Al-Ma'idah
আল-মায়িদা: 76
5 আল-মায়িদা Al-Ma'idah · 120 আয়াত المائدة
আরবি
قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا ۚ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ
English Translations
Say, "Do you worship besides Allāh that which holds for you no [power of] harm or benefit while it is Allāh who is the Hearing, the Knowing?"
Say (O Muhammad SAW to mankind): "How do you worship besides Allah something which has no power either to harm or to benefit you? But it is Allah Who is the All-Hearer, All-Knower."
Say, “Do you worship, besides Allah, what has no power to do you harm or bring you benefit?” Allah is the All-Hearing, the All-Knowing.
Say: 'Do you serve, beside Allah, that which has no power either to harm or benefit you, whereas Allah alone is All-Hearing, All-Knowing?'
Say: Serve ye in place of Allah that which possesseth for you neither hurt nor use? Allah it is Who is the Hearer, the Knower.
Say: "Will ye worship, besides Allah, something which hath no power either to harm or benefit you? But Allah,- He it is that heareth and knoweth all things."
বাংলা অনুবাদ
বল, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কি এমন কিছুর ‘ইবাদাত করছ যাদের না আছে কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা, আর না আছে উপকার করার। আর আল্লাহ তিনি হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদাত করবে, যা তোমাদের জন্য কোন ক্ষতি ও উপকারের ক্ষমতা রাখে না? আর আল্লাহ, তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’।
তুমি বলে দাওঃ তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুর ইবাদাত কর যা তোমাদের না কোন অপকার করার ক্ষমতা রাখে, আর না কোন উপকার করার? অথচ আল্লাহই সব শুনেন, জানেন।
বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ‘ইবাদাত কর যার কোনো ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি বা উপকার করার? আর আল্লাহ তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’।
বল: তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত কর, যারা তোমাদের ক্ষতি বা উপকার করার কোন ক্ষমতা রাখে না? আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
৭৬. হে রাসূল! আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদাতের ক্ষেত্রে দলীল দিয়ে আপনি তাদেরকে বলুন: তোমাদের না কোন উপকারে আসবে আর না ক্ষতি দূর করতে পারবে তোমরা কি এমন কিছুর ইবাদাত করছো?! সে তো অক্ষম। আর আল্লাহ তা‘আলা তা থেকে পবিত্র। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা এককভাবেই তোমাদের কথাগুলো শুনেন। তার কোনটাই তাঁর হাত ছাড়া হয় না। তিনি তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত। কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
তাফসীর
৭৬-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে আল্লাহকে ছেড়ে বাতিল মা’রূদগুলোর ইবাদত করতে নিষেধ করা হচ্ছে। আল্লাহ তা'আলা নবী (সঃ)-কে বলছেন- এসব লোককে বলে দাও–যারা তোমাদের কোন ক্ষতি করার এবং উপকার করার কোনই ক্ষমতা রাখে না, তাদের তোমরা কেন পূজা করছো? যিনি সবকিছু শুনেন ও সবকিছুর খবর রাখেন, সেই আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে যাদের শুনবার, দেখবার এবং উপকার ও অপকার করবার কোনই ক্ষমতা নেই, তাদের অনুসরণ করা কতই না নির্বুদ্ধিতার কাজ! হে আহলে কিতাব! তোমরা হক ও সত্যের সীমা ছাড়িয়ে যেয়ো না। যার যতটুকু সম্মান করার নির্দেশ রয়েছে তার ততটুকুই সম্মান কর। মানুষের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ নবুওয়াত দান করেছেন তাদেরকে নবুওয়াতের মর্যাদা থেকে বাড়িয়ে আল্লাহর মর্যাদায় পৌছিয়ে দিয়ো না। যেমন তোমরা মাসীহ (আঃ)-এর ব্যাপার ভুল করছে। এর একমাত্র কারণ এটাই যে, তোমরা তোমাদের পীর, মুরশিদ, উস্তাদ এবং ইমামদের পিছনে লেগে পড়েছে। তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট এবং অনুসারীদেরকেও করেছে পথভ্রষ্ট। বহু দিন হতে সরল ও ন্যায়ের পথকে ছেড়ে দিয়েছে এবং ভ্রান্তি ও বিদআতের মধ্যে জড়িত হয়ে পড়েছে। ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মধ্যে একটি লোক ধর্মের খুবই পাবন্দ ছিল। কিছুদিন পর শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে দেয়। সে তাকে বলে, “আগের লোকেরা যা করে গেছে তুমিও তো তাই করছে। এতে কি হবে? এর দ্বারা না জনগণের মধ্যে তোমার কোন মর্যাদা লাভ হবে, না তোমার কোন খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে। বরং একটা নতুন কিছু আবিষ্কার কর এবং জনগণের মধ্যে তা ছড়িয়ে দাও। তাহলে দেখতে পাবে যে, তোমার খ্যাতি কিরূপে ছড়িয়ে পড়ছে এবং কিভাবে স্থানে স্থানে তোমার সম্পর্কে আলোচনা চলছে।” সুতরাং সে তার কথা মত তা-ই করলো। তার ঐ বিদআতগুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো এবং বহু যুগ পর্যন্ত লোকেরা তার অন্ধ অনুকরণ করতে থাকলো। এখন হতে সে খুবই লজ্জিত হলো এবং সালতানাত ও রাজত্ব পরিত্যাগ করলো। তারপর নির্জনে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে পড়লো। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে জানিয়ে দিলেন-“তুমি যদি শুধু আমারই ব্যাপারে ভুল ও অপরাধ করতে তবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিতাম। কিন্তু তুমি সাধারণ লোকের আমল নষ্ট করে দিয়েছে এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ভ্রান্তির পথে লাগিয়ে দিয়েছে। সেই পথে চলতে চলতে তারা মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের পাপের বোঝা তোমার উপর থেকে কিরূপে সরতে পারে? সুতরাং তোমার তাওবা কবুল করা হবে না।” এ ধরনের লোকদের ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ‘ইবাদাত কর যার কোন ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি বা উপকার করার? আর আল্লাহ তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’।
