Al-Isra
আল-ইসরা: 42
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
মূল আরবি
قُل لَّوْ كَانَ مَعَهُۥٓ ءَالِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَّٱبْتَغَوْا۟ إِلَىٰ ذِى ٱلْعَرْشِ سَبِيلًا
English Translations
Say, [O Muḥammad], "If there had been with Him [other] gods, as they say, then they [each] would have sought to the Owner of the Throne a way."
Say (O Muhammad SAW to these polytheists, pagans, etc.): "If there had been other aliha (gods) along with Him as they assert, then they would certainly have sought out a way to the Lord of the Throne (seeking His Pleasures and to be near to Him).
Say, “Had there been other gods along with Him”, as they say, “then they would have found out a way to the Lord of the Throne”.
Say, (O Muhammad): "Had there been other gods with Him, as they claim, they would surely have attempted to find a way to the Lord of the Throne.
Say (O Muhammad, to the disbelievers): If there were other gods along with Him, as they say, then had they sought a way against the Lord of the Throne.
Say: If there had been (other) gods with Him, as they say,- behold, they would certainly have sought out a way to the Lord of the Throne!
বাংলা অনুবাদ
বল- তাঁর সঙ্গে যদি আরো ইলাহ থাকত যেমন তারা বলে, তাহলে তারা অবশ্যই আরশের মালিকের নিকট পৌঁছার জন্য পথের সন্ধান করত।
বল, ‘তাঁর সাথে যদি আরো উপাস্য থাকত, যেমন তারা বলে, তবে তারা আরশের অধিপতি পর্যন্ত পৌঁছার পথ তালাশ করত’।
বলঃ তাদের কথা মত যদি তাঁর সাথে আরও মা‘বূদ থাকত তাহলে তারা আরশ অধিপতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপায় অন্বেষন করত।
বলুন, ‘যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ থাকতো যেমন তারা বলে, তবে তারা ‘আরশ-অধিপতির (নৈকট্য লাভের) উপায় খুঁজে বেড়াত।’
বল: ‘যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ্ থাকত যেমন তারা বলে, তবে তারা ‘আরশ-অধিপতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপায় অšে¦ষণ করত।’
৪২. হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলে দিন: যদি আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা’বূদ থাকতো -যেমনিভাবে তারা তাঁর উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে- তাহলে সেই তথাকথিত মা’বূদগুলো আরশের মালিক আল্লাহর ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যে কোন পথ বের করে সে ব্যাপারে তাঁর সাথে ঝগড়া করতো।
তাফসীর
৪২-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর যে মুশরিকরা আল্লাহ তাআলার সাথে অন্যদেরও ইবাদত করে এবং তাদেরকে তাঁর শরীক মনে করে, আর মনে করে যে, তাদের কারণে তারা তাঁর নৈকট্য লাভ করবে তাদেরকে বলে দাওঃ তোমাদের এই বাজে ধারণার যদি কোন মূল্য থাকতো তবে তারা যাদেরকে ইচ্ছা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতো এবং যাদের জন্যে ইচ্ছা সুপারিশ করতো। তবে তো স্বয়ং এ মাবুদই তাঁর ইবাদত করতো ও তাঁর নৈকট্য অনুসন্ধান করতো। সুতরাং তোমাদের শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করা উচিত। তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করা মোটেই উচিত নয়। অন্য মা’ৰূদদের কোন প্রয়োজনই নেই যে, তারা তোমাদের মধ্যে মাধ্যম হবে।
এই মাধ্যম আল্লাহ তাআলার নিকট খুবই অপছন্দনীয়। তিনি এটা অস্বীকার করছেন। তিনি তাঁর সমস্ত নবী ও রাসূলের ভাষায় এর থেকে নিষেধ করেছেন।আল্লাহর সত্তা অত্যাচারীদের বর্ণনাকৃত এই বিশেষণ হতে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র এবং তিনি ছাড়া অন্য কোন মা'বূদ নেই। এই মলিনতা ও অপবিত্রতা হতে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ পাক রয়েছে। তিনি এক ও অভাবমুক্ত। তিনি পিতা-মাতা ও সন্তান হতে পবিত্র। তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই।
