অন্তর্গত মানুষ, যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেন; আসমান ও জমিনের এবং এদের মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই, আর প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে।
১৮. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রত্যেকেই দাবি করে যে, তারা আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়পাত্র। হে রাসূল! আপনি তাদের দাবি খণ্ডন করতে গিয়ে বলুন: তাহলে তোমাদের কৃত পাপের জন্য আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে শাস্তি দেন কেন?! তোমাদের দাবি অনুযায়ী তোমরা যদি সত্যিই তাঁর প্রিয়পাত্র হতে তাহলে তিনি তোমাদেরকে দুনিয়াতে হত্যা ও বিকৃতির মাধ্যমে এবং আখিরাতে আগুনের মাধ্যমে শাস্তি দিতেন না। কারণ, তিনি তো তাঁর প্রিয় পাত্রকে শাস্তি দেন না। বরং তোমরা অন্য মানুষের মতোই সাধারণ মানুষ। তাদের মধ্যকার যে ভালো করবে তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে প্রতিদান দিবেন আর যে খারাপ করবে তাকে জাহান্নাম দিয়ে শাস্তি দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকেই তাঁর দয়ায় ক্ষমা করেন আর যাকে চান তাকেই তাঁর ইনসাফ ভিত্তিক শাস্তি দিয়ে থাকেন। একমাত্র আল্লাহর জন্যই আসমান, জমিন ও এতদুভয়ের সব কিছুর মালিকানা। একমাত্র তাঁর দিকেই সব কিছুর প্রত্যাবর্তন।
তাফসীর
5:17
আর ইয়াহুদী ও নাসারারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়জন’। বলুন, ‘তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন [১] ? বরং তোমরা তাদেরই অন্তর্গত মানুষ যাদেরকে তিনি সৃষ্টি করেছেন’। যাকে ইচ্ছে তিনি ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছে তিনি শাস্তি দেন [২]। আর আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দুয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই, এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে।
[১] অর্থাৎ যদি সত্যি-সত্যিই তোমারা আল্লাহর প্রিয়বান্দা হতে তবে তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দিতেন না। অথচ তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, তোমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা নও। আল্লাহ যে তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন এটা তোমরাও স্বীকার কর। তোমরা বলে থাক যে, ‘আমাদেরকে সামান্য কিছুদিনই কেবল অগ্নি স্পর্শ করবে’ [সূরা আল-বাকারাহ ৮০; সূরা আলে ইমরান ২৪]
আর যদি সত্যি সত্যিই তোমাদের কোন শাস্তি হবে না তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর না কেন? দুনিয়ার কষ্ট থেকে বেঁচে গিয়ে আখেরাতের স্থায়ী শান্তি যদি তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমাদের উচিত মৃত্যু কামনা করা। অথচ তোমরা হাজার বছর বাঁচতে আগ্রহী। অন্য আয়াতে বলেন, বলুন, ‘যদি আল্লাহ্র কাছে আখেরাতের বাসস্থান অন্য লোক ছাড়া বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যই হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর- - - যদি সত্যবাদী হয়ে থাক’। কিন্তু তাদের কৃতকর্মের কারণে তারা কখনো তা কামনা করবে না। [সূরা আল-বাকারাহ: ৯৪-৯৫]
আরও বলেন, বলুন, ‘হে ইয়াহুদী হয়ে যাওয়া লোকরা! যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, অন্য কোন মানবগোষ্ঠী নয়; তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে (তাদের কৃতকর্ম) এর কারণে কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। [সূরা আল-জুম’আঃ ৬-৭]
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা তাঁর বন্ধুকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে দেন না’। [মুসনাদে আহমাদ ৩/১০৪]
এক বর্ণনায় এসেছে, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট নোমান ইবন আদ্বা, বাহরী ইবন আমর এবং শাস ইবন আদী এসে কথা বলল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহবান জানালেন, তাঁর শাস্তির ভয় দেখালেন। তখন তারা বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনি আমাদেরকে কিসের ভয় দেখান? আমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তান-সন্তুতি ও তার প্রিয়জন! নাসারাদের মতই তারা বলল। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন। [তাবারী]
