Al-Isra
আল-ইসরা: 45
17 আল-ইসরা Al-Isra · 111 আয়াত الإسراء
মূল আরবি
وَإِذَا قَرَأْتَ ٱلْقُرْءَانَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْـَٔاخِرَةِ حِجَابًا مَّسْتُورًا
English Translations
And when you recite the Qur’ān, We put between you and those who do not believe in the Hereafter a concealed partition.
And when you (Muhammad SAW) recite the Quran, We put between you and those who believe not in the Hereafter, an invisible veil (or screen their hearts, so they hear or understand it not).
When you recite the Qur’ān, We place an invisible curtain between you and those who do not believe in the Hereafter,
When you recite the Qur'an, We place a hidden barrier between you and those who do not believe in the Hereafter;
And when thou recitest the Qur'an we place between thee and those who believe not in the Hereafter a hidden barrier;
When thou dost recite the Qur'an, We put, between thee and those who believe not in the Hereafter, a veil invisible:
বাংলা অনুবাদ
তুমি যখন কুরআন পাঠ কর তখন আমি তোমার আর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা স্থাপন ক’রে দিয়েছি।
আর তুমি যখন কুরআন পড় তখন তোমার ও যারা আখিরাতে ঈমান আনে না তাদের মধ্যে আমি এক অদৃশ্য পর্দা দিয়ে দেই।
তুমি যখন কুরআন পাঠ কর তখন তোমার ও যারা পরলোকে বিশ্বাস করেনা তাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা টেনে দিই।
আর আপনি যখন কুরআন পাঠ করেন তখন আমরা আপনার ও যারা আখিরাতের উপর ঈমান রাখে না তাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা রেখে দেই।
তুমি যখন কুরআন পাঠ কর তখন তোমার ও যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা রেখে দেই।
৪৫. হে রাসূল! আপনি যখন কুর‘আন পড়েন এবং তারা তাতে থাকা উপদেশ ও ধমকের বাণী শুনতে পায় তখন আমি আপনার ও তাদের -কিয়ামতের দিবসে অবিশ্বাসীদের- মাঝে একটি গোপন পর্দা টেনে দেই যাতে তারা কুর‘আন বুঝতে না পারে। মূলতঃ তা তাদের সত্যবিমুখতার শাস্তিস্বরূপ।
তাফসীর
৪৫-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ কুরআন পাঠের সময় তাদের অন্তরে পর্দা পড়ে যায়। কাজেই কুরআন তাদের অন্তরে মোটেই ক্রিয়াশীল হয় না। ঐ পর্দা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এখানে (আরবি) শব্দটি (আরবি) এর অর্থবোধক। যেমন (আরবি) ও (আরবি) যথাক্রমে (আরবি) এবং (আরবি) এর অর্থবোধক। এ পর্দা যদিও বাহ্যতঃ দেখা যায় না, কিন্তু হিদায়াতের মধ্যে ও তাদের মধ্যে আল্লাহ তাআ’লী পৃথককারী হয়ে যান। মুসনাদে আবি ইয়ালা মুসিলীর মধ্যে বর্ণিত আছে যে, যখন (আরবি) সূরাটি অবতীর্ণ হয় তখন (আবু লাহাবের স্ত্রী) উম্মে জামীল একটি তীক্ষ্ণ পাথর হাতে নিয়ে এই নিন্দিত ব্যক্তিকে আমরা মানবো না’ একথা চীৎকার করে বলতে বলতে আসে।
সে আরো বলেঃ তার দ্বীন আমাদের কাছে পছন্দনীয় নয়। আমরা তার ফরমানের বিরোধী। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) বসে ছিলেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁর পাশেই ছিলেন। তিনি তাঁকে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সে তো আসছে! আপনাকে দেখে ফেলবে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “নিশ্চিন্ত থাকো। সে আমাকে দেখতে পাবে না।” অতঃপর তিনি তার থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ শুরু করে দেন। এই আয়াতটিই তিনি পাঠ করেন। সে এসে হযরত আবু বকরকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করেঃ “আমি শুনেছি যে, তোমাদের নবী (সঃ) নাকি আমার দুনমি করেছে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “না, না। কা’বার প্রতিপালকের শপথ!
