Al-Ma'idah

আল-মায়িদা: 66

5:66
টেক্সট কপি
5 আল-মায়িদা Al-Ma'idah · 120 আয়াত المائدة

মূল আরবি

وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا۟ ٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْإِنجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِم مِّن رَّبِّهِمْ لَأَكَلُوا۟ مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم ۚ مِّنْهُمْ أُمَّةٌ مُّقْتَصِدَةٌ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَآءَ مَا يَعْمَلُونَ

English Translations

Sahih International

And if only they had upheld [the law of] the Torah, the Gospel, and what has been revealed to them from their Lord [i.e., the Qur’ān], they would have consumed [provision] from above them and from beneath their feet. Among them are a moderate [i.e., acceptable] community, but many of them - evil is that which they do.

Muhsin Khan

And if only they had acted according to the Taurat (Torah), the Injeel (Gospel), and what has (now) been sent down to them from their Lord (the Quran), they would surely have gotten provision from above them and from underneath their feet. There are from among them people who are on the right course (i.e. they act on the revelation and believe in Prophet Muhammad SAW like 'Abdullah bin Salam), but many of them do evil deeds.

Taqi Usmani

If they had upheld the Torah and the Injīl and what had been sent down to them from their Lord, they would surely have had plenty to eat from above them and from beneath them. Among them are moderate people. As for most of them, evil is what they do.

Abul Ala Maududi

Had the People of the Book observed the Torah and the Gospel, and all that had been revealed to them from their Lord, sustenance would have been showered over them from above and risen from beneath their feet. Some among them certainly keep to the right path; but many of them do things which are evil.

Pickthall

If they had observed the Torah and the Gospel and that which was revealed unto them from their Lord, they would surely have been nourished from above them and from beneath their feet. Among them there are people who are moderate, but many of them are of evil conduct.

Yusuf Ali

If only they had stood fast by the Law, the Gospel, and all the revelation that was sent to them from their Lord, they would have enjoyed happiness from every side. There is from among them a party on the right course: but many of them follow a course that is evil.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারা যদি তাওরাত ইঞ্জিল আর তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার নিয়ম-বিধান প্রতিষ্ঠিত করত, তাহলে তাদের উপর থেকে আর তাদের পায়ের নীচ থেকে আহার্য পেত। তাদের মধ্যে একটি সত্যপন্থী দল আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই যা করে তা খারাপ।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যদি তারা তাওরাত, ইনজীল ও তাদের নিকট তাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা কায়েম করত, তবে অবশ্যই তারা আহার করত তাদের উপর থেকে এবং তাদের পদতল থেকে। তাদের মধ্য থেকে সঠিক পথের অনুসারী একটি দল রয়েছে এবং তাদের অনেকেই যা করছে, তা কতইনা মন্দ!

শাইখ মুজিবুর রহমান

আর যদি তারা তাওরাত ও ইঞ্জীলের এবং যে কিতাব (অর্থাৎ কুরআন) তাদের রবের পক্ষ হতে তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, ওর থেকে যথারীতি ‘আমলকারী হত তাহলে তারা উপর (অর্থাৎ আকাশ) হতে এবং নিম্ন (অর্থাৎ যমীন) হতে প্রাচুর্যের সাথে আহার পেত; তাদের একদলতো সরল পথের অনুগামী; আর তাদের অধিকাংশই এরূপ যে, তাদের কার্যকলাপ অতি জঘন্য।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর তারা যদি তাওরাত, ইঞ্জীল ও তাদের রবের কাছ থেকে তাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তাহলে তারা অবশ্যই তাদের উপর থেকে ও পায়ের নীচ থেকে আহারাদী লাভ করত। তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা মধ্যপন্থী এবং তাদের অধিকাংশ যা করে তা কতই না নিকৃষ্ট।

ফাতহুল মাজীদ

তারা যদি তাওরাত, ইঞ্জীল ও তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠা করত, তাহলে তারা তাদের ওপর ও পায়ের নিচ হতে খাদ্য ভক্ষণ করত। তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা মধ্যমপন্থী; আর তাদের অধিকাংশই যা করে তা নিকৃষ্ট।

