An-Nahl
আন-নাহল: 9
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
আরবি
وَعَلَى ٱللَّهِ قَصْدُ ٱلسَّبِيلِ وَمِنْهَا جَآئِرٌ ۚ وَلَوْ شَآءَ لَهَدَىٰكُمْ أَجْمَعِينَ
English Translations
And upon Allāh is the direction of the [right] way, and among them [i.e., the various paths] are those deviating. And if He willed, He could have guided you all.
And upon Allah is the responsibility to explain the Straight Path (i.e. Islamic Monotheism for mankind i.e. to show them legal and illegal, good and evil things, etc. so, whosoever accepts the guidance, it will be for his own benefit and whosoever goes astray, it will be for his own destruction), but there are ways that turn aside (such as Paganism, Judaism, Christianity, etc.). And had He willed, He would have guided you all (mankind).
Undertaken by Allah is (to show) the right path, while there are some (paths) that are crooked. Had He so willed, He would have led all of you to the right path.
It rests with Allah alone to show you the Right Way, even when there are many crooked ways. Had He so willed, He would have (perforce) guided you all aright.
And Allah's is the direction of the way, and some (roads) go not straight. And had He willed He would have led you all aright.
And unto Allah leads straight the Way, but there are ways that turn aside: if Allah had willed, He could have guided all of you.
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহরই দায়িত্বে রয়েছে সরল পথপ্রদর্শন। পথগুলোর মধ্যে বাঁকা পথও আছে। তিনি যদি ইচ্ছে করতেন তাহলে অবশ্যই তোমাদের সকলকেই সঠিক পথ প্রদর্শন করতেন।
আর সঠিক পথ বাতলে দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব, এবং পথের মধ্যে কিছু আছে বক্র। আর তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তবে তোমাদের সকলকে হিদায়াত করতেন।
সরল পথ আল্লাহর কাছে পৌঁছায়, কিন্তু পথগুলির মধ্যে বক্র পথও রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই সৎ পথে পরিচালিত করতেন।
আর সরল পথ আল্লাহ্র কাছে পৌছায়, কিন্তু পথগুলোর মধ্যে বাঁকা পথও আছে। আর তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদের সবাইকেই সৎপথে পরিচালিত করতেন।
সরল পথ প্রদর্শন আল্লাহ তা‘আলারই দায়িত্ব, কিন্তু পথগুলোর মধ্যে বক্র পথও আছে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই সৎ পথে পরিচালিত করতেন।
৯. আল্লাহরই দায়িত্ব সঠিক পথের বর্ণনা দেয়া। যা তাঁর সন্তুষ্টির দিকে পৌঁছিয়ে দিবে। তা হলো ইসলাম। আর কিছু পথ রয়েছে মূলতঃ শয়তানের পথ। যা সত্যভ্রষ্ট। ইসলামের পথ ছাড়া সকল পথই মূলতঃ বাঁকা। আল্লাহ যদি চাইতেন তোমাদের সকলকে ঈমানের তাওফীক দিতে তাহলে তিনি তোমাদের সকলকে সে তাওফীক দিতে পারতেন।
তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লী পার্থিব পথ অতিক্রমের উপকরণাদি বর্ণনা করার পর পারলৌকিক পথ অতিক্রমের উপকারাদির পথের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন। কুরআন কারীমের মধ্যে এ ধরনের অধিকাংশ বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে। হজ্জের নফরের পাথেয়ের বর্ণনা দেয়ার পর তাকওয়ার পাথেয়ের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, যা পরকালে কাজে লাগবে। বাহ্যিক পোষাকের বর্ণনার পর তাকওয়ার পোষাকের উত্তমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে এখানে চতুষ্পদ জন্তুগুলির মাধ্যমে দুনিয়ার কঠিন পথ ও দূর দূরান্তের সফর অতিক্রম করার কথা বর্ণনা করার পর আখেরাতের ও ধর্মীয় পথের বর্ণনা করছেন যে, সত্য পথ। আল্লাহ তাআলার সাথে মিলন