Al-Isra
আল-ইসরা: 98
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
মূল আরবি
ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُم بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا وَقَالُوٓا۟ أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًا وَرُفَـٰتًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا
English Translations
That is their recompense because they disbelieved in Our verses and said, "When we are bones and crumbled particles, will we [truly] be resurrected [in] a new creation?"
That is their recompense, because they denied Our Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) and said: "When we are bones and fragments, shall we really be raised up as a new creation?"
That is their punishment, because they rejected Our signs and said, “Is it that once we are reduced to bones and dust, is it then that we shall be raised, created anew?”
That will be their recompense because they disbelieved in Our Signs and said: "What, when we shall be reduced to bones and particles (of dust), shall we be raised again as a new creation?"
That is their reward because they disbelieved Our revelations and said: When we are bones and fragments shall we, forsooth, be raised up as a new creation?
That is their recompense, because they rejected Our signs, and said, "When we are reduced to bones and broken dust, should we really be raised up (to be) a new Creation?"
বাংলা অনুবাদ
এটাই তাদের প্রতিফল, কেননা তারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল আর বলেছিল, ‘যখন আমরা হাড্ডি ও চূর্ণ ধূলায় পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে নতুন এক সৃষ্টির আকারে আবার উঠানো হবে?’
এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, ‘আমরা যখন হাড্ডি ও ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাব, তখন আমরা কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুজ্জীবিত হব’?
এটাই তাদের প্রতিফল, কারণ তারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করেছিল ও বলেছিলঃ আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টি রূপে পুনরুত্থিত হব?
এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমাদের নিদর্শন অস্বীকার করেছিল ও বলেছিল, ‘অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও আমরা কি নূতন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?’
এটাই তাদের প্রতিফল, কারণ তারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করেছিল ও বলেছিল, ‘হাড়ে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?’
৯৮. যে শাস্তি তারা তখন পাবে তা হলো আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃত নিদর্শনসমূহের সাথে কুফরি করা এবং পুনরুত্থানকে অসম্ভব ভেবে তাদের এ কথা বলার প্রতিদান যে, আমরা যখন মরে পুরনো হাড় ও ছিন্নভিন্ন টুকরো হয়ে যাবো তখনকি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত করা হবে?
তাফসীর
৯৮-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ অস্বীকারকারীদের যে শাস্তির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তারা ওরই যোগ্য ছিল। তারা আমার দলীল প্রমাণাদিকে মিথ্যা মনে করতো এবং পরিষ্কারভাবে বলতোঃ আমরা পচা অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরেও কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হবো? এটাতো আমাদের জ্ঞানে ধরে না। তাদের এই প্রশ্নের জবাবে মহামহিমান্বিত আল্লাহ একটি দলীল এই পেশ করেছেন যে, বিরাট আসমানকে বিনা নমুনাতেই প্রথমবার সৃষ্টি করতে পেরেছেন, যার প্রবল ক্ষমতা এই উচ্চ ও প্রশস্ত এবং কঠিন মাখলুককে সৃষ্টি করতে অপারগ হয় নাই, তিনি কি তোমাদেরকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে অপারগ হয়ে যাবেন?
আসমান ও যমীন সৃষ্টি করা তোমাদের সৃষ্টি অপেক্ষা অনেক কঠিন ছিল। এগুলি সৃষ্টি করতে তিনি যখন ক্লান্ত ও অপারগ হন নাই, তিনি মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করতে অপারগ হয়ে যাবেন? আসমান ও যমীনের যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি কি মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? অবশ্যই তিনি সক্ষম। তিনি মহাস্রষ্টা, অতিশয় জ্ঞানী। যখন তিনি কোন বস্তুকে (সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন, তখন তার দস্তুর এই যে, তিনি এ বস্তুকে বলেনঃ হয়ে যা, তেমনি তা হয়ে যায়। বস্তুর অস্তিত্বের জন্যে তার হুকুমই যথেষ্ট। কিয়ামতের দিন তিনি মানুষকে দ্বিতীয় বার নতুন ভাবে সৃষ্টি অবশ্যই করবেন। তিনি তাদেরকে কবর হতে বের করার ও পুনরুজ্জীবিত করার সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন।
এ সময় এগুলো সবই হয়ে যাবে। এখানে কিছুটা বিলম্বের কারণ হচ্ছে শুধু ঐ সময়কে পুর্ণ করা। বড়ই আফসোসের বিষয় এই যে, এতো স্পষ্ট ও প্রকাশমান দলীলের পরেও মানুষ কুফরী ও ভ্রান্তিকে পরিত্যাগ করে না।
এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমাদের নিদর্শন অস্বীকার করেছিল ও বলেছিল, ‘অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও আমরা কি নূতন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব [১]?’
