An-Nahl

আন-নাহল: 26

16:26
টেক্সট কপি
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل

মূল আরবি

قَدْ مَكَرَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَأَتَى ٱللَّهُ بُنْيَـٰنَهُم مِّنَ ٱلْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيْهِمُ ٱلسَّقْفُ مِن فَوْقِهِمْ وَأَتَىٰهُمُ ٱلْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ

English Translations

Sahih International

Those before them had already plotted, but Allāh came at [i.e., uprooted] their building from the foundations, so the roof fell upon them from above them, and the punishment came to them from where they did not perceive.

Muhsin Khan

Those before them indeed plotted, but Allah struck at the foundation of their building, and then the roof fell down upon them, from above them, and the torment overtook them from directions they did not perceive.

Taqi Usmani

Those (too) who were before them made plots. Then (the command of) Allah came upon their buildings (uprooting them) from the foundations. So roofs fell down upon them from above, and the chastisement came to them from where they could not even imagine.

Abul Ala Maududi

Surely many people before them had plotted in a similar manner to (vanquish the Truth), but Allah uprooted the whole structure of their plot from its foundations so that the roof fell in upon them, and the chastisement (of Allah) visited them from unknown directions.

Pickthall

Those before them plotted, so Allah struck at the foundations of their building, and then the roof fell down upon them from above them, and the doom came on them whence they knew not;

Yusuf Ali

Those before them did also plot (against Allah's Way): but Allah took their structures from their foundations, and the roof fell down on them from above; and the Wrath seized them from directions they did not perceive.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও চক্রান্ত করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের ইমারাতকে মূল থেকে উৎপাটিত করেছিলেন আর উপর থেকে ছাদ তাদের উপর ভেঙ্গে পড়ল, আর তাদের প্রতি শাস্তি পতিত হল এমন দিক হতে যা তারা এতটুকু টের পায়নি।

রাওয়াই আল-বায়ান

তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের দালানের ভীতে আঘাত করেছিলেন, ফলে তাদের উপর থেকে তাদের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল। আর তাদের উপর আযাব এসছিল এমনভাবে যে, তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তাদের পূর্ববর্তীরাও চক্রান্ত করেছিল। আল্লাহ তাদের ইমারাতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারাতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়ল এবং তাদের প্রতি শাস্তি নেমে এলো এমন দিক হতে যা ছিল তাদের ধারনার বাহির।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীগণ চক্রান্ত করেছিল; অতঃপর আল্লাহ্‌ তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়ল এবং তাদের প্রতি শাস্তি আসল এমনভাবে যে, তারা উপব্ধি করতে পারেনি

ফাতহুল মাজীদ

তাদের পূর্ববর্তীগণও চক্রান্ত‎ করেছিল; আল্লাহ তা‘আলা তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারতের ছাদ তাদের ওপর ধসে পড়ল এবং তাদের প্রতি শাস্তি‎ আসল এমন দিক হতে যা তারা উপলব্ধিও করতে পারেনি।

মুখতাসার

২৬. ইতিপূর্বে কাফিররা রাসূলদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঘরবাড়ীসমূহ সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ফলে সে ঘরগুলো তাদের মাথার উপর ছাদসহ ভেঙ্গে পড়ে এবং অনাকাক্সিক্ষতভাবে তাদের উপর আযাব নেমে আসে। তারা ধারণা করছিলো যে, তাদের ঘরগুলো তাদেরকে রক্ষা করবে। অথচ সেগুলোর মাধ্যমেই তাদের ধ্বংস আসে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২৬-২৭ নং আয়াতের তাফসীর আওফী (রঃ) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, চক্রান্তকারী দ্বারা নমরূদকে বুঝানো হয়েছে, যে একটি বিরাট প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল। যমীনে সর্বপ্রথম সবচেয়ে বড় ঔদ্ধত্যপনা সেই দেখিয়েছিল। তাকে। ধ্বংস করার জন্যে আল্লাহ তাআলা একটা মশাকে পাঠিয়েছিলেন, যে তার নাকের ছিদ্র দিয়ে তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং চারশ’ বছর পর্যন্ত তার মস্তিষ্ক চাটতে থাকে। এই সুদীর্ঘ সময়কালে এ সময় সে কিছুটা শান্তি লাভ করতো যখন তার মস্তকে হাতুড়ি দ্বারা আঘাত করা হতো। চারশ’ বছর পর্যন্ত সে রাজ্য শাসনও করেছিল। ভূ-পৃষ্ঠে সে ফাসাদ ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছিল।

