An-Nahl
আন-নাহল: 15
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
মূল আরবি
وَأَلْقَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٰسِىَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَـٰرًا وَسُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
English Translations
And He has cast into the earth firmly set mountains, lest it shift with you, and [made] rivers and roads, that you may be guided,
And He has affixed into the earth mountains standing firm, lest it should shake with you, and rivers and roads, that you may guide yourselves.
And He placed mountains on the earth, lest it should shake with you, and rivers and tracks, so that you may find the right way,
And He has placed firm mountains on the earth lest it should move away from you, and has made rivers and tracks that you may find your way,
And He hath cast into the earth firm hills that it quake not with you, and streams and roads that ye may find a way.
And He has set up on the earth mountains standing firm, lest it should shake with you; and rivers and roads; that ye may guide yourselves;
বাংলা অনুবাদ
তিনি যমীনে সুদৃঢ় পর্বত সংস্থাপিত করেছেন যাতে যমীন তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয়, আর সংস্থাপিত করেছেন নদী নির্ঝরিণী আর পথ যাতে তোমরা পথের সন্ধান পেতে পার।
আর যমীনে তিনি স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা, যাতে তোমাদের নিয়ে যমীন হেলে না যায় এবং নদ-নদী ও পথসমূহ, যাতে তোমরা পথপ্রাপ্ত হও।
আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথ, যাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।
আর তিনি যমীনে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে যমীন তোমাদের নিয়ে হেলে না যায় এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথসমূহ, যাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌছতে পার
এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথ, যাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার;
১৫. তিনি জমিনকে স্থিতিশীল রাখার জন্য তাতে অনেকগুলো পাহাড় স্থাপন করেছেন। যাতে তা তোমাদেরকে নিয়ে নড়াচড়া না করে ও হেলে না যায়। তেমনিভাবে তিনি সেখানে অনেকগুলো নদী চালু করেছেন। যেন তোমরা সেখান থেকে পানি পান করতে পারো এবং নিজেদের পশু ও ক্ষেত-খামারে পানি সরবরাহ করতে পারো। তিনি আরো সেখানে চলার জন্য অনেকগুলো পথ তৈরি করেছেন। ফলে তোমরা পথভ্রষ্ট না হয়ে নিজেদের উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে পারো।
তাফসীর
16:14
আর তিনি যমীনে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে যমীন তোমাদের নিয়ে হেলে না যায় [১] এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথসমূহ, যাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌছতে পার [২];
[১] (رَوَاسِيَ) শব্দটি (رٰاسِيَة) এর বহুবচন। এর অর্থ ভারী পাহাড়। (تَمِيْدَ) শব্দটি (ميد) থেকে উদ্ভুত। এর অর্থ আন্দোলিত হওয়া এবং অস্থিরভাবে টলমল করা। [ফাতহুল কাদীর] আয়াতের অর্থ এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা অনেক রহস্যের অধীনে ভূ-মণ্ডলকে নিবিড় ও ভারসাম্যবিহীন উপাদান দ্বারা সৃষ্টি করেননি। তাই এটা কোন দিক দিয়ে ভারী এবং কোন দিক দিয়ে হান্ধা হয়েছে। অন্যথায় এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ছিল, ভূ-পৃষ্ঠের অস্থিরভাবে আন্দোলিত হওয়া। এই অস্থিরতাজনিত নড়াচড়া বন্ধ করা এবং পৃথিবীর উৎপাদনকে ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা পৃথিবীতে পাহাড়ের ওজন স্থাপন করেন- যাতে পৃথিবী অস্থিরভাবে নড়াচড়া করতে না পারে। তাই এখানে (اَنْ تَمِيْدَ) এর পূর্বে (كَرٰاهِيَة) বা (اِنْ) এর পরে (لا) শব্দটি উহ্য ধরে নিয়ে অর্থ করতে হবে। [ফাতহুল কাদীর] এ আয়াত থেকে জানা যায়,
ভূপৃষ্ঠে পর্বত শ্রেণী স্থাপনের উপকারিতা হচ্ছে, এর ফলে পৃথিবীর আবর্তন ও গতি সুষ্ঠ ও সুশৃংখল হয়। কুরআন মজীদের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ের এ উপকারিতা সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, পাহাড়ের অন্য যে সমস্ত উপকারিতা আছে সেগুলো একেবারেই গৌণ। মূলত মহাশূন্যে আবর্তনের সময় পৃথিবীকে আন্দোলিত হওয়া থেকে রক্ষা করাই ভূপৃষ্ঠে পাহাড় স্থাপন করার মুখ্য উদ্দেশ্য। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]