তিনি তোমার কোন দুর্নাম বা নিন্দা করেন নাই।” সে সমস্ত কুরায়েশ জানে যে, আমি তাদের নেতার কন্যা’ একথা বলতে বলতে ফিরে গেল। (আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন। ঐ পর্দা তাদের অন্তরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যার কারণে তারা কুরআন বুঝতে পারে না। তাদের কানে বধিরতা রয়েছে, যার কারণে তারা তা এমনভাবে শুনতে পায় না যাতে তাদের উপকার হয়।মহান আল্লাহ স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ হে নবী (সঃ)! যখন তুমি কুরআনের এ অংশ পাঠ কর যাতে আল্লাহর একত্বের বর্ণনা রয়েছে তখন তারা পলাতে শুরু করে। (আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন , যেমন (আরবি) শব্দের বহু বচন এসে থাকে।
আবার এও হতে পারে যে, এটা ক্রিয়া ছাড়াই ধাতুমূল রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “একক আল্লাহর বর্ণনায় বেঈমান লোকদের মন বিরক্ত হয়ে ওঠে।” মুসলমানদের “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ মুশরিকদের মন বিষিয়ে তোলে। ইবলীস এবং তাঁর সেনাবাহিনী এতে খুবই বিরক্ত হতো ও এটাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করতো। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল তাদের বিপরীত। তিনি চান তার এই কালেমাকে সমুন্নত করতঃ এটাকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিতে। এটা এমন একটি কালেমা যে, এর উক্তিকারী সফলকাম হয় এবং এর উপর আমলকারী সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।
দেখো, এই উপদ্বীপের অবস্থা তোমাদের চোখের সামনে রয়েছে, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত এই পবিত্র কালেমা ছড়িয়ে পড়েছে। একথাও বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা শয়তানদের পলায়নকে বুঝানো হয়েছে। একথাও সঠিকই বটে যে, আল্লাহ তাআলার যিকর হতে, আযান হতে এবং কুরআন পাঠ হতে শয়তান পলায়ন করে থাকে। কিন্তু এই আয়াতের এই তাফসীর করা গারাবাত বা দুর্বলতা মুক্ত নয়।
আর আপনি যখন কুরআন পাঠ করেন তখন আমরা আপনার ও যারা আখিরাতের উপর ঈমান রাখে না তাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা রেখে দেই।
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৪৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-ইসরা (১৭): আয়াত ৪৫]এবং আপনি যখন কুরআন পাঠ করেন, তখন আমি আপনার ও সেই ব্যক্তিদের মধ্যে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, একটি অদৃশ্য অন্তরাল করে দেই (৪৫)আসমা বিনতে আবি বকর (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন "আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক" অবতীর্ণ হলো, তখন একচক্ষু বিশিষ্ট উম্মে জামিল বিনতে হারব চিৎকার করতে করতে এগিয়ে এল, তার হাতে ছিল একটি পাথরখণ্ড। সে বলছিল:সেই নিন্দিত ব্যক্তিকে আমরা অমান্য করেছি … এবং তার নির্দেশ আমরা প্রত্যাখ্যান করেছিআর তার ধর্মকে আমরা বর্জন করেছি তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে বসা ছিলেন এবং তাঁর সাথে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন।
যখন আবু বকর তাকে দেখলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে তো এগিয়ে আসছে, আর আমি আশঙ্কা করছি সে আপনাকে দেখে ফেলবে! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সে আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না।" অতঃপর তিনি কুরআন পাঠ করলেন এবং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা চাইলেন যেমনটি তিনি বলেছিলেন। তিনি পাঠ করলেন: "এবং আপনি যখন কুরআন পাঠ করেন, তখন আমি আপনার ও সেই ব্যক্তিদের মধ্যে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, একটি অদৃশ্য অন্তরাল করে দেই।" অতঃপর সে আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সামনে এসে দাঁড়ালো কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখতে পেল না।
সে বলল: হে আবু বকর! আমাকে জানানো হয়েছে যে আপনার সঙ্গী আমার কুৎসা বর্ণনা করেছেন! তিনি বললেন: না, এই কাবার রবের কসম! তিনি আপনার কুৎসা বর্ণনা করেননি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে এই বলতে বলতে ফিরে গেল যে: কুরাইশরা জানে আমি তাদের নেতার কন্যা। সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যখন "আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক" অবতীর্ণ হলো, তখন আবু লাহাবের স্ত্রী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এল, তখন তাঁর সাথে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন। আবু বকর বললেন: আপনি যদি তার থেকে কিছুটা সরে যেতেন তবে ভালো হতো যাতে সে আপনাকে কোনো কষ্টদায়ক কথা শুনাতে না পারে, কারণ সে এক কটুভাষী নারী।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "শীঘ্রই আমার ও তার মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করা হবে।" ফলে সে তাঁকে দেখতে পেল না। সে আবু বকরকে বলল: হে আবু বকর! আপনার সঙ্গী আমাদের কুৎসা করেছে! তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! তিনি কবিতা বলেন না এবং তা পাঠও করেন না। সে বলল: আপনি তো তা বিশ্বাস করবেনই, এই বলে সে দ্রুত ফিরে গেল। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে কি আপনাকে দেখেনি? তিনি বললেন: "না। সে চলে যাওয়া পর্যন্ত একজন ফেরেশতা আমার ও তার মাঝে থেকে আমাকে আড়াল করে রেখেছিলেন।" কা'ব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই আয়াতের ব্যাপারে বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুশরিকদের থেকে তিনটি আয়াতের মাধ্যমে আত্মগোপন করতেন: সূরা কাহাফের সেই আয়াত "নিশ্চয়ই আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যাতে তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা", এবং সূরা নাহলের সেই আয়াত...(১).
২০তম খণ্ড, ২৩৪ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(২). আল-ফিহর (জের যোগে): হাতের তালু ভর্তি পাথর। কারো মতে: এটি সাধারণভাবে পাথর।(৩). এটি ইবনে হিশামের সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর মূল পাণ্ডুলিপির সংস্করণগুলোতে যা রয়েছে:নিন্দিত হিসেবে আমরা এসেছি … এবং তার ধর্ম বর্জন করেছি।(৪). ১১তম খণ্ড, ৪ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ দ্রষ্টব্য।