অন্যেরা বলেন, এর দ্বারা বুখতে নাসারকে বুঝানো হয়েছে। সেও বড় চক্রান্তকারী ছিল। কিন্তু তার চক্রান্ত যদি পাহাড়কেও ওর স্থান থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় তবুও মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহর তাতে কি আসে যায়? তার ক্ষতি সাধনের ক্ষমতা কারো নাই। কেউ কেউ বলেন, কাফির ও মুশরিকরা যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে গায়রুল্লাহর ইবাদত করছে, এটা তাদের আমল বিনষ্ট হওয়ারই দৃষ্টান্ত। যেমন হযরত নূহ (আঃ) বলেছিলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তারা ভয়ানক ও বড় রকমের ষড়যন্ত্র করেছিল।” (৭১:২২) তারা সর্বপ্রকারের কৌশল অবলম্বন করে জনগণকে পথ ভ্রষ্ট করেছিল এবং তাদেরকে শিরকের কাজে উত্তেজিত করেছিল।

তাই, কিয়ামতের দিন তাদের অনুসারীরা তাদেরকে বলবেঃ “বরং তোমাদের দিন রাতের চক্রান্ত (আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল), যখন তোমরা আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যে, আমরা যেন আল্লাহর সাথে কুফরী করি এবং তার জন্যে শরীক স্থাপন করি।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন। ফলে, ইমারাতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়লো। যেমন আল্লাহ তাআলার উক্তিঃ (আরবি) অর্থাৎ “যখনই তারা যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করার ইচ্ছা করে তখনই আল্লাহ তা নিবিয়ে দেন।” (৫:৬৪) আল্লাহপাক আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ তাদের উপর শাস্তি এমন এক দিক হতে আসলো যা ছিল তাদের ধারণাতীত এবং তাদের অন্তরে তা ত্রাসের সঞ্চার করলো; ওরা ধ্বংস করে ফেলল নিজেদের বাড়ী-ঘর নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতেও অতএব, হে চক্ষুষ্মন ব্যক্তিগণ!

তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।” (৫৯:২) আর এখানে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করলেন, ফলে ইমারতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়লো এবং তাদের উপর শাস্তি আসলো এমন দিক হতে যা ছিল তাদের ধারণার অতীত। .কিয়ামতের দিনের লাঞ্ছনা ও অপমান এখনও বাকী রয়েছে। ঐ সময় গোপনীয় সবকিছু প্রকাশিত হয়ে পড়বে এবং ভিতরের সবকিছু বের হয়ে যাবে। সেইদিন সমস্ত ব্যাপার উদঘাটিত হয়ে পড়বে।হযরত ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ)। বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্যে তার পার্শ্বে তার বিশ্বাসঘাতকতা অনুযায়ী একটি পতাকা স্থাপন করা হবে এবং ঘোষণা করে দেয়া হবেঃ ‘এটা হচ্ছে অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।” (এই হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)অনুরূপভাবে এই লোকদেরকেও হাশরের ময়দানে সকলের সামনে অপদস্থ করা হবে।

তাদেরকে তাদের প্রতিপালক ধমকের সুরে জিজ্ঞেস করবেনঃ “আজ কোথায় আমার সেই সব শরীক যাদের সম্বন্ধে তোমরা বাক বিতণ্ডা করতে? তারা আজ তোমাদের সাহায্য করছেন না কেন? আজ তোমরা বন্ধুও সহায়কহীন অবস্থায় রয়েছো কেন?” তারা এই প্রশ্নের উত্তরে নীরব হয়ে যাবে। তারা হয়ে যাবে সেই দিন সম্পূর্ণরূপে নিরোত্তর ও অসহায়। কি মিথ্যা দলীল তারা উপস্থাপন করবে। এ সময় যে সব আলেম দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টজীবের কাছে সম্মানের পাত্র, তাঁরা বলবেনঃ “লাঞ্ছনা ও শাস্তি আজ কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে এবং তাদের বাতিল উপাস্যরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।”

