An-Nahl
আন-নাহল: 33
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
আরবি
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن تَأْتِيَهُمُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ أَوْ يَأْتِىَ أَمْرُ رَبِّكَ ۚ كَذَٰلِكَ فَعَلَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَمَا ظَلَمَهُمُ ٱللَّهُ وَلَـٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
English Translations
Do they [i.e., the disbelievers] await except that the angels should come to them or there comes the command of your Lord? Thus did those do before them. And Allāh wronged them not, but they had been wronging themselves.
Do they (the disbelievers and polytheists) await but that the angels should come to them [to take away their souls (at death)], or there should come the command (i.e. the torment or the Day of Resurrection) of your Lord? Thus did those before them. And Allah wronged them not, but they used to wrong themselves.
They (the unbelievers) are waiting for nothing but that the angels should come to them, or comes the command of your Lord. Similar was the reaction of those who were before them. Allah did not wrong them; rather they were doing wrong to themselves.
(O Muhammad), are they waiting for anything else than that the angels should appear before them, or that your Lord's judgement should come? Many before them acted with similar temerity. And then what happened with them was not Allah's wrong-doing; they rather wronged themselves.
Await they aught say that the angels should come unto them or thy Lord's command should come to pass? Even so did those before them. Allah wronged them not, but they did wrong themselves,
Do the (ungodly) wait until the angels come to them, or there comes the Command of thy Lord (for their doom)? So did those who went before them. But Allah wronged them not: nay, they wronged their own souls.
বাংলা অনুবাদ
তারা কি এই অপেক্ষায় আছে যে, ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালকের ফায়সালা এসে পড়বে? তাদের পূর্ববর্তীরাও এ রকমই করত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলম করেননি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করত।
তারা শুধু ফেরেশতা আসার অপেক্ষা করছে অথবা তোমার রবের সিদ্ধান্ত আসার। এমনি করেছিল তারা, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আর আল্লাহ তাদের উপর যুলম করেননি, বরং তারাই নিজদের উপর যুলম করেছিল।
তারা শুধু প্রতীক্ষা করে তাদের কাছে মালাক/ফেরেশতা আগমনের অথবা তোমার রবের শাস্তি আগমনের; আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলম করেননি, কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলম করত।
তারা তো শুধু তাদের কাছে ফিরিশতা আসার প্রতীক্ষা করে অথবা আপনার রবের নির্দেশ আসার। তাদের পূর্ববর্তীরা এরূপই করত। আর আল্লাহ্ তাদের প্রতি কোনো যুলুম করেননি, কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করত।
তারা কি শুধু প্রতীক্ষা করে তাদের নিকট ফেরেশ্তা আগমনের? অথবা তোমার প্রতিপালকের শাস্তি আগমনের। তাদের পূর্ববর্তীগণ এরূপই করত। আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি কোন জুলুম করেননি, কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করত।
৩৩. এ মিথ্যারোপকারী মুশরিকরা কি অপেক্ষা করে যে, তাদের রূহ কবজ এবং তাদের চেহারা ও পশ্চাদ্দেশে মরার জন্য মৃত্যুর ফিরিশতা ও তাঁর সহযোগীরা একদা তাদের নিকট নেমে আসবে অথবা শাস্তির মাধ্যমে দুনিয়াতে তাদের মূলোৎপাটনের জন্য আল্লাহর আদেশ নেমে আসবে? মক্কায় মুশরিকরা যে কাজ করে তেমনই করেছিলো পূর্বেকার মুশরিকরা। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদেরকে ধ্বংস করার সময় আল্লাহ কোন যুলুম করেননি। বরং তারা নিজেরাই আল্লাহর সাথে কুফরি করে নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারে উপনীত করে নিজেদের উপর যুলুম করেছে।
তাফসীর
৩৩-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ধমকের সুরে বলছেনঃ “তারা তো শুধু ঐ ফেরেশতাদের অপেক্ষা করছে যারা তাদের রূহ কব্য করার জন্যে আগমন। করবে অথবা তারা কিয়ামতের অপেক্ষা করছে এবং অপেক্ষা করছে ওর ভয়াবহ অবস্থার। এদের মতই এদের পূর্ববর্তী মুশরিকদের অবস্থাও ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসে পড়ে। আল্লাহ তাআলা স্বীয় হুজ্জত পূর্ণ করতঃ তাদের কাছে কিতাব এবং রাসূল প্রেরণ করেন। এইভাবে তিনি তাদের ওযর শেষ করে দেন। এর পরেও যখন তারা অস্বীকৃতি ও হঠকারিতার উপর রয়েই গেল তখন তিনি তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করেন। রাসুলদের ভীতি প্রদর্শনকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে উড়িয়ে দেয়। সুতরাং এর শাস্তি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে। আল্লাহ তাদের উপর যুলুম করেন নাই, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছিল। এজন্যেই কিয়ামতের দিন তাদেরকে বলা হবেঃ “এটাই হচ্ছে ঐ আগুন যাকে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে।”
তারা তো শুধু তাদের কাছে ফিরিশতা আসার প্রতীক্ষা করে অথবা আপনার রবের নির্দেশ আসার। তাদের পূর্ববর্তীরা এরূপই করত [১]। আর আল্লাহ্ তাদের প্রতি কোন যুলুম করেননি, কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করত।
[১] এর অর্থ হচ্ছে, যতদূর বুঝবার ব্যাপার ছিল আপনি তো প্রত্যেকটি সত্যকে উন্মুক্ত করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। যুক্তির সাহায্যে তার সত্যতা প্রমাণ করে দিয়েছেন। বিশ্বজাহানের সমগ্র ব্যবস্থা থেকে এর পক্ষে সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন। কোন বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য শির্কের ওপর অবিচল থাকার কোন অবকাশই রাখেননি। এখন এরাই একটি সরল সোজা কথা মেনে নেবার ব্যাপারে ইতস্তত করছে কেন? এরা কি মউতের ফেরেশতার অপেক্ষায় আছে? এ ফেরেশতা সামনে এসে গেলে তখন জীবনের শেষ মুহুর্তে কি এরা তা মেনে নেবে? অথবা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আযাব সামনে এসে গেলে তার প্রথম আঘাতের পর তা মেনে নেবে? কাতাদাহ বলেন, ফিরিশতার আগমন বলে এখানে মৃত্যু নিয়ে ফিরিশতাদের আগমন বোঝানো হয়েছে। আর আল্লাহর নির্দেশ বলে কিয়ামতের দিনের কথা বোঝানো হয়েছে। [তাবারী]
