An-Nahl

আন-নাহল: 93

16:93
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل

আরবি

وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَٰحِدَةً وَلَـٰكِن يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۚ وَلَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

English Translations

Sahih International

And if Allāh had willed, He could have made you [of] one religion, but He sends astray whom He wills and guides whom He wills. And you will surely be questioned about what you used to do.

Muhsin Khan

And had Allah willed, He could have made you (all) one nation, but He sends astray whom He wills and guides whom He wills. But you shall certainly be called to account for what you used to do.

Taqi Usmani

If Allah so willed, He would have made all of you a single community, but He lets whom He wills go astray and takes whom He wills to the right path; and surely you will be questioned about what you used to do.

Abul Ala Maududi

Had Allah so willed, He would have made you all one single community. However, He lets go astray whomsoever He wills and shows the Right Way to whomsoever He wills. Surely you shall be called to account regarding what you did.

Pickthall

Had Allah willed He could have made you (all) one nation, but He sendeth whom He will astray and guideth whom He will, and ye will indeed be asked of what ye used to do.

Yusuf Ali

If Allah so willed, He could make you all one people: But He leaves straying whom He pleases, and He guides whom He pleases: but ye shall certainly be called to account for all your actions.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আল্লাহ ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অবশ্যই এক উম্মাত করে দিতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে গুমরাহ্ করেন, আর যাকে ইচ্ছে সঠিক পথপ্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তোমাদের সকলকে এক জাতিতে পরিণত করতেন, কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন। তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তাহলে তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎ পথে পরিচালিত করেন; তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর ইচ্ছা করলে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা করতে সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।

ফাতহুল মাজীদ

আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট‎ করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎ পথে পরিচালিত করেন। তোমরা যা কর‎ সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।

মুখতাসার

৯৩. আল্লাহ তা‘আলা চাইলে তিনি তোমাদেরকে সত্যের উপর একমত এমন এক জাতিতে রূপান্তরিত করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকে নিজ ইনসাফের ভিত্তিতে অঙ্গীকার পুরা করা ও সত্যের ব্যাপারে অসহযোগিতা করে পথভ্রষ্ট করেন। আর যাকে চান নিজ অনুগ্রহে সেটির তাওফীক দিয়ে থাকেন। কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমাদেরকে দুনিয়ার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৯৩-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আল্লাহ ইচ্ছা করলে দুনিয়ার মাযহাব ও চলার পথ একটাই হতো।” যেমন তিনি বলেছেনঃ “যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে হে মানুষ! তোমাদেরকে তিনি একই জাতি করতেন।” অর্থাৎ তিনি চাইলে তোমরা সবাই একই দলভূক্ত হতে। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “তোমার প্রতিপালক যদি ইচ্ছা করতেন তবে যমীনে যত মানুষ আছে সবাই মুমিনহয়ে যেতো।” অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে প্রেম-প্রীতি ও মিল-মহব্বত থাকতো, পরস্পরের মধ্যে কোন হিংসা-বিদ্বেষ থাকতো না।মহান আল্লাহ বলেনঃ “তোমার প্রতিপালক এতই ক্ষমতাবান যে, তিনি ইচ্ছা করলে সমস্ত মানুষকে একই জাতি করে দিতে পারেন। কিন্তু তোমার প্রতিপালকের যার উপর দয়া হবে সে ছাড়া সবারই মধ্যে এই মতানৈক্য ও মতবিরোধ থেকেই যাবে। এ জন্যেই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।” অনুরূপভাবেই এখানে তিনি বলেছেনঃ “কিন্তু যাকে ইচ্ছা, তিনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা, হিদায়াত দান করেন। অতঃপর তিনি কিয়ামতের দিন তোমাদের আমল সম্পর্কে তোমাদের সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং ছোট, বড়, ভাল ও মন্দ সমস্ত আমলের বিনিময় প্রদান করবেন।এরপর তিনি মুসলমানদেরকে হিদায়াত করছেনঃ “তোমরা তোমাদের শপথ ও প্রতিশ্রুতিকে প্রবঞ্চনার মাধ্যম বানিয়ে নিয়ো না। অন্যথায় ধর্মে অটল থাকার পরেও তোমাদের পদস্খলন ঘটে যাবে। যেমন কেউ সরল সোজা পথ। থেকে ভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। আর তোমাদের এই কাজ অন্যদেরকে আল্লাহর পথ হতে বিরত রাখার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এর দুর্ভোগ তোমাদেরকেই পোহাতে হবে। কেননা, কাফিররা যখন দেখবে যে, মুসলমানরা চুক্তি করে তা ভঙ্গ করে থাকে, তখন তাদের দ্বীনের উপর কোন আস্থা থাকবে না। সুতরাং তারা ইসলাম গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যেহেতু এর কারণ হবে। তোমরাই, সেই হেতু তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।”মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহকে সামনে রেখে যে ওয়াদা অঙ্গীকার তোমরা কর এবং তাঁর শপথ করে যে চুক্তি তোমরা করে থাকো, পার্থিব লোভের বশবর্তী হয়ে তা ভঙ্গ করা তোমাদের জন্যে হারাম। যদিও এর বিনিময়ে সারা দুনিয়াও তোমাদের লাভ হয়, তথাপি ওর নিকটেও যেয়ো না। কেননা, দুনিয়া অতি নগণ্য ও তুচ্ছ। আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা অতি উত্তম। তার প্রতিদান ও পুরস্কারের আশা রাখো। যে ব্যক্তি আল্লাহর কথার উপর বিশ্বাস রাখবে, তাঁর কাছেই যা কিছু চাইবে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনার্থে নিজেরা ওয়াদা- অঙ্গীকারের হিফাযত করবে, তার জন্যে আল্লাহর কাছে যে পুরস্কার ও প্রতিদান রয়েছে তা সমস্ত দুনিয়া হতেও বহুগুণে বেশী ও উত্তম। সুতরাং এটাকে ভালরূপে জেনে নাও। অজ্ঞতা বশতঃ এমন কাজ করো না যে, তার কারণে আখেরাতের পুরস্কার নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো যে, দুনিয়ার নিয়ামত ধ্বংসশীল এবং আখেরাতের নিয়ামত অবিনশ্বর। তা কখনো শেষ হবার নয়।আল্লাহপাক বলেনঃ “আমি শপথ করে বলেছি যে, যারা ধৈর্য ধারণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তাদেরকে সৎ আমলের অতি উত্তম প্রতিদান প্রদান করবো এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।”

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর ইচ্ছা করলে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা করতে সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে [১]।

[১] অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই মানুষকে নির্বাচন ও গ্রহণ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই দুনিয়ায় মানুষদের পথ বিভিন্ন। কেউ গোমরাহীর দিকে যেতে চায় এবং আল্লাহ গোমরাহীর সমস্ত উপকরণ তার জন্য তৈরী করে দেন। কেউ সত্য-সঠিক পথের সন্ধানে ব্যাপৃত থাকে এবং আল্লাহ তাকে সঠিক পথনির্দেশনা দানের ব্যবস্থা করেন। এ জন্যই হাদীসে এসেছে, “তোমরা কাজ করে যাও, কেননা যার জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সে ধরনের কাজ করা সহজসাধ্য করে দেয়া হবে"। [বুখারীঃ ৪৯৪৭, মুসলিমঃ ২৬৪৭]

সুতরাং বান্দার দায়িত্ব হলোঃ ভালো পথে চলার জন্য চেষ্টা করা এবং সে পথের উপর অটল থাকার জন্য আল্লাহর দরবারে সার্বক্ষনিক দো’আ করা।