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীগণ চক্রান্ত করেছিল; অতঃপর আল্লাহ্‌ তাদের ইমারতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়ল এবং তাদের প্রতি শাস্তি আসল এমনভাবে যে, তারা উপব্ধি করতে পারেনি [১]

[১] এ আয়াতে কাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে এ ব্যাপারে আলেমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এর দ্বারা নমরূদকে বুঝানো হয়েছে। যে নিজেকে ইলাহ বলে দাবী করেছিল এবং আকাশে উঠার জন্য সিঁড়ি স্থাপন করেছিল। সে সিঁড়ির মুলোৎপাটিত করা হয়েছিল। তারপর আল্লাহ তাকে সামান্য একটি মশা দিয়ে শাস্তি দিয়েছিলেন। যা তার নাকের ছিদ্র পথে ঢুকে গিয়েছিল। তারপর চারশ’ বছর পর্যন্ত সে এ শাস্তি ভোগ করেছে। তার কাছে ঐ ব্যক্তি বেশী দরদী বলে বিবেচিত হতো যে দুহাতে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় পেটাতো। সে চারশ’ বছর মানুষকে পদানত করে রেখেছিল। তাই আল্লাহ্‌ তাকে চারশ’ বছর পর্যন্ত হাঁতুড়ির পেটা খাইয়েছেন।

তারপর আল্লাহ তাকে মৃত্যু দেন। [ইবন কাসীর] কোন কোন মুফাসসির অবশ্য বলেন যে, এ আয়াতের উদ্দেশ্য বুখতনাসর। [ইবন কাসীর] তার সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা ইয়াহুদী ও নাসারাদের গ্রন্থে এসেছে। অবশ্য অধিকাংশ মুফাসসির বলেনঃ এখানে কোন সুনির্দিষ্ট লোক না বুঝিয়ে যারাই আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ও কুটকৌশল অবলম্বন করেছিল তাদের সবার জন্য উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। [ইবন কাসীর] বিভিন্ন সূরায় আল্লাহ তা'আলা এ বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করেছেন । [দেখুন, সূরা ইবরাহীমঃ ৪৬, সূরা নূহঃ ২২, সূরা সাবাঃ ৩৩]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ২৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ২৬]তাদের পূর্ববর্তীরাও ষড়যন্ত্র করেছিল; অতঃপর আল্লাহ তাদের অট্টালিকার ভিত্তিমূলে আঘাত করলেন, ফলে তাদের মাথার ওপর থেকে ছাদ ধসে পড়ল এবং তাদের ওপর আজাব এল এমনভাবে যা তারা অনুভবও করতে পারেনি। (২৬)মহান আল্লাহর বাণী: (তাদের পূর্ববর্তীরাও ষড়যন্ত্র করেছিল) অর্থাৎ, তাদের আগে পূর্ববর্তী রসূলগণের সাথে বিভিন্ন সম্প্রদায় কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুভ পরিণাম রসূলগণের জন্যই নির্ধারিত হয়েছিল। (অতঃপর আল্লাহ তাদের অট্টালিকার ভিত্তিমূলে আঘাত করলেন, ফলে তাদের মাথার ওপর থেকে ছাদ ধসে পড়ল) ইবনে আব্বাস, যায়েদ ইবনে আসলাম এবং অন্যান্যেরা বলেছেন: এটি ছিল কানআনের পুত্র নমরুদ ও তার সম্প্রদায়।

