Al-Isra
আল-ইসরা: 35
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
মূল আরবি
وَأَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
English Translations
And give full measure when you measure, and weigh with an even [i.e., honest] balance. That is the best [way] and best in result.
And give full measure when you measure, and weigh with a balance that is straight. That is good (advantageous) and better in the end.
And give full measure when you measure, and weigh with a straight balance. That is fair, and better at the end.
(xii) Give full measure when you measure, and weigh with even scales. That is fair and better in consequence.
Fill the measure when ye measure, and weigh with a right balance; that is meet, and better in the end.
Give full measure when ye measure, and weigh with a balance that is straight: that is the most fitting and the most advantageous in the final determination.
বাংলা অনুবাদ
মাপ দেয়ার সময় মাপ পূর্ণমাত্রায় করবে, আর ওজন করবে ত্রুটিহীন দাঁড়িপাল্লায়। এটাই উত্তম নীতি আর পরিণামেও তা উৎকৃষ্ট।
আর মাপে পরিপূর্ণ দাও যখন তোমরা পরিমাপ কর এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওযন কর। এটা কল্যাণকর ও পরিণামে সুন্দরতম।
মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দিবে এবং ওযন করবে সঠিক দাঁড়ি পাল্লায়, এটাই উত্তম ও পরিণামে উৎকৃষ্ট।
আর মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দাও এবং ওজন কর সঠিক দাঁড়িপাল্লায়, এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।
মাপ দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়, এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।
৩৫. অন্যের জন্য মাপার সময় তোমরা তা পরিপূর্ণরূপে মেপে দাও; তাকে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করো না। আর তোমরা সঠিক দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করো যাতে কোন ধরনের ঘাটতি ও কমতি নেই। এ মাপ ও ওজনে পরিপূর্ণরূপে দেয়া দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর। উপরন্তু পরিণামের দিক দিয়েও তা অতি উৎকৃষ্ট।
তাফসীর
17:34
আর মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে ডাও এবং ওজন কর সঠিক দাঁড়িপাল্লায় [১] , এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট [২]।
[১] আয়াতে মাপ ও ওজন সম্পর্কে যে নির্দেশ আছে, লেন-দেনের ক্ষেত্রে মাপ ও ওজন পূর্ণ করার আদেশ এবং কম মাপার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার সারমর্ম এই যে, যার যতটুকু হক, তার চাইতে কম দেয়া হারাম। [ইবন কাসীর]
[২] এতে মাপ ও ওজন করা সম্পর্কে দুটি বিষয় বলা হয়েছে। (এক) এর উত্তম হওয়া। অর্থাৎ দুনিয়াতে এটি উত্তম হওয়া যুক্তি ও বিবেকের দাবী। (দুই) এর পরিণতি শুভ। এতে আখেরাতের পরিণতি তথা সওয়াব ও জান্নাত ছাড়াও দুনিয়ার উত্তম পরিণতির দিকেও ইঙ্গিত আছে। অর্থাৎ দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই এর পরিণতি শুভ। ইবন কাসীর] দুনিয়ায় এর শুভ পরিণামের কারণ হচ্ছে এই যে, এর ফলে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। কোন ব্যবসা ততক্ষণ পর্যন্ত উন্নতি করতে পারে না, যে পর্যন্ত জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে না পারে। বিশ্বাস ও আস্থা উপরোক্ত বাণিজ্যিক সততা ব্যতীত অর্জিত হতে পারে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা দু'জন দু’জনের উপর ভরসা করে, এর ফলে ব্যবসায়ে উন্নতি আসে এবং ব্যাপক সমৃদ্ধি দেখা দেয়। [দেখুন, ফাতহুল কাদীর] অন্যদিকে আখেরাতে এর শুভ পরিণাম পুরোপুরি নির্ভর করে ঈমান ও আল্লাহ ভীতির উপর।