বলুন, ‘যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ থাকতো যেমন তারা বলে, তবে তারা ‘আরশ-অধিপতির (নৈকট্য লাভের) উপায় খুঁজে বেড়াত [১]। ’
[১] এ আয়াতের দু'টি অর্থ করা হয়ে থাকেঃ
এক, যদি আল্লাহর সাথে আরো অনেক ইলাহ থাকত। তবে তারা আরাশের অধিপতির প্রতিদ্বন্দ্বিতীয় লিপ্ত হতো। যেমনিভাবে দুনিয়ার রাজা-বাদশারা করে থাকে। [ফাতহুল কাদীর] এ অর্থট ইমাম শাওকানী প্রাধান্য দিয়েছেন।
দুই, আয়াতের আরেকটি অর্থ হলো, যদি আল্লাহর সাথে আরও ইলাহ থাকত, তবে তারা তাদের অক্ষমতা জেনে আরাশের অধিপতি সত্যিকারের ইলাহ আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত। [ইবন কাসীর] এ শেষোক্ত অর্থটিই সঠিক। ইমাম ইবন কাসীর এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এটি শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যা ও ইবনুল কাইয়্যেমও প্রাধান্য দিয়েছেন। দেখুন, আল-ফাতাওয়া আল-হামাওয়িয়্যাহ; মাজমু ফাতাওয়া: ১৬/১২২-১২৪, ৫৭৭; ইবনুল কাইয়্যেম, আল-জাওয়াবুল কাফী: ২০৩; আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ: ২/৪৬২] কারণ প্রথমত, এখানে اِلٰي ذِي الْعَرْشِ আরাশের অধিপতির দিকে বলা হয়েছে,
عَلٰي ذِي الْعَرْشِ
আরশের অধিপতির বিপক্ষে বলা হয়নি। আর আরবী ভাষায় إلي শব্দটি নৈকট্যের অর্থেই ব্যবহার হয়। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
[সূরা আল-মায়িদাহঃ ৩৫] পক্ষান্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য - শব্দটি ব্যবহার হয়। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে,
ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ
[সূরা আন-নিসাঃ ৩৪] দ্বিতীয়ত, এ অর্থের সমর্থনে এ সূরারই ৫৭ নং আয়াত প্রমাণবহ। সেখানে বলা হয়েছে, “তারা যাদেরকে ডাকে তারাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, তার দয়া প্রত্যাশা করে ও তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আপনার রবের শাস্তি ভয়াবহ।” এতে করে বুঝা গেল যে, এখানে এ আয়াতের অর্থ হবে এই যে, যদি তারা যেভাবে বলে সেভাবে সেখানে আরো ইলাহ থাকত। তবে সে বানানো ইলাহগুলো নিজেদের অক্ষমতা সম্যক বুঝতে পেরে প্রকৃত ইলাহ রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তা'আলার প্রতি নৈকট্য লাভের আশায় ধাবিত হতো।
এ অর্থের সমর্থনে তৃতীয় আরেকটি প্রমাণ আমরা পাই এ কথা থেকেও যে কাফেরগণ কখনও এ কথা দাবী করেনি যে, তাদের ইলাহাগণ আল্লাহ তা'আলার প্রতিদ্বন্দ্বী বরং তারা সবসময় বলে আসছে যে, “আমরা তো কেবল তাদেরকে আল্লাহর কাছে নৈকট্য লাভে সুপারিশকারী হিসেবেই ইবাদত করে থাকি”। [সূরা আয-যুমারঃ ৩] এখানেও আয়াতে বলা হয়েছে, “যেমনটি তারা বলে”। আর তারা কখনো তাদের মা’বুদাদেরকে আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বলে ঘোষণা করেনি। এ দ্বিতীয় তাফসীরটি প্রখ্যাত তাফসীরবিদ কাতাদা রাহে মাহুল্লাহ থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৪২ থেকে ৪৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা
যেখানে এটি এসেছে সেখানে আধিক্য বুঝানোর জন্য তাশদীদসহ পঠিত হয়েছে। হাসান (বসরি) তাশদীদ ছাড়া (লঘু উচ্চারণে) পাঠ করেছেন। আর মহান আল্লাহর বাণী: "এই কুরআনে" এর অর্থ হলো উদাহরণসমূহ, শিক্ষা, প্রজ্ঞা, উপদেশসমূহ, বিধানাবলী এবং নিদর্শনসমূহ। আল-ছা'লাবী বলেন: আমি আবুল কাসিম আল-হুসাইনকে ইমাম শায়খ আবু তাইয়্যিবের উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি: মহান আল্লাহর বাণী "আমি বারবার বর্ণনা করেছি"-এর দুটি অর্থ রয়েছে। একটি হলো, তিনি একে একক কোনো বিষয় হিসেবে অবতীর্ণ করেননি বরং প্রতিশ্রুতি ও ভীতিপ্রদর্শন, দ্ব্যর্থহীন (মুহকাম) ও রূপক (মুতাশাবিহ), নিষেধ ও আদেশ, রহিতকারী (নাসিখ) ও রহিত (মানসুখ), সংবাদসমূহ এবং উদাহরণসমূহ হিসেবে বিভিন্ন বৈচিত্র্যে অবতীর্ণ করেছেন; যেমন বায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পুবালি, পশ্চিমা, দখিনা ও উত্তরা বাতাস এবং ক্রিয়ার রূপান্তরের ক্ষেত্রে অতীতকাল, ভবিষ্যৎকাল, আদেশ, নিষেধ, ক্রিয়া, কর্তা, কর্ম ও অনুরূপ বিষয়সমূহ।