তারা আকাশারোহন করে আকাশবাসীদের সাথে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। তাই তারা একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল যাতে সেখান থেকে আরোহণ করা যায়—বাজপাখিদের নিয়ে সে যা করার করেছিল তার পর সেটি ধসে পড়ল। যেমনটি ইতিপূর্বে সূরা ইবরাহিমের শেষ ভাগে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আর "আল্লাহ তাদের অট্টালিকায় আসলেন" এর অর্থ হলো—তার আদেশ অট্টালিকার ওপর কার্যকর হলো, তা ভূমিকম্প বা ঝড়ের মাধ্যমেই হোক যা একে ধ্বংস করে দিয়েছে। ইবনে আব্বাস ও ওয়াহাব বলেন: প্রাসাদের উচ্চতা ছিল আকাশে পাঁচ হাজার হাত এবং প্রস্থ ছিল তিন হাজার হাত। কাব ও মুকাতিল বলেন: এর দৈর্ঘ্য ছিল দুই ফরসাখ।

এরপর প্রচণ্ড বাতাস বইল এবং এর চূড়া সমুদ্রে নিক্ষেপ করল এবং বাকি অংশ তাদের ওপর ধসে পড়ল। যখন এই প্রাসাদটি ধসে পড়ল, সেদিন আতঙ্কে মানুষের ভাষা এলোমেলো হয়ে গেল এবং তারা তিয়াত্তরটি ভাষায় কথা বলতে লাগল। এই কারণেই এর নাম রাখা হয়েছিল 'বাবেল' (বিভ্রান্তি)। এর আগে একমাত্র সুরিয়ানি ভাষা ছাড়া আর কোনো ভাষা ছিল না। এই বিষয়টি ইতিপূর্বে সূরা বাকারায় আলোচিত হয়েছে। ইবনে হুরমুজ এবং ইবনে মুহাইসিন 'আস-সুকუფ' শব্দটিকে সিন এবং কাফ উভয় অক্ষরে পেশ দিয়ে পাঠ করেছেন। মুজাহিদ সহজ করার জন্য সিন-এ পেশ এবং কাফ-এ সাকিন পড়েছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে 'ওয়াবিন-নাজম' অধ্যায়ে উভয় পঠনপদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে।

আর এটি 'সাকফ' (ছাদ) শব্দের বহুবচন হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। 'কাওয়াইদ' হলো ভবনের মূল ভিত্তি বা খুঁটি; যখন ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়, তখন ভবন ধসে পড়ে। এবং তাঁর বাণী: (তাদের মাথার ওপর থেকে) ইবনে আরাবি বলেন: এটি তাকিদ বা গুরুত্বারোপের জন্য বলা হয়েছে যাতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা ঠিক তার নিচেই অবস্থান করছিল। আরবরা সাধারণত বলে থাকে: 'আমাদের ওপর ছাদ ধসে পড়েছে' বা 'আমাদের ওপর দেয়াল পড়েছে' যখন সেটি তাদের মালিকানাধীন হয়, যদিও বাস্তবে তা তাদের গায়ের ওপর না পড়ে। তাই আল্লাহ 'তাদের ওপর থেকে' কথাটি যোগ করে আরবদের এই বাকরীতির সংশয় দূর করেছেন।

অর্থাৎ এটি সরাসরি তাদের ওপরই পড়েছে যখন তারা এর নিচে ছিল, ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কেউ রক্ষা পায়নি। কেউ কেউ বলেছেন যে, 'সাকফ' (ছাদ) দ্বারা আকাশ উদ্দেশ্য, অর্থাৎ তাদের ওপর আজাব আকাশ থেকে এসেছিল যা তাদের উপরে অবস্থিত; ইবনে আব্বাস এমনটিই বলেছেন। আবার বলা হয়েছে যে, আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আল্লাহ তাদের অট্টালিকার ভিত্তিমূলে আসলেন..."(১). দ্রষ্টব্য: ৯ম খণ্ড, ৩৮১ পৃষ্ঠা।(২). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড, ২৮৩ পৃষ্ঠা। [ ..... ]