মুখতাসার

৬৬. ইহুদিরা তাওরাতে এবং খ্রিস্টানরা ইঞ্জীলে উপরন্তু তাদের উপর নাযিলকৃত কুর‘আনের উপর আমল করলে তাদের জন্য রিযিকের উপকরণগুলো তথা আকাশ থেকে বৃষ্টি নাযিল হওয়া ও জমিনে ফসল উৎপাদিত হওয়া সহজ হয়ে যেতো। আহলে কিতাবের কিছু সংখ্যক সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত মধ্যমপন্থী। তবে মু’মিন না হওয়ায় তাদের অধিকাংশের আমলই খারাপ।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

5:64

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর তারা যদি তাওরাত, ইঞ্জীল ও তাদের রবের কাছ থেকে তাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত [১], তাহলে তারা অবশ্যই তাদের উপর থেকে ও পায়ের নীচ থেকে আহারাদী লাভ করত [২]। তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা মধ্যপন্থী; এবং তাদের অধিকাংশ যা করে তা কতই না নিকৃষ্ট [৩]।

[১] যিয়াদ ইবনে লাবীদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা ব্যাপার উল্লেখ করে বললেনঃ ‘এটা ঐ সময়ই হবে যখন দ্বীনের জ্ঞান চলে যাবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, কিভাবে জ্ঞান চলে যাবে অথচ আমরা কুরআন পড়ছি, আমাদের সন্তানদেরকে কুরআন পড়াচ্ছি, তারা তাদের সন্তানদেরকে পড়াবে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত? তিনি বললেন, তোমার আম্মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক যিয়াদ! (আরবি ভাষায় ভর্ৎসনামূলক বাক্য) আমি তো মনে করেছিলাম তুমি মদীনার ফকীহদের অন্যতম। এই ইয়াহুদী এবং নাসারারা কি তাওরাত ও ইঞ্জীল পড়ে না, অথচ তারা এর থেকে কিছুই আমল করে না। [ইবন মাজাহঃ ৪০৪৮]

[২] এর সারমর্ম এই যে, যদি ইয়াহুদীরা আজও তাওরাত, ইঞ্জল ও কুরআনুল কারীমের নির্দেশাবলীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সেগুলো পুরোপুরি পালন করে- ক্রটি এবং মনগড়া বিষয়াদিকে দ্বীন বলে আখ্যা দিয়ে বাড়াবাড়ি না করে, তবে তারা আখেরাতে প্রতিশ্রুত নেয়ামতরাজির যোগ্য হবে এবং দুনিয়াতেও তাদের সামনে রিযকের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। ফলে উপর-নীচ সবদিক থেকে তাদের উপর রিযক বর্ষিত হবে। আল্লাহ্ তা’আলা আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করতেন। ফলে যমীন হতে ফসল উৎপাদিত হতো। আর এভাবেই তাদেরকে আসমান ও যমীনের বরকত প্রদান করা হতো। [ইবন কাসীর]

[৩] আয়াতের শেষাংশে ইনসাফ প্রদর্শনার্থে এ কথা বলা হয়েছে যে, ইয়াহুদীদের যেসব বক্রতা ও কুকর্ম বর্ণনা করা হয়েছে, তা সমস্ত ইয়াহুদীদের অবস্থা নয়; বরং তাদের মধ্যে ক্ষুদ্র একটি দল সৎপথের অনুসারীও রয়েছে। সৎ পথের অনুসারী বলে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা পূর্বে ইয়াহুদী অথবা নাসারা ছিল, এরপর কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছে। অথবা তাদেরকে যারা ঈসা ‘আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সঠিক মত পোষণ করে যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল ছিলেন। তিনি ইলাহ বা ইলাহের সন্তান ছিলেন না। [তাবারী]

তারপর বলা হয়েছে যে, যদিও তাদের অধিকাংশই কুকর্মী’। কারণ, তাদের অধিকাংশই ঈসা ‘আলাইহিস সালাম সম্পর্কে হয় বাড়াবাড়ি নতুবা মর্যাদাহানিকর মন্তব্য করে থাকে। অনুরূপভাবে তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরও ঈমান আনে না। [তাবারী]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ৬৫ থেকে ৬৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