[১] এ আয়াতের ব্যাখ্যা জানার জন্য এ সূরারই ৪৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন।
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৯৮ থেকে ৯৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং অন্যান্য। মুজাহিদ বলেন: নিভে গেল। বলা হয়: আগুন স্তিমিত হওয়া অর্থাৎ নিভে যাওয়া, আর আমি তা নিভিয়েছি। (আমি তাদের জন্য প্রজ্জ্বলিত অগ্নি বৃদ্ধি করব) অর্থাৎ দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন। আর আগুনের শিখা প্রশমিত হওয়া তাদের বেদনার কোনো হ্রাস না ঘটিয়ে কিংবা তাদের শাস্তি লাঘব না করেই। আরও বলা হয়েছে: যখন তা স্তিমিত হওয়ার উপক্রম করবে। যেমন আল্লাহর বাণী: "আর যখন আপনি কুরআন পাঠ করেন।" [সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৯৮ থেকে ৯৯]এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল, "আমরা যখন অস্থিতে পরিণত হব এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমাদের নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত করা হবে?" (৯৮) তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ—যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন—তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম?
আর তিনি তাদের জন্য এক নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করেছেন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবুও জালিমরা কুফরি ছাড়া সবকিছু প্রত্যাখ্যান করেছে (৯৯)।মহান আল্লাহর বাণী: (এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল) অর্থাৎ এই আজাব তাদের কুফরির বিনিময়। (এবং তারা বলেছিল, "আমরা যখন অস্থিতে পরিণত হব এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাব") অর্থাৎ ধূলিকণায়। (তখনও কি আমাদের নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত করা হবে?) তারা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তরে বলেন: (তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ—যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন—তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম?
আর তিনি তাদের জন্য এক নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করেছেন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই)। বলা হয়েছে: বাক্যে শব্দের বিন্যাসে অগ্র-পশ্চাৎ রয়েছে, অর্থাৎ—তারা কি দেখেনি যে আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য একটি সুনিশ্চিত সময়কাল নির্ধারণ করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। আর সেই 'সময়কাল' হলো পৃথিবীতে তাদের অবস্থানের মেয়াদ এবং অতঃপর তাদের মৃত্যু, যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই কারণ তা দৃশ্যমান। আরও বলা হয়েছে: এটি তাদের এই কথার উত্তর— "অথবা আপনি আপনার দাবি অনুযায়ী আকাশকে আমাদের ওপর খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলুন।" আরও বলা হয়েছে: এটি কিয়ামতের দিন।
(অতঃপর জালিমরা কুফরি ছাড়া সবকিছু প্রত্যাখ্যান করল) অর্থাৎ মুশরিকরা সেই নির্ধারিত সময়কাল এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করাই বেছে নিল। আরও বলা হয়েছে: সেই নির্ধারিত সময়কাল হলো পুনরুত্থানের সময়, আর এতে সন্দেহ পোষণ করা উচিত নয়। [সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ১০০]আপনি বলুন, "যদি তোমরা আমার রবের রহমতের ভাণ্ডারের মালিক হতে, তবে শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তোমরা তা অবশ্যই ধরে রাখতে।" আর মানুষ তো অতিশয় কৃপণ (১০০)।(১). এই খণ্ডের ২৬৯ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। [ ..... ]
