An-Nahl
আন-নাহল: 89
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
আরবি
وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِى كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِم مِّنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَىٰ هَـٰٓؤُلَآءِ ۚ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ ٱلْكِتَـٰبَ تِبْيَـٰنًا لِّكُلِّ شَىْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ
English Translations
And [mention] the Day when We will resurrect among every nation a witness over them from themselves [i.e., their prophet]. And We will bring you, [O Muḥammad], as a witness over these [i.e., your nation]. And We have sent down to you the Book as clarification for all things and as guidance and mercy and good tidings for the Muslims.
And (remember) the Day when We shall raise up from every nation a witness against them from amongst themselves. And We shall bring you (O Muhammad SAW) as a witness against these. And We have sent down to you the Book (the Quran) as an exposition of everything, a guidance, a mercy, and glad tidings for those who have submitted themselves (to Allah as Muslims).
And (think of) the day We shall send to every people a witness from among them (to testify) against them, and We shall bring you (O prophet) as witness against these. And We have revealed to you the Book, an exposition of everything, and guidance, and mercy, and glad tidings for the Muslims.
(O Muhammad), warn them of the coming of a Day when We shall bring forth a witness against them from each community and We shall bring you forth as a witness against them all; (and it is for that purpose that) We sent down the Book to you which makes everything clear, and serves as a guidance and mercy and glad tidings to those who have submitted to Allah.
And (bethink you of) the day when We raise in every nation a witness against them of their own folk, and We bring thee (Muhammad) as a witness against these. And We reveal the Scripture unto thee as an exposition of all things, and a guidance and a mercy and good tidings for those who have surrendered (to Allah).
One day We shall raise from all Peoples a witness against them, from amongst themselves: and We shall bring thee as a witness against these (thy people): and We have sent down to thee the Book explaining all things, a Guide, a Mercy, and Glad Tidings to Muslims.
বাংলা অনুবাদ
সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মাত থেকে তাদের নিজেদেরই মধ্য হতে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব, আর (তোমার) এই লোকদের ব্যাপারে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে (হে মুহাম্মাদ!) আমি তোমাকে আনব। আমি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, সত্য পথের নির্দেশ, রহমাত আর আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ।
আর স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে, তাদের থেকেই তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করব এবং তোমাকে তাদের উপর সাক্ষীরূপে হাযির করব। আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।
সেদিন আমি উত্থিত করব প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে তাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকে আমি আনব সাক্ষী রূপে এদের বিষয়ে; আমি আত্মসমর্পণকারীদের (মুসলিম) জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথ নির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদ স্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি।
আর স্মরণ করুন, যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মতের কাছে, তাদের থেকে তাদেরই বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করব এবং আপনাকে আমরা তাদের উপর সাক্ষীরূপে নিয়ে আসব। আর আমরা আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।
সে দিন আমি উত্থিত করব প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্য হতে তাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকে আমি আনব সাক্ষীরূপে এদের বিষয়ে। আমি আত্মসমর্পণকারীদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি।
৮৯. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে দিনের কথা যে দিন আমি প্রত্যেক জাতির রাসূলকে পুনরুত্থিত করবো তাদের কুফরি কিংবা ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। যে রাসূল তাদের বংশ ও ভাষারই হবে। আর আপনাকে সকল জাতির উপর সাক্ষী বানাবো। বস্তুতঃ আমি আপনার উপর কুর‘আন নাযিল করেছি হালাল ও হারাম এবং সাওয়াব ও শাস্তি ইত্যাদি তথা যা কিছু বর্ণনা করা প্রয়োজন তা সবই বর্ণনা করার জন্য। আমি সেটিকে নাযিল করেছি সত্যের প্রতি মানুষের হিদায়েত, তার উপর ঈমান ও আমলকারীর জন্য রহমত এবং আল্লাহ বিশ্বাসীদের জন্য অপেক্ষমাণ স্থায়ী নিয়ামতের সুসংবাদ স্বরূপ।
তাফসীর
আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূলকে (সঃ) সম্বোধন করে বলছেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! তুমি ঐ দিনটিকে স্মরণ কর যেই দিন হচ্ছে তোমার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হওয়ার দিন।” এই আয়াতটি সূরায়ে নিসার নিম্নের আয়াতটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণঃ (আরবি) অর্থাৎ “যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো। এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করবো তখন কি অবস্থা হবে?” (৪:৪১) একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত ইবনু মাসউদকে (রাঃ) সূরায়ে নিসা পাঠ করতে বলেন। যখন তিনি এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বলেনঃ “থাক, যথেষ্ট হয়েছে।” হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখেন যে, তার চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “এটা আমার অবতারিত কিতাব। সবকিছুই আমি তোমার সামনে বর্ণনা করে দিয়েছি। সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত জিনিস এই কুরআন কারীমে রয়েছে। প্রত্যেক হালাল, হারাম, প্রত্যেক উপকারী বিদ্যা, সমস্ত কল্যাণ, অতীতের খবর, আগামী দিনের ঘটনাবলী, দ্বীন ও দুনিয়া, উপজীবিকা, পরকাল প্রভৃতির সমস্ত জরুরী আহকাম এবং অবস্থাবলী এর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। এটা হচ্ছে অন্তরের হিদায়াত, রহমত এবং সুসংবাদ।ইমাম আওযায়ী (রাঃ) বলেন যে, সুন্নাতে রাসূলকে (সঃ) মিলিয়ে এই কিতাবে সমস্ত কিছুর বর্ণনা রয়েছে। এই আয়াতের সাথে পূর্ববর্তী আয়াতের সম্পর্ক প্রধানতঃ এই যে, হে নবী (সঃ)! যিনি তোমার উপর এই কিতাবের তাবলীগ ফরয করেছেন এবং ওটা অবতীর্ণ করেছেন, তিনি কিয়ামতের দিন। তোমাকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করবেন। যেমন তিনি (আল্লাহ) বলেনঃ “যাদের কাছে রাসূলদেরকে পাঠানো হয়েছিল তাদেরকে এবং রাসূলদেরকে আমি অবশ্যই প্রশ্ন করবো। তোমার প্রতিপালকের শপথ! অবশ্যই আমি তাদের সকলকেই তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। সেই দিন তিনি রাসূলদেরকে একত্রিত করে জিজ্ঞেস করবেনঃ “তোমাদেরকে কি উত্তর দেয়া হয়েছিল?” তারা উত্তর দিবেঃ “আমাদের কিছুই জানা নাই। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্যের খবর জানেন।” অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “যিনি তোমার উপর কুরআনের তাবলীগ ফরয করেছেন তিনি। তোমাকে কিয়ামতের দিন তাঁর কাছে ফিরিয়ে এনে তার অর্পণকৃত দায়িত্ব সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।” (২৮:৮৫) এই আয়াতের তাফসীরের উক্তিগুলির মধ্যে এটি একটি উক্তি এবং এটা খুবই যথার্থ ও উত্তম উক্তি।
আর স্মরণ করুন, যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মতের কাছে, তাদের থেকে তাদেরই বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করব [১] এবং আপনাকে আমরা তাদের উপর সাক্ষীরূপে নিয়ে আসব [২]। আর আমরা আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি [৩] প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ [৪], পথনির্দেশ, দয়া ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।
[১] তারা প্রত্যেক উম্মতের নবীগণ। কিয়ামতের দিন তারা তাদের উম্মতের উপর সাক্ষ্য হবেন। তারা সাক্ষ্য দেবেন যে, তারা উম্মতের কাছে রিসালাত পৌছিয়েছেন, তাদেরকে ঈমানের দিকে আহবান জানিয়েছেন। [কুরতুবী]
[২] এ আয়াতাংশটি সূরা আন-নিসার ৪১ নং আয়াতের সমার্থবোধক। সেখানে এর বিষয়বস্তুর ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।
[৩] আয়াতের প্রথমাংশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাশরের মাঠে সাক্ষ্য বানানোর কথা ঘোষণা করার পর দ্বিতীয়াংশে কুরআন নাযিল করার কথা উল্লেখ করে সম্ভবতঃ এ দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যিনি আপনাকে কিতাব দিচ্ছেন এবং আপনার উপর তা প্রচার-প্রসার করা ফরয করে দিয়েছেন তিনিই আপনাকে এ ব্যাপারে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এ ব্যাপারে কুরআনের আরও আয়াত থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। [দেখুনঃ সূরা আল-আরাফঃ ৬, সূরা আল-হিজরঃ ৯২-৯৩, সূরা আল-মায়েদাহঃ ১০৯, সূরা আল-কাসাসঃ ৮৫]
[৪] ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কুরআন আমাদেরকে সবকিছুর জ্ঞান বর্ণনা করেছে এবং সবকিছু জানিয়েছে। মুজাহিদ বলেন, হালাল ও হারাম জানিয়েছে। তবে ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথাটি বেশী ব্যাপক। কেননা কুরআন প্রতিটি উপকারী জ্ঞানসমৃদ্ধ, যা গত হয়েছে সেটার সংবাদ এবং যা আসবে সেটার জ্ঞান। আর প্রতিটি হালাল ও হারাম। তেমনিভাবে মানুষ তাদের দুনিয়া ও দ্বীনের ব্যাপারে তাদের জীবিকা ও পুনরুত্থান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এতে পাবে। অন্তরসমূহের জন্য এতে রয়েছে হেদায়াত এবং মুসলিমদের জন্য এতে রয়েছে রহমত ও সুসংবাদ [ইবন কাসীর] ইমাম আওযায়ী বলেন, আয়াতের অর্থ, আমরা কুরআনকে সুন্নাহ দ্বারা সবকিছুর স্পষ্টব্যাখ্যারূপে নাযিল করেছি। [ইবন কাসীর] মোটকথা: কুরআন এমন প্রত্যেকটি জিনিস পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে, যার ওপর হিদায়াত ও গোমরাহী এবং লাভ ও ক্ষতি নির্ভর করে, যা জানা সঠিক পথে চলার জন্য একান্ত প্রয়োজন এবং যার মাধ্যমে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। বস্তুত কুরআনুল কারীমে সব বিষয়েরই মূলনীতি বিদ্যমান রয়েছে। যেসব মূলনীতির আলোকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস মাস’আলা বর্ণনা করেছেন। কুরআনেই সেটা করতে রাসূলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে বলেছেন,
জেনে রাখ! আমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে এবং কুরআনের অনুরূপও দেয়া হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ ৪/১৩০]
