Al-Isra
আল-ইসরা: 94
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
আরবি
وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤْمِنُوٓا۟ إِذْ جَآءَهُمُ ٱلْهُدَىٰٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓا۟ أَبَعَثَ ٱللَّهُ بَشَرًا رَّسُولًا
English Translations
And what prevented the people from believing when guidance came to them except that they said, "Has Allāh sent a human messenger?"
And nothing prevented men from believing when the guidance came to them, except that they said: "Has Allah sent a man as (His) Messenger?"
Nothing prevented people from believing, when guidance came to them, except that they said, “Has Allah sent a man as a messenger?”
Whenever Guidance came to people, nothing prevented them from believing except that they said: "Has Allah sent a human being as a Messenger?"
And naught prevented mankind from believing when the guidance came unto them save that they said: Hath Allah sent a mortal as (His) messenger?
What kept men back from belief when Guidance came to them, was nothing but this: they said, "Has Allah sent a man (like us) to be (His) Messenger?"
বাংলা অনুবাদ
মানুষের কাছে যখন পথের নির্দেশ আসে তখন তাদেরকে ঈমান আনতে তাদের এ কথা ছাড়া অন্য কিছুই বিরত রাখে না যে, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?’
আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত আসে তখন তাদের ঈমান আনতে বাধা দেয় তাদের এ কথা যে, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন’?
‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’ - তাদের এই উক্তিই বিশ্বাস স্থাপন হতে লোকদেরকে বিরত রাখে, যখন তাদের নিকট আসে পথ নির্দেশ।
আর যখন মানুষের কাছে হিদায়াত আসে, তখন তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে কেবল তাদের এ কথা যে, ‘আল্লাহ্ কি মানুষকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন?’
যখন তাদের নিকট আসে পথনির্দেশ তখন লোকদেরকে ঈমান আনা হতে বিরত রাখে তাদের এ উক্তি, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’
৯৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা এবং রাসূল আনীত বিধানের উপর ঈমান আনার পথে কাফিরদের জন্য এটাই বাধা ছিলো যে, তারা মানব রাসূলকে অস্বীকার করেছে। তারা অস্বীকার করে বললো: আল্লাহ কি আমাদের নিকট একজন মানব রাসূল পাঠিয়েছেন?!
তাফসীর
৯৪-৯৫ নং আয়াতের তাফসীর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ অধিকাংশ লোক ঈমান আনয়ন হতে এবং রাসূলদের আনুগত্য হতে একারণেই বিরত থাকছে যে, কোন মানুষ যে আল্লাহর রাসূল হতে পারেন এটা তাদের বোধগম্যই হয় না, এতে তারা অত্যন্ত বিস্মিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত অস্বীকার করে বসে। তারা পরিষ্কারভাবে বলে দেয়ঃ “একজন মানুষ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করবে?” ফিরাউন ও তার কওম একথাই বলেছিলঃ “আমরা আমাদের মতই দু'টি মানুষের উপর কি করে ঈমান আনতে পারি? বিশেষ করে ঐ অবস্থায় যে, তাদের কওমের সমস্ত লোক আমাদেরই অধীনে রয়েছে?” একথাই অন্যান্য উম্মতেরাও নিজ নিজ যামানার নবীদেরকে বলেছিলঃ “তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ। তোমরা তো এটা ছাড়া আর কিছুই করছো না যে, আমাদেরকে আমাদের বড়দের মা’ৰূদের থেকে বিভ্রান্ত করছো। আচ্ছা, কোন বিরাট নিদর্শন পেশ কর দেখি?” এ বিষয়ের আরো বহু আয়াত রয়েছে। এরপর মহান আল্লাহ নিজের স্নেহ, দয়া এবং মানুষের মধ্য হতেই রাসূল পাঠানোর কারণ বর্ণনা করেছেন এবং এর নিপূণতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেনঃ ফেরশতারা যদি রিসালাতের কাজ চালাতো, তবে না তোমরা তাদের কাছে উঠা-বসা করতে পারতে, ভালভাবে তাদের কথা বুঝতে পারতে। মানবীয় রাসূল তোমাদেরই শ্রেণীভুক্ত হয়ে থাকে বলেই তোমরা তাদের সাথে মেলামেশা করতে পার, তাদের আচার আচরণ দেখতে পার এবং তাদের সাথে মিলেজুলে নিজেদের ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পার। আর তাদের আমল দেখে নিজেরা শিখে নিতে সক্ষম হও। যেমন আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) (৩:১৬৪) (আরবি) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবি) (৯:১২৮) অন্য আর এক স্থানে রয়েছেঃ (আরবি) (২:১৫১)সবগুলিরই ভাবার্থ হচ্ছেঃ “এটাতো আল্লাহ তাআলার এক বড় অনগ্রহ যে, তিনি তোমাদেরই মধ্য হতে রাসূল পাঠিয়েছেন। সে তোমাদেরকে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনিয়ে থাকে, তোমাদেরকে (পাপ থেকে) পবিত্র করে এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়, আর তোমরা যা জানতে না তা তোমাদেরকে শিখিয়ে থাকে। সুতরাং আমাকে খুব বেশী বেশী স্মরণ করা তোমাদের উচিত, তা হলে আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো। তোমাদের উচিত আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং অকৃতজ্ঞ না হওয়া” এখানে মহান আল্লাহ বলেনঃ অবশ্যই আমি কোন ফেরেশতাকে রাসূল করে পাঠাতাম। কিন্তু তোমরা নিজেরা মানুষ এই যৌক্তিকতাতেই মানুষের মধ্য হতেই আমি রাসূল পাঠিয়েছি।
আর যখন মানুষের কাছে হিদায়াত আসে, তখন তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে কেবল তাদের এ কথা যে, ‘আল্লাহ্ কি মানুষকে রাসুল করে পাঠিয়েছিলেন [১]?’
এগারতম রুকু’
[১] অর্থাৎ প্রত্যেক যুগের অজ্ঞ ও মুর্থ লোকেরা এ ভুল ধারণায় নিমজ্জিত থাকে যে, মানুষ কখনো রাসূল হতে পারে না। তাই যখন কোন রাসূল এসেছেন এবং তারা দেখেছে। তিনি পানাহার করছেন, তাঁর স্ত্রী-সন্তানাদি আছে , তিনি রক্ত-মাংসের মানুষ তখন তারা ফায়সালা দিয়ে বসেছে যে, এ ব্যক্তি রসূল নয়, কারণ এতো মানুষ। কুরআনের অন্যান্য বহু স্থানে আল্লাহ তা'আলা তাদের এ প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছেন। [যেমন, সূরা ইউনুসঃ ২, সূরা আত-তাগাবুনঃ ৬, সূরা আলমুমিনুনঃ ৪৭, সূরা ইবরাহীমঃ ১০] এভাবে তার জীবদ্দশায় তারা তাকে রাসূল হিসেবে মানেনি আর তিনি চলে যাবার দীর্ঘকাল পর তাঁর ভক্তদের মধ্যে এমনসব লোক জন্ম নিতে থাকে যারা বলতে থাকে, তিনি মানুষ ছিলেন না, কারণ তিনি ছিলেন রসূল। ফলে কেউ তাঁকে আল্লাহ বানিয়েছে, কেউ বানিয়েছে আল্লাহর পুত্র, আবার কেউ বলেছে আল্লাহ তাঁর মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছিলেন। মোটকথা মানবিক সত্তা ও নবুওয়াতী সত্তার একই সত্তার মধ্যে একত্র হওয়া হামেশা মূখদের কাছে একটি হেঁয়ালি হয়েই থেকেছে।