[২] সুদ্দী বলেন, এর অর্থ, যাকে ইচ্ছা তাকে আল্লাহ্ দুনিয়াতে হেদায়াত দেন, ফলে তাকে তিনি ক্ষমা করেন। আর যাকে ইচ্ছা কুফরীর উপর মৃত্যু দেন, ফলে তাকে তিনি শাস্তি দেন। [তাবারী]
[সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ১৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ১৮]আর ইহুদি ও নাসারারা বলে, "আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন।" আপনি বলুন, "তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের কারণে তোমাদের শাস্তি দেন?" বরং তোমরা তাঁরই সৃষ্ট মানুষদের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে, সবকিছুর রাজত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল। (১৮)মহান আল্লাহর বাণী: (আর ইহুদি ও নাসারারা বলে, "আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন")। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের একটি দলকে আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখালেন।
তারা বলল: "আমরা ভয় পাই না, কারণ আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন।" তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। ইবনে ইসহাক বলেন: নুমান ইবনে আদা, বাহরি ইবনে আমর এবং শাস ইবনে আদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসলেন। তারা তাঁর সাথে কথা বললেন এবং তিনি তাদের সাথে কথা বললেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন এবং তাঁর আযাব সম্পর্কে সতর্ক করলেন। তখন তারা বলল: "হে মুহাম্মদ, আপনি আমাদের কিসের ভয় দেখাচ্ছেন? আমরা তো আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন—যেমনটা নাসারারা বলে থাকে।" তখন মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন: "আর ইহুদি ও নাসারারা বলে, 'আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন'।
আপনি বলুন, 'তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের কারণে তোমাদের শাস্তি দেন?'" আয়াতের শেষ পর্যন্ত। মুয়াজ ইবনে জাবাল, সাদ ইবনে উবাদাহ এবং উকবাহ ইবনে ওয়াহাব তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: "হে ইহুদি সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহর কসম, তোমরা অবশ্যই জানো যে তিনি আল্লাহর রাসূল। তাঁর আগমনের পূর্বে তোমরা আমাদের কাছে তাঁর আলোচনা করতে এবং তাঁর বৈশিষ্ট্য আমাদের কাছে বর্ণনা করতে।" তখন রাফে ইবনে হুরাইমিলা এবং ওয়াহাব ইবনে ইয়াহুদা বলল: "আমরা তোমাদের কাছে এমন কিছু বলিনি, আর মুসার পর আল্লাহ কোনো কিতাব নাযিল করেননি এবং তাঁর পর কোনো সুসংবাদদাতা বা সতর্ককারীও পাঠাননি।" তখন মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: "হে আহলে কিতাব, রাসূলগণের আগমনের বিরতির পর তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন যিনি তোমাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত: "আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।" সুদ্দী বলেন: ইহুদিরা দাবি করত যে, আল্লাহ তাআলা ইসরাঈল (আ.)-এর প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলেন যে, তোমার সন্তানরা আমার সন্তানের মধ্যে প্রথমজাতের মতো।
অন্যরা বলেন: নাসারারা বলেছিল "আমরা আল্লাহর সন্তান", কারণ ইঞ্জিলে ঈসা (আ.)-এর পক্ষ থেকে বর্ণনা আছে—"আমি আমার পিতা ও তোমাদের পিতার নিকট যাচ্ছি।" কেউ কেউ বলেন: এর অর্থ হলো—"আমরা আল্লাহর রাসূলগণের সন্তান"; এখানে একটি উহ্য শব্দ (মুদাফ) রয়েছে। সারকথা হলো—তারা নিজেদের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করত, তাই আল্লাহ তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বললেন (তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের কারণে তোমাদের শাস্তি দেন?)। এমতাবস্থায় তারা দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির সম্মুখীন হবেই; হয় তারা বলবে যে তিনি আমাদের শাস্তি দেন, তখন তাদের বলা হবে: তবে তোমরা তাঁর সন্তান ও প্রিয়জন নও, কারণ কোনো প্রেমিক তার প্রিয়জনকে শাস্তি দেয় না।
আর যেহেতু তোমরা তাঁর শাস্তির বিষয়টি স্বীকার করো, সেহেতু তা তোমাদের দাবির মিথ্যা হওয়ারই প্রমাণ—তর্কশাস্ত্রবিদদের নিকট একে "বুরহানুল খুলফ" (বিপরীত প্রমাণের মাধ্যমে সত্যতা প্রতিপাদন) বলা হয়। অথবা তারা বলবে...