দ্বিতীয় অর্থ হলো, এটি একবারে অবতীর্ণ হয়নি বরং কিস্তিতে কিস্তিতে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন তাঁর বাণী "এবং কুরআনকে আমি খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি"। এর অর্থ হলো: আমি জিবরাঈল আলাইহিস সালামের তোমার কাছে আসাকে বারবার সংঘটিত করেছি। (যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে) ইয়াহইয়া, আমাশ, হামজা এবং কিসাঈর পাঠরীতিতে "লি-ইয়াযাক্কারু" শব্দটি তাশদীদহীনভাবে পঠিত হয়েছে। তেমনিভাবে সূরা ফুরকানেও রয়েছে- "আর অবশ্যই আমি তাদের মধ্যে তা বারবার বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে"। অবশিষ্ট ক্বারীগণ তাশদীদসহ পাঠ করেছেন। আবু উবাইদ এটিকেই পছন্দ করেছেন, কারণ এর অর্থ হলো যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে এবং শিক্ষা গ্রহণ করে।
আল-মাহদাবী বলেন: যারা "লি-ইয়াযাক্কারু" শব্দটিকে তাশদীদসহ পড়েছেন, তারা এর দ্বারা গভীর চিন্তা-ভাবনা (তদাব্বুর) উদ্দেশ্য নিয়েছেন। যারা তাশদীদ ছাড়া পড়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রথম পাঠরীতির সদৃশ আয়াত হলো- "আর আমি অবশ্যই তাদের কাছে বাণীকে ধারাবাহিকভাবে পৌঁছে দিয়েছি যেন তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" দ্বিতীয় পাঠরীতির সদৃশ হলো- "এবং এতে যা আছে তা স্মরণ করো।" (আর এটি তাদের বৃদ্ধিই করে) অর্থাৎ এই বারবার বর্ণনা এবং উপদেশ প্রদান। (বিমুখতা ছাড়া আর কিছুই) অর্থাৎ সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণের প্রতি উদাসীনতা।
আর এটি এ কারণে যে, তারা কুরআন সম্পর্কে এই বিশ্বাস পোষণ করেছিল যে এটি কেবল একটি কৌশল, জাদু, জ্যোতিষশাস্ত্র বা কবিতা। [সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৪২ থেকে ৪৩]বলুন, যদি তাঁর সাথে আরও উপাস্য থাকত যেমন তারা বলে, তবে তারা আরশের অধিপতির দিকে কোনো পথ অন্বেষণ করত (৪২)। তিনি পবিত্র এবং তারা যা বলে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে অতি মহান (৪৩)।মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, যদি তাঁর সাথে আরও উপাস্য থাকত) এই আয়াতটি মহান আল্লাহর অন্য বাণী "আর আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য স্থির করো না"-এর সাথে সংযুক্ত এবং এটি মূর্তিপূজারীদের একটি খণ্ডন। (যেমন তারা বলে) ইবনে কাসীর এবং হাফস 'ইয়া' যোগে "ইয়াকুলুনা" (তারা বলে) পাঠ করেছেন।
অবশিষ্ট ক্বারীগণ সম্বোধনবাচক 'তা' যোগে "তাকুলুনা" (তোমরা বলো) পাঠ করেছেন। (তবে অবশ্যই তারা অন্বেষণ করত) অর্থাৎ সেই উপাস্যরা। (আরশের অধিপতির দিকে পথ) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: এর অর্থ হলো, তবে তারা মহান আল্লাহর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুদ্ধের সুযোগ খুঁজত, যেমনটি দুনিয়ার রাজারা একে অপরের সাথে করে থাকে। সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এর অর্থ হলো তবে তারা তালাশ করত...(১). এই খণ্ডের ১৩৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(২). ১৩ খণ্ড, ৫৭ এবং ২৯৪ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী দ্রষ্টব্য।(৩). ১৩ খণ্ড, ৫৭ এবং ২৯৪ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী দ্রষ্টব্য।(৪).
১ খণ্ড, ৪৩৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
