An-Nahl

আন-নাহল: 4

16:4
টেক্সট কপি
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل

মূল আরবি

خَلَقَ ٱلْإِنسَـٰنَ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ

English Translations

Sahih International

He created man from a sperm-drop; then at once he is a clear adversary.

Muhsin Khan

He has created man from Nutfah (mixed drops of male and female sexual discharge), then behold, this same (man) becomes an open opponent.

Taqi Usmani

He created man from a drop, and soon he turned into a debating person, expressing himself openly.

Abul Ala Maududi

He created man out of a mere drop of fluid, and lo! he turned into an open wrangler.

Pickthall

He hath created man from a drop of fluid, yet behold! he is an open opponent.

Yusuf Ali

He has created man from a sperm-drop; and behold this same (man) becomes an open disputer!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তিনি শুক্র-কীট থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন অথচ সে প্রকাশ্য ঝগড়াটে সেজে বসল।

রাওয়াই আল-বায়ান

তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ‘নুতফা’* থেকে, অথচ সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী। * ‘নুতফা’ হচ্ছে নারী ও পুরুষের যৌথ বীর্য, যা ভ্রুণে পরিণত হয়।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তিনি শুক্র হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অথচ দেখ, সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তিনি শুক্র হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন; অথচ দেখুন, সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী!

ফাতহুল মাজীদ

তিনি শুক্র হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন; অথচ সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী!

মুখতাসার

৪. তিনি নগণ্য বীর্য থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর এক সৃষ্টির পর আরেক সৃষ্টিতে তার উন্নতি হয়েছে। অথচ সে আজ সত্যকে মুছে দেয়ার জন্য বাতিলের পক্ষে প্রকাশ্যে কঠিন ঝগড়াটে সেজে বসেছে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

16:3

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তিনি শুক্র হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন [১]; অথচ দেখুন, সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী [২] !

[১] শানকীতী বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে,

তিনি শুক্র থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। সে শুক্র হচ্ছে পুরুষ ও মহিলার সম্মিলিত বীর্য। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমরা তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু হতে" [সূরা আল ইনসান:২]

অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলার বীর্যের সংমিশ্রণে। এটা জানার পর আরও একটি জিনিস জানা দরকার, তাহচ্ছে অন্যত্র আল্লাহ জানিয়েছেন যে বীর্য সেটির একটি বের হয় পিঠ থেকে, সেটি পুরুষের শুক্র, অপরটি বের হয় বুকের উপরের পাঁজর থেকে, সেটি মহিলার শুক্র। আল্লাহ বলেন, “অতএব মানুষ যেন চিন্তা করে দেখে তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্থলিত পানি হতে, এটা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও পিঞ্জরাস্থীর মধ্য থেকে " [সূরা আত-তারেক ৫-৭]

[২] যেহেতু মানুষ সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট, তাই প্রথমেই মানুষ সৃষ্টির বিবরণ দিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ ও কুদরতের আলোচনা শুরু করা হচ্ছে। [ফাতহুল কাদীর] মানুষ প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী এর দুই অর্থ হতে পারে এবং সম্ভবত এখানে এ দুই অর্থই প্রযোজ্য। একটি অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ একটি তুচ্ছ শুক্রবিন্দু থেকে এমন মানুষ তৈরী করেছেন যে বিতর্ক ও যুক্তি প্রর্দশন করার যোগ্যতা রাখে এবং নিজের বক্তব্য ও দাবীর পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ করতে পারে। [কুরতুবী]

দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, এই দুর্বল মানবকে যখন বল ও বাকশক্তি দান করা হলো, তখন সে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কেই বিতর্ক উত্থাপন করতে লাগলো। যে মানুষকে আল্লাহ শুক্রবিন্দুর মত নগণ্য জিনিস থেকে তৈরী করেছেন তার অহংকারের বাড়াবাড়িটা দেখ, সে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার মোকাবিলায় নিজেকে পেশ করার জন্য বিতর্কে নেমে এসেছে। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] সে হিসেবে মানুষকে এ মর্মে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে, বড় বড় বুলি আওড়ানোর আগে নিজের সত্তার দিকে একবার তাকাও। কোন আকারে কোথা থেকে বের হয়ে তুমি কোথায় এসে পৌঁছেছো? কোথায় তোমার প্রতিপালনের সূচনা হয়েছিল? তারপর কোন পথ দিয়ে বের হয়ে তুমি দুনিয়ায় এসেছে? তারপর কোন পর্যায় অতিক্রম করে তুমি যৌবন বয়সে পৌছেছো এখন নিজেকে বিস্মৃত হয়ে কার মুখের ওপর কথার তুবড়ি ছোটাচ্ছো? [এ ব্যাপারে সূরা ফুরকানঃ ৫৪, ৫৫ এবং সূরা ইয়াসীনঃ ৭৭-৭৯ আয়াতসমূহ দেখুন]

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের এস্বভাবটি ব্যাখ্যা করেছেন। একবার তিনি তার হাতের তালুতে থুতু ফেললেন, তারপর তাতে তার তর্জনী রেখে বললেনঃ “মহান আল্লাহ বলেন, হে বনী আদম! কিভাবে তুমি আমাকে অপারগ করতে পার? অথচ তোমাকে আমি এ ধরণের হীনতা থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর যখন তোমার রূহ ওখানে (তিনি তার কণ্ঠনালির দিকে ইঙ্গিত করলেন) পৌঁছে, তখন তুমি বলঃ আমি সাদকা করব। তখন কি তার আর সদকার সময় বাকী আছে?” [ইবনে মাজাহঃ ২৭০৭; মুসনাদে আহমাদঃ ৪/২১০]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌‌[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৩]তিনি যথাযথভাবে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তারা যে শিরক করে, তিনি তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে। (৩)মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি যথাযথভাবে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ বিনাশ ও বিলুপ্তির নিমিত্তে। আবার বলা হয়েছে: "যথাযথভাবে" অর্থাৎ তাঁর কুদরত বা ক্ষমতার প্রমাণস্বরূপ; এবং একারণে যে, বান্দাদের আনুগত্যের মাধ্যমে ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে এবং মৃত্যুর পর সৃষ্টিজগতকে পুনর্জীবিত করার সক্ষমতাও তাঁর আছে। (তারা যে শিরক করে, তিনি তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে) অর্থাৎ সেসব প্রতিমা থেকে, যারা কোনো কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়।

‌‌[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৪]তিনি মানুষকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন; অথচ সে প্রকাশ্য বিতর্ককারী হয়ে দাঁড়ায়। (৪)মহান আল্লাহর বাণী: (তিনি মানুষকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন) যখন তিনি তাঁর তাওহীদের (একত্বের) প্রমাণ উল্লেখ করলেন, তখন এরপর মানুষের কথা এবং তার অবাধ্যতা ও সীমা অতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। "ইনসান" (মানুষ) শব্দটি এখানে মানবজাতি অর্থে ব্যবহৃত। বর্ণিত আছে যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো উবাই ইবনে খালাফ আল-জুমাহি; সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একটি জীর্ণ হাড় নিয়ে এসে বলেছিল: "আপনি কি মনে করেন আল্লাহ এটিকে জীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় জীবিত করবেন?" এ প্রসঙ্গে এই আয়াতটিও নাজিল হয়েছে: "মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছি?

অথচ সে প্রকাশ্য বিতর্ককারী হয়ে দাঁড়ায়।" অর্থাৎ তিনি মানুষকে এমন এক পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন যা পৃষ্ঠদেশ ও বক্ষদেশের অস্থির মাঝখান থেকে নির্গত হয়; অতঃপর তাকে বিভিন্ন স্তর পার করিয়ে ভূমিষ্ঠ করেছেন এবং এমনভাবে বেড়ে তুলেছেন যে সে বিভিন্ন বিষয়ে তর্কে লিপ্ত হয়। সুতরাং আয়াতের মর্মার্থ হলো মানুষের আচরণের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ: "সে আমার উদ্দেশ্যে উপমা পেশ করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টিবৃত্তান্ত ভুলে যায়।"এবং তাঁর বাণী: (অথচ সে বিতর্ককারী হয়ে দাঁড়ায়) অর্থাৎ ঝগড়াটে; যেমন 'নাসিব' শব্দটি 'মুনাসিব' অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ সে আল্লাহ তাআলার কুদরত বা ক্ষমতা নিয়ে তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়।

আর 'মুবীন' (প্রকাশ্য) অর্থ যার বিতর্ক সুস্পষ্ট। আবার বলা হয়েছে: সে নিজের পক্ষ থেকে অনর্থক বিতর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। 'মুবীন' হলো সে-ই, যে তার অন্তরের কথা বাকশক্তির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। ‌‌[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৫]এবং তিনি চতুষ্পদ জন্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন; তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে শীত নিবারক উপকরণ ও বহু উপকারিতা এবং তা থেকে তোমরা আহার করো। (৫)এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে: প্রথম— মহান আল্লাহর বাণী: (এবং চতুষ্পদ জন্তুসমূহ তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন) যখন তিনি মানুষের কথা উল্লেখ করলেন, তখন তার প্রতি প্রদত্ত অনুগ্রহের কথাও উল্লেখ করলেন।

'আনআম' (চতুষ্পদ জন্তু) হলো উট, গরু ও ছাগল-ভেড়া। উটের ক্ষেত্রে 'নাআম' ও 'আনআম' শব্দ দুটির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি; তবে সমষ্টিগতভাবে সবগুলোর জন্য এটি ব্যবহৃত হয়, শুধুমাত্র ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে এটি বলা হয় না। হাসসান (রা.) বলেছেন:(১). দেখুন ১৫তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৭, ৫৮।