ঘটিয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “প্রতিপালক আল্লাহর সরল সঠিক পথ এটাই। সুতরাং তোমরা এই পথেই চলো, অন্য পথে চলো না। অন্যথায় তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এবং সরল থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। আমার কাছে পৌঁছবার সোজা পথ এটাই। আমি যে সরল সঠিক পথের কথা বলছি, সেটাই হচ্ছে দ্বীনে ইসলাম। এরই মাধ্যমে। তোমরা আমার কাছে পৌঁছতে পারবে। এটা আমি স্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করে। দিলাম এবং এর সাথে সাথে আমি অন্যান্য পথগুলির ভ্রান্তির কথাও বর্ণনা করলাম। অতএব, সরল সঠিক পথ একটাই যা কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূলিল্লাহ (সঃ) হতে প্রমাণিত হয়েছে। বাকী অন্যান্য পথগুলি হচ্ছে ভুল ও অন্যায় পথ এবং মানুষের নিজেদের দ্বারা আবিষ্কৃত পথ। যেমন ইয়াহূদিয়্যাত, নাসরানিয়্যাত, মাজুসিয়্যাত ইত্যাদি।”এরপর ঘোষণা করা হচ্ছে যে, হিদায়াত হচ্ছে মহান প্রতিপালকের অধিকারের বিষয়। তিনি ইচ্ছে করলে দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে সত্য পথে পরিচালিত করতে পারেন, পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীকে মুমিন বানিয়ে দিতে তিনি সক্ষম। তিনি চাইলে সমস্ত মানুষকে একই পথের পথিক করে দিতে পারেন। কিন্তু এই মতানৈক্য বাকী থেকেই যাবে।।মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতিপালকের কথা পূর্ণ হবেই। তা এই যে, জাহান্নাম ও জান্নাত দানব ও মানব দ্বারা পূর্ণ হবে।”
আর সরল পথ আল্লাহ্র কাছে পৌছায় [১], কিন্তু পথগুলোর মধ্যে বাঁকা পথও আছে [২]। আর তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদের সবাইকেই সৎপথে পরিচালিত করতেন।
[১] (قَصْدُ السَّبِيْلِ) শব্দের অর্থঃ সরল পথ, মধ্যম পথ। এমন পথ যা উদ্দেশ্যে পৌছে দেয়। [কুরতুবী] এর দ্বারা এখানে ইসলাম, হক্ক পথ বুঝানো হয়েছে। [কুরতুবী] পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে দুনিয়ার বাহ্যিক পথসমূহের বর্ণনার পর এ আয়াতে দ্বীনি পথের কথা আলোচনা করা হচ্ছে। দুনিয়াতে যেমন চলার পথ আল্লাহর সৃষ্টি তেমনি আখেরাতের পথে কিভাবে চলতে হবে তাও মহান আল্লাহ শিখিয়ে দিচ্ছেন। তিনি জানাচ্ছেন যে, হক পথ হচ্ছে সেটিই যা আল্লাহর কাছে পৌছায়। [ইবন কাসীর] অন্য আয়াতেও এসেছে, “আল্লাহ বললেন, এটাই আমার কাছে পৌছার সরল পথ " [সূরা আলহিজর: ৪১]
আরও বলেন, “আর এ পথই আমার সরল পথ। কাজেই তোমরা এর অনুসরণ কর এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না , করলে তা তোমাদেরকে তার পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে।” [সূরা আল-আনআমঃ ১৫৩]।
অথবা আয়াতের অর্থ, হক পথ বর্ণনা করা আল্লাহর যিম্মায়। তিনি সেটা রাসূল, দলীল-প্রমাণাদির মাধ্যমে বর্ণনা করেন। [কুরতুবী: মুয়াসসার, আত-তাফসীরুস সহীহ] দুনিয়াতে যেমন অনেক পথ আছে কিন্তু সব পথই গন্তব্যস্থানে পৌছাতে পারে না শুধু সে পথই সঠিক গন্তব্যে পৌছাবে যে পথের সন্ধানদাতা সে পথ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত, তেমনিভাবে দ্বীনি ব্যাপারেও অনেকে অনেক পথের দিকে আহবান জানাবে কিন্তু আল্লাহ তা'আলার প্রদর্শিত পথ ছাড়া অপরাপর কোন পথই সঠিক গন্তব্যে পৌছাতে সহযোগিতা করতে পারবে না। [সা’দী]
[২] তাওহীদ, রহমত ও রবুবীয়াতের যুক্তি পেশ করতে গিয়ে এখানে ইঙ্গিতে নবুওয়াতের পক্ষেও একটি যুক্তি পেশ করা হয়েছে। এ যুক্তির সংক্ষিপ্তসার হচ্ছেঃ দুনিয়ায় মানুষের জন্য চিন্তা ও কর্মের অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথ থাকা সম্ভব এবং কার্যত আছেও। যেমন, ইয়াহুদীবাদ, নাসারাবাদ, মজুসীবাদ ইত্যাদি ইবন কাসীরা এসব পথ তো আর একই সংগে সত্য হতে পারে না। সত্য একটিই বাকীগুলো সঠিক পথ নয়। বরং বাঁকা পথ। সেগুলো দ্বারা আল্লাহর কাছে পৌছা যায় না। আর এসব পথে মানুষ হিদায়াতও পায় না। এসব পথে চলে হক পথে আসাও সম্ভব হয় না। [কুরতুবী]
