An-Nahl
আন-নাহল: 47
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
মূল আরবি
أَوْ يَأْخُذَهُمْ عَلَىٰ تَخَوُّفٍ فَإِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ
English Translations
Or that He would not seize them gradually [in a state of dread]? But indeed, your Lord is Kind and Merciful.
Or that He may catch them with gradual wasting (of their wealth and health). Truly! Your Lord is indeed full of Kindness, Most Merciful?
or that He seizes them while they are in apprehension? So, indeed your Lord is Very-Kind, Very-Merciful.
or that He will not seize them when they are apprehensive of the impending calamity? Surely your Lord is Most Compassionate, Most Merciful.
Or that He will not seize them with a gradual wasting? Lo! thy Lord is indeed Full of Pity, Merciful.
Or that He may not call them to account by a process of slow wastage - for thy Lord is indeed full of kindness and mercy.
বাংলা অনুবাদ
অথবা তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না যখন তারা আসন্ন মুসীবাতের চিন্তায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকবে, (আসল কথা হল আল্লাহ মানুষকে খুবই অবকাশ দিয়ে থাকেন) কেননা তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই অতি দয়ার্দ্র, বড়ই দয়ালু।
কিংবা তিনি তাদেরকে ভীত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয় তোমাদের রব অতিশয় দয়াশীল, পরম দয়ালু।
অথবা তাদেরকে তিনি ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেননা? তোমাদের রাব্বতো অবশ্যই ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু।
অথবা তাদেরকে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয় তোমাদের রব অতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।
অথবা তাদেরকে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ধৃত করবেন না? তোমাদের প্রতিপালক তো অবশ্যই দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।
৪৭. না কি তারা এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, তাদের ভীতি অবস্থায় তাদের উপর আল্লাহর আযাব আসবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সর্বাবস্থায় শাস্তি দিতে সক্ষম। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক অতি দয়ালু ও অত্যন্ত মেহেরবান। তিনি দ্রুত শাস্তি দেন না। যেন তাঁর বান্দারা তাওবার সুযোগ পায়।
তাফসীর
16:45
অথবা তাদেরকে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয় তোমাদের রব অতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু [১]।
[১] আলোচ্য আয়াতসমূহে দুনিয়ার বিভিন্ন আযাব বর্ণনা করার পর সর্বশেষে বলা হয়েছে
(فَاِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ)
এতে আল্লাহর দয়ালু হওয়া ব্যক্ত করে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, দুনিয়ার হুশিয়ারী প্রকৃতপক্ষে স্নেহ ও দয়ার কারণেই হয়ে থাকে, যাতে গাফেল মানুষ হুশিয়ার হয়ে স্বীয় কর্মকাণ্ড সংশোধন করে নেয়। তবে তা শুধুমাত্র গোনাহগার ঈমানদারদের ব্যাপারে। কিন্তু যারা কাফের তাদের জন্য দুনিয়ার আযাবের সাথে আখেরাতের আযাবও অপেক্ষা করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর চেয়ে বড় সহিষ্ণু আর কেউ নেই যে খারাপ শোনার পরও ধৈর্যধারণ করে, তারা তার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে তারপরও তিনি তাদেরকে রিযিক দেন এবং তাদের নিরাপত্তা বিধান করেন। [বুখারীঃ ৬০৯৯]
অপর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ যালেমকে ছাড় দিতেই থাকেন, তারপর যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন সে তার ধরা থেকে পালানোর কোন পথ পায় না, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেনঃ "এরূপই আপনার রবের শাস্তি! তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূহকে যখন ওরা যুলুম করে থাকে। নিশ্চয়ই তার শাস্তি মর্মম্ভদ, কঠিন।" [সূরা হুদঃ ১০২] [মুসলিমঃ ২৫৮৩] অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তা'আলা সূরা হজ্জের ৪৮ নং আয়াতেও এটা উল্লেখ করেছেন।