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৩৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তৃতীয়ত- আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে) অর্থাৎ তাকে সাহায্য করা হবে, এখানে উদ্দেশ্য হলো নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যদি প্রশ্ন করা হয়: কত উত্তরাধিকারীই তো এমন রয়েছেন যারা সাহায্যবঞ্চিত হন এবং নিজ প্রাপ্য অধিকার ফিরে পান না? আমরা উত্তরে বলি: আল্লাহর সাহায্য কখনও দলিল-প্রমাণ সুস্পষ্ট হওয়ার মাধ্যমে হয়, কখনও প্রাপ্য অধিকার পুরোপুরি আদায়ের মাধ্যমে হয়, আবার কখনও উভয়টির সমন্বয়ে ঘটে। সুতরাং এর যে রূপই হোক না কেন, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই সাহায্য হিসেবে গণ্য। ইবনে কাসীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিহত ব্যক্তি সাহায্যপ্রাপ্ত হয়।
নাহহাস বলেন: এর অর্থ হলো আল্লাহ তাকে তার উত্তরাধিকারীর মাধ্যমে সাহায্য করেছেন। বর্ণিত আছে যে, উবাই ইবনে কাবের কিরাআতে এটি এভাবে রয়েছে: "কাজেই তোমরা হত্যায় বাড়াবাড়ি করো না, নিশ্চয় নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।" নাহহাস বলেন: এখানে 'সে' সর্বনামটি যদি গায়িব (নাম পুরুষ) হিসেবে পড়া হয়, তবে তা উত্তরাধিকারীর জন্য প্রযোজ্য হবে। কারণ 'সে যেন বাড়াবাড়ি না করে' কথাটি তখনই খাটে যখন তার হত্যার অধিকার থাকে, আর এ অধিকার উত্তরাধিকারীরই থাকে। তবে এটি সম্বোধনবাচক (হাযির) হিসেবে পড়াও বৈধ এবং সেক্ষেত্রেও এটি উত্তরাধিকারীর উদ্দেশ্যেই হবে, তবে এতে সম্বোধনের গতিধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে।
দাহহাক বলেন: হত্যার বিষয়ে এটিই কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াত এবং এটি মক্কী। [সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৩৪]আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না সর্বোত্তম পদ্ধতি ছাড়া, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিমত্তার বয়সে পৌঁছায়। আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো; নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (৩৪)এখানে দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি- আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না সর্বোত্তম পদ্ধতি ছাড়া, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিমত্তার বয়সে পৌঁছায়) এ সম্পর্কে আলোচনা ইতিপূর্বে সূরা আল-আনআমে অতিক্রান্ত হয়েছে।
দ্বিতীয়টি- আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো) এ প্রসঙ্গেও বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করা হয়েছে। ইমাম যাজজাজ বলেন: আল্লাহ যা কিছু আদেশ করেছেন এবং যা কিছু নিষেধ করেছেন, তার সবই অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত। (নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে) অর্থাৎ অঙ্গীকার ভঙ্গ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে; এখানে 'সে বিষয়ে' অংশটি উহ্য রয়েছে, যেমন আল্লাহর বাণী: "এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই করে" অর্থাৎ যা করতে আদিষ্ট হয়। আবার বলা হয়েছে যে, অঙ্গীকার ভঙ্গকারীকে তিরস্কার করার জন্য খোদ অঙ্গীকারকেই জিজ্ঞাসা করা হবে যে, কেন তাকে ভঙ্গ করা হলো?
যেমন জ্যান্ত সমাহিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তাকে হত্যাকারীকে লজ্জিত ও তিরস্কার করার জন্য। [সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৩৫]আর যখন তোমরা মেপে দেবে তখন পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক তুলাদণ্ড দ্বারা ওজন করবে। এটাই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট। (৩৫)(১). হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে এটি মাদানী আয়াত, যেমনটি আলুসী গ্রন্থে উল্লেখ আছে। আর এটিই যুক্তিযুক্ত কারণ এটি বিধান সংক্রান্ত আলোচনা।(২). দ্রষ্টব্য: ৭ম খণ্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা।(৩). দ্রষ্টব্য: ১ম খণ্ড, ৩৩২ পৃষ্ঠা।(৪). দ্রষ্টব্য: ১৮তম খণ্ড, ১৯৬ পৃষ্ঠা।(৫). দ্রষ্টব্য: ১৯তম খণ্ড, ২৩০ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ।
[ ..... ]
