An-Nahl
আন-নাহল: 79
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
মূল আরবি
أَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلطَّيْرِ مُسَخَّرَٰتٍ فِى جَوِّ ٱلسَّمَآءِ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا ٱللَّهُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَـٰتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
English Translations
Do they not see the birds controlled in the atmosphere of the sky? None holds them up except Allāh. Indeed in that are signs for a people who believe.
Do they not see the birds held (flying) in the midst of the sky? None holds them but Allah [none gave them the ability to fly but Allah]. Verily, in this are clear proofs and signs for people who believe (in the Oneness of Allah).
Did they not look at the birds how they are controlled in the atmosphere of the sky? No one holds them but Allah. Surely, in that there are signs for a people who believe.
Have they never noticed the birds how they are held under control in the middle of the sky, where none holds them (from falling) except Allah? Surely there are signs in this for those who believe.
Have they not seen the birds obedient in mid-air? None holdeth them save Allah. Lo! herein, verily, are portents for a people who believe.
Do they not look at the birds, held poised in the midst of (the air and) the sky? Nothing holds them up but (the power of) Allah. Verily in this are signs for those who believe.
বাংলা অনুবাদ
আকাশের শূন্যলোকে নিয়ন্ত্রিত পাখীগুলোর প্রতি কি তারা লক্ষ্য করে না? আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদেরকে স্থির রাখে না, এতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।
তারা কি আকাশে (উড়ন্ত অবস্থায়) নিয়োজিত পাখিগুলোর দিকে তাকায় না? আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদেরকে ধরে রাখে না। নিশ্চয় তাতে নিদর্শনবলী রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা বিশ্বাস করে।
তারা কি লক্ষ্য করেনা আকাশের শূন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন বিহংগের প্রতি? আল্লাহই ওদেরকে স্থির রাখেন; অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য।
তারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের শুন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন বিহংগের প্রতি? আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউই সেগুলোকে ধরে রাখেন না। নিশ্চয় এতে এমন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা ঈমান আনে।
তারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের শূন্যগর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন বিহঙ্গের প্রতি? আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কেউ সেগুলোকে স্থির রাখেন না। অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য।
৭৯. মুশরিকরা কি পাখিগুলোর দিকে তাকায় না। যেগুলোকে আল্লাহ তা‘আলা বাতাসে উড়ার জন্য প্রস্তুত ও উপযুক্ত করেছেন। উপরন্তু তিনি সেগুলোকে পাখাগুলো মেলানো এবং গুটিয়ে নেয়াও শিখিয়েছেন। শক্তিধর আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সেগুলোকে পড়ে যাওয়া থেকে বাতাসে ধরে রাখতে পারে না। নিশ্চয়ই পাখিগুলোকে এভাবে প্রস্তুতকরণে এবং পড়ে যাওয়া থেকে ধরে রাখায় আল্লাহতে বিশ্বাসী জাতির জন্য বিশেষ নিদর্শন রয়েছে। কারণ, তারাই এ প্রমাণ ও শিক্ষা থেকে লাভবান হয়ে থাকে।
তাফসীর
16:77
তারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের শুন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন বিহংগের প্রতি? আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউই সেগুলোকে ধরে রাখেন না। নিশ্চয় এতে এমন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা ঈমান আনে [১]।
[১] এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদেরকে একটু আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখার প্রতি আহবান জানাচ্ছেন। যেখানে পাখি আসমান ও যমীনের মাঝখানে ভাসমান হয়ে থাকে। কিভাবে তিনি সেটাকে দুডানা মেলে শূণ্যে ভেসে বেড়াতে দিয়েছেন। এগুলোকে তো আল্লাহই কেবল তাঁর কুদরতে ধারণ করে রাখেন। (তিনিই তো তাদেরকে ডানা মেলা ও বন্ধ করা শিখিয়েছেন। তারা সেভাবে ডানা মেলে ও বন্ধ করে যেমন কোন সাতারু পানিতে সাতার কাটার সময় করে থাকে। [ফাতহুল কাদীর]।) সেখানে তিনি এমন শক্তির উদ্ভব করেছেন যে, তারা উড়ে বেড়াতে পারে। অনুরূপভাবে তিনি বাতাসকে নিয়োজিত করেছেন সেগুলোকে বহন করতে।