[২] অর্থাৎ নদ-নদীর সাথে যে পথ তৈরী হয়ে যেতে থাকে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকাসমূহে এসব প্রাকৃতিক পথের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। অবশ্যি সমতল ভূমিতেও এগুলোর গুরুত্ব কম নয়। উপরে বাণিজ্যিক সফরের কথা বলা হয়েছে। তাই এসব সুযোগ-সুবিধার কথা এখানেও সমীচীন মনে হয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তা'আলা পথিকদের পথ অতিক্রম ও মন্যিলে-মকসুদে পৌছার জন্য ভূ-মণ্ডল ও নভোমণ্ডলে সৃষ্টি করেছেন। তাই পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে (وَعَلامَاتٍ) অর্থাৎ আমি পৃথিবীতে রাস্তা চেনার জন্য পাহাড়, নদী, বৃক্ষ, দালান-কোঠা ইত্যাদির সাহায্যে অনেক চিহ্ন স্থাপন করেছি। [ইবন কাসীর] বলাবাহুল্য, ভূ-পৃষ্ঠ যদি একটি চিহ্নবিহীন পরিমণ্ডল হতো তবে মানুষ কোন গন্তব্যস্থানে পৌছার জন্য পথিমধ্যে কতই না ঘুরপাক খেত।
[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ১৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আন-নাহল (১৬): আয়াত ১৫]এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে নড়ে না ওঠে এবং সৃষ্টি করেছেন নদ-নদী ও পথসমূহ, যাতে তোমরা সঠিক পথ খুঁজে পাও। (১৫)আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন) অর্থাৎ অটল পর্বতমালা। যখন কোনো কিছু স্থির ও প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন আরবরা ‘রাসা ইয়ারসু’ শব্দ ব্যবহার করে। কবি বলেছেন:অতঃপর আমি এক ধৈর্যশীল ও স্বাধীন সত্তা নিয়ে সবর করলাম … যা অটল থাকে যখন ভীরুর প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় «১»(যাতে তা তোমাদের নিয়ে নড়ে না ওঠে) অর্থাৎ কুফী বৈয়াকরণদের মতে, ‘যাতে নড়ে না ওঠে সে জন্য’।
আর বসরীদের মতে, ‘নড়ে ওঠার আশঙ্কায়’। ‘আল-মাইদ’ অর্থ ডানে ও বামে দোদুল্যমান হওয়া। কোনো বস্তু নড়ে উঠলে বলা হয় ‘মাদা ইয়ামিদু মাইদান’। গাছের ডালপালা হেলে পড়লে এবং মানুষ দম্ভভরে দুলিয়ে চললেও এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। ওহাব বিন মুনাব্বিহ বলেন: আল্লাহ যখন পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন তা দুলতে ও কাঁপতে শুরু করল। ফেরেশতারা বললেন: এটি তার পিঠে কাউকে স্থির থাকতে দেবে না। অতঃপর সকালবেলা দেখা গেল পাহাড়ের মাধ্যমে একে স্থির করে দেয়া হয়েছে, আর ফেরেশতারা জানতেন না পাহাড় কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেন: আল্লাহ যখন পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন তা অস্থির হয়ে হেলে পড়ল এবং বলল: হে আমার রব!
আপনি কি আমার ওপর এমন কাউকে রাখবেন যে পাপাচার ও ভুল করবে এবং আমার ওপর মৃতদেহ ও দুর্গন্ধ নিক্ষেপ করবে? অতঃপর আল্লাহ তাআলা এতে এমন সব পাহাড় স্থাপন করলেন যা তোমরা দেখতে পাও এবং যা তোমরা দেখতে পাও না। ইমাম তিরমিজী (তাফসির অধ্যায়ের শেষে) বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আওয়াম ইবনে হাওশাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান ইবনে আবি সুলায়মান থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “আল্লাহ যখন পৃথিবী সৃষ্টি করলেন তখন তা কাঁপতে শুরু করল, অতঃপর তিনি পাহাড় সৃষ্টি করে তার ওপর স্থাপন করলেন, ফলে তা স্থির হলো।
ফেরেশতারা পাহাড়ের দৃঢ়তা দেখে বিস্মিত হয়ে বললেন: হে রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের চেয়েও শক্তিশালী কি কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, লোহা। তারা বললেন: হে রব! লোহার চেয়েও শক্তিশালী কি কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আগুন। তারা বললেন: হে রব! আগুনের চেয়েও শক্তিশালী কি কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, পানি। তারা বললেন: হে রব! পানির চেয়েও শক্তিশালী কি কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, বাতাস। তারা বললেন: হে রব! বাতাসের চেয়েও শক্তিশালী কি কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আদম সন্তান; যে তার ডান হাত দিয়ে এমনভাবে সদকা করে যা তার বাম হাত থেকে গোপন রাখে।” আবু ঈসা বলেন: এটি একটি গরীব হাদিস, এই সূত্র ছাড়া মারফু হিসেবে এটি আমাদের জানা নেই।(১).
পঙ্ক্তিটি আনতারা আল-আবসির। তিনি বলেছেন: আমি এক অভিজ্ঞ তথা ধৈর্যশীল সত্তাকে আটকে রেখেছি। এর আগের পঙ্ক্তিটি হলো:আমি জেনেছি যে আমার মৃত্যু যখন আসবে … দ্রুত পালিয়েও তা থেকে আমার নিষ্কৃতি নেই।
