An-Nahl
আন-নাহল: 115
16 আন-নাহল An-Nahl · 128 আয়াত النحل
আরবি
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ ٱلْمَيْتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحْمَ ٱلْخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيْرِ ٱللَّهِ بِهِۦ ۖ فَمَنِ ٱضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
English Translations
He has only forbidden to you dead animals, blood, the flesh of swine, and that which has been dedicated to other than Allāh. But whoever is forced [by necessity], neither desiring [it] nor transgressing [its limit] - then indeed, Allāh is Forgiving and Merciful.
He has forbidden you only Al-Maytatah (meat of a dead animal), blood, the flesh of swine, and any animal which is slaughtered as a sacrifice for others than Allah (or has been slaughtered for idols etc. or on which Allah's Name has not been mentioned while slaughtering). But if one is forced by necessity, without wilful disobedience, and not transgressing, then, Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful.
He has but prohibited for you the carrion, the blood, the flesh of swine and what has been invoked upon with a name other than that of Allah. However, if anyone is compelled by necessity - neither seeking pleasure, nor crossing the limit (of necessity) - then, Allah is Most-Forgiving, Very-Merciful.
Allah has forbidden you only carrion, and blood, and the flesh of swine; also any animal over which the name of any other than Allah has been pronounced. But whoever eats of them under compelling necessity - neither desiring it nor exceeding the limit of absolute necessity - surely for such action Allah is Much Forgiving, Most Merciful.
He hath forbidden for you only carrion and blood and swineflesh and that which hath been immolated in the name of any other than Allah; but he who is driven thereto, neither craving nor transgressing, lo! then Allah is Forgiving, Merciful.
He has only forbidden you dead meat, and blood, and the flesh of swine, and any (food) over which the name of other than Allah has been invoked. But if one is forced by necessity, without wilful disobedience, nor transgressing due limits,- then Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful.
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস আর যা যবেহ করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নেয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্য না হয়ে ও সীমালঙ্ঘন না ক’রে নিতান্ত নিরুপায় (হয়ে এসব খেতে বাধ্য) হলে আল্লাহ তো বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
তিনি তো তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং যে জন্তুর যবেহকালে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নাম নেয়া হয়েছে। তবে যে নিরুপায় হয়ে, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন ব্যতীত, (প্রয়োজন মুতাবেক গ্রহণ করবে) তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
তিনি (আল্লাহ) শুধুমাত্র মৃত, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা যবাহকালে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের নাম নেয়া হয়েছে তা’ই তোমাদের জন্য অবৈধ করেছেন, কিন্তু কেহ অনন্যোপায় কিংবা সীমা লংঘনকারী না হয়ে অনন্যোপায়ী হলে আল্লাহতো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আল্লাহ্ তো শুধু মৃত জন্তু, রক্ত, শূকর-মাংস এবং যা যবেহকালে আল্লাহ্র পরিবর্তে অন্যের নাম নেয়া হয়েছে তা-ই তোমাদের জন্য হারাম করেছেন, কিন্তু কেউ অবাধ্য বা সীমালংঘনকারী না হয়ে অনন্যোপায় হলে আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আল্লাহ তা‘আলা কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকর-মাংস এবং যা জবেহ্কালে আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে অন্যের নাম নেয়া হয়েছে তাই তোমাদের জন্য হারাম করেছেন, কিন্তু কেউ অবাধ্য কিংবা সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে অনন্যোপায় হলে আল্লাহ তা‘আলা তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১১৫. আল্লাহ তা‘আলা খাদ্যসামগ্রীর মধ্য থেকে তোমাদের উপর হারাম করেছেন জবাই ছাড়া প্রত্যেক জবাইযোগ্য মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত, শূকরের যে কোন অংশ এবং জবাইকারী ব্যক্তি যে পশুটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নৈকট্য অর্জনের জন্য জবাই করেছে। এ হারামের বিধানটি মূলতঃ স্বেচ্ছাবস্থায় প্রযোজ্য। তবে যাকে প্রয়োজন বাধ্য করেছে উক্ত কিছু খেতে -ফলে সে তা থেকে খেয়েছে হারামে উৎসাহী না হয়ে এবং প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না করে- তাহলে তার কোন গুনাহ হবে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল। তিনি তার ধরনের খাওয়ার বিষয়কে ক্ষমা করবেন। তেমনিভাবে তিনি তার প্রতি দয়াশীল যেহেতু তিনি প্রয়োজনের সময় তার জন্য তা খাওয়া জায়িয করেছেন।
তাফসীর
16:114
আল্লাহ্ তো শুধু মৃত জন্তু, রক্ত , শূকর-মাংস এবং যা যবেহকালে আল্লাহ্র পরিবর্তে অন্যের নাম নেয়া হয়েছে তা-ই হারাম করেছেন [১], কিন্তু কেউ অবাধ্য বা সীমালংঘনকারী না হয়ে অনন্যোপায় হলে আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
[১] এ আয়াতে ব্যবহৃত (اِنَّمَا) শব্দ থেকে বোঝা যায় যে, হারাম বস্তু আয়াতে উল্লেখিত চারটিই। এর চাইতে আরো অধিক স্পষ্টভাবে
(قُلْ لَّآ اَجِدُ فِيْ مَآ اُوْحِيَ اِلَيَّ مُحَرَّمًا)
[আল-আন’আমঃ ১৪৫] আয়াত থেকে জানা যায় যে, এগুলো ছাড়া অন্য কোন বস্তু হারাম নয়। অথচ কুরআন ও হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী আরো বহু বস্তু হারাম হওয়া প্রমাণিত হয়েছে। এ সংশয়ের জবাব আলোচ্য আয়াতসমূহের বর্ণনাভঙ্গি চিন্তা করলেই খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে সাধারণ হালাল ও হারাম বস্তুসমূহের তালিকা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য নয়; বরং জাহেলিয়াত আমলের মুশরিকরা নিজেদের পক্ষ থেকে যে অনেক বস্তু হারাম করে নিয়েছিল, অথচ আল্লাহ তদ্রুপ কোন নির্দেশ দেননি, সেগুলো বর্ণনা করাই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ তাদের হারাম কৃত বস্তুসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে শুধু এগুলোই হারাম। অথবা আয়াতে যেগুলো হারাম করা হয়েছে, তারপরও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাদীসে বেশ কিছু জিনিস হারাম করেছেন সেগুলো এর সাথে যুক্ত হবে। [কুরতুবী, সূরা আলআন’আমের ১৪৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায়]