আর পাখিও অনুরূপভাবে বাতাসে চলাফেরা করতে পারে। অন্য আয়াতেও আল্লাহ তা'আলা এ নেয়ামতের কথা ও তার কুদরতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের উপরে পাখিদের প্রতি, যারা পাখা বিস্তার করে ও সংকুচিত করে? দয়াময় আল্লাহই তাদেরকে স্থির রাখেন। নিশ্চয় তিনি সবকিছুর সম্যক দ্রষ্টা " [সূরা আল-মুলক ১৯]
এ সবকিছুতে অবশ্যই অনেক নিদর্শন রয়েছে। [ইবন কাসীর] এসবই আল্লাহর একত্ববাদ ও তার অপার ক্ষমতার উপর প্রকৃষ্ট প্রমান। কিন্তু তারাই শুধু তা দেখতে পায় ও বুঝতে পারে যারা আল্লাহর উপর এবং তাঁর রাসূলদের মাধ্যমে প্রেরিত শরীআতের উপর ঈমান রাখে। [ফাতহুল কাদীর] যারা তার এ সমস্ত নিদর্শন বুঝতে পারে তারা শ্রদ্ধায় অবনত মস্তকে যিনি তাদেরকে এ নেয়ামত দান করেছেন সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৭৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৭৮]এবং আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের জননীদের উদর থেকে বের করেছেন এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না; আর তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণসমূহ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। (৭৮)মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের জননীদের উদর থেকে বের করেছেন এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না) তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের উদর থেকে শিশু অবস্থায় বের করেছেন যখন তোমাদের কোনো বিষয়েই কোনো জ্ঞান ছিল না। এক্ষেত্রে তিনটি বক্তব্য রয়েছে: প্রথমত—তোমাদের পিতৃপুরুষদের পৃষ্ঠদেশে থাকাকালীন তোমাদের থেকে যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানতে না।
দ্বিতীয়ত—তোমাদের জন্য সৌভাগ্য নাকি দুর্ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে, সে সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানতে না। তৃতীয়ত—তোমাদের নিজেদের কল্যাণ ও উপকারিতা সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানতে না। এখানে কথা শেষ হলো, এরপর তিনি পুনরায় শুরু করে বললেন: (আর তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণসমূহ সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ যার মাধ্যমে তোমরা জ্ঞান লাভ করো এবং উপলব্ধি করো; কারণ আল্লাহ তাআলা এগুলো তাঁর বান্দাদের জন্য তাদের উদর থেকে বের করার পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন, তবে তিনি তা কার্যকরভাবে দান করেছেন তাদের ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে। অর্থাৎ তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি দিয়েছেন যাতে তার মাধ্যমে তোমরা আদেশ ও নিষেধ শুনতে পাও, দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন যাতে তাঁর সৃষ্টির নিপুণতা প্রত্যক্ষ করতে পারো এবং অন্তঃকরণ দিয়েছেন যাতে তাঁর পরিচয় লাভে ধন্য হতে পারো।
"আল-আফইদাহ" হলো "ফুয়াদ"-এর বহুবচন। আরও বলা হয়েছে যে, "তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি দিয়েছেন" এই কথার মধ্যে বাকশক্তির অস্তিত্বের ইঙ্গিতও রয়েছে; কারণ সাধারণত যে শুনতে পায় না সে কথা বলতে পারে না, আর যখন শ্রবণের ইন্দ্রিয় কার্যকর থাকে তখন বাকশক্তিও কার্যকর হয়। আল-আমাশ, ইবনে ওয়াছছাব ও হামযাহ এখানে এবং সূরা নূর, যুমার ও নাজমে "উম্মাহাত" শব্দটির হামযাহ ও মীম উভয় বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে পাঠ করেছেন। পক্ষান্তরে কিসায়ী হামযাহতে কাসরা এবং মীমে ফাতহা (জবর) দিয়ে পাঠ করেছেন, আর তা হয়েছে পূর্ববর্তী বর্ণের অনুবর্তিতার কারণে। অবশিষ্ট ক্বারীগণ মূল নিয়ম অনুযায়ী হামযাহতে যম্মা (পেশ) এবং মীমে ফাতহা দিয়ে পাঠ করেছেন।
"উম্মাহাত"-এর মূল রূপ হলো "উম্মাত", এখানে দৃঢ়তার জন্য "হা" বর্ণটি অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে, যেমনটি "আহরাকতুল মা" শব্দে "হা" বৃদ্ধি করা হয় যার মূল হলো "আরাকতু"। এই অর্থটি ইতিপূর্বে সূরা ফাতিহায় আলোচিত হয়েছে। (যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো) এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: প্রথমত—যাতে তোমরা তাঁর নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করো। দ্বিতীয়ত—অর্থাৎ তোমরা তাঁর সৃষ্টিশৈলীর নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করো, কারণ তা প্রত্যক্ষ করা কৃতজ্ঞতার দিকে পরিচালিত করে। [সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৭৯]তারা কি আকাশের শূন্যগর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন পক্ষীকুলের প্রতি লক্ষ্য করে না?
আল্লাহ ছাড়া কেউ সেগুলোকে ধরে রাখেন না। নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। (৭৯)(১). দেখুন খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩১১।(২). দেখুন খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ২৩৪।(৩). দেখুন খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ১০৫। [ ..... ](৪). দেখুন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৮।
