Al-Ma'idah

আল-মায়িদা: 21

5:21
টেক্সট কপি
5 আল-মায়িদা Al-Ma'idah · 120 আয়াত المائدة

মূল আরবি

يَـٰقَوْمِ ٱدْخُلُوا۟ ٱلْأَرْضَ ٱلْمُقَدَّسَةَ ٱلَّتِى كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا۟ عَلَىٰٓ أَدْبَارِكُمْ فَتَنقَلِبُوا۟ خَـٰسِرِينَ

English Translations

Sahih International

O my people, enter the blessed land [i.e., Palestine] which Allāh has assigned to you and do not turn back [from fighting in Allāh's cause] and [thus] become losers."

Muhsin Khan

"O my people! Enter the holy land (Palestine) which Allah has assigned to you, and turn not back (in flight) for then you will be returned as losers."

Taqi Usmani

O my people, enter the Holy Land which Allah has destined for you, and do not turn back, lest you should turn losers.”

Abul Ala Maududi

My people! Enter the holy land which Allah has ordained for you; and do not turn back for then you will turn about losers.

Pickthall

O my people! Go into the holy land which Allah hath ordained for you. Turn not in flight, for surely ye turn back as losers:

Yusuf Ali

"O my people! Enter the holy land which Allah hath assigned unto you, and turn not back ignominiously, for then will ye be overthrown, to your own ruin."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি আল্লাহ নির্দিষ্ট করেছেন তাতে প্রবেশ কর আর পশ্চাতে ঘুরে দাঁড়িও না, তা করলে ধ্বংসে পতিত হবে।

রাওয়াই আল-বায়ান

‘হে আমার কওম, তোমরা পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখে দিয়েছেন এবং তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যেয়ো না, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে আমার সম্প্রদায়! এই পুণ্য ভূমিতে প্রবেশ কর যা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখে দিয়েছেন, আর পিছনের দিকে ফিরে যেওনা, তাহলে তোমরা সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি লিখে দিয়েছেন তাতে তোমরা প্রবেশ কর এবং পশ্চাদপসরণ করো না, করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।’

ফাতহুল মাজীদ

হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি (প্রবেশ করা) আবশ্যক করে দিয়েছেন তাতে তোমরা প্রবেশ কর এবং পিছনে (কুফরীতে) ফিরে যেও না; তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে।

মুখতাসার

২১. মূসা (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা পবিত্র ভূমি তথা বাইতুল-মাক্বদিস এবং তার আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করো। যাতে প্রবেশ ও তথা কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করার ওয়াদা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাথে করেছেন। আর তোমরা প্রবল শক্তিধরদের সামনে পরাজিত হয়ো না। তা হলে দুনিয়া ও আখিরাত উভকালেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

5:20

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি লিখে দিয়েছেন তাতে তোমরা প্রবেশ কর [১] এবং পশ্চাদপসরণ করো না, করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে’।

[১] এখানে পবিত্র ভূমি বলতে কোন্‌ ভূমি বোঝানো হয়েছে, এ প্রশ্নে তাফসীরবিদগণের বিভিন্ন মত রয়েছে। কারো মতে বায়তুল-মুকাদ্দাস, কারো মতে কুদস শহর ও ইলিয়া এবং কেউ কেউ বলেন, আরিহা শহর- যা জর্দান নদী ও বায়তুল মুকাদ্দাসের মধ্যস্থলে বিশ্বের একটি প্রাচীনতম শহর যা পূর্বেও ছিল এবং এখনও আছে। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে যে, পবিত্র ভূমি বলে দামেস্ক ও ফিলিস্তিনকে এবং কারো মতে জর্দানকে বোঝানো হয়েছে। কাতাদাহ বলেনঃ সমগ্র শামই পবিত্র ভূমি। [ইবন কাসীর, আত-তাফসীরুস সহীহ]

আল্লাহ্ তা’আলা মূসা ‘আলাইহিস সালামের মাধ্যমে বনী-ইসরাঈলকে আমালেকা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করে শামদেশ দখল করতে বলেছিলেন। সাথে সাথে এ সুসংবাদও দিয়েছিলেন যে, এ পবিত্র ভূখণ্ড তাদের জন্যে লেখা হয়ে গেছে। কাজেই তোমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। তা সত্বেও বনী-ইসরাঈল চিরাচরিত ঔদ্ধত্য ও বক্র স্বভাবের কারণে এ নির্দেশ পালনে স্বীকৃত হল না; বরং মূসা ‘আলাইহিস সালামকে বললঃ হে মূসা, এ দেশে প্রবল পরাক্রান্ত জাতি বাস করে। যতদিন এ দেশ তাদের দখলে থাকবে, ততদিন আমরা সেখানে প্রবেশ করব না। যদি তারা অন্য কোথাও চলে যায়, তবে আমরা সেখানে যেতে পারি।

বিভিন্ন তাফসীরে এসেছে, তখন সিরিয়া ও বায়তুল-মুকাদ্দাস আমালেকা সম্প্রদায়ের দখলে ছিল। তারা ছিল ‘আদ’ সম্প্রদায়ের একটি শাখা। দৈহিক দিক দিয়ে তারা অত্যন্ত সুঠাম, বলিষ্ঠ ও ভয়াবহ আকৃতিবিশিষ্ট ছিল। তাদের সাথেই জিহাদ করে বায়তুল-মুকাদাস অধিকার করার নির্দেশ মূসা ‘আলাইহিস সালাম ও তাঁর সম্প্রদায়কে দেয়া হয়েছিল। মূসা ‘আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্যে বনীইসরাঈলকে সঙ্গে নিয়ে শাম দেশ অভিমুখে রওয়ানা হলেন। কিন্তু বনী-ইসরাঈল যেখানে নবীর কথার প্রতিই কর্ণপাত করল না, সেখানে তাদের উপদেশের আর মূল্য কি? তারা পূর্বের জবাবেরই আরও বিশ্রী ভঙ্গিতে পুনরাবৃত্তি করে বললঃ “আপনি ও আপনার আল্লাহ উভয়ে গিয়েই যুদ্ধ করুন।

আমরা এখানেই বসে থাকব”। কথাটি অত্যন্ত বিশ্রী ও পীড়াদায়ক। এ কারণেই তাদের এ বাক্যটি প্রবাদ বাক্যের রূপ পরিগ্রহ করেছে। বদরযুদ্ধে নিরস্ত্র ও ক্ষুধার্ত মুসলিমদের মোকাবেলায় কাফেরদের এক হাজার সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দৃশ্য দেখে আল্লাহর দরবারে দোআ করতে লাগলেন। এতে সাহাবী মিকদাদ ইবন আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ‘ইয়া রসূলাল্লাহ আল্লাহর কসম, আমরা কস্মিন কালেও ঐকথা বলব না, যা মূসা ‘আলাইহিস সালামকে তার স্বজাতি বলেছিল; বরং আমরা আপনার ডানে, বামে, সামনে ও পেছনে থেকে শক্রর আক্রমণ প্রতিহত করব।

আপনি নিশ্চিন্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’ [বুখারীঃ ৩৭৩৬]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ২০ থেকে ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌‌[সূরা আল-মায়িদাহ (৫): আয়াত ২০ থেকে ২৬]এবং স্মরণ করো, যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, "হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে নবীগণ পাঠিয়েছেন এবং তোমাদেরকে রাজা বানিয়ে দিয়েছেন, আর তোমাদেরকে এমন কিছু দান করেছেন যা বিশ্বজগতের আর কাউকে দান করেননি। (২০) হে আমার সম্প্রদায়! পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং পশ্চাৎপসরণ করো না, নতুবা তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসবে।" (২১) তারা বলল, "হে মুসা! নিশ্চয়ই সেখানে এক শক্তিশালী ও প্রতাপশালী জাতি রয়েছে। তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে কখনো প্রবেশ করব না; যদি তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যায় তবেই আমরা প্রবেশ করব।" (২২) যারা (আল্লাহকে) ভয় করত তাদের মধ্য হতে এমন দু’জন ব্যক্তি যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন, তারা বলল, "তোমরা ফটক দিয়ে তাদের ওপর চড়াও হও।

যখন তোমরা তাতে প্রবেশ করবে, তখনই তোমরা বিজয়ী হবে। আর আল্লাহর ওপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।" (২৩) তারা বলল, "হে মুসা! তারা সেখানে থাকা পর্যন্ত আমরা কখনো সেখানে প্রবেশ করব না। সুতরাং তুমি ও তোমার রব যাও এবং যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম।" (২৪)মুসা বলল, "হে আমার প্রতিপালক! আমার নিজের এবং আমার ভাই ছাড়া অন্য কারো ওপর আমার কোনো আধিপত্য নেই। অতএব আমাদের ও এই অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দিন।" (২৫) তিনি (আল্লাহ) বললেন, "তবে চল্লিশ বছর পর্যন্ত এই ভূমি তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো। তারা পৃথিবীতে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াবে।

সুতরাং তুমি এই অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্য আক্ষেপ করো না।" (২৬)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং স্মরণ করো, যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, "হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো") এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বর্ণনা যে, তাদের পূর্বপুরুষরা মুসার প্রতি অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করেছিল; ঠিক একইভাবে এরাও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি করছে। এটি তাঁর জন্য এক সান্ত্বনা। অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো এবং মুসার কাহিনী স্মরণ করো। আব্দুল্লাহ ইবনে কাসির থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'হে আমার সম্প্রদায় স্মরণ করো' বাক্যটিতে 'সম্প্রদায়' শব্দের মিম অক্ষরে পেশ দিয়ে পাঠ করেছেন।

অনুরূপ অন্যান্য স্থানেও তিনি এমনটি করেছেন। এর ব্যঞ্জনা হলো 'হে সম্প্রদায়'। (যখন তিনি তোমাদের মধ্যে নবীগণ পাঠিয়েছেন) এই শব্দটি আরবী ব্যাকরণে অপরিবর্তনীয় (গাইরে মুনসারিফ), কারণ এতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফ (আলিফে তানিছ) রয়েছে। (এবং তোমাদেরকে রাজা বানিয়ে দিয়েছেন) অর্থাৎ ফেরাউনের অধীনে দাস ও নিপীড়িত হওয়ার পর তোমরা তোমাদের নিজেদের বিষয়ের মালিক হয়েছিলে এবং আর কোনো বিজয়ী তোমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে ডুবিয়ে মারার মাধ্যমে ফেরাউন থেকে রক্ষা করেছিলেন। এই দিক থেকে তারা ছিল 'রাজা' (স্বাধীন)। সুদ্দী, হুসাইন এবং অন্যান্য মুফাসসিরগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন।

সুদ্দী বলেছেন: রাজা...