An-Nahl
আন-নাহল: 75
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
আরবি
۞ ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًا عَبْدًا مَّمْلُوكًا لَّا يَقْدِرُ عَلَىٰ شَىْءٍ وَمَن رَّزَقْنَـٰهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًا فَهُوَ يُنفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَجَهْرًا ۖ هَلْ يَسْتَوُۥنَ ۚ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
English Translations
Allāh presents an example: a slave [who is] owned and unable to do a thing and he to whom We have provided from Us good provision, so he spends from it secretly and publicly. Can they be equal? Praise to Allāh! But most of them do not know.
Allah puts forward the example (of two men a believer and a disbeliever); a slave (disbeliever) under the possession of another, he has no power of any sort, and (the other), a man (believer) on whom We have bestowed a good provision from Us, and He spends thereof secretly and openly. Can they be equal? (By no means, not). All the praises and thanks be to Allah. Nay! (But) most of them know not.
Allah gives an example: There is a slave owned (by someone), who has no power over anything, and there is a person whom We have given good provision from Us, and he spends out of it secretly and openly. Are they equal? Praise be to Allah. But, most of them do not know.
Allah sets forth a parable: There is one who is a slave and is owned by another and has no power over anything; and there is one whom We have granted good provision Ourselves, of which he spends both secretly and openly. Can they be equal? All praise be to Allah. But most of them do not even know (this simple fact).
Allah coineth a similitude: (on the one hand) a (mere) chattel slave, who hath control of nothing, and (on the other hand) one on whom we have bestowed a fair provision from Us, and he spendeth thereof secretly and openly. Are they equal? Praise be to Allah! But most of them know not.
Allah sets forth the Parable (of two men: one) a slave under the dominion of another; He has no power of any sort; and (the other) a man on whom We have bestowed goodly favours from Ourselves, and he spends thereof (freely), privately and publicly: are the two equal? (By no means;) praise be to Allah. But most of them understand not.
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেনঃ অন্যের মালিকানাভুক্ত এক দাস যে কোন কিছু করারই ক্ষমতা রাখে না। আর এক লোক যাকে আমি আমার পক্ষ হতে উত্তম জীবিকা দান করেছি আর তাত্থেকে সে গোপনে প্রকাশ্যে দান করে, (এ) দু’জন কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
আল্লাহ উপমা পেশ করেছেন; একজন অধিনস্ত দাস যে কোন কিছুর উপর ক্ষমতা রাখে না। আর একজন যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দিয়েছি, অতঃপর সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি সমান হতে পারে? সমস্ত প্রশংসা আল্লা্হর। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
আল্লাহ উপমা দিচ্ছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোন কিছুর উপর শক্তি রাখেনা। এবং অপর এক ব্যক্তি যাকে তিনি নিজ হতে উত্তম রিয্ক দান করেছেন এবং সে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি উভয়ে একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য; অথচ তাদের অধিকাংশ এটা জানেনা।
আল্লাহ্ উপমা দিচ্ছেন অন্যের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোনো কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির যাকে আমরা আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দান করেছি এবং সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি একে অন্যের সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই প্রাপ্য; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
আল্লাহ তা‘আলা উপমা দিচ্ছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোন কিছুর ওপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির যাকে তিনি নিজ হতে উত্তম রিযক দান করেছেন এবং সে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলারই প্রাপ্য; অথচ তাদের অধিকাংশই এটা জানে না।