অগ্নিউপাসকগণ। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: (এবং তারা জমিনে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে) অর্থাৎ তারা ইসলামকে অসার বা বাতিল করার চেষ্টা করে, আর এটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ফাসাদের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। কেউ কেউ বলেন: এখানে আগুন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ক্রোধের আগুন। অর্থাৎ যখনই তারা নিজেদের অন্তরে ক্রোধের আগুন প্রজ্বলিত করে এবং নিজেদের দৈহিক শক্তি ও মানসিক তেজ দিয়ে ক্রোধের তীব্রতায় একত্রিত হয়, তখনই আল্লাহ তা নিভিয়ে দেন যাতে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এটি ঘটেছিল তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে তাঁর সাহায্যার্থে যে ভীতির সঞ্চার করা হয়েছিল তার মাধ্যমে।

‌‌[সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ৬৫ থেকে ৬৬]আহলে কিতাবগণ যদি ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের পাপসমূহ মোচন করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদের নেয়ামতে ভরপুর জান্নাতে প্রবেশ করাতাম। (৬৫) আর তারা যদি তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তবে তারা তাদের মাথার ওপর থেকে এবং পায়ের নিচ থেকে আহার লাভ করত। তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবোধ সম্পন্ন দল রয়েছে, আর তাদের অনেকেরই কর্মকাণ্ড অত্যন্ত মন্দ। (৬৬)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আহলে কিতাবগণ যদি) এখানে "আন্না" শব্দটি রফ-এর স্থলাভিষিক্ত, অনুরূপভাবে "আর যদি তারা তাওরাত প্রতিষ্ঠিত করত" বাক্যটিও।

(তারা ঈমান আনত) অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করত। (এবং তাকওয়া অবলম্বন করত) অর্থাৎ শিরক ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকত। (তবে অবশ্যই আমি তাদের মোচন করে দিতাম) এখানে "লাম" অক্ষরটি "লাও"-এর উত্তর হিসেবে এসেছে। আর মোচন করা অর্থ হলো ঢেকে দেওয়া, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। আর তাওরাত ও ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করার অর্থ হলো এ দুটির দাবি অনুযায়ী আমল করা এবং এগুলোতে কোনো প্রকার বিকৃতি না ঘটানো। এই অর্থটি সূরা বাকারায় বিস্তারিতভাবে অতিবাহিত হয়েছে। (এবং যা তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে) অর্থাৎ কুরআন। কেউ কেউ বলেন: তাদের নবীদের কিতাবসমূহ।

(তবে তারা তাদের মাথার ওপর থেকে এবং পায়ের নিচ থেকে আহার লাভ করত) ইবনে আব্বাস ও অন্যরা বলেন: এর দ্বারা বৃষ্টি ও উদ্ভিদ উদ্দেশ্য। এটি প্রমাণ করে যে তারা দুর্ভিক্ষের মধ্যে ছিল। কেউ কেউ বলেন: এর অর্থ হলো আমি তাদের রিজিকে প্রশস্ততা দান করতাম এবং তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে আহার করত। "ওপর" ও "নিচ" শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে তাদের জন্য দুনিয়ার যা কিছু উন্মুক্ত করা হবে তার ব্যাপকতা বোঝানোর জন্য। এই আয়াতের সমার্থবোধক হলো: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" [সূরা আত-তালাক: ২], "আর যদি তারা সত্য পথে সুদৃঢ় থাকত, তবে আমি তাদের প্রচুর পানি পান করাতাম।" [সূরা আল-জিন: ১৬], "আর যদি জনপদবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।" [সূরা আল-আরাফ: ৯৬]।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা এই আয়াতগুলোতে তাকওয়াকে রিযিক লাভের অন্যতম উপায় নির্ধারণ করেছেন। আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার জন্য প্রাচুর্যের ওয়াদা করেছেন, তিনি বলেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব।" [সূরা ইবরাহীম: ৭]। অতঃপর আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবোধ সম্পন্ন দল রয়েছে—তারা হলেন তাদের মধ্যকার মুমিনগণ যেমন নাজাশী, সালমান এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালাম। তারা পরিমিতিবোধ অবলম্বন করেছেন ফলে...(১). দেখুন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো।(২). দেখুন খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ১৫৯।(৩).