[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৪৫ থেকে ৪৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি দোষযুক্তকে। আর 'আল-বাইয়্যিনাত' হলো দলিল ও প্রমাণাদি। আর 'আয-যুবুর' হলো কিতাবসমূহ। এ বিষয়ে সূরা আল-ইমরানে পূর্বেই বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। (এবং আমি আপনার প্রতি জিকর অবতীর্ণ করেছি) অর্থাৎ কুরআন। (যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে) এই কিতাবে বর্ণিত বিধানাবলি, প্রতিশ্রুতি এবং ধমকি সম্পর্কে আপনার কথা ও কাজের মাধ্যমে। সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কিতাবে সংক্ষেপে বর্ণিত সালাত ও জাকাত এবং অন্যান্য বিষয় যা বিস্তারিত বর্ণিত হয়নি, সেগুলোর ব্যাখ্যাকারী।
কিতাবের ভূমিকায় এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর। (এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে) অর্থাৎ তারা যেন উপদেশ গ্রহণ করে। [সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ৪৫ থেকে ৪৭]যারা মন্দ চক্রান্ত করে তারা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদেরকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেবেন না অথবা তাদের কাছে এমন দিক থেকে আজাব আসবে না যা তারা কল্পনাও করতে পারে না? (৪৫) অথবা তাদের চলাফেরারত অবস্থায় তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না? তারা তো আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। (৪৬) অথবা তিনি তাদেরকে ভীতিপ্রদ অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম করুণাময়।
(৪৭)মহান আল্লাহর বাণী: (যারা মন্দ চক্রান্ত করে তারা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হয়ে গেছে) অর্থাৎ মন্দ কার্যাবলীর মাধ্যমে। এটি সেই সকল মুশরিকদের প্রতি সতর্কবাণী যারা ইসলামকে নস্যাৎ করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। (আল্লাহ তাদেরকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেবেন না) ইবনে আব্বাস বলেন: যেমন কারুনকে ধসিয়ে দেয়া হয়েছিল। বলা হয়: স্থানটি ধসে গেছে যার অর্থ হলো তা জমিনে তলিয়ে গেছে। আর আল্লাহ তাকে নিয়ে জমিন ধসিয়ে দিয়েছেন এর অর্থ হলো তিনি তাকে জমিনের গভীরে অদৃশ্য করে দিয়েছেন। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি তাকে এবং তার ঘরকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দিলাম"। সে নিজেও ধসে গিয়েছিল এবং তাকেও ধসিয়ে দেয়া হয়েছিল।
এখানে প্রশ্নবোধক বাক্যটি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ তাদের এমন শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকা উচিত নয় যা পূর্ববর্তী মিথ্যারোপকারীদের ওপর আপতিত হয়েছিল। (অথবা তাদের কাছে এমন দিক থেকে আজাব আসবে না যা তারা কল্পনাও করতে পারে না) যেমন লুত (আ.)-এর কওম এবং অন্যদের সাথে করা হয়েছিল। কারো মতে, এর দ্বারা বদরের যুদ্ধের দিনকে বোঝানো হয়েছে, কারণ সেদিন তারা ধ্বংস হয়েছিল অথচ বিষয়টি তাদের কল্পনাতেও ছিল না। (অথবা তাদের চলাফেরারত অবস্থায় তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না) কাতাদাহ বলেন: অর্থাৎ তাদের সফর ও জীবনযাপনের কর্মতৎপরতার অবস্থায়।
(তারা তো আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না) অর্থাৎ তারা আল্লাহর আয়ত্তের বাইরে যেতে পারবে না এবং তাঁকে এড়িয়ে যেতে পারবে না। কারো মতে, 'তাদের চলাফেরারত অবস্থায়' বলতে তারা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের শয্যাশায়ী অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। দাহহাক বলেন: দিবা-রাত্রি। (অথবা তিনি তাদেরকে ভীতিপ্রদ অবস্থায় পাকড়াও করবেন না) ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং অন্যান্যরা বলেন: অর্থাৎ তাদের ধন-সম্পদের ক্রমাগত বিনাশ বা ঘাটতি সৃষ্টির মাধ্যমে।(১) দেখুন খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯৬।(২) দেখুন খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ৩১৭।