পরকাল আল্লাহর কাছে অন্য মানুষের পরিবর্তে কেবল তোমাদের জন্যই একচেটিয়া হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। কিন্তু তাদের হাত যা অগ্রিম পাঠিয়েছে (তাদের কৃতকর্ম), তার কারণে তারা কখনোই তা কামনা করবে না; আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।ইবনে জারীর আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা (ইয়াহুদী ও নাসারারা) বলেছিল, "ইয়াহুদী বা নাসারা ব্যতীত আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১১১) এবং তারা বলেছিল, "আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র" (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১৮)।
তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "বলুন, পরকাল যদি আল্লাহর কাছে অন্য মানুষের পরিবর্তে কেবল তোমাদের জন্যই একচেটিয়া হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।" কিন্তু তারা তা করেনি।ইবনে জারীর কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।অনুরূপ।বায়হাকী তাঁর 'দালাইল' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হে মুহাম্মদ! আপনি তাদের বলুন, "পরকাল যদি তোমাদের জন্যই হয়" অর্থাৎ জান্নাত, যেমনটি তোমরা দাবি করে থাকো, "অন্য মানুষের পরিবর্তে একচেটিয়াভাবে" অর্থাৎ মুমিনদের বাদ দিয়ে, "তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও" যে এটি মুমিনদের বাদ দিয়ে কেবল তোমাদের জন্যই নির্ধারিত।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: তোমরা যদি তোমাদের কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে বলো—হে আল্লাহ! আমাদের মৃত্যু দান করুন। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে এটি বলবে আর তৎক্ষণাৎ তার কণ্ঠনালীতে থুথু আটকে গিয়ে সে ওই স্থানেই মারা যাবে না। কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং তিনি যা বলেছিলেন তা অপছন্দ করল। তখন নাযিল হলো: "কিন্তু তাদের হাত যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তার কারণে তারা কখনোই তা কামনা করবে না" অর্থাৎ তাদের কৃতকর্মের কারণে। "আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত" যে তারা কখনোই তা কামনা করবে না।
এই আয়াত নাযিলের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর কসম! তারা কখনোই তা কামনা করবে না।ইবনে ইসহাক, ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো" এর অর্থ হলো—উভয় দলের মধ্যে যারা বেশি মিথ্যাবাদী তাদের ওপর মৃত্যু প্রার্থনা করো। কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। তিনি যেদিন এই কথা বলেছিলেন, সেদিন যদি তারা মৃত্যু কামনা করত, তবে পৃথিবীর বুকে কোনো ইয়াহুদীই অবশিষ্ট থাকতো না, সবাই মারা যেত।ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, "বলুন, যদি পরকাল তোমাদের জন্যই হয়" অর্থাৎ জান্নাত; "একচেটিয়াভাবে" অর্থাৎ বিশেষভাবে তোমাদের জন্য; "তবে মৃত্যু কামনা করো" অর্থাৎ মৃত্যুর প্রার্থনা করো।
"কিন্তু তারা কখনোই তা কামনা করবে না" কারণ তারা জানে যে তারা মিথ্যাবাদী। "যা অগ্রিম পাঠিয়েছে" এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: যা আগে সম্পন্ন করেছে।আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির এবং আবু নুআইম 'দালাইল' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যদি ইয়াহুদীরা মৃত্যু কামনা করত, তবে তারা অবশ্যই মারা যেত।ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা যদি মৃত্যু কামনা করত, তবে তাদের কেউ নিজের থুথু গিলতে গিয়েই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যেত।আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মারদুওয়াইহি এবং আবু নুআইম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইয়াহুদীরা যদি মৃত্যু কামনা করত, তবে তারা অবশ্যই মারা যেত এবং জাহান্নামে তাদের অবস্থানস্থল স্বচক্ষে দেখতে পেত।
ইবনে জারীর আওফীর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইয়াহুদীরা বলেছিল, ‘আমাদের সন্তানরা মারা গেছে এবং তারা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য নৈকট্যের মাধ্যম হবে, তারা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে এবং আমাদের পবিত্র করবে।’ তখন আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।ইবনে আবী হাতিম ইকরিমা সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইয়াহুদীরা তাদের শিশুদের সামনে এগিয়ে দিত যাতে তারা তাদের নিয়ে নামাজ পড়ে এবং তাদের কুরবানি পেশ করে।
তারা দাবি করত যে, শিশুদের কোনো ভুল বা পাপ নেই। কিন্তু তারা মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ বলেন: ‘আমি কোনো পাপিষ্ঠকে এমন একজনের মাধ্যমে পবিত্র করি না যার কোনো পাপ নেই।’ এরপর আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?"আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারীর এবং ইবনুল মুনযির মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এর দ্বারা সেই ইয়াহুদীদের বোঝানো হয়েছে যারা তাদের শিশুদের নামাজের সময় সামনে এগিয়ে দিত যাতে তারা তাদের ইমামতি করে। তারা দাবি করত যে, শিশুদের কোনো পাপ নেই।
তিনি বলেন: এটাই হলো সেই আত্ম-পবিত্রতা ঘোষণা করা।ইবনে জারীর আবু মালিক থেকে আল্লাহর বাণী: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি ইয়াহুদীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, তারা তাদের শিশুদের সামনে এগিয়ে দিত এবং বলত: তাদের কোনো পাপ নেই।ইবনে জারীর ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আহলে কিতাবরা এমন কিশোরদের সামনে এগিয়ে দিত যারা এখনো সাবালকত্ব লাভ করেনি, যাতে তারা তাদের নামাজ পড়ায়। তারা বলত: তাদের কোনো পাপ নেই।অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর এবং ইবনে আবী হাতিম হাসান থেকে আল্লাহর বাণী: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তারা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা (যারা বলেছিল: "আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়ভাজন") (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১৮)।(এবং তারা বলেছিল: "ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না") (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১১১)।