দেখুন খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ১৬। [ ..... ](৪). দেখুন খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৫৩।(৫). দেখুন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৪২।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

ইবনে আল-মুনযির মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ তাআলা মারইয়াম-তনয় ঈসাকে আসমানে তুলে নিলেন, তখন বনী ইসরাঈলের আলেমদের মধ্য থেকে একশ জন লোক একত্রিত হলেন। তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বললেন: তোমরা সংখ্যায় অনেক, আমরা বিভেদের আশঙ্কা করছি; তাই তোমাদের মধ্য থেকে দশজনকে বের করে আনো। তারা দশজনকে বের করলেন। তারপর তারা বললেন: তোমরা সংখ্যায় অনেক, আমরা বিভেদের আশঙ্কা করছি; দশজনকে বের করে আনো। তারা আরও দশজনকে বের করলেন। তারপর তারা বললেন: তোমরা অনেক, দশজনকে বের করে আনো। তারা দশজনকে বের করলেন। তারপর তারা বললেন: তোমরা অনেক, দশজনকে বের করে আনো।

তারা আরও দশজনকে বের করলেন। এভাবে দশজন বাকি থাকল। তারা বললেন: তোমরা এখনো অনেক, তাই ছয়জনকে বের করে দাও। তখন চারজন অবশিষ্ট রইল। তাঁদের কেউ জিজ্ঞেস করলেন: ঈসা সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? তাঁদের মধ্য থেকে একজন বললেন: তোমরা কি জানো যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গায়েব জানেন না? তারা বললেন: না।তখন সেই ব্যক্তি বললেন: তিনি স্বয়ং আল্লাহ ছিলেন, যতক্ষণ চেয়েছিলেন পৃথিবীতে ছিলেন, অতঃপর যখন চেয়েছেন আসমানে আরোহণ করেছেন।দ্বিতীয়জন বললেন: আমরা ঈসাকে চিনেছি এবং তাঁর মাকেও চিনেছি; তিনি আল্লাহর সন্তান। তৃতীয়জন বললেন: তোমরা যা বলছ আমি তা বলি না; ঈসা আমাদের বলতেন যে তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর পক্ষ থেকে আসা রূহ এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন।

অতএব তিনি নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন আমরা তাই বলব। আমি আশঙ্কা করছি যে তোমরা এক গুরুতর উক্তি করে ফেলেছ।বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তারা মানুষের সামনে বের হলেন। তখন মানুষেরা তাঁদের মধ্য থেকে একজনের কাছে জানতে চাইল: তুমি কী বলেছ? সে বলল: আমি বলেছি যে তিনি আল্লাহ, যতক্ষণ চেয়েছেন পৃথিবীতে ছিলেন, অতঃপর যখন চেয়েছেন আসমানে আরোহণ করেছেন।তিনি বলেন: তখন মানুষের একটি বিশাল দল তাঁর অনুসারী হলো; এরাই হলো নেস্টোরীয় ও ইয়াকুবীয় সম্প্রদায়। তারপর চতুর্থজন বের হলেন। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কী বলেছ? তিনি বললেন: আমি বলেছি যে তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রূহ এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন।

তখন মানুষের এক বিশাল দল তাঁর অনুসারী হলো। মুহাম্মদ ইবনে কাব বলেন: আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এদের প্রত্যেকের কথা উল্লেখ করেছেন: "নিশ্চয়ই তারা কাফির যারা বলে যে আল্লাহ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় জন" (আয়াতাংশ)।অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "এবং তাদের কুফরির কারণে এবং মারইয়ামের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অপবাদের কারণে" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫৬)। এরপর তিনি পাঠ করলেন: "আর যদি আহলে কিতাবগণ ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত..." (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৫) থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত "তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা মধ্যপন্থী, আর তাদের অনেকেরই কর্মকাণ্ড খুবই মন্দ" (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৬)

মুহাম্মদ ইবনে কাব বলেন: এই মধ্যপন্থী দলটি তারাই যারা বলেছে—ঈসা আল্লাহর বান্দা, তাঁর বাণী এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা রূহ যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন।ইবনে আবি শাইবাহ, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনে আল-মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী—"নিশ্চয়ই তারা কাফির যারা বলে যে আল্লাহ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় জন"—সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, মুজাহিদ বলেছেন: খ্রিস্টানরা বলে যে "আল্লাহ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় জন", অথচ তারা মিথ্যা বলছে।ইবনে আবি হাতিম মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়েছিল...