৭৫. আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদের ভ্রান্তি স্পষ্ট করার জন্য একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত দাঁড় করিয়েছেন। আর তা হলো, একটি মালিকানাধীন গোলাম যে কোন ধরনের খরচ করতে অক্ষম। তাছাড়া তার নিকট খরচ করার মতোও কিছু নেই। আরেকজন স্বাধীন। যাকে আমি নিজ পক্ষ থেকে হালাল সম্পদ দিয়েছি। যাতে সে ইচ্ছেমতো খরচ করতে পারে। সে সেখান থেকে যতটুকু ইচ্ছা প্রকাশ্যে ও গোপনে দান করে। এ দু’জন কখনোই সমান নয়। অতএব, তোমরা কীভাবে সেই আল্লাহ -যিনি সবকিছুর মালিক, তাঁর মালিকানায় যা চান খরচ করতে পারেন- তাঁকে ও তোমাদের অক্ষম মূর্তিগুলোকে সমান করো?! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বস্তুতই সকল প্রশংসার উপযুক্ত। কিন্তু অধিকাংশ মুশরিক আল্লাহর একক উপাস্য হওয়ার ব্যাপারটি জানে না।
তাফসীর
ইবনু আব্বাস (রাঃ) প্রভৃতি গুরুজন বলেন যে, এটা হচ্ছে কাফির ও মুমিনের দৃষ্টান্ত। অপরের অধিকারভূক্ত দাসের দ্বারা কাফির এবং উত্তম রিযক প্রাপ্ত ব্যক্তি দ্বারা মুমিনকে বুঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রাঃ) বলেন যে, এই দৃষ্টান্ত দ্বারা প্রতিমা ও আল্লাহ তাআলার মধ্যে প্রভেদ বুঝানোই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এটা ও ওটা সমান নয়। এই দৃষ্টান্তের পার্থক্য এতো স্পষ্ট যে, এটা বলার কোন প্রয়োজন হয় না। এজন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেন যে, প্রশংসার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ। অথচ তাদের অধিকাংশই এটা জানে না।
আল্লাহ্ উপমা দিচ্ছেন [১] অন্যের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির যাকে আমরা আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দান করেছি এবং সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি একে অন্যের সমান [২]? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই প্রাপ্য [৩]; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না [৪]।
[১] অর্থাৎ যদি উপমার সাহায্যে কথা বুঝতে হয় তাহলে আল্লাহ সঠিক উপমা দিয়ে তোমাদের সত্য বুঝিয়ে দেন। তোমরা যেসব উপমা দিচ্ছে সেগুলো ভুল। তাই তোমরা সেগুলো থেকে ভুল ফলাফল গ্রহণ করে থাকো। তোমরা সঠিক উপমা দিতে জান না। আল্লাহ নিজেই তোমাদেরকে উপমা শিখিয়ে দিচ্ছেন। ফাতহুল কাদীর]
[২] ইবনে আব্বাস বলেন, এ উদাহরণটি আল্লাহ্ তা'আলা কাফের ও মুমিনের জন্য প্রদান করেছেন। ইবনে জরীর তাবারীও তা পছন্দ করেছেন। যে দাস কিছুরই ক্ষমতা রাখে না সে হচ্ছে কাফের। আর যাকে উত্তম রিফিক দেয়া হয়েছে আর সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে সে হচ্ছে মুমিন। মুজাহিদ বলেন, এ উপমাটি মূর্তিপ্রতিমা ও আল্লাহ্ তা'আলার জন্য পেশ করা হয়েছে। এ দু'টি কি সমান? যখন তাদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট, বোকা ছাড়া সবাই তা বুঝতে সক্ষম, তখন বলা হল যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। [ইবন কাসীর] কিন্তু তারা অধিকাংশই জানে না। যদি তারা জানত তবে যার জন্য ইবাদাত করা হক ও যথাযথ তাঁরই ইবাদাত করত, আর যিনি তাদেরকে এত এত নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন তাঁর নেয়ামতের স্বীকৃতি তারা দিত। [ফাতহুল কাদীর]
[৩] আলহামদুলিল্লাহ বা সমস্ত প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। এটা বলার কারণ সম্পর্কে কয়েকটি মত রয়েছে। এক. কারণ, তিনিই তো সব নেয়ামত প্রদান করেছেন, তার বান্দাদের কেউই তা দেয় নি। সুতরাং যারা মৌলিকভাবে অথবা মাধ্যম হয়ে কোনভাবেই কোন নেয়ামত দেয়নি তারা কিভাবে প্রশংসা পেতে পারে? দুই. সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্যে এ কারণে যে, তিনিই তাঁর বন্ধুদেরকে তাওহীদের মত নেয়ামত প্রদান করেছেন। তিন. অথবা এখানে নির্দেশ দিয়ে বলা হচ্ছে যে, আপনি বলুন, আল-হামদুলিল্লাহ। তখন নির্দেশটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং যারাই এ নেয়ামত উপলব্ধি করতে পারবে তাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চার, অথবা যে উদাহরণ পেশ করা হলো তা যে কত জোরালো, তার মোকাবিলায় যে তারা কোন কিছুই দাড় করাতে পারবে না, দলীল-প্রমাণের সে শক্তি অনুভব করে আল-হামদুলিল্লাহ বলা হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]
[৪] এখানে তাদেরকে জানে না’ বলার কারণ হয়ত এই যে, তারা তাদের উপর যা কর্তব্য তা না জানার কারণে সত্যিকারেই জাহেল বা মূর্খে পরিণত হয়েছে। অথবা তারা হক জেনেও ইচ্ছাকৃত বিরোধিতা করার জন্য তা মেনে নিচ্ছে না। এতে করে তারা যাদের জ্ঞান নেই, তাদের কাতারে নেমে গেছে। [ফাতহুল কাদীর]