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

তাকে দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারের মধ্য দিয়ে উপরে তোলা হলো, ফলে সে তার উপরেও কিছু দেখতে পেল না এবং নিচেও কিছু দেখতে পেল না। অতঃপর সে মাংস নিক্ষেপ করল এবং শিকারি পাখিগুলো দ্রুতগতিতে তার অনুসরণ করল। পাহাড়গুলো যখন দেখল যে সেগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে এবং যখন তাদের পাখার ঝটপটানি শব্দ শুনতে পেল, তখন পাহাড়গুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ল এবং প্রায় স্বস্থান থেকে বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হলো, যদিও শেষ পর্যন্ত তা ঘটেনি।এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "তারা তাদের ষড়যন্ত্র করেছিল এবং আল্লাহর নিকট তাদের ষড়যন্ত্র (এর প্রতিফল) রয়েছে; যদিও তাদের ষড়যন্ত্র এমন ছিল না যা পাহাড়কে টলিয়ে দিতে পারে।" আর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কিরাআত অনুযায়ী আয়াতটি হলো "যদিও তাদের ষড়যন্ত্র পাহাড় টলিয়ে দেওয়ার মতো ছিল।" বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে তাদের পাখিগুলো তাকে নিয়ে যাত্রা করেছিল এবং সেগুলো দুখান (ধূম্র) পাহাড়ে গিয়ে পতিত হয়েছিল।যখন সে দেখল যে সে কোনোভাবেই সক্ষম হচ্ছে না, তখন সে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ শুরু করল।

সে এটি নির্মাণ করে আকাশের সাথে ঠেকিয়ে দিল এবং তার উপরে আরোহণ করল। তার দাবি ছিল যে সে ইব্রাহিমের ইলাহকে দেখবে। কিন্তু সে মলত্যাগ করে ফেলল, অথচ তার আগে কখনও এমনটি ঘটেনি। অতঃপর আল্লাহ তার প্রাসাদের ভিত্তিমূলে আঘাত করলেন (ফলে ছাদ তাদের ওপর উপর থেকে ধসে পড়ল এবং তাদের নিকট আযাব এমনভাবে আসল যা তারা উপলব্ধি করতে পারেনি) (সূরা আন-নাহল, আয়াত ২৬)।তিনি বলেন: অর্থাৎ তাদের নিরাপদ স্থান থেকেই তাদের পাকড়াও করা হয়েছে এবং প্রাসাদের ভিত্তি থেকে তাদের ধরা হয়েছে, ফলে তা তাদের নিয়ে ভেঙে পড়ল। সেটি ধ্বংস হয়ে পড়ল এবং সেদিন আতঙ্কে মানুষের ভাষা এলোমেলো হয়ে গেল, ফলে তারা তেয়াত্তরটি ভাষায় কথা বলতে শুরু করল।

এ কারণেই এর নাম রাখা হয়েছে 'বাবেল' (বিভ্রান্তি বা এলোমেলো)। এর আগে তাদের ভাষা ছিল সুরইয়ানি (সিরিয়াক)।ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।" তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ, তিনি তাঁর কাজে পরাক্রমশালী, তিনি অবকাশ দেন এবং তাঁর কৌশল অত্যন্ত সুদৃঢ়। অতঃপর যখন তিনি প্রতিশোধ নেন, তখন তিনি তাঁর মহিমা ও ক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিশোধ নেন।ইমাম মুসলিম, ইবনে জারির, হাকীম এবং বায়হাকি 'দালাইল' গ্রন্থে সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইহুদিদের একজন পন্ডিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল: "যেদিন এই জমিন পরিবর্তন করে অন্য জমিনে রূপান্তরিত করা হবে, সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে?" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তারা পুলের (সিরাত) নিকটবর্তী অন্ধকারে অবস্থান করবে।"ইমাম আহমাদ, মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে হিব্বান, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং হাকীম আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমিই প্রথম ব্যক্তি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম: "যেদিন এই জমিন পরিবর্তিত হয়ে অন্য জমিনে রূপান্তরিত হবে।" আমি জিজ্ঞেস করলাম: "সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে?" তিনি বললেন: "সিরাতের ওপর।"বাযযার, ইবনুল মুনযির, তাবারানি, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকি 'আল-বাস' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর এই বাণী: "যেদিন এই জমিন পরিবর্তিত হয়ে অন্য জমিনে রূপান্তরিত হবে" সম্পর্কে বলেছেন: "তা হবে একটি উজ্জ্বল সাদা জমিন, যেন তা রূপার তৈরি; সেখানে কখনও কোনো হারাম রক্ত প্রবাহিত করা হয়নি এবং সেখানে কোনো পাপ কাজ করা হয়নি।"