ফিরইয়াবী এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা (আ.) বললেন, "হে রব! আমি এমন এক উম্মতের বিবরণ পাচ্ছি যাদের কিতাব তাদের অন্তরে থাকবে।" আল্লাহ বললেন, "তারা আপনার পরবর্তী এক উম্মত; তারা হলো আহমদের (সা.) উম্মত।"তিনি বললেন, "হে রব! আমি এমন এক উম্মতের বিবরণ পাচ্ছি যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে, যা তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হবে।" আল্লাহ বললেন, "তারা আপনার পরবর্তী এক উম্মত; তারা হলো আহমদের (সা.) উম্মত।"তিনি বললেন, "হে রব! আমি এমন এক উম্মতের বিবরণ পাচ্ছি যারা তাদের সম্পদের সদকা প্রদান করবে, অতঃপর তা তাদের মধ্যেই ফিরে আসবে এবং তারাই তা ভোগ করবে।" আল্লাহ বললেন, "তারা আপনার পরবর্তী এক উম্মত; তারা হলো আহমদের (সা.) উম্মত।"তিনি বললেন, "হে রব!

আমাকে আহমদের (সা.) উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করুন।"অতঃপর আল্লাহ মূসা (আ.)-এর সন্তুষ্টির জন্য অবতীর্ণ করলেন: "আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যারা সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে।"ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ আবু লায়লা আল-কিন্দী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) "আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যারা সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে" আয়াতটি পাঠ করলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, "আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া পছন্দ করি না।"তখন আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, "কেন?

তোমাদের সৎকর্মশীলরা তো বড়জোর তাদের মতোই হতে পারে।" আর ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির এবং আবুশ শাইখ ইবনে জুরাইজ থেকে আল্লাহর বাণী "আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে একদল..." আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন, "আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, বনী ইসরাঈল যখন তাদের নবীদের হত্যা করল এবং কুফরি করল—তখন তারা বারোটি গোত্রে বিভক্ত ছিল—তাদের একটি গোত্র অন্যদের কৃতকর্ম থেকে দায়মুক্ত হলো, ওজর পেশ করল এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করল যেন তিনি তাদের ও অন্যদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন। তখন আল্লাহ তাদের জন্য জমিনের অভ্যন্তরে একটি সুড়ঙ্গপথ উন্মুক্ত করে দিলেন।

তারা সেই পথ দিয়ে চলতে চলতে চীনের ওপার পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তারা সেখানে একনিষ্ঠভাবে অবস্থান করছে এবং আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে।"ইবনে জুরাইজ বলেন, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, "আর সেটিই হলো আল্লাহর বাণী: 'অতঃপর আমি তার পরে বনী ইসরাঈলকে বললাম—তোমরা জমিনে বসবাস করো, যখন পরকালের প্রতিশ্রুতি আসবে, তখন আমি তোমাদের সকলকে একত্রিত করে নিয়ে আসব' (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১০৪)। আর 'পরকালের প্রতিশ্রুতি' দ্বারা ঈসা ইবনে মরিয়মের আগমনকে বোঝানো হয়েছে।"ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, "তারা সেই সুড়ঙ্গপথে দেড় বছর যাবত পথ চলেছিল।"ইবনে আবি হাতিম আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা (আ.)-এর পর বনী ইসরাঈল একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি দল ব্যতীত বাকি সবাই জাহান্নামী।

আর ঈসা (আ.)-এর পর নাসারারা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি দল ব্যতীত বাকি সবাই জাহান্নামী। আর এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে একটি দল ব্যতীত বাকি সবাই জাহান্নামী। ইহুদিদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যারা সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে।" আর নাসারাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবাদী দল রয়েছে" (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬৬)—এরাই হলো সেই দল যারা মুক্তি পাবে। আর আমাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, "আর যাদের আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে" (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮১)—এই উম্মতের মধ্যে এরাই হলো সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল।