An-Nahl
আন-নাহল: 1
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
মূল আরবি
أَتَىٰٓ أَمْرُ ٱللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ ۚ سُبْحَـٰنَهُۥ وَتَعَـٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ
English Translations
The command of Allāh is coming, so be not impatient for it. Exalted is He and high above what they associate with Him.
The Event (the Hour or the punishment of disbelievers and polytheists or the Islamic laws or commandments), ordained by Allah will come to pass, so seek not to hasten it. Glorified and Exalted be He above all that they associate as partners with Him.
Allah’s command has (almost) come. So, do not demand that it should come sooner. Pure is He, and much higher than their ascribing partners to Him.
Allah's judgement has (all but) come; do not, then, call for its speedy advent. Holy is He, and far above their associating others with Him in His Divinity.
The commandment of Allah will come to pass, so seek not ye to hasten it. Glorified and Exalted be He above all that they associate (with Him).
(Inevitable) cometh (to pass) the Command of Allah: seek ye not then to hasten it: Glory to Him, and far is He above having the partners they ascribe unto Him!
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, অতএব এর জন্য তাড়াহুড়ো করো না। তিনি মহান পবিত্র, তারা যাকে শরীক সাব্যস্ত করে তাত্থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
আল্লাহর আদেশ এসে গেছে, সুতরাং তার জন্য তাড়াহুড়া করো না। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শিরক করে, তা থেকে ঊর্ধ্বে।
আল্লাহর আদেশ আসবেই; সুতরাং ওটা ত্বরান্বিত করতে চেওনা; তিনি মহিমান্বিত এবং তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে।
আল্লাহ্র আদেশ আসবেই; কাজেই তা তাড়াতাড়ি পেতে চেয়ো না। তিনি মহিমান্বিত এবং তারা যা শরীক করে তিনি তা থেকে উর্ধ্বে।
আল্লাহ তা‘আলার আদেশ আসবেই; সুতরাং এর জন্য তাড়াহুড়া কর না। তিনি মহিমান্বিত এবং তারা যাকে শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।
১. হে কাফিররা! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে শাস্তি দেয়ার যে ফায়সালা করেছেন তা নিকটবর্তী। তাই তোমরা সময়ের আগে তা দ্রুত কামনা করো না। মুশরিকরা আল্লাহর যে অংশীদার সাব্যস্ত করেছে তা থেকে তিনি পূত-পবিত্র।
তাফসীর
আল্লাহ তাআলা কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার খবর দিচ্ছেন। কিয়ামত যেন সংঘটিত হয়েই গেছে। এ জন্যেই তিনি অতীত কালের ক্রিয়া দ্বারা এই বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ মানুষের হিসাব নিকাশের সময় আসন্ন, কিন্তু তারা উদাসিনতায় মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।” (২১:১)। মহান আল্লাহ বলেনঃ “কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়ে গেছে।” এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তোমরা এই নিকটবর্তী বিষয়ের জন্যে তাড়াহুড়া করো না।” • সর্বনামটি হয়তো বা ‘আল্লাহ’ শব্দের দিকে ফিরছে। তখন অর্থ হবেঃ “তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট ওটা তাড়াতাড়ি চেয়ো না।
কিংবা ওটা প্রত্যাবর্তিত হচ্ছে ‘আযাব’ শব্দের দিকে।” অর্থাৎ ‘আযাবের জন্যে তাড়াতাড়ি করো না। দু'টি অর্থই পরস্পর সম্বন্ধ যুক্ত। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “(হে নবী (সঃ)! লোকেরা তোমার কাছে তাড়াতাড়ি শাস্তি চাচ্ছে, যদি শাস্তির জন্যে একটা নির্ধারিত সময় না থাকতো, তবে অবশ্যই তা তাদের উপর চলে আসতো, কিন্তু তা অবশ্যই অকস্মাৎ তাদের উপর চলে আসবে এবং তারা তা বুঝতেই পারবে না। তারা তোমার কাছে আযাবের জন্যে তাড়াতাড়ি করছে, নিশ্চয় জাহান্নাম কাফিরদেরকে পরিবেষ্টনকারী।”যহহাক (রঃ) এই আয়াতের এক বিস্ময়কর ভাবার্থ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ “আল্লাহ তাআলার ফারায়ে ওহুদূদ নাযিল হয়ে গেছে।” ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) কঠোর ভাবে এটা খণ্ডন করেছেন এবং বলেছেনঃ “আমাদের মধ্যে তো এমন একজনও নেই, যে শরীয়তের অস্তিত্বের পূর্বে এটা চাওয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করেছে।
বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘আযাবের জন্যে তাড়াহুড়া করা যা কাফিরদের অভ্যাস ছিল। কেননা, তারা ওটাকে মানতই না।” যেমন কুরআন পাকে রয়েছেঃ “বেঈমানেরা তো এর জন্যে তাড়াতাড়ি করছে অথচ ঈমানদাররা এর থেকে ভীত-সন্ত্রস্ত রয়েছে। কেননা, তারা এটাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে; প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণকারী দূরের বিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছে।” হযরত উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নিকটবর্তী সময়ে পশ্চিম দিকহতে ঢালের মত কালো মেঘ প্রকাশিত হবে এবং ওটা খুবই তাড়াতাড়ি আকাশের উপরে উঠে যাবে।
অতঃপর ওর মধ্য হতে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে। লোকেরা বিস্মিত হয়ে একে অপরকে জিজ্ঞেস করবেঃ “কিছু শুনতে পেয়েছো কি?” কেউ কেউ বলবেঃ “হাঁ, পেয়েছি।” আর কেউ কেউ ওটাকে বাজে কথা বলে উড়িয়ে দেবে। আবার ঘোষণা দেয়া হবে এবং বলা হবেঃ “হে লোক সকল!” এবার সবাই বলে উঠবে- “হাঁ, শব্দ শুনতে পেয়েছি।” তৃতীয়বার ঐ ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে; “হে লোক সকল! আল্লাহর হুকুম এসে গেছে। এখন তাড়াতাড়ি করো না।” আল্লাহর কসম! এমন দু ব্যক্তি যারা কাপড় ছড়িয়ে রাখতো তারা জড় করার সময় পাবে না, কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। কেউ হয়তো তার পানির হাউয ঠিক করতে থাকবে, সেই পানি পান করতে পারবে না, কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।
দুধ দোহনকারী দুধ পান করার অবসর পাবে না, কিয়ামত হয়ে যাবে। লোকেরা শসব্যস্ত হয়ে পড়বে।এরপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় পবিত্র সত্তার শিরক ও অন্যের ইবাদত হতে বহু উর্ধ্বে থাকার বর্ণনা দিচ্ছেন। বাস্তবিকই তিনি ঐ সমুদয় বিষয় থেকে পবিত্র এবং তা থেকে তিনি বহু দূরে ও বহু উর্ধ্বে রয়েছেন। এরাই মুশরিক যারা কিয়ামতকেও অস্বীকারকারী। তিনি মহিমান্বিত এবং তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে।
আল্লাহ্র [১] আদেশ আসবেই [২]; কাজেই তা [৩] তাড়াতাড়ি পেতে চেয়ো না। তিনি মহিমান্বিত এবং তারা যা শরীক করে তিনি তা থেকে উর্ধ্বে [৪]।
১২৮ আয়াত, মক্কী
---------------
[১] এ সূরা নাহলকে বিশেষ কোন ভূমিকা ছাড়াই কঠোর শাস্তির সতর্কবাণী ও ভয়াবহ বিষয়বস্তু দ্বারা শুরু করা হয়েছে। এর কারণ ছিল মুশরিকদের এই উক্তি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কেয়ামত ও আযাবের ভয় দেখায় এবং বলে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জয়ী করা এবং বিরোধীদেরকে শাস্তি দেয়ার ওয়াদা করেছেন। আমাদের তো এরূপ কিছু ঘটবে বলে মনে হয় না। এর উত্তরে বলা হয়েছেঃ আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে। তোমরা তাড়াহুড়া করো না। [দেখুন, আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]
[২] অর্থাৎ তা একেবারে আসন্ন হয়ে উঠেছে। তার প্রকাশ ও প্রয়োগের সময় নিকটবর্তী হয়েছে। ব্যাপারটা একেবারেই অবধারিত ও সুনিশ্চিত অথবা একান্ত নিকটবতী এ ধারণা দেবার জন্য ব্যাক্যটি অতীতকালের ক্রিয়াপদের সাহায্যে বর্ণনা করা হয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান; আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]
তবে এ “আদেশ বা ফায়সালা” কি ছিল এবং কোন আকৃতিতে এসেছে? এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত আছেঃ
কোন কোন মুফাসসির বলেন যে, এখানে আল্লাহর নির্দেশ’বলে কেয়ামত বোঝানো হয়েছে। এর এসে যাওয়ার অর্থও এই যে, আসা অতি নিকটবতী। সমগ্র জগতের বয়সের দিক দিয়ে দেখলে কেয়ামতের নিকটবতী হওয়া কিংবা এসে পৌছাও দূরবর্তী কোন বিষয় নয়। অথবা, তা অবশ্যম্ভাবী হওয়ার কারণে অতীতকালের পদ ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্য আয়াতেও বলা হয়েছে, “মানুষের হিসেব-নিকেশের সময় আসন্ন, কিন্তু তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে রয়েছে” [ সূরা আল-আম্বিয়া: ১]
আরও এসেছে, “কিয়ামত কাছাকাছি হয়েছে, আর চাদ বিদীর্ণ হয়েছে" [সূরা আল-কামারঃ ১] [ইবন কাসীর]
কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ আল্লাহর নির্দেশ’ বলে এখানে আল্লাহর আদেশ নিষেধ সম্পর্কিত, হালাল হারাম সম্বলিত বিধানাবলী বোঝানো হয়েছে। [কুরতুবী]
কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে “আল্লাহর নির্দেশ" বলে তাদের উপর যে শাস্তি আসার কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করাতেন তা বুঝানো হয়েছে। আযাবের ব্যাপারে কুরাইশ বংশীয় কাফেরদের সবরের পেয়ালা কানায় ভরে উঠেছিল এবং শেষ ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার সময় এসে গিয়েছিল বলেই অতীতকালের ক্রিয়াপদ দ্বারা একথা বলা হয়েছে। [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]
[৩] কাফের মুশরিকগণের চিরাচরিত নিয়ম ছিল যে, তারা আল্লাহর আযাবকে কামনা করত, তারা ভাবত যে আল্লাহর আযাব যদি আসবে তবে আসে না কেন? কিন্তু আল্লাহর নিয়ম হলো, তিনি কোন জাতিকে ধ্বংস করার পূর্বে তাকে প্রচুর সময় দেন। এ ব্যাপারটি আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য আয়াতেও উল্লেখ করেছেন। দেখুন, [সূরা আল-আনকাবূতঃ ৫৩,৫৪] [ইবন কাসীর]
[৪] এখানে তাদের শির্ক বলতে, তারা যে আযাব তাড়াতাড়ি চাচ্ছিল, অথবা কিয়ামত তাড়াতাড়ি চাচ্ছিল তা-ই বোঝানো হয়েছে। কেননা এর দ্বারা তারা মূলত: আল্লাহর ওয়াদাকে ভ্রান্ত সাব্যস্ত করেছে, এটা কুফরী ও শির্ক। তারা মনে করছে যে, আল্লাহ এটা করতে সম্ভব নন। তিনি সেটা করতে পারবে না। আর অপারগতা মূলত: বান্দাদের গুণ। বান্দাদের গুণকে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা শির্ক। এ হিসেবে তারা শির্কে লিপ্ত হয়েছিল। [ফাতহুল কাদীর] নতুবা আল্লাহর সাথে কারো শরীক হবার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর সত্তা এর অনেক উধের্ব এবং এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। মোট কথাঃ তারা যে শির্ক করছে আল্লাহ তা'আলা তা থেকে পবিত্র। একটি কঠোর সতর্কবাণীর মাধ্যমে তাওহীদের দাওয়াত দেয়া এই আয়াতের সারমর্ম।
[سورة النحل (16): آية 1] পূর্ণ পৃষ্ঠা
সুরা আন-নাহলের তাফসিরপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুরা আন-নাহলের তাফসির; হাসান, ইকরিমা, আতা এবং জাবিরের মতে এটি সম্পূর্ণই মক্কি। একে 'সুরা আন-নিআম' (নেয়ামতের সুরা) বলা হয়, কারণ আল্লাহ এতে বান্দাদের ওপর তাঁর অসংখ্য নেয়ামত গণনা করেছেন। আর বলা হয়েছে: এটি মক্কি, তবে মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ঠিক ততটুকুই শাস্তি দিয়ো যতটুকু তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছে..." এই আয়াত ব্যতীত; এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে হামজা (রা.) এবং ওহুদের শহীদদের মৃতদেহ বিকৃত করার প্রেক্ষাপটে। এছাড়াও মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং আপনার ধৈর্য কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব" এবং "অতঃপর আপনার প্রতিপালক তাদের জন্য যারা হিজরত করেছে..." এই আয়াত ব্যতীত।
আর তাঁর বাণী: "যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর পথে হিজরত করেছে..." এটি মক্কি, যা আবিসিনিয়ায় হিজরতের প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এটি মক্কি, তবে এর তিনটি আয়াত ব্যতীত যা হামজা (রা.)-এর শাহাদাতের পর মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সেগুলো হলো আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করো না—তাঁর বাণী—তারা যা করত তার চেয়েও উত্তম পুরস্কার পর্যন্ত।" [সুরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ১]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আল্লাহর আদেশ এসে গেছে, অতএব তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না। তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং সুউচ্চ।
(১)মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহর আদেশ এসে গেছে, অতএব তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না) বলা হয়েছে: "এসে গেছে" শব্দটি "আসবে" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি অনেকটা এমন যে, "যদি তুমি আমাকে সম্মান করো, তবে আমি তোমাকে সম্মান করব"। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহর অতীত ও ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সংবাদ সমান, কারণ তা অবশ্যই ঘটবে। যেমন তাঁর বাণী: "জান্নাতবাসীরা জাহান্নামীদের সম্বোধন করবে"। আর "আল্লাহর আদেশ" বলতে সেই সব লোকের জন্য তাঁর শাস্তি বোঝানো হয়েছে যারা শিরক এবং তাঁর রাসুলের প্রতি মিথ্যারোপের ওপর অবিচল ছিল। হাসান, ইবনে জুরাইজ এবং দাহহাক বলেছেন: এটি হলো কুরআন যা নিয়ে এসেছে—এর ফরজসমূহ এবং বিধানাবলি।
তবে এই মতটি দুর্বল, কারণ সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ ফরজ বিধানগুলো আরোপিত হওয়ার আগেই তা দ্রুত কার্যকর করার আবেদন করেছেন বলে কোনো বর্ণনা নেই। পক্ষান্তরে, আজাব এবং শাস্তি ত্বরান্বিত করার বিষয়টি কুরাইশ কাফেরদের অনেকের থেকেই বর্ণিত হয়েছে।(১). এই খণ্ডের ২০০ পৃষ্ঠা, এবং ২০২, ১৯২, ১০৬ ও ১৭৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(২). এই খণ্ডের ২০০ পৃষ্ঠা, এবং ২০২, ১৯২, ১০৬ ও ১৭৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৩). এই খণ্ডের ২০০ পৃষ্ঠা, এবং ২০২, ১৯২, ১০৬ ও ১৭৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৪). এই খণ্ডের ২০০ পৃষ্ঠা, এবং ২০২, ১৯২, ১০৬ ও ১৭৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৫). এই খণ্ডের ২০০ পৃষ্ঠা, এবং ২০২, ১৯২, ১০৬ ও ১৭৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৬).
৭ম খণ্ড, ২০৯ পৃষ্ঠা দেখুন।
ইবনে আল-মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন (মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় ঘনিয়ে এসেছে) (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১) নাজিল হলো, তখন কিছু লোক বলল: ‘নিশ্চয়ই কিয়ামত ঘনিয়ে এসেছে।’ ফলে তারা মন্দ কাজ থেকে বিরত হলো। তারা অল্পকাল বিরত থাকল, তারপর পুনরায় তাদের মন্দ কর্মে লিপ্ত হলো। তখন আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন (আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেও না) (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১)। তখন বিভ্রান্ত লোকেরা বলল: ‘এই তো আল্লাহর নির্দেশ এসে পড়েছে।’ ফলে তারা পুনরায় বিরত হলো, অতঃপর আবার তাদের মন্দ চক্রান্তে ফিরে গেল।
তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি নাজিল করলেন: আর যদি আমি তাদের থেকে আজাব একটি নির্ধারিত উম্মত (সময়) পর্যন্ত পিছিয়ে দিই
।ইবনে জারির এবং ইবনে আল-মুনজির ‘নির্ধারিত উম্মত’ শব্দের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ হলো: একটি নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত।ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শায়খ কাতাদাহ (রা.) থেকে তারা অবশ্যই বলবে যে, কিসে একে আটকে রেখেছে?
আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তারা এটি অস্বীকার করার জন্য এবং একে তুচ্ছ জ্ঞান করে বলত।ইবনে আবি হাতিম আস-সুদ্দী (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণী তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তা-ই তাদের ওপর আপতিত হলো
প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তারা যে আজাব নিয়ে উপহাস করত, সেই আজাবই তাদের ওপর আপতিত হয়েছে।ইবনে জারির এবং আবুশ শায়খ ইবনে জুরাইজ (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণী আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই...
আয়াতাংশ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন: হে আদম সন্তান!
যখন তোমার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সচ্ছলতা, নিরাপত্তা এবং সুস্থতার কোনো নেয়ামত থাকে, তখন তুমি তার প্রতি অকৃতজ্ঞ হও। আর যখন তা তোমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, তখন তুমি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়ো।
